ইসরাইলি হামলায় পরিবার হারিয়ে এবং বরাতজোরে নিজে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন গাজার বাসিন্দা জামাল আর-দুরার। তার কাহিনী মঙ্গলবার উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার নানা সংবাদমাধ্যমে।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের রকেট হানা এবং সীমান্ত পেরিয়ে হামলার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে গাজায় চলছে ইসরাইলি সেনার হানা। বিমান থেকে টন টন বোমা ফেলার পাশাপাশি, ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকের আবাসভূমি ৩৬৫ বর্গকিলোমিটারের জনপদে চলছে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ। সেই হামলাতেই দুই ভাই, ভ্রাতৃবধূ এবং ভাইঝিকে হারিয়েছেন প্রৌঢ় জামাল।
২০০০ সালে গাজায় ইসরাইলি সেনার এমন হামলাই প্রাণ কেড়েছিল জামালের ১১ বছরের ছেলে মহম্মদ আল-দুরা এবং আরও কয়েক জন পরিজনের। হামাসসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি সংগঠনের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (সম্পূর্ণ অভ্যুত্থান)-র ‘জবাব’ দিতে গাজা, জেরুজালেম এবং পশ্চিম জনবসতিতে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করেছিল ইসরাইল পাশাপাশি, স্থলপথেও চলেছিল হামলা। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরাও রেহাই পাননি।-
সে সময় ইসরাইলি সেনার গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল জামালের পুত্রের। ইসরাইলি সেনার গুলিবর্ষণের মুখে পুত্রের প্রাণ বাঁচানোর জন্য জামালের সেই নিষ্ফল প্রচেষ্টার ছবি সে সময় ফিলিস্তিনি জনতার কাছে ‘দ্বিতীয় ইন্তিফাদা’র প্রতীক হয়ে গিয়েছিল।
ছবিতে দেখা গিয়েছিল, গুলি থেকে বাঁচতে পুত্রকে পাশে নিয়ে একটি কংক্রিটের ট্যাঙ্কের আড়াল খুঁজছেন জামাল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই ইসরাইলি গুলিতে বাবার কোলেই ঢলে পড়েছিল মহম্মদ আল-দুরা।
এ বার অবশ্য সেই চেষ্টাটুকুরও সুযোগ পাননি তিনি। আকাশ থেকে নেমে এসেছিল ‘মৃত্যুদূত’। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনীর ছোড়া গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র। মঙ্গলবার গাজার আল আকসা মসজিদ চত্বরে আশ্রয় নেওয়া জামাল বলেন, ‘শুধু আমার দুই ভাই, ভ্রাতৃবধূ আর ভাইঝি নয়, ক্ষেপণাস্ত্রে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে আমাদের পুরো পাড়ার অনেকগুলো পরিবার। মৃত্যু হয়েছে বহু শিশুর।’ ঘটনাচক্রে সে সময় বাড়িতে ছিলেন না তিনি। মঙ্গলবার যুদ্ধের একাদশ দিনে গাজায় নিহত সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিকের সংখ্যা ৩,০০০ পেরিয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর জানাচ্ছে নিহতদের এক তৃতীয়াংশই শিশু।- ইয়াহু নিউজ
You must be logged in to post a comment.