ঘোষণা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে ছাত্রদল। এ হামলায় ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ছাত্রদল। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের মাথা ফেটেছে ও একজনের হাত ভেঙেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত কমিটি উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে নীলক্ষেতে অবস্থিত মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ দিয়ে প্রবেশ করে। আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলকে প্রতিহত করতে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
জানা যায়, ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। তারা শিক্ষার্থীদের সমস্যা-সংকট সমাধানে উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করে। পাশাপাশি ছাত্রদলকে প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এরই অংশ হিসেবে দুপুর থেকে বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন। এছাড়াও উপাচার্যের বাসভবন ও সিনেট ভবনের সামনে অনেকটা অবরোধ করে রাখেন তারা।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, মূলত ছাত্রদল যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যই তাদের এ অবস্থান।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছিলেন সংগঠনটির ২০ থেকে ২৫ নজ নেতা-কর্মী। এ সময় স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মী ছাত্রদলের মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে যান। এ সময় ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক শুরু হয় যা একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রুপ নেয়।
এ সময় ছাত্রদলের উপাচার্যের জন্য আনা ফুলের তোড়া ভেঙে ফেলেন ছাত্রলীগের ওই কর্মী। এর সঙ্গে সঙ্গেই স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলামের অনুসারীরা রড, লাঠি ও স্টাম্প নিয়ে এসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পেটাতে শুরু করেন। ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে সেখান থেকে সরে পড়েন।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা চলে যাওয়ার পর নীলক্ষেত মোড়ে হাজির হতে দেখা যায় কবি জসীম উদদীন হল শাখা ছাত্রলীগ ও বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তারা মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রড ও স্ট্যাম্প নিয়ে হলের ভেতর প্রবেশ করতে দেখা যায়।
হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা করেছে। হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমি নিজেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। আমরা এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা কারও উপর হামলা করিনি। শিক্ষার্থীদের সংকট সমাধানে ছাত্রলীগের কর্মসূচি ছিলো। তা শেষ করে আমরা হলে ফিরছিলাম। সেখানে ছাত্রদল একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করায় সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়েছি।
এ বিষয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাফর বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ছাত্রদল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আমরা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।