কুষ্টিয়ার খাজানগর চালের মোকামে হঠাৎ হাজির খাদ্যমন্ত্রী

Reporter Name / ৫৪৫ ooo
Update : বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে মিনিকেট চালের (সরু চাল) অন্যতম বৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে অভিযান চালিয়েছেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি খাজনগর চালের মোকামে উপস্থিত হন । এ সময় একটি মিলের গুদামে প্রায় ৪০০ টন ধানের মজুদ খুঁজে পান মন্ত্রী। সুবর্ণা অটো রাইস মিলের মালিক জিন্নাহ আলম অন্য একটি মিলের গুদামে অবৈধভাবে এ ধান মজুদ করেছিলেন। মন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিক গুদামটি সীলগালা করা হয়। এছাড়া একই ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি আটা মিলের গুদামে ১৫০ টন গমের অবৈধ মজুদ পেয়ে সেটিও সীলগালার নির্দেশ তিনি।

মন্ত্রীর অভিযানের মাত্র ৮দিন আগে গত ২৩ জানুয়ারী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাজানগরে মজুত বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোনো রাইস মিলেই চালের অতিরিক্ত মজুত খুঁজে পাননি, কেবল চালের বস্তায় ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে দুটি রাইস মিলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রীর অভিযানে মজুত পাওয়া গেলো।

এদিন মন্ত্রী পর্যায়ক্রমে খাজানগর মোকামের অন্যতম মিনিকেট চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশ এগ্রো ফুড, সুর্বণা এগ্রো, স্বর্ণা এগ্রো ফুড, আল্লার দান এগ্রো এবং রশিদ এগ্রো ফুড পরিদর্শনে যান। এসব চালকল ও এর গুদাম ঘুরে ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। প্রায় প্রতিটি মিলেই কিছু না কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান তিনি। এর মধ্যে আল্লার দান এগ্রো ফুডের একটি গুদামে প্রায় ৪০০ টন ধানের মজুদ দেখতে পান তিনি। পরে জানা যায়, ওই ধানের মালিক সুর্বণা এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারি জিন্নাহ আলম। পরে জিন্নাহ আলমের আটার মিলে প্রায় ১৫০ টন গমের মজুদও খুঁজে পান মন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিক গুদাম দুটি সীলগালা করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী এ সময় সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের ভর্ৎসনা করেন। পাশাপাশি তিনি কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেনকেও ভর্ৎসনা করেন। তিনি খাদ্য নিয়ন্ত্রকে বলেন, ‘এসব অনিয়ম কেন এতো দিন চোখে পড়েনি। সব কিছু যদি আমাকে দেখতে হয়, তাহলে তোমরা এখানে কি কর।’ এ সময় খাদ্যমন্ত্রী গণমাদ্যমকর্মীদের জানান, অবৈধ মজুতসহ কেউ কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানে মন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজাসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং চালকল মালিক সংগঠনের নেতার উপস্থিত ছিলেন। পরে খাদ্য মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্যমজুদকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেউ অতিরিক্ত মজুদ বা বিনা লাইসেন্সে ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category