মাত্র দুজন যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেষা প্রাগপুর বাজার থেকে বুধবার সন্ধ্যায় ছেড়েছিল ঈগল পরিবহনের বাসটি। তবে তাদের নাম ঠিকানা বা কোনো তালিকা নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। বাসটি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, ঈশ্বরদী ও পাবনা হয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলো।
বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর বাসটি ডাকাতের কবলে পড়ে।
তারা বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতির পর দুই যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ওই দুই যাত্রী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হোসেনাবাদ বা তারাগুনিয়া থেকে বাসে উঠেছিলেন বলে জানা গেছে। তারা নারায়ণগঞ্জে তাদের স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন।
বাসটিতে ডাকাতি ও যাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর বাজারে বাসটির কাউন্টারে গিয়ে কাউন্টার মাস্টার দুখু মিয়ার সঙ্গে কথা হয়।
দুখু মিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টায় আমি মাত্র দুজন যাত্রী দিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দিই। তারা পুরুষ যাত্রী ছিলেন। এর পরে হেলপার সুপারভাইজার রাস্তা থেকে যাত্রী তুলেছেন। কে কোথা থেকে উঠেছে তা আমি জানি না। ’
এদিকে এ ঘটনার পর প্রাগপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে ঈগল পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুখু মিয়া।
বাসটিতে কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতকারী যাত্রী দৌলতপুরের হোসেনাবাদের ব্যবসায়ী আকমল হোসেন বলেন, ‘আমরা সবসময় টাকা দিয়ে টিকিট নিই। আমাদের নাম কাউন্টারে লিপিবদ্ধ করা হয় না। ’
কাউন্টারটিতে যাত্রীদের নাম বা পরিচয় সংরক্ষিত না রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন মাস্টার দুখু মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা টিকিটে যাত্রীর নাম লিখে দিই। কিন্তু যাত্রীর নামের তালিকা সংরক্ষণ করা হয় না। ’
দুর্ঘটনার শিকার বাসটির মালিকপক্ষের নিযুক্ত লাইনম্যান পলাশ জানান, বাসটির চালক কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কৈপাল এলাকার মনির। সুপারভাইসর রাব্বী এবং হেলপার দুলাল পাবনার বাসিন্দা।
ডাকাতি হওয়া বাসটির একযাত্রী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘বাসটির চালক, হেলপার এবং সুপারভাইজারের সঙ্গে ডাকাত দলের আগে থেকে যোগাযোগ থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ’
You must be logged in to post a comment.