ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৪৯ ooo
Update : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র নেতারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনা উচিত হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে শুধু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেই নয়, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, ডেমোক্র্যাট নেত্রী কমলা হ্যারিস এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভারমন্ট থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি এই হামলাকে ‘বেআইনি, বিপজ্জনক, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও পরিপন্থি।

স্যান্ডার্স তার পোস্টে বলেন, ট্রাম্প ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’ শপথে প্রচার চালিয়েছিলেন। অথচ এখন তিনি ভেনেজুয়েলার শাসনক্ষমতা পরিচালনা করতে চাইছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নাগরিকরা নানামুখী সংকটে ভুগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উচিত দেশের প্রধান সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়া। বিদেশে অবৈধ ও দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের ইতি টানা প্রয়োজন।

স্যান্ডার্স আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কোনো এখতিয়ার নেই একতরফাভাবে দেশকে যুদ্ধের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়ার। এমনকি নিকোলাস মাদুরোর মতো এক দুর্নীতিবাজ, বর্বর একনায়কের বিরুদ্ধেও তিনি একক সিদ্ধান্তে সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারেন না।”

এ ধরনের বেপরোয়া অভিযানের লাগাম টানতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দ্রুত একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবনা পাসের আহ্বান জানান স্যান্ডার্স। তার মতে, এ ধরনের অভিযান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

স্যান্ডার্সের মতোই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সরাসরি ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দেন। হ্যারিসের মতে, “ট্রাম্প যা করেছেন, সেটি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত বা শক্তিশালী করবে না।”

হ্যারিস আরও বলেন, মাদুরোকে স্বৈরাচারী, নিষ্ঠুর কিংবা অবৈধ শাসক বলেই হোক না কেন, এই যুক্তি দেখিয়ে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালানো যায় না। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতিমালা উপেক্ষা করে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কার্যত ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

মামদানি বলেন, এভাবে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা শুধু বিদেশে বসবাসকারী ভেনেজুয়েলানদের ওপরই নয়, বরং নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের জীবনেও প্রভাব ফেলবে। কারণ, নিউ ইয়র্ক শহরে হাজার হাজার ভেনেজুয়েলার নাগরিক বসবাস করে, যারা এই সংঘাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলা থেকে অপরাধীরা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্যই মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভান্ডারই আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের যুক্তি দেখালেও এর পেছনে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থই বেশি কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category