অবিশ্বাস্য! মাত্র দু’সেকেন্ডে ৭০০ কিমি/ঘন্টা গতি তুলল চীনের ট্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৮৮ ooo
Update : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রযুক্তির দিক থেকে চীন যে গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিতে পারে সেটাই আবারও প্রমাণ হল। চীনের  ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকরা এক অসাধ্য সাধন করেছেন।  মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে একটি ট্রেনকে ৭০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় গতিতে ত্বরান্বিত করেছে। একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছেন চীনা গবেষকরা। এই ট্রেনের গতি এতটাই যে  কিছু বোঝার আগেই তা অদৃশ্য হয়ে যাবে।

 

চীনে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকরা একটি চৌম্বকীয় উত্তোলন ট্রেনের উপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তারা প্রায় এক টন (প্রায় ১,০০০ কেজি) ওজনের একটি গাড়িকে এই অবিশ্বাস্য গতিতে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ৪০০ মিটার (১,৩১০ ফুট) ম্যাগলেভ ট্র্যাকে পরীক্ষাটি করা হয়েছিল এবং সেই গতিতে পৌঁছানোর পর ট্রেনটিকে নিরাপদে থামানো হয়েছিল।

 

এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক ম্যাগলেভ ট্রেনে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষার ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রূপালী বজ্রপাতের মতো ঝলকানি দিয়ে ট্রেনটিকে চলে গিয়েছে। গতিবেগ এতটাই ছিল যে খালি চোখে ট্রেনের যাওয়াকে দেখতে লেগেছে হালকা কুয়াশার মতো।

দেখা গিয়েছে, ট্রেনটি ট্র্যাকের উপরে ভেসে চলেছে সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট ব্যবহার করে যা রেলিং স্পর্শ না করেই ট্রেনটিকে উপরে তোলে এবং সামনের দিকে এগিয়ে দেয়। ত্বরণ এতটাই শক্তিশালী যে এটি একটি রকেটও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। এই গতিতে, ম্যাগলেভ কয়েক মিনিটের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের শহরগুলিকে সংযুক্ত করতে পারে।

 

এই ম্যাগলেভ প্রযুক্তিটি এটাও দেখুয়ে দিয়েছে যে হাইপারলুপের মতো ভবিষ্যতের ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব হতে পারে, যেখানে ট্রেনগুলি ভ্যাকুয়াম-সিল করা টিউবের মধ্য দিয়ে অতি উচ্চ গতিতে চলাচল করবে। যদি এই গতিতে ট্রেন চলে তাহলে দূরের শহরে ভ্রমণে সময় বাঁচবে অনেক।

 

ম্যাগলেভ ট্রেনকে ত্বরান্বিত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি, যাকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অ্যাক্সিলারেশন বলা হয়, মহাকাশ এবং বিমান চলাচলেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। রকেট এবং বিমানগুলি দ্রুত, মসৃণ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে, একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ কমাতে এবং যাত্রার খরচ কমাতে পারে।

 

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির অধ্যাপক লি জি বলেন, “এই অতি-উচ্চ-গতির সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক ম্যাগলেভ সিস্টেমের সফল বিকাশ চীনের অতি-উচ্চ-গতির ম্যাগলেভ পরিবহনের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।” বর্তমান সাফল্যের পিছনে থাকা দলটি ১০ বছর ধরে এই প্রকল্পে কাজ করছে। এই বছরের শুরুতে, জানুয়ারিতে, তারা একই ট্র্যাকে ট্রেনটি পরীক্ষা করে ৬৪৮ কিমি/ঘন্টা সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছেছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category