পার্টি পুনর্গঠনে বিদিশা এরশাদকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট পার্ক বারিধারায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মুখপাত্র নীলফামারী ১ আসনের সাবেক এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এই ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, পার্টিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে গত ৩১ অক্টোবর পার্টির স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ গুরুতর অসুস্থ থাকায় পার্টির কার্যক্রমকে বেগবান করার জন্য পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিদিশা এরশাদ এবং দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি এ সময় দেশবাসীকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান, যুগ্ম মহাসচিব মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিকদার আনিসুর রহমান, এডভোকেট শোয়েব আহমেদ, কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত শাহজাহান সিরাজ, অ্যাডভোকেট এম এ ওয়াদুদ দিদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাফিজ মাহবুব, কেন্দ্রীয় সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউল হক সরকার, শেখ রুনা, জুলিয়া আক্তার মীরা প্রমূখ।
সভায় বেগম রওশন এরশাদ এমপির আশু রোগমুক্তি কামনা করা হয়। সভার শুরুতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা এরশাদ বলেন, সম্প্রতি তিনি সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন এবং সারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাকে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন । তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বানের প্রতি সম্মান জানিয়ে শীঘ্রই বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট ভুক্ত হয়ে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
বিদিশা এরশাদ আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। এরিক এরশাদ, কাজী মামুন ও আমি ম্যাডাম রওশন এরশাদকে সিএমএম হসপিটালে দেখতে গিয়েছিলাম। আপাকে আমি কথা দিয়ে এসেছি পল্লীবন্ধু ও উনি যেভাবে জাতীয় পার্টিকে ভালোবাসতেন আমিও ঠিক সেই ভাবেই জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া মাধ্যমে সারা দেশে কাজ করবো।
দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতার স্বপক্ষের দলগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই এবং সেই লক্ষ্যে আমি ডাক দিতে চাই ছোট-বড় সমস্ত বিরোধী দলগুলোকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।