গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তৃতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। এ পর্বে অংশ নিচ্ছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। ১৪ ফেব্র্রুয়ারী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম রজনী শবেবরাত হওয়ায় মুসল্লিদের মাঝে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এবারের ইজতেমা আরও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে৷ এই প্রথম বারের মতো শবে বরাতের পবিত্র রাতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর পাকিস্তানের মাওলানা হারুনের আম বয়ানের (সার্বিক) মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার তৃতীয় পর্ব। গতকাল নিজামুদ্দিন মারকাজের মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে ময়দানের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে ।
ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, টঙ্গী তুরাগ নদের তীরের বিশাল ময়দানে তৃতীয় পর্বের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও শেষ।
দ্বিতীয় পর্বের লাখো মুসল্লির ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট, কাগজ, পলিথিন, বিছানার হোগলা ইত্যাদি পরিষ্কার করা হয়েছে। ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে ১৬০ একর ময়দানে তৈরি সুবিশাল সামিয়ানার নিচ। ইজতেমা ময়দানের চারপাশে তৈরি করা হাজার হাজার বাথ রুম, ওজু-গোসল ও রান্না-বান্নার স্থান ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিঁড়ে যাওয়া, খসে পড়া চট ঠিক করে বাঁধাসহ নতুন করে সাজানো হয়েছে।
পুরো ময়দানকে ৮৫ খিত্তায় সাজানো হয়েছে। এসব কাজগুলো ময়দান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও জামাতবন্দী মুসল্লিরা স্বেচ্ছাশ্রমে করেছেন। ময়দানের যেসব জায়গায় সামিয়ানা টানানো হয়নি সেসব জায়গার সামিয়ান সংশ্লিষ্ট খিত্তার মুসল্লিরা নিয়ে আসবেন।
ইজতেমার ৩য় পর্বের আয়োজকরা বলেন, দু-আ কবুলের রজনী শবে বরাতে এবছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশ বিদেশি মুসল্লীদের মাঝে বাড়তি এক ধর্মীয় আবেগ কাজ করছে। দলে দলে লাখো মুসল্লী ময়দানে আসতে শুরু করেছেন।
দেশ বিদেশের লাখো মুসল্লীর সাথে এই রাতে দু’আ ও আমলে কাটাবেন সাধারণ মানুষজন। পরদিন মুসলমানরা রোজা পালন করে ঐতিহাসিক জুম্মার নামাজে শরীক হবেন। আমরা জুম্মার নামাজে ২০ লক্ষ মুসল্লীর উপস্থিতি আশা করছি।
এদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা যেভাবে পরিচালিত হয়েছে একইভাবে তৃতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমাও পরিচালিত হবে বলে ইজতেমা পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডেসকো, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- র্যাব, পুলিশ, সিটিএসবিসহ বিভিন্ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। ইজতেমা চলাকালীন ট্রাফিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা আগের মতোই থাকবে বলেও জানা গেছে।