বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি

Reporter Name / ১৮ ooo
Update : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

টানা দুই সপ্তাহের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমনকি যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছেন’, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়ায়, তাহলে যারা জেনে-বুঝে সেই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে সহায়তা করে, তারাও ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন—এমনকি তারা নিজেরা সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও।

দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মোহারেব’-এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে এবং বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার পথ তৈরি করতে হবে এবং যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও চূড়ান্ত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় না দিয়েই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে।’

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে শনিবার ও রোববার রাস্তায় নামতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পুরোনো ইরানি পতাকা ও অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করার আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘জনসাধারণের স্থানগুলো নিজেদের বলে দাবি করতে পারে’।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়ে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি রিয়ালে নেমে গেলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শুরুতে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সাধারণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category