ভারতে ‘অগ্নিপথ’ বিক্ষোভে পুড়েছে ১২ ট্রেন, স্টেশন ভাঙচুর

Reporter Name / ১৭৮ ooo
Update : শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

ভারতে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের নতুন ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প নিয়ে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর হয়েছে। বিক্ষোভে সহিংস ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন, ভাঙচুর করা হয়েছে রেল স্টেশন। তারপরেও সরকার প্রকল্পের পক্ষ নিয়ে বলছে, এটি ‘সংস্কারমূলক’।

তেলেঙ্গানার সেকেন্দারাবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ওয়ারাঙ্গালের ১৯ বছরের এক তরুণ নিহত এবং আরও ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছে। বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা এবং মধ্যপ্রদেশসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে সেনা নিয়োগের নতুন প্রকল্প নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

বিহারে আক্রান্ত হয়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী রেনু দেবির বাসভবন। পশ্চিম চাম্পারান জেলার বেত্তিয়াহ গ্রামে তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সহিংসতা সমাজের জন্য খুবই বিপজ্জনক। আন্দোলনকারীদের মনে রাখতে হবে এটা সমাজের ক্ষতি’। বর্তমানে পাটনা অবস্থান করছেন তিনি। বুধবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সহিংসতার আগুনে পুড়ছে বিহার।

বিহারের ১২ জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার বলেছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের অপব্যবহার এই ১২ জেলায় শান্তির স্বার্থের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

উত্তরপ্রদেশে সংঘবদ্ধ বিক্ষোভকারীদের একটি দল সকালে বালিয়ায একটি রেলস্টেশনে প্রবেশ করে ট্রেনের কোচে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বল প্রয়োগ করার আগে রেলওয়ে স্টেশনের সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বারানসী, ফিরোজাবাদ এবং আমেথিতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সরকারি বাস এবং সরকারি সম্পত্তির অন্যান্য চিহ্নের ক্ষতি হয়। আলিগড়ে স্থানীয় বিজেপি নেতার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত ১২ ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং তিন শতাধিক আক্রান্ত হয়েছে। ২১৪টি ট্রেন যাত্রা বাতিল, ১১টির রুট পরিবর্তন এবং ৯০টি ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ‘আমি তরুণদের হিংসাত্মক বিক্ষোভে না জড়াতে এবং রেলের সম্পত্তির ক্ষতি না করার জন্য আবেদন করছি। রেল দেশের সম্পত্তি’।

সরকার মঙ্গলবার অগ্নিপথ প্রকল্প ঘোষণা করে। এটিকে ‘সংস্কারমূলক’ প্রকল্প আখ্যা দিয়েছে তারা। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীতে জনবল নিয়োগের জন্য, মূলত চার বছরের স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে এই প্রকল্পে নিয়োগ করা হবে। বিক্ষোভকারীরা চুক্তির মেয়াদ নিয়ে অসন্তুষ্ট।

বিরোধীরাও নতুন নিয়োগ প্রকল্প নিয়ে সরকারের উপর আক্রমণ বাড়িয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অগ্নিপথে হেঁটে মাধ্যমে তাদের ধৈর্যের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব এই পদক্ষেপকে ‘অবহেলা’ এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাব্য ‘মারাত্মক’ বলে অভিহিত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category