ভেনেজুয়েলায় অভিযানে রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৫৩ ooo
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে শক্তিশালী রহস্যময় অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল মার্কিন বাহিনী। এতে অনেকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, কারও কারও রক্তবমি হয়। আর তাতেই কাবু হয় মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা বিশাল বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তারক্ষীর বর্ণনা তুলে ধরে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত শনিবার এক্সে নিরাপত্তারক্ষীর বিবরণ শেয়ার করেন। খবর বিডিনিউজের।

সেখানে চমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই নিরাপত্তারক্ষী বর্ণনা করেন, কীভাবে আমেরিকান বাহিনী নিজেদের একটি সেনাও না খুইয়ে শত শত সেনাকে কাবু করে ফেলেছে এমন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা কখনও তিনি দেখেননি বা শোনেননি। ওই রক্ষীর কথায়, সামরিক অভিযান হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু টের পাওয়া যায়নি।

আমরা পাহারায় ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমাদের রেডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশে একের পর এক ড্রোন দেখা যায়। ঝুঁকে ঝাঁকে ড্রোন আমাদের অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে শুরু করে। আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। কয়েক মুহূর্ত পরেই কয়েকটি হেলিকপ্টার আসে। ৮ টির মতো হেলিকপ্টার। সেই কপ্টারগুলো থেকে ২০ জন মতো মার্কিন সেনা নেমে এসেছিল। তাদের হাতে বন্দুকের চেয়েও শক্তিশালী কোনও অস্ত্র ছিল। নিরাপত্তারক্ষী বলেন, তাদের কাছে এমন কোনও উন্নতি প্রযুক্তি ছিল যা আগে কখনও দেখিনি বা শুনিনি।

তাদের কাছে এমন কিছু ছিল, যা আমরা আগে কখনও মোকাবেলা করিনি। এরপরের ঘটনাকে তিনি লড়াই নয়, বরং নির্মম হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন ছিল। কিন্তু আমাদের কিছু করার সুযোগই ছিল না। তারা নিখুঁত নিশানা এবং ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গুলি চালাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন, প্রতিটি মার্কিন সেনা মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ছুড়ছে। তারপরেই সেই রহস্যময় অস্ত্রের হামলা হয়, যার ভয়াবহতা তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তারক্ষী বলেন, এক পর্যায়ে তারা (মার্কিন সেনা) কিছু দিয়ে হামলা চালাল। আমি জানিনা সেটাকে কীভাবে বর্ণনা করব। জোরাল একটি আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। এতটাই জোরাল যে, মনে হচ্ছিল আমার মাথা ভেতর থেকে ফেটে বেরুবে। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই যা হল তা ভয়াবহ। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করল। কেউ কেউ রক্ত বমি করতে লাগল। আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম। নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। ওই সনিক অস্ত্র বা সেটি যাই হয়ে থাকুক, সেই অস্ত্রের হামলার পর আমরা আর উঠেও দাঁড়াতে পারিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category