সোমবার মার্কিন বিমানবাহী একটি বিশাল রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এসে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ইরানকে সরাসরি ভয় দেখানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিদেশি রণতরীর উপস্থিতি তাদের প্রতিরক্ষা নীতি বা কূটনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। ইরান কোনোদিন যুদ্ধকে স্বাগত জানায়নি এবং ভবিষ্যতেও যুদ্ধ চায় না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কূটনীতি আমাদের একমাত্র ঢাল। বিদেশিরা যদি মনে করে যুদ্ধজাহাজ এনে আমাদের দেশ রক্ষার মনোবল ভেঙে দেবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি সামান্যতম আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান যে জবাব দেবে তা হবে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক এবং চূড়ান্ত। শত্রু যদি মনে করে তারা সহজে জয়ী হবে, তবে তাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে বিশ্বনেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাশিয়া সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং তা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দিতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এর আগে দাবি করেছিলেন যে, ইরান চুক্তি করতে চায় এবং তেহরান থেকে তাকে বহুবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বয়ানে চুক্তির পরিবর্তে সামরিক মোকাবিলার সুরই বেশি জোরালো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক যেভাবে তিক্ততার চরমে পৌঁছেছে, তাতে যে কোনো সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে। মাদুরোর সাথে ট্রাম্পের তুলনা এবং তাকে বন্দি করার হুমকি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের চরম আস্ফালনের বহিঃপ্রকাশ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই বারুদে ঠাসা পরিস্থিতিতে ইরান তার জনগণের সমর্থন এবং সামরিক সক্ষমতাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইরানের এই ‘মাদুরো-স্টাইল’ হুমকির বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেয়।
এএন






