টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে দালালদের কাছে জিম্মি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২০২ ooo
Update : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫

শুধু টঙ্গীর সাধারণ মানুষ নয়, চিকিৎসা সেবা পেতে গাজীপুর, গাছা,পূবাইল এমনকি ঢাকা উত্তরা থেকে প্রতিনিয়ত  বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ছুটে আসেন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেবা নিতে এসে  সাধারণ রোগীরা হাসপাতালের ডাঃ ও কর্মকর্তা ওকর্মচারীদের অসহযোগিতার কারনে দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। হাসপাতালের জরুরি সেবা থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ভর্তি পর্যন্ত সর্বত্রই দালালদের দৌরাত্ব দেখা যাচ্ছে। এইসব দালালদের কারণে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রোগী জানান, হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে উপস্থিত হলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিতরা আমাকে হাসপাতালের গাইনী ডাক্তারের কাছে  পাঠান । গতকাল বুধবার দুপুরে আমি গাইনি  ডাঃ তারার কাছে উপস্থিত হলে জরুরী বিভাগের টিকেটের অজুহাতে তিনি আমাকে কোন ব্যবস্থাপত্র দেননি। আমি পাশ্ববতী আরেকজন গাইনী ডাক্তারের কাছে উপস্থিত হলে তিনি ব্যবস্থা পত্র দেওয়া শুরু করলে ডা: তারা উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে আমার চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। বর্ত মানে আমি মারাত্নক অসুস্থ্য অবস্থায় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না । এ ভাবে প্রতিদিন শত শত রোগী টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।এ ছাড়াও  রোগীদের স্বজনরা রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর উৎপেতে থাকা দালালরা বিভিন্ন কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কোনো রোগী জরুরি বিভাগ অথবা বহির্বিভাগে আসলে দালালরা তাদের টার্গেট করে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এইসব দালালরা সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই এবং অনেক রোগী সুচিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে রোগীদের ভয়ভীতি দেখান। দালালদের এইসব কথা শুনে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে তারা বাধ্য হয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে। এ সুযোগে দালালরা রোগীদের বিভিন্ন অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
এইসব দালালা হচ্ছে-তানিয়া, মেরিন ও লিপি। হাসপাতালের ভেতরে এবং বাহিরে তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি এবং ভালো সিটের ব্যবস্থা কিংবা চিকিৎসা পাওয়ার জন্য দালালদের শরণাপন্ন হতে হয়। এর ফলে সাধারণ রোগীরা সুচিকিৎসা সেবা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। যারা দালালের হাতে টাকা দিতে পারে না, তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এমনকি অনেক সময় তাদের চরম দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগীর স্বজন জানান, তারা বহুবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের অভিযোগ হাসপাতালের কিছু অসাধু ডাক্তার ও কর্মচারীদের সাথে কতিপয় দালালদের মধ্যে একটি গোপন যোগসাজশ রয়েছে। এই যোগসাজশের কারণে দালালদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি হাসপাতালের দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে লোকবল স্বল্পতা এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে সবসময় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আমি অত্যন্ত ব্যস্ত তাড়াতাড়ি কথা শেষ করুন। হাসপাতালের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে তিনি কোন সমাধানের আশ্বাস দেননি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category