জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের এক বছরের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। উপজেলার কুলকান্দি হার্ডপয়েন্ট থেকে গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের মাঝামাঝি এলাকার অন্তত ৯০ মিটার বাঁধের সিসি ব্লগ নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছে যমুনার তীরবর্তী মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে, কুলকান্দি বাজার, শামছুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়, দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মসজিদ, বসতবাড়িসহ কয়েক হাজার ফসলি জমি।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনার ভাঙন প্রতিরোধে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ফুটানী বাজার থেকে সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা পর্যন্ত তিনটি পয়েন্টের মধ্যে ইসলামপুরের কুলকান্দি হার্ডপয়েন্ট থেকে গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের আড়াই হাজার মিটারের জন্য ৯০ কোটি টাকার ব্যায়ে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প নামে একটি তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত একবছর আগেই বাঁধের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঁধ ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বলছেন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শুক্রবার বিকাল থেকে ভাঙন রোধে বলি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।
কুলকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান দুলাল জানান, একটি শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেটরা দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভাঙন রোধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না, আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ‘যমুনা নদীতে নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হওয়ায় তীর রক্ষা বাঁধের ৯০ মিটার অংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে।’
You must be logged in to post a comment.