মিলছে না যাত্রী: বরিশালে লঞ্চ বন্ধ

Reporter Name / ২৮০ ooo
Update : শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২

টিকিটে মূল্য ছাড় চলছে ঢাকা-বরিশাল নৌ ও আকাশ পথে। তবু আগের মতো মিলছে না যাত্রী। অনেকের মতে, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে লঞ্চ মালিকরা। সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে এয়ারলাইনগুলো। পদ্মা সেতু চালুর পর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে সড়ক পথকেই বেছে নিয়েছে যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালের সড়ক পথে ঢাকা-বরিশাল রুটে নতুন করে ২০ থেকে ২৫টি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। এতে বর্তমানে দক্ষিণের ছয় জেলার সড়কপথে অন্তত ৫০০ বাস চলাচল করছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে ভাড়া সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে মত যাত্রীদের।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রী সংকটে মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে দ্রুতগামী নৌযান এমভি গ্রিন লাইন-৩। পদ্মা সেতুর এই ঢেউ শুধু নৌপথেই নয়, এবার আকাশপথেও লেগেছে। ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে চলাচলকারী বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার আগামী ১ আগস্ট থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

আকাশ পথে বরিশাল থেকে রাজধানীতে যেতে সময় লাগে মাত্র ২৫ মিনিট। তাই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথ। নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার। যাত্রীদের আগ্রহের সুযোগ নিয়ে দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করে এয়ারলাইনসগুলো।

তবে পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যাত্রী সংখ্যা নেমে এসেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে।

যাত্রী ধরে রাখতে সর্বনিম্ন সাড়ে চার হাজার টাকার ভাড়া, এক হাজার কমিয়ে সাড়ে তিন হাজার করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন। ৫০০ টাকা হ্রাসের পর বিমানের ভাড়া এখন তিন হাজার টাকা।

যাত্রীদের অভিযোগ, রাজধানী থেকে অভ্যন্তরীণ যে সকল রুটে বিমান চলাচল করে, তার মধ্যে বরিশালের দূরত্ব সবচেয়ে কম মাত্র ৬১ অ্যারোনটিক্যাল মাইল। কিন্তু ভাড়া গুনতে হচ্ছে সবচে বেশি।

এদিকে ভাড়া কমিয়ে সিঙ্গেল আট শ থেকে ১ হাজার, ডাবল কেবিন ১৮ শ থেকে ২ হাজার টাকা করেও অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে অধিকাংশ লঞ্চের কেবিনের টিকিট। তাই রোটেশনের মাধ্যমে ঢাকা-বরিশাল উভয় প্রান্ত দিয়ে তিন থেকে চারটি লঞ্চ পরিচালনার কথা ভাবছেন মালিকরা। বর্তমানে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭টি লঞ্চ চলাচল করছে উভয় প্রান্ত থেকে।

এক দশক আগে সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফলে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে প্রচলিত রোটেশন প্রথা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল মালিকরা। তবে রোটেশন চালু হলে প্রয়োজনে আবারো আন্দোলনের কথা বলছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

যাত্রী সংকটের বিষয়ে নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নিলাদ্রী মহারত্ন বলেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে বরিশাল-ঢাকা রুটে নভোএয়ারের ফ্লাইট চলাচল আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যাত্রী বাড়লে পরিস্থিতি বুঝে সংস্থাটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয় হবে।

এর আগে মঙ্গলবার নিজস্ব ফেসবুক পেজে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে এমভি গ্রিন লাইনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। এ জন্য আপাতত ঢাকা-বরিশাল ভায়া হিজলা নৌপথে গ্রিন লাইনের সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ঢাকা-কালিগঞ্জ-ইলিশা (ভোলা) রুটে এমভি গ্রিন লাইন-২ নিয়মিত চলাচল করবে।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রীসংখ্যা কমতে থাকে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা। যাত্রী ধরে রাখতে তারা ঈদুল আজহার পর ভাড়া কমিয়ে দেয়। ইউএস বাংলা প্রতি আসনে সাড়ে চার হাজার থেকে ভাড়া কমিয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে। আর নভোএয়ার চার হাজার টাকা থেকে কমিয়ে তিন হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ বিমানও একই পথ অনুসরণ করে ২০০ টাকা ভাড়া কমিয়ে দেয়। কিন্তু ভাড়া কমিয়েও খরচ তুলতে পারছিল না নভোএয়ার।

নভোএয়ারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর কারণে বরিশাল-ঢাকা ও ঢাকা-যশোর রুটে আশঙ্কাজনক হারে যাত্রী কমে গেছে। ঢাকা-যশোর রুটের যাত্রী পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকায় ওই রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। আগে সপ্তাহে সাত দিন ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করত সংস্থাটি।

ইউএস বাংলার বরিশালের বিপণন কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখন ঢাকা-বরিশাল রুটে তাদের ৭০ আসনের উড়োজাহাজ যাত্রী পরিবহন করছে। সেতু চালু হওয়ার পর প্রায়ই প্রতিটি ফ্লাইটে এক-তৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইউএস বাংলা কত দিন এই রুটে সেবা দিতে পারবে তা নিয়েও শঙ্কায় আছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল স্টেশনের ব্যবস্থাপক শওকত আলী খান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকায় যাতায়াতে সময় কমে গেছে। খরচ কমে আসায় আকাশপথে যাত্রী কমেছে। গত শনিবার থেকে বিমানের ভাড়া ৩ হাজার ২০০ থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম মাসরেক বাবলু বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর খুব স্বল্প সময়ে ঢাকা যেতে পারছে যাত্রীরা। এতে বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি যুক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ইলিশ পরিবহন, গ্রিনলাইন, শ্যামলী পরিবহনসহ ২০ থেকে ২৫টি পরিবহন কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে ৫০০ মতো বাস চলাচল করছে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা হলেও নেয়া হয় ৬০০ টাকা। আর ননএসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারিত ৪২০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা যেতে পারছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category