ডেমু ট্রেনের সরবরাহকারীদের তলব করলো সংসদীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২০২ ooo
Update : বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০২৪

চীন থেকে ২০১৩ সালে কেনা হয় ২০ সেট ডিজেল মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন। এগুলোর আয়ু ধরা হয়েছিল ২০ বছর। এক দশক পার হওয়ার আগেই বিকল হয়ে যায় একটি বাদে সবগুলো ট্রেন। এতে জলে যায় সরকারের সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু স্বপ্নের অত্যাধুনিক ডেমু প্রকল্পের ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না কেউ। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
বুধবার (৩১ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এবার ডেমু ট্রেনের দেশি–বিদেশি সরবরাহকারীদের তলব করেছে সংসদীয় কমিটি। মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্টদের আগামী বৈঠকে উপস্থিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। সেই সঙ্গে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) পার্থ সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডেমু ট্রেন আমদানিতে সরকারের ৬৫৩ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে কালোতালিকাভুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলেছিল সংসদীয় কমিটি। বুধবারের বৈঠকে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৩ সালে ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু সংগ্রহ করা হয়।

পরে ডেমু সরবাহকারীদের তলবের সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় কমিটি। দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে কমিটি রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) পার্থ সরকারকে ‘বরখাস্ত’ করার সুপারিশ করে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এ ছাড়া সহজ ডটকমের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম, শফিকুল ইসলাম, শামীম ওসমান, ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মো. শফিকুর রহমান ও নুরুন নাহার বেগম অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category