ড:ই্‌উনুস সরকারের পুলিশের হাতে কেন শটগান থাকবে?-রুহুল কবীর রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৫৮ ooo
Update : রবিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৫

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী ড:ই্‌উনুস সরকার সম্পর্কে  বলেন,অনেক রক্ত জড়ানো, রক্তাক্ত পিচ্ছিল পথে আপনি ক্ষমতায় বসেছেন।এবং আপনাকে সমর্থন করেছে প্রত্যকটি গনতন্তামনা মানুষ ও প্রত্যকটি গনতন্ত্রামনা রাজনৈতিক দল। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করা।উত্তেজিত জনতা তাদের বিভিন্ন দাবী আদায়ে অনেক কিছু করে বসে।তখন পুলিশ মোকাবেলা করে। কিন্তু পুলিশকে এমন অধিকার দেওয়া উচিৎ না যাতে কথায় কথায় তাদের উপর গুলি চালাতে হয়। বর্তমান সরকারকে তিনি সমালোচনা করে বলেন, পুলিশের হাতে এখন কেন শটগান থাকবে? যে শটগানে দেশের হাজার হাজার ছাত্র রক্তাক্ত হয়েছে,কারো হাত গেছে, কারো পা গেছে, কারো চোখ গিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে।শেখ হাসিনা তাবেদারী করতে গিয়ে তারা নির্বিচারে গনতন্ত্রগামী জনগনের উপর গুলি করেছে।তিনি আরো বলেন শেখ হাসিনার সময়ে মিথ্যা মামলা ছড়াছড়ি হয়ে গেছে।মামলা বানিজ্য ও গ্রেপ্তার বানিজ্যে দেশ ছয়লাব হয়ে গেছে সেই শেখ হাসিনার দু:শাসন যাতে আবারো ফিরে না আসে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিনি গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৫৩নং কাউন্সিলর কার্ষালয়ের মাঠে আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে জন্মবাষির্কী ও  শির্তার্ত মানুষের জন্য কম্বল বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক চান মিয়া বেপারির  সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব  হাজী মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্মআহবায়ক মোস্তফাফিজুর রহমান সেগুন,এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন,ও কফিল উদ্দিন প্রমুখ।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেননি। তাঁর জনগণের দরকার ছিল না, ভোটের দরকার ছিল না। তিনি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর বাবার মতোই দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, পূর্বাচলে শুধু শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে ৬০ কাঠা জমি। তার মধ্যে শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের নামে ১০ কাঠা। বাংলাদেশের যেখানে যে জায়গা তার পছন্দ হয়েছে, সেটাই শেখ হাসিনা আত্মসাৎ করেছেন নামমাত্র একটা আইনি কাঠামোর মধ্যে। সেই আইনি কাঠামো কি? শেখ হাসিনার তৈরি করা। শেখ হাসিনা চাইলে রাজউকের ঘাড়ে কি দুইটা মাথা আছে যে তারা না করতে পারবে।

শেখ হাসিনার সুদাসদন ও গোপালগঞ্জে বাড়ি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপর ৬০ কাঠা জমি তার এবং তার বোন, মেয়ে, ছেলের নামে। সম্পদের পর সম্পদ তার। এটা আমার কথা নয়, তথ্য-প্রমাণসহ খবর প্রকাশ হয়েছে। ৮০ হাজার কোটি টাকা শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল একতরফা। “ভারতকে সুবিধা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করেছেন। তিনি নিজেকে অগ্রাহ্য করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। বলতেন, ‘আমাকে কেনা যায় না।’ কিন্তু বাস্তবে ভারত তার সঙ্গে এতো প্রভাব বিস্তার করেছে যে, তার শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এর জন্য যে জনগণ দাড়াতে পারে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীর প্রতিরোধের সঙ্গে, এই দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনার আমলে তিনি করতে দেননি। ফ্যাসিজম দিয়ে, তার নির্দয়তা দিয়ে, তার নির্মমতা দিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) ভারতের দাস হয়ে কাজ করেছেন।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার যোগসাজশে বাংলাদেশের সীমান্তের ১৬০টি জায়গায় ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ২০১০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যেভাবে ভারতকে সুবিধা দিয়েছে, সেই সুবিধার কারণে তারা অসম কাজগুলো করেছে। দুটি স্বাধীন দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যে কাজগুলো করা যায় সেটা না করে জোর করে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়েছে ভারত। আপনাদের আমরা বলে রাখি, ১৬০টি জায়গায় শুধু শেখ হাসিনা সুবিধা দেওয়ার কারণে আমাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে ভারত।

বি এন পি নেতা মোস্তফা জামান ভাই,কফিল ভাই, রাজ্জাক ভাই, এস এম জাহাঙ্গীর ভাই দেশের গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। এরা প্রত্যেকের দেশের লড়াকু মানুষ। এরাই শীর্তার্ত মানুষের জন্য কম্বলের ব্যবস্থা করেছেন।এ জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ দেন।

সভাশেষে প্রধান অতিথি রুহল কবীর রিজভীসহ অন্যন্য নেতারা উপস্থিত প্রায় এক হাজার কম্বল বিতরন করেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category