মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। পাশাপাশি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের জোরপূর্বক আটককে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক এবং দেশ থেকে বের করার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি এবং জাতিসংঘ সংস্থার উদ্দেশ্য ও নীতির পরিপন্থী।’
তে আরও বলা হয়েছে, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে, ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধ করতে এবং সকল বিষয় আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘আটক’ করেছে। মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে ‘আমেরিকান বিচারের মুখোমুখি’ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পুলিশের সাথে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে ও গ্রেফতার ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার সড়ক অবরোধে নামেন আন্দোলনকারী। পরে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পুলিশের সাথে দফায় দফায় তাদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়েন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একইসাথে টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) এই আন্দোলনে কারওয়ান বাজার মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেন।

এতে ব্যবসায়ীরা কাঁঠালবাগানের দিকে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপর তারা আবার কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা, বাদ শান্ত-জাকের

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে লিগ পর্বের চারটি ম্যাচের ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পাননি জাকের আলি অনিক। সুযোগ হয়নি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনেরও। তবে দলে রাখা হয়েছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে।

বিপিএলের প্রথম কয়েক ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে আলোচনায় আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাশাপাশি বল হাতে দুই ম্যাচে ভালো করেছেন রিপন মন্ডল এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আলিস ইসলাম। ভালো করা এসব ক্রিকেটারের দিকেও নজর রাখছেন নির্বাচকরা।

এ কারণে ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডে কোনো কারণ ছাড়াই পরিবর্তন আনার সুযোগ রাখছে বিসিবি। এ জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর পর স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। কলকাতায় ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে পরের দুটি ম্যাচ খেলবে দলটি। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াডে অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন লিটন দাস এবং সহঅধিনায়ক সাইফ হাসান। বাকিদের মধ্যে আছেন: তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শরিফুল ইসলাম।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে- ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে বলে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

এর আগে ভেনেজুয়েলার হাইকোর্ট জানায়, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা জরুরি। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আদালত আরও উল্লেখ করেছে, দেশের ধারাবাহিকতা, সরকারের কার্যকারিতা এবং রাষ্ট্রপতির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোন আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য আরও আলোচনা প্রয়োজন।

এর আগে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার শাসনভার গ্রহণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন দলের সঙ্গে কাজ করবে তার প্রশাসন। দেশটিতে ‘নিরাপদ, সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত’ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই দলই দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

ভেনেজুয়েলার ভেতরে কারা এই অন্তর্বর্তী দলের অংশ হবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ট্রাম্পের দাবি, রদ্রিগেজ এখন ‘আমেরিকা যা চাইবে’ তাই করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

ডেলসি রদ্রিগেজ সদ্য ক্ষমতাচ্যুত নিকোলাস মাদুরোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার ভাই জর্জ রদ্রিগেজ দেশটির জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রদ্রিগেজ ভাই-বোন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলায় ডেলসি রদ্রিগেজই প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রকাশ্যে কথা বলেন।

এক বিবৃতিতে তিনি নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থার প্রমাণ সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

ভেনেজুয়েলায় অভিযান একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপিত হয়েছে-জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের শনিবারের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে। মহাসচিব আশঙ্কা করছেন, এই অভিযানের ফলে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরপেক্ষভাবে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করলে এই অভিযানের মাধ্যমে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানবোধের অভাব মহাসচিবকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি সবাইকে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পৃথক এক বার্তায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফলকার তুর্ক বলেন, ভেনিজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরবর্তী যেকোনো পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা এটিই দেবে।

জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রভাবশালী অঙ্গসংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে পরিষদ। ওই বৈঠকে ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বিমান বাহিনী। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন।

শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মাত্র চার দিন আগে তিনি এই সামরিক অভিযানের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৪০

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন  হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য রয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার মাটিতে নামার আগে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ব্যাপক আকারে অভিযান চালানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়।’

নিহতের সংখ্যা কিংবা অভিযানের বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে ‘শক্তিশালী চমকপ্রদ প্রদর্শন‘ বলে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনকা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কৌঁসুলিরা শনিবার একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করেন। এতে মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগসহ একাধিক অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনয়া লাতিন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এএন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, কড়া বার্তা দিল চীন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সরাসরি সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন।

শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করে।

বেইজিং এই ঘটনাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান যে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বেইজিংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড কেবল ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকেই ক্ষুণ্ণ করেনি, বরং এটি পুরো লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই অনৈতিক সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে চীন তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে।

চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেইজিং দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব প্রদানকারী শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ হলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নীতি-নির্ধারকগণ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে চীন ও রাশিয়ার মতো বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক সংঘাত আরও প্রকট হতে পারে।

মাদুরো সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে চীন সব সময়ই ভেনেজুয়েলার পাশে থেকেছে। বেইজিং মনে করে, একতরফা শক্তি প্রয়োগ করে কোনো দেশের নেতৃত্ব পরিবর্তন করা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি ভয়াবহ নজির। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে চীন অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বড় ধরনের হামলা’ চালিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মাদুরোকে আটক আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন:নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি এ ঘটনাকে যুদ্ধের সমতুল্য একটি পদক্ষেপ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।নববর্ষের প্রথম দিনে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়া জোহরান মামদানি এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মামদানি বলেন, এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইনই নয়, দেশীয় আইনও লঙ্ঘন করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, নগ্নভাবে অন্য দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা কেবল সেই দেশের জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং এর প্রভাব নিউইয়র্কবাসীদের জীবনেও পড়ে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত হাজারো ভেনেজুয়েলান অভিবাসী এ ধরনের পদক্ষেপে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোকে আটক নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সামরিক আঘাতের পর প্রতিবেশী দেশ ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মিত্ররা শনিবার এর নিন্দা জানিয়েছে। স্পেন শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশছাড়া করেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এটিকে ওয়াশিংটনের ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে কারাকাসের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েক নেতা মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।ইরান

তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ‘কঠোর নিন্দা’ জানায়—এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন।

কলম্বিয়া

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করে সতর্ক করেন, এতে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক তাৎক্ষণিকভাবে আহ্বান করার আহ্বান জানান তিনি।কিউবাপ্রথাগত মিত্র কিউবা একে ‘সাহসী ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কামনা করেছে।

রাশিয়া

রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করে বলেছে, এই পদক্ষেপের কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই এবং আদর্শগত শত্রুতা কূটনীতিকে ছাপিয়ে গেছে।

স্পেন

স্পেন উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা গণতান্ত্রিক, আলোচনাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতায় প্রস্তুত।

জার্মানিজার্মানি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেছে।

ইতালি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় বলেছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে এবং কারাকাসে অবস্থানরত ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

বেলজিয়াম

বেলজিয়াম ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে বলে শনিবার জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর

ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর বলেছেন, ‘শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সালের আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ট্রিনিদাদ ও টোবাগো চলমান এসব সামরিক অভিযানের কোনো অংশ নয়।

ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে ট্রিনিদাদ ও টোবাগো শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।’ইন্দোনেশিয়া ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়ভন মিউয়েংকাং বলেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইন্দোনেশিয়া।

তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানায় এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলে।’

মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে যাওয়ার মতো কোনো জাতীয় স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। সিনেটর রুবেন গালেগো লিখেছেন, এই যুদ্ধ বেআইনি—এক বছরেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্ব পুলিশ’ থেকে ‘বিশ্বের বুলি’তে পরিণত হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী আগ্রাসন’ বন্ধ করতে বললো ইরান

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে ইরান। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে থামানোর দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অবৈধ আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘের সদস্য একটি স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্পষ্ট লঙ্ঘন- যার পরিণতি সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে। জাতিসংঘ সনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ব্যবস্থাকে আরও ক্ষয় ও ধ্বংসের মুখোমুখি করবে।’

মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।

তেহরান ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রতিরক্ষার অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমস্ত সরকারকে এই হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।