বাংলাদেশে বিদ্যুৎসংকট ২০২৬ পর্যন্ত: ব্লুমবার্গ

২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ভয়াবহ বিদ্যুৎসংকটের মধ্য দিয়ে যাবে। বিশ্ববাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপাদান প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এমন সংকটে পড়ে যাবে উন্নয়নশীল দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এমন শঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

জুন মাসে অস্থির দামের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সরবরাহ নিশ্চিতে পথ খুঁজে দেশটি। এক সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

অন্যদিকে জ্বালানি তেল-গ্যাস উৎপাদক দেশ কাতারসহ বিভিন্ন দেশ ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের আগে চুক্তিবদ্ধ জ্বালানি ছাড়া নতুন চুক্তির ভিত্তিতে তেল-গ্যাস বেচবে না।

রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান তেল-গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এতে এশিয়ায় লিকুইডিফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলএনজি) বাজারমূল্য দ্বিগুণ হয়ে যায়। ইউরোপের দেশগুলো গ্যাস ও জ্বালানি মজুতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তৈরি হয় জ্বালানির জোগানে তীব্র সংকট।

এমন চলমান বিদ্যুৎসংকট দীর্ঘ মেয়াদে এসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিও কমিয়ে দিতে পারে- এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরা।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এরই মধ্যে বড় শহরগুলোতে নিয়ম করে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার (লোডশেডিং) ব্যবস্থা নিয়েছে।

ব্লুমবার্গের গবেষণায় উঠে আসে, বাংলাদেশ সাধারণত ৪০ শতাংশ এলএনজি গ্যাস আমদানি করলেও চলতি বছর তা নামিয়ে এনেছে ৩০ শতাংশে।

জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে খাপ খেতে গিয়ে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফের কাছ থেকে সহায়তা চাইছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এলএনজি গ্যাস রপ্তানি করতে রাষ্ট্রয়ত্ব সংস্থা পেট্রোবাংলাকে ২ হাজার কোটি টাকা (২১ কোটি ১০ লাখ ডলার) দেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের যোগান নিশ্চিত না করা পর্যন্ত উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ ধীর গতিতে এগুবে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলমান চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি কেনার ওপর গুরুত্ব দেবে সরকার, এমনটি জানিয়েছেন নসরুল হামিদ।

শোকের মাস আগস্ট জুড়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

শোকের মাস আগস্ট জুড়ে প্রতিদিন কর্মসূচি পালন করবে শাসক দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতীম ও সমমনা সংগঠনগুলো। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার রাত ১২টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের আলোর মিছিল এবং মহিলা লীগের ১৫ই আগস্টের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করছে মহিলা লীগ। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কর্মসূচি।

মাসের প্রথম দিন সকালে কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান ও প্লাজমা সংগ্রহ কর্মসূচি পালিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২ আগস্ট সকাল ১০টায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটি। বিকাল ৩টায় উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ।

৩ ও ৪ আগস্টের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি।

ধানমণ্ডিতে আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ৫ আগস্ট সকাল ৮টায় শ্রদ্ধার্ঘ্য অপর্ণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ। সকাল সোয়া ৯টায় বনানীতে তার কবরে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে শস্য বীজ বিতরণ করবে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটি। সকাল ১১টায় রাজধানীতে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘তারুণ্যের জেগে ওঠার নাম শেখ কামাল’ শীর্ষক আলোচনা সভা করবে যুবলীগ। বিকাল ৫টায় টায় মৎস্যজীবী লীগের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে আরেকটি আলোচনা সভা হবে।

৬ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় জাদুঘরের ‘নলিনীকান্ত ভট্টশালী’গ্যালারিতে বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে স্মরণ করে দেশের ২৫জন বরেণ্য শিল্পী ও ২৫জন তরুণ শিল্পীর আঁকা শিল্পকর্মের প্রর্দশনী হবে। এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটি।

৭ আগস্ট রোববার সকাল ১০টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করবে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ।

৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন। এ উপলক্ষে এদিন সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে শ্রদ্ধার্ঘ্য অপর্ণ, কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর আজিমপুর এতিমখানায় এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

সকাল ১১টায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করবে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি। একই সময়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘বাঙালির মহীয়সী নারী শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে শস্য বীজ বিতরণ করবে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটি। বিকাল ৪টায় একই স্থানে অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করবে মহিলা আওয়ামী লীগ।

৯ আগস্ট কোনো কর্মসূচি নেই।

১০ আগস্ট সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটি।

১৩ আগস্ট শনিবার ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আলোচনা সভা করবে মহিলা শ্রমিক লীগ।

১৪ আগস্ট শহীদদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ। সকাল ১১টায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি।

১৫ আগস্ট সোমবার পালিত হবে জাতীয় শোক দিবস। এদিন সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন ‌ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

সকাল ৭টায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।

সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

দুপুরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে শোক দিবসের আলোচনা সভা।

১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। ১৮ আগস্ট মৎসজীবী লীগ আয়োজন করবে বোমা হামলা দিবসের আলোচনা সভা। ১৯ আগস্ট বিকেলে যুব মহিলা লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শোক দিবসের আলোচনা। ২০ আগস্ট মহিলা লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা হবে।

২১ আগস্ট সকাল ৯টায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা করা হবে।

গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে ২২ আগস্ট ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আলোক প্রজ্বালন করবে যুব মহিলা লীগ। সেখানেই আলোচনা সভা করবে ছাত্রলীগ।

২৩ আগস্ট সকাল ১১টায় একই স্থানে আলোচনা সভা করবে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ।

পরদিন ২৪ আগস্ট সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদ নারী নেত্রী আইভী রহমান স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে হবে। আর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা করবে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটি।

২৫ আগস্ট একই স্থানে আইভী রহমানের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে মহিলা আওয়ামী লীগ।

২৭ আগস্ট সকাল সোয়া ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ২৯ আগস্ট শ্রমিক লীগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে হবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা।

৩০ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা হবে।

শোকের মাসের শেষ দিন ৩১ আগস্ট বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব স্মরণে আলোচনা সভা করবে ছাত্রলীগ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতীম ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাগুলোর সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে দিবসটি স্মরণ ও পালনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা-মোদি: হিন্দুস্তান টাইমস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি যৌথভাবে রামপালে মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিনদিনের ভারত সফরের সময় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হবে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট, এ ৪০০ কেভি জিআইএস সুইচইয়ার্ড এবং ইন্টারকানেক্টিং ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে, পায়রা বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের ২৩০ কেভি গ্রিড সিস্টেমে ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। যাতে বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন খুলনার দিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দিয়ে গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। মৈত্রী প্ল্যান্ট সাব-স্টেশনে ৪০০ কেভি জিআইএস সুইচইয়ার্ড এবং ইন্টারকানেক্টিং ট্রান্সফরমারটি মঙ্গলবার সক্রিয় করা হয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু হবে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টটি ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল) দ্বারা বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) মাধ্যমে স্থাপন করা হচ্ছে। এটি ভারতের এনটিপিসি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্টের বোর্ড (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ৫০:৫০ শতাংশ যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি। পাওয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির সঙ্গে।

বিএনপিকে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজনীতির নামে বিএনপিকে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। আমরা কোনো নোংরা রাজনীতি মেনে নিবো না। এসব বিষয়ে সবাইকে সর্তক থাকবে হবে। দেশে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে।

রবিবার (৩১ জুলাই) সচিবালয়ে শোকাবহ আগস্ট মাসের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল, তাদের কৌশল রয়েছে নির্বাচনে যাবে কি জানে না, তবে দেশে বিশৃঙ্খলা করবে সেটা মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের জনগণ আন্দোলনে নামবে কি নামবে না সেটা জনগণের ওপর নির্ভর করছে। তবে এটা নিশ্চিত; দেশ যেভাবে এগিয়ে চলছে, আলোকিত হচ্ছে, সেখানে মানুষ আর কোনোদিনও অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বিএনপিকে তারা চায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখনই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করার চেষ্টা করবে, জানমালের ওপর আঘাত করবে, সেখানে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী চুপচাপ বসে থাকবে না, তাদের কাজ তারা করবে।

১১ বিচারপতির শপথ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১১ জন অতিরিক্ত বিচারপতি শপথ নিয়েছেন।

রোববার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার গোলাম রব্বানী।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১১ জন নতুন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

রোববার এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন মন্ত্রণালয় জানায়, সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তাদের শপথ গ্রহণের তারিখ হতে অনধিক দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ শপথ গ্রহণের দিন থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত বিচারপতিরা হলেন, পিআরএল-এ থাকা জেলা ও দায়রা জজ শওকত আলী চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ আতাবুল্লাহ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল ইসলাম, আইনজীবী আলী রেজা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বজলুর রহমান, মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ, টাঙ্গাইলের জেলা জজ ফাহমিদা কাদের, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম মাসুদ হোসেন দোলন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম রবিউল হাসান।

মিলছে না যাত্রী: বরিশালে লঞ্চ বন্ধ

টিকিটে মূল্য ছাড় চলছে ঢাকা-বরিশাল নৌ ও আকাশ পথে। তবু আগের মতো মিলছে না যাত্রী। অনেকের মতে, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে লঞ্চ মালিকরা। সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে এয়ারলাইনগুলো। পদ্মা সেতু চালুর পর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে সড়ক পথকেই বেছে নিয়েছে যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালের সড়ক পথে ঢাকা-বরিশাল রুটে নতুন করে ২০ থেকে ২৫টি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। এতে বর্তমানে দক্ষিণের ছয় জেলার সড়কপথে অন্তত ৫০০ বাস চলাচল করছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে ভাড়া সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে মত যাত্রীদের।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রী সংকটে মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে দ্রুতগামী নৌযান এমভি গ্রিন লাইন-৩। পদ্মা সেতুর এই ঢেউ শুধু নৌপথেই নয়, এবার আকাশপথেও লেগেছে। ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে চলাচলকারী বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার আগামী ১ আগস্ট থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

আকাশ পথে বরিশাল থেকে রাজধানীতে যেতে সময় লাগে মাত্র ২৫ মিনিট। তাই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথ। নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার। যাত্রীদের আগ্রহের সুযোগ নিয়ে দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করে এয়ারলাইনসগুলো।

তবে পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যাত্রী সংখ্যা নেমে এসেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে।

যাত্রী ধরে রাখতে সর্বনিম্ন সাড়ে চার হাজার টাকার ভাড়া, এক হাজার কমিয়ে সাড়ে তিন হাজার করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন। ৫০০ টাকা হ্রাসের পর বিমানের ভাড়া এখন তিন হাজার টাকা।

যাত্রীদের অভিযোগ, রাজধানী থেকে অভ্যন্তরীণ যে সকল রুটে বিমান চলাচল করে, তার মধ্যে বরিশালের দূরত্ব সবচেয়ে কম মাত্র ৬১ অ্যারোনটিক্যাল মাইল। কিন্তু ভাড়া গুনতে হচ্ছে সবচে বেশি।

এদিকে ভাড়া কমিয়ে সিঙ্গেল আট শ থেকে ১ হাজার, ডাবল কেবিন ১৮ শ থেকে ২ হাজার টাকা করেও অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে অধিকাংশ লঞ্চের কেবিনের টিকিট। তাই রোটেশনের মাধ্যমে ঢাকা-বরিশাল উভয় প্রান্ত দিয়ে তিন থেকে চারটি লঞ্চ পরিচালনার কথা ভাবছেন মালিকরা। বর্তমানে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭টি লঞ্চ চলাচল করছে উভয় প্রান্ত থেকে।

এক দশক আগে সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফলে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে প্রচলিত রোটেশন প্রথা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল মালিকরা। তবে রোটেশন চালু হলে প্রয়োজনে আবারো আন্দোলনের কথা বলছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

যাত্রী সংকটের বিষয়ে নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নিলাদ্রী মহারত্ন বলেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে বরিশাল-ঢাকা রুটে নভোএয়ারের ফ্লাইট চলাচল আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যাত্রী বাড়লে পরিস্থিতি বুঝে সংস্থাটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয় হবে।

এর আগে মঙ্গলবার নিজস্ব ফেসবুক পেজে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে এমভি গ্রিন লাইনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। এ জন্য আপাতত ঢাকা-বরিশাল ভায়া হিজলা নৌপথে গ্রিন লাইনের সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ঢাকা-কালিগঞ্জ-ইলিশা (ভোলা) রুটে এমভি গ্রিন লাইন-২ নিয়মিত চলাচল করবে।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রীসংখ্যা কমতে থাকে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা। যাত্রী ধরে রাখতে তারা ঈদুল আজহার পর ভাড়া কমিয়ে দেয়। ইউএস বাংলা প্রতি আসনে সাড়ে চার হাজার থেকে ভাড়া কমিয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে। আর নভোএয়ার চার হাজার টাকা থেকে কমিয়ে তিন হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ বিমানও একই পথ অনুসরণ করে ২০০ টাকা ভাড়া কমিয়ে দেয়। কিন্তু ভাড়া কমিয়েও খরচ তুলতে পারছিল না নভোএয়ার।

নভোএয়ারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর কারণে বরিশাল-ঢাকা ও ঢাকা-যশোর রুটে আশঙ্কাজনক হারে যাত্রী কমে গেছে। ঢাকা-যশোর রুটের যাত্রী পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকায় ওই রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। আগে সপ্তাহে সাত দিন ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করত সংস্থাটি।

ইউএস বাংলার বরিশালের বিপণন কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখন ঢাকা-বরিশাল রুটে তাদের ৭০ আসনের উড়োজাহাজ যাত্রী পরিবহন করছে। সেতু চালু হওয়ার পর প্রায়ই প্রতিটি ফ্লাইটে এক-তৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইউএস বাংলা কত দিন এই রুটে সেবা দিতে পারবে তা নিয়েও শঙ্কায় আছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল স্টেশনের ব্যবস্থাপক শওকত আলী খান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকায় যাতায়াতে সময় কমে গেছে। খরচ কমে আসায় আকাশপথে যাত্রী কমেছে। গত শনিবার থেকে বিমানের ভাড়া ৩ হাজার ২০০ থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম মাসরেক বাবলু বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর খুব স্বল্প সময়ে ঢাকা যেতে পারছে যাত্রীরা। এতে বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি যুক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ইলিশ পরিবহন, গ্রিনলাইন, শ্যামলী পরিবহনসহ ২০ থেকে ২৫টি পরিবহন কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে ৫০০ মতো বাস চলাচল করছে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা হলেও নেয়া হয় ৬০০ টাকা। আর ননএসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারিত ৪২০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা যেতে পারছে।

ইরাকের পার্লামেন্ট ভবনে ফের জনতার হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত সংসদ ভবনে আবারও হামলা চালিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের সমর্থকরা। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো শনিবার ওই শিয়া নেতার সমর্থকরা সংসদ এলাকার নিরাপত্তা প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে সেখানে প্রবেশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী পদে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন দলের নেতাদের মনোনয়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন ইরাকিরা। গত বুধবার বাগদাদের সংসদ ভবনে হামলা চালান মুক্তাদা আল-সদরের সমর্থকরা। হামলার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের জন্য ডাকা সংসদের অধিবেশন  স্থগিত করা হয়েছিল।

বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকের সরকারি বিভিন্ন ভবন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। শনিবার বিক্ষোভকারীরা ওই এলাকার কংক্রিটের তৈরি ব্যারিকেড পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘সবাই আপনার সাথে আছে সাইয়্যেদ মুক্তাদা।’ এদিকে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমির গণমাধ্যম কার্যালয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ বাগদাদ থেকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে আহত হলেও পিছু হটেননি। তিনি বলেন, বুধবার বিশালসংখ্যক জনগণ সংসদ ভবন দখলে নিয়েছিল। আর দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী প্রায় কোনও ধরনের বাধা ছাড়াই তাদের সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে দিয়েছিল।

বিক্ষোভকারীরা দেশটির সাবেক মন্ত্রী এবং প্রাদেশিক গভর্নর মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির প্রার্থীতার বিরোধিতা করছেন। সাব্কে এই মন্ত্রীকে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য ইরানপন্থীরা বাছাই করেছেন বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

২০২১ সালের অক্টোবরে ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ৩২৯ আসনের মধ্যে মুক্তাদা আল-সদরের ব্লক ৭৩ আসনে জয় পায়। কিন্তু ভোটের পর থেকে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা থমকে আছে এবং আল-সদর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছেন। যদিও সদরের ব্লকই সর্বশেষ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে।

শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হায়দার আল-লামি নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা এখানে একটি বিপ্লবের জন্য এসেছি। আমরা দুর্নীতি চাই না। যারা ২০০৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছে, আমরা চাই না তারা ফিরে আসুক… তারা আমাদের কেবল ক্ষতিই করেছে।

ধর্মীয় সহিংসতা রুখতে ডিসি-ইউএনওর নেতৃত্বে কমিটি করেছে সরকার

ধর্মীয় সহিংসতা রুখতে দেশের সব জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নে ‘সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করে দিয়েছে সরকার। ২৩ সদস্যবিশিষ্ট জেলার কমিটিতে ডিসিকে সভাপতি রাখা হয়েছে। এতে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার সব সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে।আর পুলিশ সুপারকে (এসপি) রাখা হয়েছে সদস্য হিসেবে।

জেলার পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও আলাদা এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।

উপজেলা পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ইউএনওকে। কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ওই উপজেলার সংসদ সদস্যকে রাখা হয়েছে। আর উপদেষ্টা করা হয়েছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট। এ কমিটির প্রধান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সদস্য সচিব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে।

গত ২৪ জুলাই পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।এই তিনটি কমিটির সদস্যদের কাজ কী হবে, তা-ও প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, সেই কমিটির সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রীতি-সমাবেশ, উদ্বুদ্ধকরণ সভা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনকে সুসংহত রাখাসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনকে এগিয়ে নিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে প্রয়ােজনীয় প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করবে।সামাজিক যােগাযােগমাধ্যমের অপব্যবহার রােধকল্পে প্রয়ােজনীয় প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে।মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগােডাসহ সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে। সব ধর্মীয় উৎসব যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে উদযাপনের পরিবেশকে অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়ােজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। বিভিন্ন ধর্মের শান্তি ও সৌহার্দের বাণীগুলো ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপন তিনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমদানি সীমিত, বিদেশি ফলের আকাল

আপেল, আঙুর, মাল্টা, নাশপাতির মতো বিদেশি ফলগুলোর দেখা মিলছে কমই। যেসব দোকানে আছে, সেগুলোতে দাম অনেকটাই বেশি।

দেশের বাজারে নানা ধরনের আপেল সারা বছর পাওয়া গেলেও এখন এক-দুই জাতেরগুলোই চোখে পড়ছে। বছরের এই সময়ে যে আপেল ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত, সেই ফলের দাম এখন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

গ্রীষ্মে মাল্টার দাম সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে, কিন্তু তাই বলে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি কখনও দেশবাসী দেখেছে-এমনটা হয়নি।

একই অবস্থা নাশপাতি, আঙুরের ক্ষেত্রে। কারওয়ান বাজারে একটি ফলের দোকানে সবুজ রঙের ‘কম দামি’ আঙুরের দামই সাড়ে ৩০০ টাকা দাম চাইলেন বিক্রেতা।

তুলনামূলক দামি কালো আঙুরের দেখা মিলল একটিমাত্র দোকানে। লাল আঙুর আছে হাতে গোনা এক-দুটিতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস ধরেই ফলের বাজারে দেশির রাজত্ব। এর কারণ কেবল গ্রীষ্মের দেশি ফল নয়, ডলারের খরচ কমাতে বাংলাদেশের নীতিগত সিদ্ধান্তও।

কম প্রয়োজনীয় ও বিলাসদ্রব্যের আমদানি সীমিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে ফলের আমদানি কমেছে। আর সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম। তবে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে দেশি ফল পাচ্ছেন বলে এ নিয়ে খুব একটা আক্ষেপ আছে-এমনও নয়। বিত্তবানরাই বিদেশি ফল কিনছেন প্রধানত।

ফল আমদানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর স্বাভাবিক শুল্কের পাশাপাশি আরোপ করেছে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক। এর ফলে আমদানি করা ফলের দাম পড়ছে বেশি। আর নিয়মিত বেড়ে চলছে।

কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা।

সবুজ রংয়ের আপেলের দাম আরও বেশি, কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ২২০ টাকা।

খেজুর বিক্রি হতে দেখা গেল ৭০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে।

ফল বিক্রেতা  বলেন, ‘বাজারে মাল নাই। এর লাইগ্যা দাম বাড়ছে।’

এই বিক্রেতা জানান, বেশি দামে বিক্রি করলেও তাদের আয় কমে গেছে। কারণ, বাড়তি দামের এই ফল বিক্রি কমে গেছে অর্ধেকের বেশি।

আরেক ফল বিক্রেতা মোতালেব বলেন, ‘আপেল, মাল্টা, খেজুর বিদেশ থাইক্যা আনতে অয়। এহন আমদানি কম। হের লাইগ্যা দামও বেশি।’

বাংলাদেশে আপেল সাধারণত আমদানি হয় চীন, ভুটান ও সাউথ আফ্রিকা থেকে। মাল্টা ও কমলা আমদানি করা হয় ভারত ও চীন থেকে।
বেশির ভাগ আঙুর আসে ভারত থেকে। এ ছাড়া খেজুর আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে।

সরকারি কর্মকর্তা  বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করা ফলের দাম খুব বেশি। সবার পক্ষে আপেল-মাল্টা কিনে খাওয়া সম্ভব না।’

দেশি ফলের মধ্যে আমের মৌসুম শেষ বলে দামটাও এখন বেশি। এই মুহূর্তে কিছু কয়েক জাতের ফজলি, বারি ফোর ও আম্রপালির দেখা মেলে। এই ফলগুলোর দাম কেজিতে ১৬০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত দাম চাইছেন বিক্রেতারা।

বেশ বড় আকারের আনারস কারওয়ান বাজারে ৩০ টাকা করেও বিক্রি হয়। পাড়া মহল্লায় দামটা এর চেয়ে কিছুটা বেশি।

পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। আমড়া পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে।

দেশি ফলের মধ্যে পাকা পেঁপের জোগান কিছুটা কম। দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

লটকন কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ২০০ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। এর মৌসুমও শেষের পথে।

কলার মধ্যে চম্পা কলা আকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা ডজন। সাগর কলা ১০০ টাকার আশপাশে।

জীবন উপভোগ করতে ব্যবহার কমাতে বললেন মোবাইলের স্রষ্টা

প্রথম ‘ওয়্যারলেস ফোন’ আবিষ্কার করে গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন মার্টিন কুপার।

গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে ‘মটোরোলা ডাইনাট্যাক ৮০০০এক্স’ নামক মোবাইল ফোনটি দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ এই দুনিয়াকেই বদলে দিয়েছে। সেই মোবাইল ফোনের অন্যতম স্রষ্টা স্বয়ং মার্টিন কুপারই দিনের মাত্র ৫ শতাংশেরও কম সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তিনি বলছেন, ‘‘জীবনকে উপভোগ করতে গেলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমাতে হবে।’’

আমেরিকার শিকাগোর বাসিন্দা মার্টিন বরাবর চেয়েছেন, সেলফোন হবে মানুষের ব্যক্তিগত ফোন, যাতে একটা নম্বর ডায়াল করে কোনও বিশেষ জায়গা নয়, শুধু এক জন বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। তিনি সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আমি দিনে পাঁচ শতাংশেরও কম সময় মোবাইল ব্যবহার করি।’’

যাঁরা দিনে পাঁচ শতাংশের বেশি সময় মোবাইল ঘেঁটে কাটান, তাঁদের উদ্দেশেও এক গাল হেসে মার্টিন বলেন, ‘‘জীবনকে উপভোগ করতে শিখুন। মোবাইলের ব্যবহার কমান।’’

১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল প্রথম মোবাইল আবিষ্কার করেন মার্টিন। সেই দিনের কথা স্মরণ তিনি বলেন, ‘‘ফোনটা আড়াই পাউন্ড ওজনের ছিল। আর ১০ ইঞ্চি লম্বা। এক বার চার্জ দিয়ে ২৫ মিনিট কথা বলা যেত। আর চার্জ হতে সময় লাগত ১০ ঘণ্টা।’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা