গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাসচাপায় ফাতেমা হক (১০) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার টঙ্গী-গাজীপুর শাখা সড়কের বনমালা রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত ফাতেমা হক টঙ্গীর দত্তপাড়া টেকপাড়া এলাকার সামসুল হকের মেয়ে। সে স্থানীয় সাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে ফাতেমা তার ফুপু শাহনাজ বেগমের সঙ্গে অটোরিকশায় করে স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা কহিনুর কেমিক্যাল লিমিটেড নামক কারখানার স্টাফ বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশা থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায় ফাতেমা। পরে বাসের চাকায় তার মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বাসটিকে জব্দ করে পুলিশে খবর দেয়। তবে বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে, এ ঘটনার পর ওই স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী সড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ শেষে বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে স্কুলে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইন চার্জ জাবেদ মাসুদ বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৯৯৯ টাকায় ‘পদ্মা সেতু ভ্রমণ’ প্যাকেজ চালু করল সরকার
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ‘পদ্মা সেতু ভ্রমণ’ প্যাকেজ ট্যুর চালু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে পর্যটন ভবনে আয়োাজিত এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এ প্যাকেজ ট্যুরের উদ্বোধন করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহির মো. জাবের এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গে পর্যটন সুবিধা উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
দেশি-বিদেশি পর্যটকগণ এখন স্বল্প সময়ে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করতে পারছেন। পদ্মা সেতুর উভয় পার্শ্বে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যটন সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের ইতিহাসের অংশ। এ সেতু বিশ্বে বাঙালি জাতিকে বিশেষ অহংকার ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এ সেতু নির্মিত হওয়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গসহ সমগ্র দেশের অর্থনীতিতে গতি ও সমৃদ্ধির সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের আয়োজনে “স্বপ্নের পদ্মা সেতু ভ্রমণ” শীর্ষক প্যাকেজ ট্যুরটি প্রতি শুক্র ও শনিবার নিয়মিত পরিচালিত হবে। এই ভ্রমণের মাধ্যমে পর্যটকগণ দিনের আলোতে যেমন পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে, তেমনি সন্ধ্যা ও রাতের আবহে পদ্মা সেতুর অপরূপ শোভাও উপভোগ করতে পারবেন।
আগ্রহী ভ্রমণকারীগণ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ০১৯৪১৬৬৬৪৪৪, ০১৩০০৪৩৯৬১৭ ও ০২-৪১০২৪২১৮ নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে বুকিং নিশ্চিত করতে পারবেন।
এক ঘণ্টার লোডশেডিং কোথাও হচ্ছে তিন ঘণ্টা
এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও কথা রাখতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এক ঘণ্টার স্থলে তিন ঘণ্টা এমনকি পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহককে।
খোদ রাজধানী ঢাকাতেই কোথাও কোথাও দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে। দেশের অন্যত্র বিশেষত গ্রামাঞ্চলে পাঁচ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এ অবস্থায় তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ।
জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উল্লেখ করে সরকার বেশ ঘটা করেই বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের আগাম বার্তা দিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে প্রায় অর্ধযুগ পর পুনরায় লোডশেডিং শব্দের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ।
এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় সোমবার। বলা হয়, দিনে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হতে পারে। আর এখন থেকে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে পেট্রোল পাম্প৷
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওইদিন সকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সপ্তাহ না পেরুতেই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷
মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জুড়ে তৈরি হওয়া মন্দাভাব ঠেকাতে সরকারের সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে সূচি করে লোডশেডিং দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। খরচ সাশ্রয়ের জন্য ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সূচি সঠিকভাবে সমন্বয় করতে না পারায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
তবে বিদ্যুতের ব্যাপকমাত্রায় লোডশেডিংয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, তারা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাননি।
বিদ্যুৎ বিতরণে এমন ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য ৭ থেকে ১০ দিন সময় চেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ সময়কালে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে লোডশেডিং কিভাবে আরও কমিয়ে সূচি মেনে চলা যায়, সে জন্য নতুন পরিকল্পনা নেয়া হবে।’
রাজধানীর গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর এমনও দিন অতিবাহিত করতে হয়েছে যেদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা লোডশেডিং দেয়া হয়েছে। অনেক এলাকার গ্রাহকরা বলছেন, দিনে দুই থেকে তিন বার বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার অনেকে বলছেন, সূচি মেনে এক ঘণ্টাই লোডশেডিং হচ্ছে।
নাখালপাড়ার বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, ‘গতকাল দুইবার কারেন্ট গেছে। এক ঘণ্টা আবার কখনো আধ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ চলে আসে৷’
ধানমন্ডিতে সূচি মেনে এক ঘণ্টাই লোডশেডিং হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রোবায়েত ইসলাম বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে হিসাব করে দেখেছি এক ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং হয় না। একদম কাঁটায় কাঁটায় এক ঘণ্টা পরই আবার চলে আসে। কোনো গরমিল হচ্ছে না।’
মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মৌসুমী ইসলাম বলেন, ‘আজই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুইবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের যে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়েছে তা মানা হচ্ছে না। ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। সেদিন রাত ২টায় বিদ্যুৎ চলে যায়, ফিরে আসে ভোর ৬টায়।’
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফজরের আজানের সময় তা ফিরে আসে। এছাড়া দিনের বেলা একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে গিয়ে লম্বা সময় পর ফিরে আসে।’
ফের বিয়ে করলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা
ফের বিয়ে করলেন চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। শুক্রবার পূর্ণিমা সাংবাদিকদের জানান, মাসখানেক আগে পারিবারিকভাবেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ণিমার স্বামী আশফাকুর রহমান রবিন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
আশফাকুর রহমানের সাথে পরিচয় প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘চার কী পাঁচ বছর আগে কাজের সূত্রেই তার সাথে পরিচয়। সেখান থেকেই একটা ভালো বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব হয়েছে। এরপর তিনি নিজেরই পরিবারকে জানান। এরপর দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সামান্য আয়োজনে বাসাতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।’
বিয়েতে দুই পরিবারের সবাই অনেক খুশি জানিয়ে পূর্ণিমা আরো বলেন, ‘দুই পরিবারের ইচ্ছাতেই তো বিয়েটা হলো, সবাই খুশি। আমার মেয়েসহ সবাইকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন গ্রহণ করে নিয়েছেন, খুবই আদর করছেন। আমার মা–ও সবাইকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।’
পূর্ণিমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে। ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর আহমেদ জামাল ফাহাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ণিমা। ২০১৪ সালে কন্যাসন্তানের মা হন তিনি।
টঙ্গীতে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শিরিনসহ গ্রেফতার ৩
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ২৯২৫ পিস ইয়াবাসহ আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শিরিন আক্তারসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ৩ এর সদস্যরা। টঙ্গীর উত্তর আরিচপুর হাফিজ উদ্দিন ব্যাপারী রোডের এডঃ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার তাদের টঙ্গী পূর্ব থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শরীয়তপুর জেলার গোসারহাট থানার গোসাইপাট্রি গ্রামের মৃত মঙ্গল সরদারের মেয়ে শিরিন আক্তার(৪০), কক্সবাজার জেলার রামু থানার উখিয়ার ঘোনা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রুবেল (৩২) ও একই জেলার ঈদগাঁও থানার দক্ষিন মাইজপাড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে সোহেল (৩১)।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব ৩ এর একটি অভিযানিক দল টঙ্গীর উত্তর আরিচপুর হাফিজ উদ্দিন ব্যাপারী রোডের এডঃ আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৯ শত ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ৬টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৬৮ হাজার ৬ শত ৯৫ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পরস্পরের যোগসাজশে টঙ্গী গাজীপুর সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাদক ব্যবসা করে আসছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইন চার্জ জাবেদ মাসুদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাদের গাজীপুর জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
ইউনূসের নামে মামলার রুল দ্রুত শুনানির আবেদন
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জারি হওয়া রুল দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি জাহিদ সারোয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এ আবেদন করা হয়।
আবেদনটি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের যে মামলাটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছিলেন, সেটা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চকে দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
‘এখানে কলকারখানার পক্ষে যিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন, সেই রুল থাকা অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে কলকারখানার পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সে কারণে আজকে আমি একটি দরখাস্ত দাখিলের অনুমতি চেয়েছি। আর আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যেহেতু আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য, সেই আদেশের কপিটি আমরা আদালতের কাছে দাখিল করলাম।
‘তখন আদালত বলল, আপনাকে অনুমতি দেয়া হলো অ্যাফিডেভিট করার জন্য। ডিলে কনডল করা হলো। মামলাটি কালকে তালিকায় থাকবে।’
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ইউনূসের নামে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে গত ৭ জুন নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের নামে মামলা করে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে এ মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান। পরে মামলার বিবাদীদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান। এই তিন আসামিও আলাদাভাবে মামলার আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেয়া হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে এ মামলা করা হয়।
মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।
হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগ সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে আদেশ দেয়। সেটিই শুনানি করতে বুধবার আবেদন করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ১১ বছরের কারাদণ্ড
করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ১১ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিক্রিয়ায় সাবরিনা আরও বলেন, ‘একটা কথাই বলবো- আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। একদিন মানুষ জানবে সাবরিনা নিরপরাধ ছিল।’
এ মামলায় সাবরিনার পাশাপাশি তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীসহ আটজনের ১১ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথ কেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয়। এর বেশির ভাগই ‘ভুয়া’ বলে চিহ্নিত হয়। এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় ২০২০ সালের ১২ জুলাই দুজনকেই গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একই বছরের ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবরিনা-আরিফসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ। চার্জশিটে সাবরিনা ও আরিফকে প্রতারণার মূলহোতা এবং বাকি আসামিদের প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
গোলাম মাওলা রনির অবৈধ ভবন উচ্ছেদ শুরু
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির বাস ভবন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলার উলানিয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুল কাইয়ুম। রনির ভবনসহ উলানিয়া বাজারের মোট ২০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত গোলাম মাওলা রনির ভবনের সামনের অংশ ভাঙা হয়েছে। পুরো ভবনটি ভাঙতে আরও দুই-তিন দিন লাগবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুল কাইয়ুম বলেন, এখানে কোনো বিশেষ ব্যক্তির স্থাপনা নয়, উলানিয়া বাজারে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় এর আগে তাদের একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আজ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
উচ্ছেদের সময় গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আনোয়ার ও গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তা আশিষ কুমার উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎসহ সব ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎসহ সব ক্ষেত্রে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।
এদিন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারপ্রধান বলেছেন—বিদ্যুৎসহ সব ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। আসুন সবাই মিতব্যয়ী হই। সরকারের বাইরে যারা সাধারণ নাগরিক আছেন সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।’
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন। মিটিং ছাড়া সামারে আপনারা স্যুট-কোট পরবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রয়টার্সে একটা লেখা বেরিয়েছে। তবে যে ১০টি দেশ আগামীতে শ্রীলংকা হতে চলছে সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। আমদানি নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে। আমরা স্বস্তির জায়গায় আছি। ডলার ক্রাইসিস ছিল, তা ম্যানেজ করে ফেলেছি।’
বিএনপি বিদেশী প্রভুদের তুষ্ট করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায় : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের ভোটে নয়, বিদেশী প্রভুদের তুষ্ট করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায় বিএনপি।
আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কোন ক্ষমতা নেই’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে মির্জা ফখরুলের এ ধরনের বক্তব্য দেশের গণতন্ত্র, সকল সংসদ সদস্য এবং সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি নির্মম উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি বলেন, আসলে দেশের সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি বিএনপির কোন বিশ্বাস নেই।
‘বর্তমান সরকার যদি পরিবর্তন না হয় এবং নিরপেক্ষ সরকার যদি না আসে, তাহলে দেশেকোন নির্বাচন হবে না’- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি সরকার পরিবর্তন চায়, অথচ নির্বাচনে আসেন না। সরকার পরিবর্তন চাইলে তো নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই।
নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে বিএনপি নেতাদের বারবার কথা বলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ বিএনপির তথাকথিত নিরপেক্ষ নির্বাচন আগেই দেখেছে। তাদের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সবক মানায় না- তাদের নেত্রী এক সময়ে বলেছিলেন যে- ‘শিশু ও পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।’ কাজেই বিএনপি নেতাদের নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা দ্বিচারিতার যে রাজনীতি- তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি উচ্চ আদালত কর্তৃক মীমাসিংত ইস্যু, এনিয়ে নতুন করে আলোচনার কোন সুযোগ নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা থাকলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। শেখ হাসিনা নির্বাচনে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ হোক, এটা চান না।
সরকার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মত কমিশনকে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা দিয়ে যাবে- জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলেও নির্বাচন সংক্রান্ত সবকিছু নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে নিরপেক্ষতা হলো নির্বাচন কমিশন তখনই নিরপেক্ষ যখন বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হবার শতভাগ গ্যারান্টি পাবে। এ নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে দিতে পারে না।
নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হলে- বিএনপির ভাষায় তাদেরকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়যোগ দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরি ও বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে শতভাগ মনযোগ দিয়ে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার বিষয়ে রাজনৈতিকনেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র : বাসস