পরীক্ষায় ফেল করা দুই শিক্ষার্থীকে মেডিক্যালে ভর্তির চেষ্টা

রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বেসরকারি সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজে ২০২১-২২ সেশনে এমবিবিএস ভর্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা দুই শিক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে ভর্তির সুযোগ করে দিতে চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছরের এমবিবিএস পরীক্ষার ন্যূনতম পাস মার্ক ৪০ হলেও সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া দুই শিক্ষার্থীর একজন পেয়েছেন ১১ দশমিক ৭৫, অপরজন ১৮ দশমিক ২৫ নম্বর। দুজনেই ‘অকৃতকার্য’ হয়েছেন। অথচ সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিতে যোগ্যদের তালিকায় আছে দুজনেরই রোল নম্বর। ভর্তিযোগ্য প্রথম ৪৩ জনের তালিকায় দুই শিক্ষার্থীকে জায়গা দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ডাক্তার হওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হিসাব অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় পাস করা ৭৯ হাজার ৩৩৯ জনের মধ্য থেকে মেধাতালিকার শীর্ষ ১১ হাজার শিক্ষার্থী ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পাবেন। ফেল করা অথবা মেধাতালিকার শেষে থাকা শিক্ষার্থীদের সুযোগ নেই ভর্তির।

ধারাবাহিকভাবে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। পরে গত ৭ জুলাই দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো তাদের আসনসংখ্যা অনুযায়ী ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। এদিন ৭০টি আসনের বিপরীতে ৪৩ জন ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করে সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ। তাদের বাকি আসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ।

শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য ১৪ থেকে ১৭ জুলাই সময় নির্ধারণ করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এরই মধ্যে ভর্তিচ্ছু কয়েকজন শিক্ষার্থী ও দেশের স্বনামধন্য একাধিক চিকিৎসক  অভিযোগ করে জানান, ভর্তিতে দুর্নীতি করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি যে মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, অন্তত এমন দুজন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর আছে যারা পরীক্ষায় পাসই করেননি।

মেডিক্যাল কলেজটি যে তালিকা ক্যাম্পাসের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়েছিল সেটির একটি ছবি সংগ্রহ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ৪৩ জনের রোল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ১৪ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি হতে বলা হয়েছে।

ওই তালিকায় থাকা সন্দেহভাজন দুই শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ৯৯০৮৩৯২ ও ১৯১৪৮৪৭। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল যে সরকারি ওয়েবসাইটে আছে সেখানে এই দুই রোল নম্বরের তথ্য যাচাই করে পাওয়া যায় ভয়ঙ্কর তথ্য। দেখা যায়, দুই শিক্ষার্থীর কেউই ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেননি।

তালিকায় থাকা ৯৯০৮৩৯২ রোল নম্বরের শিক্ষার্থীর নাম হুমাইরা বিনতে কবির রূপা। ১০০-তে তার প্রাপ্ত নম্বর ১১ দশমিক ৭৫। ফলাফল স্ট্যাটাসে উল্লেখ আছে ‘অনুত্তীর্ণ’। ১৯১৪৮৪৭ রোল নম্বরটি শিক্ষার্থী আফসানা মীমের। তার প্রাপ্ত নম্বর ১৮ দশমিক ২৫, ফলাফল স্ট্যাটাস ‘অনুত্তীর্ণ’।

 

দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস না করেও কীভাবে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা জানতে প্রতিবেদক মঙ্গলবার দুপুরে যান গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ ভবনে। সেখানে প্রথমেই নোটিশ বোর্ডের তালিকা যাচাই করতে গেলে দেখা যায় বোর্ডটি এখন ফাঁকা।

দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে এক শিক্ষার্থীর তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহাবউদ্দিন মেডিক্যালের দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে নোটিশ বোর্ড থেকে ওই তালিকাটি সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

অন্যরা ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন কলেজটির হিসাবরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মহিউদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজে ২০২১-২২ সেশনে আসনসংখ্যা ৭০। নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ অর্থাৎ চারটি আসন দরিদ্র মেধাবী কোটার, আর ২৮টি বিদেশি শিক্ষার্থীর কোটা। সে জন্য ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসনে মেধাতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।’

তালিকাটি দেখতে চাইলে মহিউদ্দীন প্রতিবেদককে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি রুমের বাইরে চলে যান৷ ফিরে তিনি জানান, গত ৭ তারিখ থেকে তালিকাটি নোটিশ বোর্ডে ঝোলানো আছে।

এরপর নোটিশ বোর্ডের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কিছুক্ষণ আগেও যে নোটিশ বোর্ড ফাঁকা ছিল সেখানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঝুলছে ঝকঝকে নতুন একটি মেধাতালিকা। সেটি যাচাই করে দেখা গেল, প্রতিবেদকের কাছে থাকা আগের তালিকার সঙ্গে এই তালিকার কয়েকটি পার্থক্য আছে।

মেধাতালিকায় অন্যসব রোল নম্বর থাকলেও নতুন তালিকায় অনুত্তীর্ণ দুই শিক্ষার্থীর রোল নম্বর নেই। পাশাপাশি যোগ হয়েছে অন্য একজন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর রোল নম্বর।

আগের তালিকায় মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর উল্লেখ ছিল। এবারের তালিকায় পাওয়া যায় ৪২ জন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর।

তালিকা সংশোধন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মহিউদ্দীন বলেন, ‘তালিকা সংশোধন করা হয়নি। এই তালিকা গত ৭ তারিখে যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, এখনও একইভাবে তা ঝুলছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘৪৩ জনের তালিকায় ৪২ জন কেন, সেটা আমি বলতে পারছি না। স্যাররা মিটিংয়ে আছেন, একটা ছোট্ট সমস্যা আছে, সেটা সমাধান করার জন্য। মিটিং শেষ হলে আমি তালিকার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারব।’

অনুত্তীর্ণ দুই শিক্ষার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এই বিষয় নিয়েই স্যাররা মিটিং করছেন। আমাদের রেজাল্ট শিটটা এডিট করে, টেম্পারিং করা হয়েছে। কলেজের ইমেজ নষ্ট করার জন্য এ কাজ। স্যাররা এখন মিটিংয়ে যাচাই করে দেখছেন আমাদের পক্ষ থেকে কোলো ভুল ছিল কি না। এ জন্য তালিকাটা নোটিশ বোর্ড থেকে কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, যাচাই-বাছাই শেষে আবার তা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।’

মেডিক্যাল কলেজের ভর্তির তালিকা এডিট করে সুনাম ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করা হলেও কেন আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি হিসাবরক্ষণ বিভাগের এই কর্মকর্তা।

দুটি তালিকাতেই সই ছিল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মো. রুহুল আমিনের। তিনি বলেন, ‘আমাদের তালিকায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর রোল নম্বর নেই। আমাদের তালিকার ৪৩ জনই উত্তীর্ণ এবং মেধাতালিকায় তাদের অবস্থান আছে।’

তালিকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘৪৩ জনের একটি তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হয়েছে, এখানে কোনো ধরনের সংশোধন করা হয়নি।’ তালিকায় ৪২ জনের রোল নম্বর আছে জানালে তিনি বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়, আমি খবর নিয়ে দেখব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধীনে থাকা মেডিক্যাল অনুষদের ডিন ডা. শাহরীয়ার নবী শাকিল। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘বিষয়টা আমাদের কানে আসার পর আমরা সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছি। তারা জানিয়েছেন, এটা একটা ভুল হয়েছে। তাদের যাচাই কমিটি ঠিকমতো আবেদন ফরমগুলো যাচাই করেনি। তবে এটা ইতোমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে।’

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক বলেন, ‘প্রতি বছরই এখানে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। কলেজে দরিদ্র মেধাবী কোটায় যে চারজন শিক্ষার্থী নেয়ার সুযোগ আছে, তা পরিচালকরা নিজেরা ভাগ করে নেন। এই চার আসনে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একেক জন শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যবস্থা হয়।

‘টাকার বিনিময়ে ভর্তিতে ফেল-পাস বিবেচনা করা হয় না। বিদেশি কোটা নিয়েও চলে রমরমা ব্যবসা। ২৮ জনের কোটায় বড় একটি অংশ ফাঁকা থাকে। তখন সেই সিটগুলো পরিচালকসহ কলেজের ঊর্ধ্বতনরা ভাগ করে নেন। সেসব সিটে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকায় ভর্তি চলে। মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে যারা ভর্তি হতে আসেন, তাদের অধিকাংশই ফেল করা।’

 

জানা যায়, দুই শিক্ষার্থীর একজনের ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজ কর্তৃপক্ষ আগের তালিকা নামিয়ে ফেলে। তালিকার ৪৩ জন থেকে দুই শিক্ষার্থীর রোল নম্বর সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর যোগ করে দেয়। ফলে ৪৩ জনের তালিকা রূপ নেয় ৪২ জনে।

আমদানি শুরু, কমতে শুরু করেছে চালের দাম

বেসরকারিভাবে সীমিত পরিসরে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।  আমদানি শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে দেশের প্রধান এই খাদ্যপণ্যের দাম আরও কমবে বলে আশা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

তবে ব্যববায়ীরা বলছেন, ২৭ শতাংশ শুল্ক রাখায় মোটা চাল বেশি আমদানি হবে না। ফলে আমদানির পথ খুললেও বাজারে প্রভাব পড়ার আশা কম।

রোববার পর্যন্ত চাল আমদানির জন্য আবেদনের শেষ দিন ছিল। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এ পর্যন্ত ইমপোর্ট পারমিশন (আইপি) ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়েছে ৪ লাখ টনের বেশি। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে ১১শ টন চাল ভোমরা ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমদানিকৃত চাল দেশে আসতে শুরু করেছে। ঠিক কী পরিমাণ আমদানি হয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য এখনো মন্ত্রণালয়ে আসেনি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাব মতো আমদানি করেন। আমদানির জন্য অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেক চালও যদি আসে, সেটাও ৪ লাখ টনের মতো হয়ে যাবে। তবে এটা আমদানিকারকদের বিষয়।’

এর মধ্যে এলসি খোলা হয়েছে ৮০ হাজার টনের মতো। তিনি আরোও বলেন, ‘এত বেশি শুল্ক (২৭ শতাংশ) দিয়ে কম দামের চাল আমদানি হবে না। আমরা ৫০০ টনের কিছু বেশি কাটারি (ভালোমানের চাল) আমদানি করেছি।

কিন্তু স্বর্ণা, মিনিকেট আমদানি করলে দেশের বর্তমান দামের সমান হয়ে যায়।’ চিত্ত মজুমদার আরও বলেন, ‘এসব চাল আমরা বর্ধমান থেকে আমদানি করতাম। কিন্তু সেখানে এখন দাম বেশি, আমাদের চাল এসেছে বিহার থেকে।’

এবার বোরোর ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ৩০ জুন প্রথম দফায় ৯৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ৯ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

বরাদ্দপত্রে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের চাল আমদানি করে বাজারে ছাড়তে বলা হয়েছে। তার আগেই একাধিক প্রতিষ্ঠান চাল আমদানি শুরু করেছে। তবে অনুমোদন নেওয়ার তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক কম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশেই চালের দাম কমতে শুরু করেছে। তাই তারা সতর্ক পদক্ষেপে এগোচ্ছেন। রোববার পর্যন্ত একাধিক দফায় ৪ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা  বলেন, বড় বড় কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে চাল আমদানি শুরু করেছে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো চাল আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

বর্তমানে দেশে চালের বাজারের অবস্থা স্থিতিশীল। গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে চালের দাম দু-চার টাকা করে কমেছে। এ অবস্থায় ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো চাল আমাদানির পথে নাও হাঁটতে পারে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়  সুত্রে জানা যায়,  সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশেই পর্যাপ্ত চাল আছে। তাই খুব বেশি চাল আমদানি করে ব্যবসায়ীরা নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন বলে মনে হয় না।

যারা কারসাজি করতে চেয়েছিলেন তারা আমদানির তথ্য জেনে বাজারে চাল ছাড়তে শুরু করেছেন।

আমদানি করা সেদ্ধ (মোটা স্বর্ণা চাল) প্রতি কেজি ৪৭-৪৮ টাকায় দেশীয় বাজারে বিক্রি হবে বলে জানা গেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার ঢাকায় প্রতি কেজি সরু চালের দাম ছিল ৬৪ থেকে ৭৫ টাকা, গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল ৬৪-৮০ টাকা।

গত বছর এই সময়ে সরু চালের দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাঝারি চালের বর্তমান দর ৫২ থেকে ৫৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল ৫২ থেকে ৬০ টাকা।

বোরোর ভরা মৌসুমে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার যে উদ্বেগে ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে। কারণ সরকারের কাছে থাকা ধান, চাল ও গমের সন্তোষজনক মজুত আছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারের খাদ্যশস্য মজুত আছে প্রায় পৌনে ১৬ লাখ টন। এর মধ্যে চাল আছে ১৩ লাখ ২২ হাজার টন, ১ লাখ ৬৭ হাজার টন গম এবং ১ লাখ ১২ হাজার টন ধান আছে সরকারের হাতে।

অধ্যক্ষকে ‘লাঞ্ছনার বিচার’ স্পিকারকে দিতে চান শিক্ষামন্ত্রী-উপমন্ত্রী

রাজশাহীতে একজন কলেজ অধ্যক্ষকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) মারধর এবং পরবর্তীতে তাকে চাপ দিয়ে অস্বীকার করানোর বিষয়ে বিব্রত শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, এই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট পেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তার বিচার দিতে চাই।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে রোববার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।

সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর পাশে বসা ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়াও ছিলেন মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব এবং কর্মকর্তারা।

 

সম্প্রতি রাজশাহীতে সংসদ সদস্য ওমর ফারুখ চৌধুরী স্থানীয় কলেজ অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে ওই কলেজ অধ্যক্ষ আবার সংবাদ সম্মেলন করে তা অস্বীকার করেন এবং মারধরের ঘটনার অডিও রেকর্ড নিয়ে তোলপাড় তৈরি হয়।

রাজশাহীতে একজন সংসদ সদস্যের হাতে একজন অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত হওয়া এবং পরবর্তীতে তার চাপে সংবাদ সম্মেলন করে তা অস্বীকারের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেখুন আমরা এখানে দু’জন জনপ্রতিনিধি আছি, আমাদের জন্য নিশ্চয়ই খুব বিব্রতকর। এই অভিযোগগুলো উত্থাপন হওয়ায় খুব বিব্রতকর। আর সেগুলো যদি সত্য হয়, সত্য প্রমাণিত হয় সেগুলো আরও বিব্রতকর। তবে যদি কোনো সংসদ সদস্য এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকেন সেক্ষেত্রে সেই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আমরা মন্ত্রণালয় হিসেবে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না।  ‘যেটি আমরা করতে পারি, সেটি হলো আমরা স্পিকারের শরণাপন্ন হতো পারি এবং তার মাধ্যমে তার কাছে অভিযোগ উত্থাপন করে আমরা তার কাছে এটির একটি সমাধান চাইতে পারি। আমরা তদন্তের রিপোর্টগুলো পাওয়ার পরে প্রয়োজনে সেই পথ অনুসরণ করবো। ’

শিক্ষকদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন হচ্ছে- এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো জিনিস বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বে দেখা যাচ্ছে, মানুষের অনেক ধরনের টেনশন, অনেক ধরনের ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেছে। করোনা পরবর্তী সময়ে মানুষ অনেক বেশি খুব অসহিষ্ণু আচারণ করছে। এই বয়সের নানা ধরনের ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় অসহিষ্ণুতা নানা ভাবে প্রকাশিত হবার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে, আমরা সারা বিশ্বেই সেটা দেখছি। আমরা চেষ্টা করছি যেন এই ঘটনাগুলো না ঘটে।

তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর তদন্ত হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। আর যেখানে ফৌজদারি বিষয় সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে। শিক্ষায় যেন অসহিষ্ণুতা দানা বাধতে না পারে সেজন্য আমাদের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নতুন কারিকুলামে শিক্ষক ফ্যাসিলেটরের ভূমিকায় থাকবেন। সেখানে একটি আনন্দময় পরিবেশ। নতুন কারিকুলাম যখন চালু হবে তখন শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকের একটা অনন্য মর্যাদা রয়েছে। আমরা সেই অনন্য মর্যাদার জায়গাটায় শিক্ষকদের দেখতে চাই। আমরা চাই না কোনো জায়গায় কোনোভাবে শিক্ষকের মর্যাদা ভূলণ্ঠিত হোক, আমরা চাই না কোথাও নিগ্রহের শিকার হন। তিনি কোথাও অপমানিত হন বা কোনোভাবে শারীরিক বা মানসিক অবমাননার শিকার হন, লাঞ্ছিত হন- এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। যেখানেই ঘটনা ঘটছে সেখানে তদন্ত হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অতি প্রয়োজনীয় ৫৩ ওষুধের দাম বাড়ছে

অতি প্রয়োজনীয় ৫৩ ওষুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

শনিবার (১৬ জুলাই) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র আইয়ুব হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো কিছু ওষুধের দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তাদের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে। অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেউ ওষুধ বিক্রি পারবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ২১৯টি ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ১১৭টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এই ১১৭টির মধ্যে ৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিদপ্তর।

কোন কোন ওষুধের দাম বাড়ছে তা এখনো জানা যায়নি, শিগগিরই ওষুধগুলোর নাম ও দাম প্রকাশ করা হবে বলেও জানা যায়।

বিধ্বস্ত প্লেনে ছিল সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য কেনা মর্টার শেল: আইএসপিআর

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে কাভালা শহরের কাছে পালেচোরি গ্রামে একটি কার্গো প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই প্লেনটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য কেনা মর্টার শেল ছিল বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।   রোববার ( ১৭ জুলাই) আইএসপিআরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এদিকে সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেবোজসা স্টেফানোভিক জানিয়েছেন, আন্তোনভ অ্যান-১২ মডেলের এই কার্গো প্লেনটির মালিক ইউক্রেনীয় একটি কোম্পানি।  শনিবার এটি সার্বিয়া থেকে জর্ডানে যাচ্ছিল। এতে ১১ টন অস্ত্রের পাশাপাশি ল্যান্ড মাইন ছিল যা বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল।

গ্রিসের রাষ্ট্রীয় টিভি ইআরটি জানিয়েছে, মাঝআকাশে থাকার সময় ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে পাইলট জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানালেও পরে প্লেনটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সার্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্লেনটিতে থাকা আটজন ক্রু সদস্য মারা গেছেন। রোববার (১৭ জুলাই) দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুই দমকলকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

সার্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্লেনটির জর্ডান থেকে সৌদি আরব ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আকাশে থাকতেই প্লেনটিতে আগুন ধরে যায়।  পুড়তে পুড়তে তা নিচে নামে। এটি মাটিতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার দুই ঘণ্টা পরও দুর্ঘটনাস্থলে আগুনের গোলা দেখা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইউক্রেন, সার্বিয়া বা জর্ডানের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি

‘দিন: দ্য ডে’র টিকিট না পেয়ে মিছিল

ঈদ উপলক্ষ্যে সারা দেশে ১০৭ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে অনন্ত জলিল-বর্ষার ‘দিন: দ্য ডে’ সিনেমা। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে সিনেমাটি। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও নেহায়েত কম নয়।

কারণ ছবির নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল শুরু থেকেই বলে আসছেন— ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা ‘দিন: দ্য ডে’।  ১০০ কোটি টাকার বাজেট বলে দাবি অনন্তর।

শুক্রবার বিকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমা হলে সরেজমিন দেখা যায়, দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। দীর্ঘলাইন ধরে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনছেন দর্শকরা।

পরে টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেন। আগত দর্শকরা বিদেশি ছবির শোয়ের সংখ্যা কমিয়ে ‘দিন: দ্য ডে’র শো বাড়ানোর দাবি জানান।

সেখানে অনন্ত জলিলের উপস্থিতিতেই মিছিল শুরু করে টিকিট না পেয়ে হতাশ দর্শকরা।

তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন— ‘টিকিট চাই’, ‘টিকিট নাই’।

এ সময় সিনেমা হলগেটে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খান।

এদিকে মিরপুরের সনি সিনেমা হলের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, গত তিন দিন ধরে ‘দিন: দ্য ডে’ সিনেমার সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা শোয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি শুক্রবার থেকে। সবাই টিকিট পাবেন তখন।

টিকিট না পেয়ে দর্শকদের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় অনন্ত জলিল বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সগুলো দর্শকের ঢল সামলাতে পারছে না। এ কারণে সিনেপ্লেক্সের সনিত ও অন্যান্য শাখাতে একটা করে স্ক্রিন বাড়ানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ‘দিন : দ্য ডে’ সিনেমায় অনন্ত জলিলকে আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা গেছে। নানা সন্ত্রাসগোষ্ঠী দমনে অভিযানে অংশ নেন তিনি। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম। বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, তুরস্ক ও আফগানিস্তানে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।

নিঃশর্ত ভালোবাসায় ঘিরে আছি: সুস্মিতা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ললিত কুমার মোদির সঙ্গে প্রেম নিয়ে এই মূহূর্তে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন।

সুস্মিতাকে ‘বেটার হাফ’ উল্লেখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ললিত মোদির এক টুইটের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তাদের বিয়ের গুঞ্জন।

পরে আরেক টুইটে ললিত মোদি জানান, বিয়ে নয় সুস্মিতার সঙ্গে আপাতত ডেট করছেন তিনি।

এবার এসব নিয়ে শুক্রবার বিকেলে মুখ খুললেন সুস্মিতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই মেয়ের সঙ্গে একটা সেলফি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমি খুব সুখী। বিয়ে হয়নি…আংটিও নেই। নিঃশর্ত ভালোবাসায় ঘিরে আছি। যথেষ্ট স্পষ্ট করে দিয়েছি। এবার জীবন এবং কাজে ফিরি। সবসময় আমার খুশি ভাগ করে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আর যারা করেন না, তাদেরও.. সবাইকে ভালোবাসি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টুইটারে সুস্মিতার সঙ্গে চারটি ছবি পোস্ট করে সম্পর্কের কথা জানান দেন ললিত মোদি।

বলিউড ডিভার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে ললিত মোদি লেখেন, ‘মালদ্বীপ ভ্রমণের পরে সদ্য লন্ডনে ফিরলাম। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালাম। আর ‘বেটার হাফ’ সুস্মিতার কথা তো আলাদা করে বলতেই হবে। অবশেষে একটি নতুন জীবনের শুরু।’

প্রথম টুইটে সুস্মিতাকে ‘বেটার হাফ’ বলে উল্লেখ করলেও পরের টুইটে বিষয়টি পরিষ্কার করেন ললিত মোদি। ফের তিনটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমরা কেবল একে অপরের সঙ্গে ডেট করছি, বিয়ে করিনি। তবে একদিন সেটাও হবে।’

গত বছর দীর্ঘদিনের প্রেমিক রেহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন সুস্মিতা। যদিও বিচ্ছেদের পরেও একাধিকবার একসঙ্গে দেখা গেছে তাদের। তবে এখন ললিত মোদির সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু করছেন অভিনেত্রী।

স্বীকারোক্তি দিলেন গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ২ নেতা

প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত দিনের রিমান্ড চলাকালে গতকাল বুধবার আসামিরা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদীর আদালত আসামি সংগঠনের সভাপতি কামরুজ্জামানের এবং আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কাজী শরীফুল ইসলাম আসামিদের স্বীকারোক্তি গ্রহণের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন।

আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বিষয়টি জানান।

এর আগে, গত ৫ জুলাই গ্রেপ্তার হওয়া এ আসামিদের গত ৬ জুলাই সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলা থেকে জানা যায়, গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ এবং আইনজীবী ও টেলিকম সিবিএ নেতার যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে শতাধিক মামলা থেকে গ্রামীণ টেলিকমকে ইনডেমনিটি দেওয়ার জন্য বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী ইউনিয়নের দুইজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নগদ ৪ জুলাই গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী এবং টেলিকম ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিরপুর মডেল থানায় এ সংক্রান্তে একটি মামলা দায়ের করেন।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানিতে বিভিন্ন সময়ে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ না করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ক্রমাগত নবায়ন করে। শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী বাৎসরিক লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ (৮০:১০:১০) অনুপাতে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ), শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বরাবর দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির ‘কর্মচারীরা স্থায়ী নয়’ এবং ‘কোম্পানি অলাভজনক’ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কথা বলে শ্রমিকদের আইনানুগ লভ্যাংশ দেওয়া থেকে বিরত থাকে। বিভিন্ন আইনানুগ দাবি-দাওয়ার কারণে ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর একযোগে বেআইনিভাবে ৯৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ ও লভ্যাংশ পাওনা, বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরে কোম্পানিতে পুনর্বহাল, কোর্টের আদেশ অনুযায়ী পুনর্বহালের পরেও দায়িত্ব না দিলে কনটেম্পট অব কোর্ট (আদালত অবমাননা), কোম্পানির অবসায়ন দাবিসহ অন্য দাবিতে শ্রমিকরা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শ্রম আদালত এবং হাইকোর্টে প্রায় ১৯০টি মামলা ও রিট পিটিশন দায়ের করেন। তড়িঘড়ি করে অনেকটা গোপনে এ সব মামলা উত্তোলন, শ্রমিকদের অর্থ দেওয়া এবং প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা লক্ষ্য করা যায়।

পাসপোর্ট ফেরত পাচ্ছেন শাহরুখপুত্র আরিয়ান

গত বছর বলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল আরিয়ান খানের গ্রেফতার। শাহরুখপুত্রের বিরুদ্ধে মাদকসেবন, বিক্রিসহ নানা অভিযোগ উঠেছিল।আরিয়ানকে কারাবাসও করতে হয়েছে গ্রেফতার হওয়ার পর। পরে অবশ্য আরিয়ান নির্দোষ প্রমাণিত হন। তবে পাসপোর্ট জমা রাখতে হয়েছিল তাকে। অবশেষে তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জামিন পাওয়ার কয়েক মাস পরেই মাদক-কাণ্ডে বেকসুর ছাড়া পান আরিয়ান। তবে জামিনের শর্ত মেনে জমা রাখতে হয়েছিল পাসপোর্ট। সম্প্রতি পাসপোর্ট ফিরে পেতেই আদালতে আবেদন করেছিলেন আরিয়ান। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন আদালত। মাদক সেবনের কোনও প্রমাণ মেলেনি তার বিরুদ্ধে। তাকে পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিতে কোনও রকম আপত্তি জানায়নি নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। আরিয়ানের বিরুদ্ধে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের অক্টোবরে মুম্বাই থেকে গোয়াগামী এক প্রমোদতরীতে অভিযান চালিয়ে আরিয়ান ও তার সঙ্গীদের গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মুম্বাইয়ের আর্থার রোড জেলে ২৮ দিন কারাবন্দি ছিলেন আরিয়ান। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর জামিনে ছাড়া হয়েছিল তাকে। তবে ১৪টি কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছিল। যেমন দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। প্রথম কয়েক মাস এনসিবি দপ্তরে সাপ্তাহিক হাজিরাও দিতে হয়েছে তাকে। এ বার তুলে নেওয়া হল জামিনের জন্য আরোপিত যাবতীয় শর্ত।

অপহরণ মামলার আসামি ভাই-বোন গ্রেপ্তার

১৮ ঘণ্টা পর বগুড়ার আদমদীঘি থেকে অপহৃত মাদরাসাছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে বগুড়া সদরের চারমাথা বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।   এ সময় পুলিশ অপহরণ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপির কোমারপুর গ্রামের সামছুল হকের ছেলে সোহাগ হোসেন ও তার বড়বোন সুমি আক্তার।

 

জানা যায়, উপজেলার কোমারপুর গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়েকে সোহাগ বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতেন। বিষয়টি পরিবারকে জানালে সোহাগ ক্ষিপ্ত হন। ঈদের ছুটিতে বুধবার ওই কিশোরী  নানির বাড়ি যাওয়ার পথে সোহাগের নেতৃত্বে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে সোহাগ হোসেন, তার বোন সুমি আক্তার ও এক কিশোরকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিকটিমের জবাববন্দি গ্রহণ ও গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।