সিন্ডিকেট ভাঙতে চাল আমদানির অনুমোদন: কৃষিমন্ত্রী

চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চাল আমদানির খবরে বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে। সরকার কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

পেঁয়াজ আমদানি বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মৌসুমি পেঁয়াজের দাম কমই ছিল। পরে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বছরের শেষের দিকে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা যায়। এ জন্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ বা আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। তিনি কৃষি উন্নয়নের জন্য আধুনিক রিসার্স সেন্টার গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান। কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন কৃষিকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

মহাবিশ্বের প্রথম রঙিন ছবি প্রকাশ করেছে নাসা

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে মঙ্গলবার প্রথম বারের মত মহাকাশের গভীরে নক্ষত্র এবং ছায়াপথের এমন কিছু রঙিন ছবি প্রকাশ করেছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, “টেলিস্কোপটি আমাদের মহাবিশ্বের ইতিহাসে একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে”।

মঙ্গলবারের ছবিগুলি টেলিস্কোপ থেকে ডেটা ব্যবহার করে তা পরিবেশন করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়েছে। ছবিগুলোতে মহাবিশ্বের এমন ক্ষেত্রগুলি দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে গবেষকরা ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলিতে মনোনিবেশ করতে পারবেন।

এক হাজার কোটি ডলারের এই টেলিস্কোপ, মহাকাশে উৎক্ষিপ্ত সর্বকালের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ। অতীতের যেকোন টেলিস্কোপ এর চাইতে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশের আরো দূরের ছবি নিতে পারে।

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে মালদ্বীপে পালিয়ে যাওয়ার পর ফের দেশটিতে ব্যপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

আজ বুধবার (১৩ জুলাই) শ্রীলঙ্কার সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মিরর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ডেইলি মিরর জানায়, প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ পুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানায়, দাঙ্গাকারীদের গ্রেপ্তার ও তারা যেসমস্ত গাড়িতে চলাফেরা করছে তা জব্দ করার জিন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন রনিল বিক্রমসিংহ।

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের দখলে এবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন

প্রেসিডেন্টের বাসভবনের পর এবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনও দখল নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশের পর বিক্ষোভকারীরা উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলের পর বিক্ষোভকারীরা আনন্দে ফেটে পড়েন। কেউ সেলফি তুলছেন, ঢোল বাজিয়ে চিৎকার করতে করতে ‘রনিল পাগল, গোতা পাগল’ স্লোগান দিচ্ছেন।

দ্বিতীয় তলার ব্যালকনিতে, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ লেখা একটি চিহ্নের ঠিক উপরে বিক্ষোভকারীদের শ্রীলঙ্কার পতাকা উঁচু করে ধরে থাকতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে সেনাদের টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে দেখা গেছে। কেউ কেউ বারান্দায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেট ভেঙ্গে এখন মাঠে ঢুকে পড়েছে। বিবিসির সাংবাদিক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মাঠে বিক্ষোভকারীদের ভিড় উপচে পড়ছে। গেটের বাইরে সশস্ত্র পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর অনেকেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে আনন্দে চিৎকার করছে।

বিক্ষোভকারীরা কলম্বোতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করার সময় বিবিসির খবরে বলা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে সেখানে নেই। সুতরাং তিনি এখন বিপদমুক্ত।

বিক্ষোভকারীরা তার আবাসিক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে গত কয়েকদিন আত্মগোপনে রয়েছেন রনিল। তার পরিবারও এই বাসভবনে অবস্থান করছেন না।

তবে অবস্থান না জানা গেলেও অফিসিয়াল সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন রনিল। বিভিন্ন আদেশও জারি করছে তার অফিস। সংসদের স্পিকার তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লংকান সেনাবাহিনীকে ‘যা প্রয়োজন’ করার নির্দেশ

বুধবার শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিসে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্রমাসিংহেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ।

জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিলিটারি পুলিশের বাঁধা টপকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন দখল করেন তারা।

বর্তমানে শ্রীলংকার পরিস্থিতি সরকারের হাতের বাইরে চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তবুও  পিছপা হননি বিক্ষোভকারীরা।

আর এরপরই দেশটির সেনাবাহিনী এবং পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে। টিভিতে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা করার প্রয়োজন তা করতে পুলিশ ও সেনবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিক্রমাসিংহে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, আমি সেনাবাহিনীর কমান্ডার এবং পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা করার প্রয়োজন তাই করতে।

যারা আমার অফিসে হামলা চালিয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে যারা আমাকে বাঁধা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যব্স্থা নিতে বলেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানকে ছিন্ন করতে পারিনা।আমরা ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতায় আসতে দিতে পারি না।গণতন্ত্রের ওপর ফ্যাসিস্টদের এ হুমকি আমাদের বন্ধ করতে হবে।

যারা এমন বিশৃঙ্খলা করছে তাদেরকে অবশ্যই জেলে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।

ট্রেন লাইনচ্যুত: শিডিউল বিপর্যয়, তীব্র গরমে ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে তেলবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বগি লাইনচ্যুতিতে আখাউড়া স্টেশনে আটকা পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের শাহাজীবাজারে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস।

বিজয়নগরের মুকুন্দপুর-হরষপুরের মাঝামাঝি স্থানে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল করিম  জানান, ট্রেনের উদ্ধারকাজ শেষ করতে চার ঘণ্টা সময় লাগবে।

মুকুন্দপুর রেলস্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেনের শিডিউলে বড় বিপর্যয় ঘটবে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের মুকুন্দপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায়। সেটি এখনও মুকুন্দপুরের আগে আখাউড়ায় আটকে আছে।

‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ১টা ৪৫ মিনিটে মাধবপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেটিও আটকা পড়েছে। দুই ট্রেনের যাত্রীরাই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শুধু এই ট্রেন দুটি নয়, আরও কয়েকটি ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ে পড়বে।’

পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে আখাউড়ায় অপেক্ষায় করছেন বিশ্বনাথ উপজেলার ৬০ বছর বয়সী আসমা বেগম।

তিনি বলেন, ‘অনেক গরম বাবা। এমনিতেই আমি অসুস্থ। ডাক্তার ঠান্ডা পানি ধরতে মানা করেছেন। কিন্তু গরম এত বেশি যে মনে হচ্ছে মুখ ঝলসে যাবে। তাই ছেলেকে দিয়ে ঠান্ডা পানি আনিয়ে মুখ ধুচ্ছি। কখন ট্রেন ছাড়বে জানি না।’

দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটের সুরমা উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন ব্যাংকার সোহেল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘ট্রেন ঠিক সময়েই ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন ছেড়েছিল। কিন্তু আখাউড়ায় এসে লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হলো। এখন বাড়ির দিকে ফিরে যাচ্ছি। এই গরমে আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বে।’

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, দেশ ত্যাগের চেষ্টা ব্যর্থ

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

শ্রীলঙ্কাভিত্তিক পত্রিকা ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবারই তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে এরই মধ্যে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছেন। যিনি এই পদত্যাগপত্র পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করবেন।

যদিও যে পদত্যাগপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন তার তারিখ দেয়া আছে ১৩ জুলাই, বুধবার।

এরই মধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ইয়াপা আবিবর্ধনে। তিনি আগামীকাল প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের বিষয়টি জনসমক্ষে জানাবেন।

এর আগে ইয়াপা আবেবর্ধনে জানিয়েছিলেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসে তাকে জানিয়েছেন যে বুধবার তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

দাপ্তরিক কিছু কাজ হস্তান্তরের জন্য বুধবার পর্যন্ত তিনি সময় চেয়েছেন।

এর আগে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে বিক্ষোভের মুখে শনিবার কলম্বোয় তার সরকারি বাসভবন থেকে পালিয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি সম্ভবত নৌবাহিনীর জাহাজে পালিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন না নতুন প্রধানমন্ত্রীও।

তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ও আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেও পদত্যাগ করতে চান বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

এক বিজ্ঞপ্তিতে রনিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছেন, জ্বালানিসংকট নিরসনে ব্যর্থতা এবং এই সপ্তাহে তা আবারও তীব্র হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এখন বুধবারের মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রীও পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকার ৩০ দিনের জন্য অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাবেন।

এই ৩০ দিনের মধ্যেই পার্লামেন্ট নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে।

কলম্বো বিমানবন্দরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে অপমানজনকভাবে অপেক্ষমাণ রেখেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তিনি এভাবেই নিজ দেশে আটকে ছিলেন।

বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিবাসন কর্মীরা তাকে ভিআইপি জোনে আসতে বাধা প্রদান করেন এবং পাসপোর্টে সিল দিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু জনসাধারণের ভয়ে তার পক্ষে সাধারণ লাউঞ্জ দিয়েও ইমিগ্রেশন পার হওয়া সম্ভব ছিল না। পরে তাকে কাছের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুই ঘণ্টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু হয়ে টুঙ্গিপাড়া থেকে দুই ঘণ্টায় গণভবনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর আজ বিকেল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে কোনো যাত্রাবিরতি ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৫টায় গণভবনে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও সহকারী প্রেসসচিব ইমরুল কায়েস। তিনি জানান, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হন শেখ হাসিনা।

এর আগে আজ সকাল ৮টায় গণভবন থেকে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছানোর পর সন্তানদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এদিন যাত্রাপথে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি গিয়ে সন্তানদের নিয়ে কিছু সময় পার করেন শেখ হাসিনা। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি জাজিরা প্রান্তে যান এবং সেখানে ফলকের সামনে কিছু সময় দাঁড়ান। এরপর প্রায় ৪০ মিনিট বিশ্রাম নেন জাজিরা প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-২ এ। সোয়া ১০টায় সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন ।

সাবেক এসপি বাবুলের দুই সন্তানকে ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় তাদের দুই শিশু সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী মাগুরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসবাদ করা হয়।

চট্টগ্রাম পিবিআই-এর পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ওমর ফারুক বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষে শিশুদের দাদা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার উপস্থিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রবেশন অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাবুল আক্তারের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া বলেন, বাবুল আক্তার ও মিতু দম্পতির ছেলে আক্তার মাহামুদ মাহির (১২) ও মেয়ে তাবাসসুমকে (৯) সোমবার সকাল ১০টায় মাগুরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনা হয়। তার উপস্থিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ছোট বাচ্চাদের টানা তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাবাদ করা অমানবিক বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাবুলের বাবা বলেন, তার সন্তান বাবুল আক্তার একজন সৎ, বলিষ্ট ও ন্যায়নিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পাঁচ বার পিপিএম পদক পেয়েছেন। তাকে ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি মামালার ন্যায় বিচারের স্বার্থে মূল অভিযুক্ত মুসাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মুসা গ্রেপ্তার হলেই মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে বলে তিনি দাবি করেন।

বাবুল আক্তারের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু অভিযোগ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বাইরে গিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। এ ছাড়া তিনি (তদন্তকারী কর্মকর্তা) তদন্ত কক্ষে হাইকোর্টের নিদেশর্না না মেনে অতিরিক্ত লোক প্রবেশ করিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ওমর ফারুক এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্দর পরিবেশে, সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে দাবি করেন।

মাগুরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশাদুল ইসলাম বলেন, তিনি মহামান্য হাইকোর্টের নিদের্শনা পালন করেছেন। সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ও প্রয়াত মাহমুদা আক্তার মিতু দম্পত্তির দুই শিশু সন্তানকে কোর্টের আদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সবার সামনে হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা করেছেন। সব কিছু সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে শিশু সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে সন্তানের সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে। ওই সময়ে ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহিরের

মন্ত্রিপরিষদে পরিবার আদালত আইনের খসড়া ২০২২ অনুমোদন

মন্ত্রিপরিষদ আজ সামরিক সরকারের আমলের একটি অধ্যাদেশ সামান্য পরিবর্তন করে, এর স্থলে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২২ এর খসড়া অনুমোদন করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সচিবালয় থেকে সভায় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় পরিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর স্থলে খসড়া আইনটি উত্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে এ ধরনের মামলায় আপিল আদালতে সরকার শুধু জেলা বিচারকদের আদালতকেই নয়, বরং জেলা আদালতের সমমানের অন্যান্য জেলা বিচারকদের আদালতকেও বিবেচনা করতে পারবে।

এছাড়াও সভায়, পশুদের উন্নত মানের খাবারের যথাযথ সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও কুলিং স্টোরেজ সুবিধার মাধ্যমে মানসম্মত গবাদী পশুর দুধ নিশ্চিতে বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড অ্যাক্ট, ২০২২ খসড়া উত্থাপন করা হয়েছে। তবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই আইনে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনের একই কথার দ্বিরুক্তি হয়ে যাচ্ছে কিনা – আগামী দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ষ্টেকহোল্ডারদের পরামর্শের মাধ্যমে তা নিরূপণের জন্য কিছু পর্যবেক্ষণসহ খসড়াটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে অবিলম্বে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে- যাতে করে দু’দেশের কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা অন-অ্যারাইভেল ভিসায় একে অপরের দেশে সফর করতে পারেন।