বন্যায় ঘাবড়ানোর কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

সিলেট অঞ্চলে পানি নামতে শুরু করলে দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও বন্যা দেখা দেবে বলে সবাইকে সতর্ক করেছেন সরকারপ্রধান। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বন্যার ভয়াবহতা নিজ চোখে দেখে মঙ্গলবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্যা আসাটা, আমার মনে হয়, এটা ঘাবড়ানোর কিছু না। বাংলাদেশের মানুষকে সব সময় এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করতে হবে- এই মানসিকতা থাকতে হবে, এই বিশ্বাস থাকতে হবে। সে কারণে আমাদের অবকাঠামোগত যত উন্নয়ন হবে, সেগুলো কিন্তু সে কথাটা মাথায় রেখে হবে।’

খাদ্যগুদাম ও সার রক্ষা করার ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমন ব্যবস্থা নেয়া যাতে কোনোভাবে খাদ্যগুদামে পানি না ঢোকে, আবার খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্য যেন বের করা যায়- এই সুবিধাটা রাখা। এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ কিন্তু আমাদের সব সময় করে রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিলেটের বন্যা শেষ না। এই পানি ধাপে ধাপে মধ্যাঞ্চলে যাবে, তারপর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছাবে। কাজেই আমাদের কিন্তু দুর্যোগ মোকাবিলায় সব সময় প্রস্তুতি নিয়েই থাকতে হবে।’

সিলেট সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এ জন্য আসছি যে এতগুলো মানুষ এভাবে আটকে পড়া, এ রকম দুর্যোগ। আমাদের তরফ থেকে যা যা করণীয়, আমরা করে যাচ্ছি। খাদ্য, ওষুধ অন্য সবকিছুরই ব্যবস্থা যত লাগে সেটা আমরা দিতে পারব, দেব।’

পানি নামার পর করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে যেখানে পানি নামবে সঙ্গে সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে, যাতে রোগের প্রাদুর্ভাবটা না হয়। সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ময়লাগুলো পরিষ্কার করা।’

এ কাজে দলের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাণহানি, ফসলহানি, গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির দিকটি মাথায় নিয়েও বন্যার সুফলটাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘বন্যাটা হলো, এই যে আমাদের কষ্ট, ক্ষতি-এটা ঠিক। আবার আমাদের লাভও আছে। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ফলে এখানে যদি আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার বা ভূগর্ভস্থ পানি যদি কমে যায়, ভূমিকম্পের আশঙ্কা বেশি থাকে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার যদি ঠিক থাকে, ভূমিকম্প আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। এই বন্যায় আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড রিচার্জ হবে।’

এবার বন্যাটা দেরিতে এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৮ সালের সেই দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পর, বন্যা আসলে কিন্তু পরপর এভাবে দু-তিনবার আসে।

‘এবার সিলেট বিভাগে যেটা হলো, পরপর তিনবার বন্যা। এটা কিন্তু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। প্রতিবারই নতুন নতুন জায়গা প্লাবিত হয়েছে, আমাদের ফসল বা যা ক্ষতি হয়েছে…গতকালও আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং করে কী কী করণীয় সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি।’

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও এ সময় গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই পানিটা তো একদম পরিশুদ্ধ একটা পানি। তা ছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণ বন্যার সময় সব থেকে বেশি প্রয়োজন হয়। অনেক সময় পুকুরের পানিও নষ্ট হয়। সে জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা করা, ওষুধপত্র ঠিক রাখা, স্যালাইন রাখা…এই পানি যখন নামতে থাকবে, নামতে নামতে সেটা মধ্যাঞ্চলে যাবে। আমরা যারা দক্ষিণাঞ্চলে আমরা পড়ব আরও পরে। কাজেই এটা আমাদের চিরাচরিত নিয়ম।’

হাওর অঞ্চলে রাস্তাঘাট নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি মাটি উঁচু করে ভরাট করে কোনো রাস্তা হবে না। সব এলিভেটেড রাস্তা হবে। এলিভেটেড রাস্তা হলে পরে এগুলো সহসা নষ্ট হয় না। এ রকম দুর্যোগ দেখা গেলে যাতায়াত সুবিধা হয়, সেভাবে করা দরকার।’

নদী ড্রেজিংয়ের পক্ষে নিজের শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুশিয়ারা নদী এর আগে একবার ড্রেজিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিছুটা ড্রেজিং করাও হয়েছে। ওভাবে করলে হবে না। দরকার হচ্ছে আমাদের একবার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার পর প্রতি বছর একটা মেইনটেইনেন্স ড্রেজিং দরকার।’

বন্যার আশঙ্কা আগেই করেছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাকৃতিক একটা অবস্থা দেখে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। তো সেটা দেখেই কিন্তু আমি সব সময় বলছি যে এবার একটা বড় বন্যা আসবে। ৯৮ সালে আমাদের দেশে বন্যা এসেছিল, সেটা দীর্ঘস্থায়ী এবং ৮৮ সালের বন্যা, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক অবস্থা যদি আমি দেখি, ১০/১২ বছর পর এ রকম একেকটা বড় বন্যা আসে। আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার। এখন যেটা হয়েছে, এত বেশি রাস্তাঘাট হয়ে গেছে, আমি শুনলাম যে নৌকার খুব অভাব।’

উদ্ধার তৎপরতায় সেনা-নৌবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীরা যেকোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। সরকারে থাকি বা বিরোধী দলে থাকি দুর্গত মানুষের কাছে সবার আগে আওয়ামী লীগ পৌঁছে যায়।’

বন্যার সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বন্যার সময় বিদ্যুতায়িত হবার আশঙ্কা থাকে, তখন আরেকটি দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় সবাইকে হারিকেন, মোমবাতি রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

হবিগঞ্জে ঢুকছে পানি, প্লাবিত আড়াই শ গ্রাম

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার পানি কালনি-কুশিয়ারা দিয়ে নামছে হবিগঞ্জে। অন্যদিকে মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বইছে উজানে। এতে উজান-ভাটি দুদিক থেকেই হবিগঞ্জে ঢুকছে পানি। সেই সঙ্গে তীব্র হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। পানিবন্দী অন্তত আড়াই শ’ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। এখনো পানিবন্দী সব জায়গায় পৌঁছায়নি খাদ্য সহায়তা। অনাহারে দিন কাটছে বানভাসিদের।

দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান ভুক্তভোগীদের। জেলা প্রশাসন বলছে, বানবাসীদের উদ্ধার তৎপরতা চলছে। সেই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

গত তিন দিন ধরে বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়তে থাকে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। কালনি-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। গত শনিবার কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ডুবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। জেলার আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। পরদিন রোববার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন অংশে দেখা দেয় ভাঙন। প্লাবিত হয় নতুন নতুন এলাকা। বিকেল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পানি কুশিয়ারা দিয়ে নামতে থাকলে আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নরে অন্তত আড়াই শ গ্রাম পানিবন্দী হয়।

অধিকাংশ এলাকাতেই বন্যা দুর্গতরা এখনো বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। তাদের কাছে পৌঁছায়নি খাদ্য সহায়তা। অনাহারে দিন কাটছে বন্যাকবলিত অনেক মানুষের।

আজ সোমবার সকাল থেকে দুদিক থেকে হবিগঞ্জে ঢুকছে বন্যা। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার পানি কুশিয়ারা নদী দিয়ে হবিগঞ্জে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ও পৌর এলাকা দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, মেঘনা নদীর পানি উজান বয়ে আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও এবং লাখাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে-খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার ও শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। তাই শহরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়া কালনি-কুশিয়ারার পানি আজমিরীগঞ্জ অংশে বিপৎসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) মিনহাজ আহমেদ শোভন জানান, ‘পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বৃষ্টি না হলেও রাত পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি ১০ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সেটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি এবং বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাঁধ উপচে শহরে পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে—বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৯৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। অনেকে গবাদিপশু রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে, মানুষের পাশাপাশি সংকট দেখা দিয়েছে গৃহপালিত পশুগুলোর। গরু-ছাগলগুলোকে উঁচু জায়গায় রাখা হলেও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আবার অনেক গবাদিপশু পানির মধ্যে বেঁধে রাখতে দেখা গেছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে কোনো উৎসব করছে না সরকার : তথ্যমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে সরকার কোনো উৎসব করছে না, বরং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করছে বলে স্পষ্ট করেছে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, যেহেতু পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার এটি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সমগ্র দেশের মানুষ আজ উল্লসিত। মানুষ এটিকে শুধু একটি সেতু হিসেবে নেয়নি। এটি আমাদের সক্ষমতার প্রতীক।

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, এখানে একটি জনসভা হবে আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। বিএনপি চায় না পদ্মা সেতু উদ্বোধন হোক। তাই এটিকে বানচাল করতে নানা পরিকল্পনা করেছিল, এর অনেকগুলো নস্যাৎ করা হয়েছে আর কিছু কিছু তারা করতে পেরেছে।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু তাদের জন্য তো একটি যন্ত্রণা, জ্বালার বিষয়। পদ্মা সেতু হোক তারা চায় নাই। তাই এটা হলে একটা জ্বালা, আর উদ্বোধন হলে তো আরও বড় জ্বালা। সে জ্বালা থেকেই কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট, উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি এরই মধ্যে মধ্যাঞ্চলে এসেছে। এটি স্বাভাবিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলে যাবে। খোদা না করুক যদি ভবিষ্যতে এরকম কোনো পরিস্থিতি যদি সৃষ্টি হয় তাহলে তো আমাদের সেটা মোকাবিলা করতে পদ্মা সেতু সহায়ক হবে। এজন্যই পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিল আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না পারবে না পারবে না। আবার বলেছিল বানালে সেটি জোরাতালি দিয়ে হবে। এটিতো বিল্ডিংয়ের ছাদ না যে একবারে ঢালাই দিয়ে বানাবে। এটা ধীরে ধীরেই বানাতে হবে।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এক দিনে এক হাজার মিলি লিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়েছেন। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের দলের নেতাকর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় যখনই কোনো দুর্যোগ হয়েছে তিনি সকলের আগে ছুটে গিয়েছেন। ৯১ ঘূর্ণিঝড়ের সময় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। শুধু তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যর্থতার জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে থাকা ১০-১২টি উড়োজাহাজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এগুলো বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ। এগুলোকে উড়িয়ে ঢাকায় নিয়ে এলেই হতো।

জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে না নেয়ায় অনেকগুলো তখন রাস্তায় উঠে গিয়েছিল। যখন খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করা হলো আমি কী ভাষা ব্যবহার করবো জানি না। তিনি সংসদে বলেছিলেন, যত মানুষ মরার কথা তত মানুষ মরে নাই।’

তিনি বলেন, আমাদের সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমাদের দলের একজন নেতা ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। এটিই প্রমাণ যে আমাদের দল পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা তো পাশে দাঁড়াননি এখানে বসে বাগাম্বর করেন। ভাষণ দেন।

সূত্র : ইউএনবি

বাসের মধ্যেই ‘গণধর্ষণ’, চালকসহ গ্রেফতার ৩

চট্টগ্রামে দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাসের মধ্যেই এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে ওই বাসের চালক, সহকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে বন্দর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে ওই নারী বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।

গ্রেফতাররা হলেন- বাসচালক নুরুল আলম (৩০), সহকারী মো. রবিউল (২৩) ও অন্য বাসের সহকারী মো. শাহজাহান (২২)।

মামলায় বলা হয়, আদালতে যাওয়ার জন্য বাস ধরতে ওই গৃহবধূ চাচার বাসা থেকে রিকশায় অক্সিজেন মোড়ে যান। নাজিরহাট রুটের একটি বাসের চালকসহ কয়েকজন এসে তার গন্তব্য জানতে চান। তিনি আদালতে যাওয়ার কথা বললে আসামিরা তাকে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে তোলেন। বাসে উঠার পর চালক গাড়ি অক্সিজেন রেললাইনের একপাশে নিয়ে যায়। সেখানে দরজা আটকে হেলপার রবিউল ও সুপারভাইজার মিলে তাকে ধর্ষণ করে। পরে শাহজাহানের সহযোগিতায় চালক নুরুল আলমও ধর্ষণ করে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার দুপুরে ওই গৃহবধূ আদালতে যাওয়ার জন্য বাস ধরতে অক্সিজেন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে চার পরিবহন শ্রমিক মিলে ওই নারীকে একটি বাসে তুলে গণধর্ষণ করে। পরে ওই নারী বাস থেকে নেমে অক্সিজেন ট্রাফিক বক্সে গিয়ে বিষয়টি জানান। সেখানে দায়িত্বরত সার্জেন্ট ও ট্রাফিক সদস্যরা গিয়ে বাসস্ট্যান্ড থেকে শাহজাহানকে আটক করে। রাতে হাটহাজারী থেকে বাসচালক নুরুল আলম এবং ফটিকছড়ি থেকে রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়। আরেক বাস শ্রমিক পলাতক আছেন বলে জানান তিনি।

ডুবতে পারে ঢাকাও, জানালেন মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, অতিমাত্রায় বৃষ্টি ও উঁচু অঞ্চল থেকে পানি এলে ঢাকাও প্লাবিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘বন্যা কী পর্যায়ে যাবে সেটার পূর্বাভাস কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের দেয়নি। যারা পূর্বাভাস দেয় তারা বলেছে, একটা আগাম সতর্কতা আছে। তবে সেটা কোন পর্যায়ে যাবে সেটি বলা হয়নি।’

আজ রোববার ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ৩য় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিম্মাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে যে দ্রুত কমে যাবে বিষয়টি তা নয়। কিছু খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ এখনো চলছে। সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ওয়ার্ডগুলো বেশিরভাগই নিম্মাঞ্চল। সেখানে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। যা নিরসনে চার হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অনেকটা সুফল পাওয়া যাবে।

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় যতগুলো খাল আছে সেগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছে। যদিও এসব খালের অনেক অংশ অনেকে দখল করে নিয়েছে, যা দখলমুক্ত করা কঠিন।

ভারি বৃষ্টিপাতে রাজধানীর নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হলে সরকারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন, ১০০ বছর বা তার থেকে বেশি বছরেও হয়তো এমন দুর্যোগ আসে। বাংলাদেশের মানুষ এমন দুর্যোগ মোকাবেলায় অভ্যস্ত।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সবসময় প্রস্তুতি থাকে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, বন্যা মোকাবিলায় যুগ্ম সচিব জসিম উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। পরে প্রয়োজনে আরও সময় বাড়ানো হবে।

ছদ্মবেশে ২২ বছর পালিয়ে, অবশেষে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল

র‌্যাব আরও জানায়, গাজীপুরে অবস্থানকালে এনামুল একটি হোমিও কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করেন। গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী কয়েকটি অভিযান পরিচালনার পর ২০১০ সালে তিনি ঢাকার উত্তরায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকেন। ২০১৫ সালে উত্তরায় হোমিও চিকিৎসার একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ক্যানসার ও এইডসের চিকিৎসারও দাবি করেন তিনি। এভাবেই গত ২২ বছর আত্মগোপনে ছিলেন এনামুল হক।

২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় হামলার চেষ্টা হয়। ওই সময় জনসভার স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের পুঁতে রাখা ২টি বোমা। পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন সেনাসদস্যরা। এ হামলাচেষ্টার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি এনামুল।

ওই মামলায় ২০০৪ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এনামুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ওই বছরই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে এনামুলসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

এ ব্যপারে আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সূত্র ধরে এনামুল হকের পরিচয় হয়।

তিনি আরোও  বলেন, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই আনিসের সঙ্গে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে সোনার বাংলা ক্যামেরা ইন্ডাস্ট্রি নামের একটি কারখানা গড়ে তোলেন এনামুল। মুফতি হান্নান ওই কারখানায় বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক করেন। কারখানাটিতে মূলত টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, মোমবাতি ও সাবান তৈরি করা হতো। সাবান তৈরির কেমিক্যালের নামে বোমা তৈরির নানা সরঞ্জাম কারখানায় নিয়ে আসেন তাঁরা। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ৭০ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের ২টি বোমা তৈরি করা হয়।

র‌্যাব বলেছে, এনামুল হক মুফতি আবদুল হান্নানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের হত্যা করতে জনসভাস্থলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেন।

বন্যা মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য যা যা করা দরকার সব করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আজ রোববার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত সাফ চ্যাম্পিয়ন অনুর্ধ্ব-১৯ নারী জাতীয় ফুটবল দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে করোনা বাড়ছে, অপরদিকে ব্যাপক বন্যা। সিলেট বিভাগে এবার ব্যাপক হারে বন্যা এসেছে। এখন ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চলছে। প্রশাসন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী কাজ করছে। সব ব্যবস্থা নিয়েছি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগও কাজ করছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি যা যা দরকার তা দেওয়া হচ্ছে।

আজ সুনামগঞ্জ থেকে পানি কিছুটা নামতে শুরু করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‌ ‘রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগেও বন্যা হতে পারে। এ বিষয়ে আগে থেকে সতর্ক অবস্থানে আছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য যা যা করা দরকার তা করা হচ্ছে। প্রকৃতির এই খেলার মধ্যেই আমাদের বাঁচতে হবে। ’

বন্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। ১০ থেকে ১২ বছর পর পর বড় ধরনের একটা বন্যা দেশে আসে। এবারও অনেক আগে থেকেই সতর্ক করেছিলাম। এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে। বন্যায় মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন করেছে। এটা অনেক বড় অর্জন। নারী ক্রিকেটাররা এগিয়ে যাচ্ছে।’ এ সময় দেশীয় খেলা আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 
facebook sharing button
twitter sharing button

গাজীপুরে কভার্ডভ্যানের ধাক্কায় চালক নিহত

গাজীপুরের সদর উপজেলায় চলন্ত কভার্ডভ্যানের পেছনে অপর কভার্ডভ্যানের ধাক্কায় চালক নিহত হয়েছেন। Continue reading “গাজীপুরে কভার্ডভ্যানের ধাক্কায় চালক নিহত”

পানিপ্রবাহ বন্ধ হলে রাস্তা কেটে বেইলি ব্রিজ বসানোর নির্দেশ

চলতি মৌসুমের তৃতীয় দফা বন্যা হচ্ছে দেশে। একদিনের পানির ঢলেই ডুবে গেছে সিলেট-সুনামগঞ্জ। একদিনে বন্যার এমন ভয়াবহ রূপ আগে দেখেনি সিলেটবাসী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল চেরাপুঞ্জিতে ২৭ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিই সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যার অন্যতম কারণ।

পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নদীর নাব্যতা–সংকট, হাওড়ে অপরিকল্পিত রাস্তা, বাঁধ ও স্লুইচগেট নির্মাণের কারণে বন্যার পানি দ্রুত নামছে না। পানিপ্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠে কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে নির্মিত অলওয়েদার সড়কের কারণেই কি পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

এ প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য আসেনি যে, এই রাস্তা কেটে না দিলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। কোথাও কোনো রাস্তার কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হলে সেটা কেটে দিয়ে বেইলি ব্রিজ বসাতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে সিলেটের মেয়র আমাকে জানিয়েছেন যে, শহরের ভেতরে কিছু রাস্তা কেটে দেয়া লাগতে পারে। কাটার জন্য আমি অভয় দিয়েছি, পরবর্তী সময়ে মেরামতের জন্য আমরা বরাদ্দ দেব।’

রোববার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর  নির্দেশনা মোতাবেক রোববার কয়েকটি রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানালেন মন্ত্রী। এতে করে সুফল পাচ্ছেন বানভাসি মানুষেরা। পানি সরে যেতে শুরু করেছে সেখানে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু রাস্তা কাটার প্রয়োজন পড়েছে। সিলেটের মেয়র সেটা জানিয়েছেন। এতে বন্যার পানি সহজে নেমে যাচ্ছে। কোথাও প্রয়োজন হলে আরও রাস্তা কেটে ফেলা হবে।’

 

গাজীপুরে তিনটি নতুন রাস্তা নির্মিত হবে – যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল

টঙ্গী(গাজীপুর)প্রতিনিধি
টঙ্গী বাসীর দীর্ঘদিনের দাবীতে ভাদাম-আশুলিয়া, গুটিয়া-বাকরাল ও গাছা বঙ্গবন্ধু কলেজে থেকে প্রত্যাশা ব্রিজ পর্যন্ত তিনটি নতুন রাস্তা নির্মানের ঘোষনা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি গতকাল শনিবার টঙ্গী মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার একাডেমিক (৪তলা) ভবন, দেওড়া মুদাফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা ভিত বিশিষ্ট দেড় তলা নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, টঙ্গীর শিংবাড়ী মোড় হইতে ভাদাম পর্যন্ত ড্রেন ও আর সি.সি.ঢালাই নতুন রাস্তার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে উক্ত স্কুল মাঠে আয়োজিত এক সভায় এ ঘোষনা দেন। উক্ত স্কুলের গভনিং বডির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল আলীম মোল্লার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস, ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন মোল্লা, ৫৬নং ওয়ার্ড কা্উন্সিলর আবুল হোসেন,৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোলেমান হায়দার,৫০ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বক্কর সিদ্দিক, ৫১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন , টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গালস্ কলেজ অধ্যক্ষ মো আলাউদ্দিন মিয়া, প্রভাষক মাহবুব-উল-আলম, মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জিন্নত আলী, দেওড়া মুদাফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহিদা আক্তার, মহান নগর যুবলীগের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, মহানগর ছাত্র লীগের সভাপতি মশিউর রহমান সরকার বাবু, টংগী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মেহেদী হাসান কানন প্রমুখ।
সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তার যোগ্যনেতৃত্বের কারনে পদ্মার বুকে পদ্মাসেতু নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৫ শে জুন পদ্মাসেতু উদ্ধোধনের পর ঢাকার সঙ্গে ফরিদপুরসহ আরো ২২টি জেলার যোগাযোগ সহজতর হবে।
সভায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কে একটি আধুনিক সিটি কর্পোরেশন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে প্রধান মন্ত্রীর আসনে আবারও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বসিয়ে দেশের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখবো।