আপিল শুনানির আগে মৃত্যুদণ্ডের সংবাদ ঠিক নয়: আইনমন্ত্রী

আপিল শুনানি নিষ্পত্তির আগে চুয়াডাঙ্গায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান আইনমন্ত্রী।

আনিসুল হক বলেন, আপিল শুনানির আগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে এ কথাটি সঠিক না। তাঁদের আপিল শুনানি হয়েছে, জেল আপিল ছিল, জেল আপিল শুনানিও হয়েছে। জেল আপিল শুনানির পরে তাঁদের প্রাণভিক্ষা চাওয়ার অধিকারও দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নাকচ করার পর তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

একটি হত্যা মামলায় ঝড়ু ও মকিম নামের দুই আসামির নিয়মিত আপিল নিষ্পত্তির আগে তাঁদের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে আপিল বিভাগে নিয়মিত আপিল করেছিলেন তারা।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালত এবং হাইকোর্ট ডিভিশনে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল। জেল আপিলের শুনানি শেষে বিচারিক আদালত এবং হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়। তারপর মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান। সেই আবেদন নাকচ করার পর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

আনিসুল হক বলেন, জেল আপিল শুনানির সময় কোনো আইনজীবী থাকে না। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আপিলকারীদের আবেদন বিচারপতিগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়। বিচারপতিগণ শুনানি করে নিষ্পত্তি করেন। মামলার প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়নি।

নরসিংদীতে ইউপি নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ৩

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের নেকজানপুর এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- আমির হোসেন, আশরাফুল হক ও খুসু বেগম।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলোকবালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই বিরোধ আরও বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে আলোকবালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নেকজানপুর এলাকায় দুই ইউপি মেম্বার প্রার্থী আবুল খায়ের ও রিপন মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন টেঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ তিনজন নিহত হয়। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। আহতদের নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান জানিয়েছেন, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এশিয়া জেনারেল হসপিটালের শুভ উদ্ভোধন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এশিয়া হসপিটালের শুভ উদ্ভোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে টঙ্গীর বনমালা রোড এলাকায় এশিয়া হসপিটালের নিজস্ব কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন মোল্লা, এশিয়া জেনারেল হসপিটালের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মোল্লা, নিউ ব্লোন স্কুলের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, টঙ্গী থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এম এ সাত্তার মোল্লা,  ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিছ, আলাউদ্দিন মোল্লা, হাসান উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।
হসপিটালের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মোল্লা বলেন, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল এই জায়গায় একটি হাসপাতাল আমি সন্তান হিসাবে বাবার স্বপ্ন পুরন করতে পেরে খুব আনন্দিত। এই হাসপাতাল পর্য়ায়ক্রমে টঙ্গী তথা গাজীপুরে সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল হিসাবে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

নাচ শেখানোর প্রলোভনে নারীপাচার : ডিজে কামরুলসহ চারজন কারাগারে

নাচ শেখানোর প্রলোভন দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ হয়ে বিভিন্ন দেশে নারী পাচারের মামলায় চক্রটির অন্যতম হোতা কামরুল হাসানসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া অপর ৩ আসামি হলেন, আসাদুজ্জামান সেলিম, রিপন মোল্লা  ও নাঈমুর রহমান ওরফে শামীম। তাদের দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই (নিরস্ত্র) আল-ইমরান আহম্মেদ।

আসামিপক্ষে আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এর আগে ৩১ অক্টোবর এ তিন আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে ২৯ অক্টোবর রাজধানীর বৌদ্ধ মন্দির এলাকা থেকে কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। কামরুলের দেওয়া তথ্য মতে নিকুঞ্জ এলাকা থেকে সেলিম ও রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে চুয়াডাঙ্গা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কামরুল ইসলাম ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে রিকশা চালানো শুরু করেন। পরে একটি বেসরকারি কোম্পানির পণ্য ডেলিভারি ভ্যানের চালক হিসেবে চাকরি নেন। কয়েক বছর পর একটি ‘ড্যান্স’ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর হাতিরঝিল এলাকায় নিজেই গড়ে তুলেন একটি ড্যান্স ক্লাব।

উঠতি বয়সী মেয়েদের নাচ শিখিয়ে বিনোদন জগতের রঙিন স্বপ্ন দেখাতেন তিনি। পরে সেই তরুণীদের ভারতে পাচার করে দিতেন। আর এই পাচার কাজ করতে গড়ে তুলেন একটি চক্র। এই চক্রটি এ পর্যন্ত শতাধিক নারীকে পাচার করেছে বলে দাবি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)। পাচারের শিকার এক কিশোরীর বাবা বাড্ডা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

advertisement

এ বছরও সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে লটারিতে ভর্তি

গত বছরের মতো এ বছরও সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেলিটকের মাধ্যমে এই লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আজ বুধবার সকালে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সম্পর্কিত এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, মহামারি করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ভর্তি লটারির মাধ্যমে আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া এই বছরের ভর্তি নীতিমালায় বেশকিছু সংশোধন বা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী রোববার এই নীতিমালা জারি করা হতে পারে।

ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সম্পর্কিত এই সভায় রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

টোল বাড়ল দুই সেতুতে

যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু এবং ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর সেতুতে টোল বেড়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেতু বিভাগ। সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)  জানায়, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতে এবং সেতু নির্মাণে নেওয়া বৈদেশিক ঋণ শোধে দশ বছর পর ১৭ শতাংশ টোল বাড়নো হয়েছে। সফটওয়্যার হালনাগাদের পর আগামী দুই এক দিনের মধ্যে বর্ধিত টোল আদায় শুরু হবে সেতুতে চলাচল করা যানবাহন থেকে।

সেতু কর্তৃপক্ষ ১৭ শতাংশ টোল বৃদ্ধির কথা বললেও বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, বড় পণ্যবাহী যানবাহনে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পরিবহন মালিক শ্রমিকরা  বলেছেন, আলোচনা ছাড়াই সরকার টোল বাড়িয়েছে। টোল বাড়ায় পণ্যপরিবহনে ভাড়া বাড়বে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে। তারা টোল বৃদ্ধিতে নাখোশ।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে তিন এক্সেলের বড় ট্রাকের টোল ৪৩ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে চার এক্সেলের ট্রেইলারেও এক হাজার ৪০০ টাকা টোল নেওয়া হয়। নতুন টোল হার অনুযায়ী- ট্রেইলারকে পৃথক শ্রেণির যান হিসেবে নির্ধারণ করায় তিন হাজার টোল দিতে হবে প্রতিবার বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে।

বাড়তি প্রতি এক্সেলের জন্য এক হাজার টাকা করে টোল দিতে হবে। পণ্য পরিবহনে সর্বোচ্চ ছয় এক্সেলের প্রাইম মুভার চলাচল করে। এ গাড়িতে টোল দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা। এখন দিতে হয় এক হাজার ৪০০ টাকা। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন চলাচলের বার্ষিক টোল ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা হয়েছে।

যাত্রীবাহী যানবহনে টোল তুলনামূলক কম বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুতে সাইকেলের টোল ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা, কার ও জিপে ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে মাইক্রোবাস ও পিকাআপেও টোল ৫০০ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা। ৩২ আসনের কম অর্থাৎ ছোট বাসের টোল ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। বড় বাসে টোল ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতুতে। বড় ও ছোট বাসে যাত্রীপ্রতি তিন থেকে চার টাকা ভাড়া বাড়বে।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ছোট, মাঝারি ও বড়- এই তিন ক্যাটাগরিতে ট্রাকের টোল নেওয়া হয়। নতুন নিয়মে ক্যাটাগরি চারটি করা হয়েছে। পাঁচ টনের কম অর্থাৎ ছোট ট্রাকে টোল ৮৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার করা হয়েছে। পাঁচ থেকে আট টনের ট্রাকে ৮৫০ টাকার টোল ৪৭ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে। আট থেকে ১১ টনের ট্রাকের টোল ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা হয়েছে।

এক হাজার ৫২১ মিটার দীর্ঘ মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুতে তিন চাকার গাড়ি ও মোটরসাইকেলের টোল ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা, অটোরিকশায় ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা, কার ও মাইক্রোবাসে ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা, ছোট বাসে ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, বড় বাসে ২০০ থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০০৮ সালে নির্মিত মুক্তারপুর সেতুতেও যাত্রীবাহীর তুলনায় পণ্যবাহী গাড়িতে টোল বেশি বেড়েছে। ছোট ট্রাকে ১৫০ টাকার টোল ৫০ বাড়লেও আট থেকে ১১ টনের ট্রাকের টোল তিনগুণ বেড়েছে। ২০০ থেকে ৬০০ টাকা হয়েছে। বড় ট্রাকে ৬০ শতাংশ টোল বেড়েছে। ৫০০ টাকার টোল ৮০০ টাকা হয়েছে।

এ সেতুতেও ট্রেইলার, কভার্ড ভ্যান, প্রাইম মুভারের মতো বড় পণ্যবাহী গাড়িতে বড় ট্রাকের হিসাবে টোল নেওয়া হয়। চার এক্সেলের ট্রেইলারে এক হাজার টাকা টোল দিতে হবে। এখন দিতে হয় ৫০০ টাকা। মুক্তারপুর সেতুতে বাড়তি প্রতি এক্সেলের জন্য বাড়তি ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। ছয় এক্সেলের গাড়িকে দুই হাজার টোল দিতে হবে।

 

ট্রাক কভার্ড ভ্যান প্রাইম মুভার পণ্যবাহী মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মকবুল আহমেদ  বলেছেন, সরকার তাদের অবগত না করে টোল বাড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষিপণ্যাহী প্রাইম মুভার, ট্রাক, ট্রেইলার সারাদেশে যায় বঙ্গবন্ধু সেতু হয়েছে। টোল বাড়ায় গাড়ির ভাড়া বাড়বে। এতে খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্য বাড়বে।

ট্রাক কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী বলেছেন, টোল বৃদ্ধির বিষয়ে কী করা যায় তার মালিক সংগঠনগুলোর আলোচনা ঠিক হবে।

 

সেতু সচিব তথা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক  বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুতে সর্বশেষ ২০১১ সালে ১৭ শতাংশ টোল বাড়ানো হয়েছিল। দ্রব্যমূল্য ও জনগণের কথা চিন্তা করেই ১০ বছর পর মাত্র ১৭ শতাংশ টোল বাড়ানো হয়েছে। আরও আগেই টোল বাড়ত। করোনার কারণে এক বছর পর বাড়ানো হয়েছে। মুক্তারপুর সেতুতে ১৩ বছরে প্রথম টোল বাড়ছে। নতুন হারে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে ট্রাককে। ট্রেইলারকে আলাদা শ্রেণি করা হয়েছে। এ কারণে মনে হচ্ছে টোল অনেক বেড়েছে।’

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অবিলম্বে বর্ধিত টোল হার কার্যকর হবে।’ কবে থেকে বাড়বে টোল- এ প্রশ্নে সচিব আবু বকর বলেছেন, দুই সেতুতে টোল পদ্ধতি কম্পিউটার বেইজড। সফটওয়্যার হালনাগাদের কাজ চলছে। তা শেষ হলে বুধবার কিংবা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বর্ধিত টোল আদায় শুরু হবে।

গত ২৪ জুন সেতু কর্তৃপক্ষের ১১০তম বোর্ড সভায় টোল বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর টোল হারও নির্ধারণ করা হয় বোর্ড সভায়। তবে তা এখনও সরকারের অনুমোদন পায়নি। দেড় কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে সেতু বিভাগ। এর চেয়ে ছোট সেতুর দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ)। টোল আদায় বন্ধে বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই আন্দোলন হয়। ঢাকার পোস্তাগোলা সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটেছে।

১৯৯৭ সাল থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সেতুতে। তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা টোল আদায় করেছে সরকার। করোনায় লকডাউনে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড ৬৫৪ কোটি টাকা টোল আদায় হয়। ২০৮ কোটি টাকায় নির্মিত মুক্তারপুর সেতু থেকে ১৩ বছরে টোল আদায় হয়েছে ১৬৭ কোটি টাকা।

নির্মাণ ব্যয়ের দ্বিগুণ আদায় হলেও চার দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ঋণ পরিশোধ শেষ হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণ ও সেতু কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহে বড় টাকা যাচ্ছে। সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ২০৩৪ সাল নাগাদ ঋণ শোধ হবে।

মিতু হত্যা মামলা: পিবিআই’র প্রতিবেদন খারিজ, পুনঃতদন্তের নির্দেশ

মিতু হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত মামলাটি পুনতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত উপ কমিশনার কামরুল ইসলাম  বলেন, ‘বাদীর নারাজি আবেদন ও পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুটোই খারিজ করে মামলার তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, ‘পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ওপর আমরা আদালতে নারাজি দিয়েছিলাম। শুনানি শেষে আদালত আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। মামলাটি পুনরায় চলবে।’

গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে আবেদনটি করেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। গত ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। আজ বুধবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল।

নারাজি আবেদনে বলা হয়েছিল, বাবুল ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি এ মামলার বাদী ছিলেন। তাকে আসামি করতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সিনিয়র অফিসার থেকে মামলার তদন্তভার নিয়ে জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে মামলা তদন্ত করা বাবুল আক্তারের প্রতি অসম্মানজনকও। মূলত মহল বিশেষের কথা মোতাবেক সিনিয়র তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজ না করায় জুনিয়রকে দিয়ে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাবুল আক্তারকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে একই ঘটনায় বাবুল আক্তারকে আসামি করে তার শ্বশুরের করা আরেক মামলা পিবিআই তদন্ত করছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। খুনিরা গুলি করার পাশাপাশি তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ১২ মে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে পিবিআই বলে, মিতু হত্যা ছিল ‌‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’। বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় এটা সংঘটিত হয়। মিতুকে হত্যার জন্য তিন লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এরপর ওইদিনই নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন।

এর আগে গত ১০ মে মামলার বাদী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে আনা হয় বাবুল আক্তারকে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১২ মে তাকে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই।

শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট সরোয়ার জাহানের আদালত বাবুল আক্তারকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছে।

বিকাশ এজেন্টদের মোবাইল নম্বর প্রতারকদের দিতেন তানভীর

প্রতারক চক্রের কাছে বিকাশ এজেন্টদের মোবাইল ফোন নম্বর সরবরাহ করতেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা তানভীর সিরাজী সিজার। তার কাছ থেকে পাওয়া নম্বরে ফোন করে নিজেদের বিকাশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রথমে পিন নম্বর সংগ্রহ করত প্রতারকরা। পরে এজেন্টের অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা হাতিয়ে নিত তারা। আর নম্বর দেওয়ার বিনিময়ে তানভীর পেতেন ১৫ হাজার টাকা। টাঙ্গাইলের এক ভুক্তভোগীর মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এ ব্যাপারে জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অবশেষে মঙ্গলবার গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান জানান, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের কিশোরগঞ্জ জেলার টেরিটোরি অফিসার ছিলেন তানভীর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে মাস্টার্স করা এই ব্যক্তি অনেকদিন ধরেই প্রতারণা করে আসছিলেন। ২০১২ সালে তিনি বিকাশের টেরিটোরি ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। এর কিছুদিন পর থেকে তিনি এজেন্টদের নম্বর প্রতারকদের কাছে সরবরাহ শুরু করেন। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা, নেত্রকোনা ও গাজীপুর জেলার টেরিটোরি ম্যানেজার ছিলেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, ফরিদপুরের একটি প্রতারক চক্রের সঙ্গে মিলে কাজ করতেন তানভীর। চক্রটি তার কাছ থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে কল করে কমিশন দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলত। সেজন্য পিন নম্বর প্রয়োজন বলে জানাত। পিন নম্বর পাওয়ার পর হাতিয়ে নিত অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা। মো. রাসেল নামে এমনই এক ভুক্তভোগী তার বিকাশ এজেন্ট নম্বর থেকে ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে টাঙ্গাইলে মামলা করেন। ওই মামলায় ছয় প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, বিকাশের আর কোনো কর্মকর্তা এতে জড়িত কি-না তা জানতে তদন্ত চলছে। বিষয়টি বিকাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

এ ব্যাপারে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম  বলেন, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার তানভীর সিরাজীকে শৃঙ্খলাজনিত কারণে সেপ্টেম্বর মাসেই বিকাশ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিকাশ কর্মকর্তা নন। এই ঘটনার তদন্ত চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে আসছে বিকাশ।

তিনি আরও বলেন, বিকাশ যে কোনো ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে থাকে। সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণাসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বিকাশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতারণা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে বিকাশ।

আপিল নিষ্পত্তির আগেই দুই জনের ফাঁসি কার্যকর, তোলপাড়!

 

‘আপিল নিষ্পত্তির আগেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১৭ সালে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে’- এমন খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর কারাগারে চুয়াডাঙ্গা জেলার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বার হত্যা মামলায় দুই আসামি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

কোনো আসামির দণ্ড কার্যকর করার আগে নিয়ম অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসামিপক্ষ আপিল করে থাকে। কিন্তু দুই আসামির করা আপিল আবেদন শুনানির আগেই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানির জন্য বুধবার কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) ছিল। কিন্তু মামলার শুনানি হওয়ার আগেই জানা গেল, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে।

তবে কারা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মৃত বকুল মণ্ডলের মেঝো ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন গ্রামের বাদল সর্দারের বাড়িতে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় চরমপন্থি কুপিয়ে হত্যা করে। ওই দিনই নিহতের ভাই মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির দুই আঞ্চলিক নেতা দুর্লভপুরের মৃত মুরাদ আলীর ছেলে আবদুল মোকিম ও একই গ্রামের মৃত আকছেদ আলীর ছেলে ঝড়ুসহ ৩ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং দুর্লভপুরের মৃত কুদরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে হিয়াসহ ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। বাকি ১৬ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এই রায় ঘোষণা করেন।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুসারে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। মামলার ডেথ রেফারেন্স নম্বর ছিল ৩৯/২০০৮। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ৭ জুলাই ও ৮ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করেন। উচ্চ আদালতের রায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২ জন আসামি আমিরুল ইসলাম ও হিয়ার দণ্ডাদেশ মওকুফ করা হয়। মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে। এরপর ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রাত পৌনে ১২টায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির জানান, হাইকোর্ট ফাঁসির আদেশ দিলে এর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালেই আপিল করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আসামির পরিবার দাবি করেছেন ৪ বছর আগে ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। হাইকোর্ট যখন তাদের ফাঁসির আদেশ দেন তখনই আমরা ২০১৩ সালে আপিল দায়ের করে রাখি। দীর্ঘদিন পর আজকে (বুধবার) তালিকায় আসে মামলাটি যেটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১১ নম্বরে আছে।’

তিনি বলেন, ‘মামলাটি যখন তালিকায় আসে, তখন আমরা আসামির পরিবারকে খবর দেই। তখন আসামি মোকিমের স্ত্রী এসে জানান, চার বছর আগেই ফাঁসি কার্যকর করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তার আগে কারাগারে তারা শেষ সাক্ষাতও করেছেন বলে তিনি জানান। ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ এনে দাফনও করা হয়।’

ঘটনাটি আপিলের দৃষ্টিতে এনেছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ন কবির বলেন, ‘আজকে (বুধবার) মামলাটি তালিকায় থাকলেও শুনানি হয়নি। যেদিন শুনানি হবে সেটি আদালতের দৃষ্টিতে বিষয়টি আনব। ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে তাহলে নিশ্চয় কারও না কারও ভুলে হয়েছে। বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আবেদন জানাবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

আপিল শুনানির আগে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের নজরে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনও তেমন কিছু জানি না। না জেনে তো এ বিষয়ে বলা ঠিক হবে না।’

এদিকে বুধবার ‘আপিল নিষ্পত্তির আগেই যশোর কারাগারে ২০১৭ সালে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে’-এমন খবরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

কারাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার পর এই দুই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ‘মৃত্যুদণ্ড মওকুফের আবেদন’ করেন। রাষ্ট্রপতি এই আবেদন নামঞ্জুর করেন। ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলী স্বাক্ষতির এক পত্রে আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৬ নভেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

তবে এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘আপিল নিষ্পত্তির আগেই যশোর কারাগারে ২০১৭ সালে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে’-এমন খবর তাদের নজরেও এসেছে। কারা কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের দেওয়া অফুরন্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবন্ধকতাগুলো (আরও যদি থাকে) খুঁজে বের করব এবং আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, সেগুলোর সমাধান করার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও সুবিধাজনক করব।’

স্কটল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি এখানে তার বাসস্থান থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই গণমুখী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সব সময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে।

এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা যথাযথ চ্যানেল ব্যবহার করে বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তার সরকার প্রবর্তিত ২ শতাংশ প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে একটি পৃথক ব্যাংকও প্রতিষ্ঠা করেছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা কিছু অসুবিধার কথা উল্লেখ করলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আসলে তিনি জানতেন না যে তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘লন্ডনে একটি রোড শো হবে, যেখানে আমি বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে (বিডা) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলব।’

বিনিয়োগের সুবিধার্থে সব বাধা দূর করতে তিনি ইতোমধ্যে বিডাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান সরকারপ্রধান।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য তার সরকার বিশেষ ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে।

তবে তিনি প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশে প্রচলিত আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন। কারণ, বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের জন্য কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আপনারা এটি মেনে চলবেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বিনিয়োগ বন্ড ও প্রিমিয়াম বন্ড রয়েছে যেখানে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন। সরকার প্রায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে এবং সেখানে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন।

স্কটল্যান্ডে বিএনপির বিক্ষোভের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন কেন তারা এটা করছে। তিনি বলেন,‘আমার প্রশ্ন আমার দোষ কি? বাংলাদেশের উন্নয়ন করেছি, দারিদ্র্যের হার কমিয়েছি, বাংলাদেশের মানুষকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি।’

বাংলাদেশের আর বিদেশিদের কাছে ভিক্ষা করার দরকার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের ৯০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি তাদের শাসনামলের মতো দেশকে আবারও এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে ফেলতে চায়। তিনি বলেন, তাদের মতো চোরেরা (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ আবারও অন্ধকারের যুগে নিমজ্জিত হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট কখনো দেশের উন্নয়ন চায় না, এমনকি তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাও চায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার ঢাকা-নিউইয়র্ক এবং ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট পুনরায় চালু করার জন্য আলোচনা করছে।