ইউপি নির্বাচনে স্বামী-স্ত্রীর লড়াই

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক দম্পতি পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মো. সাজেদুল আলম স্বাধীন চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। এবারের নির্বাচনে তার স্ত্রী লিলি আক্তারও প্রার্থী হয়েছেন। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের দেওয়ান রিপন হোসেন। তবে ভোটের আগে বেশি আলোচনায় আছেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দী এই দম্পতি। কিন্তু প্রতিদ্বন্দী এই দম্পতি বলছেন, এটা তাদের একটি নির্বাচনী কৌশল।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, সিংগাইর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে চেয়ারম্যন পদে ৩৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ১১টি ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ২৯৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী স্বাধীন বলেন, আসলে নির্বাচন আমি একাই করছি। তবে আমার স্ত্রী প্রার্থী হওয়ার কারণ আছে। যেকোনো কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল হলে তখন যেন সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে সেই ভাবনা থেকে স্ত্রীকে প্রার্থী করেছি। আমার স্ত্রী এখন জনসংযগ করছে। কিন্তু সে আমার জন্যই ভোট চাইছে। আশা করছি এবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ান রিপন হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবি, তিনজনের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের হুজুরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী নৌকাডুবে গেছে। এ ঘটনায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। আজ সোমবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া এলাকার রেখা (২৯), তার মেয়ে সানজিদা (৮) ও ভাগ্নে শফিকুল (৭)। এ ঘটনায় রেখার বোন শীতল (২৭) নিখোঁজ রয়েছেন। শীতল নিহত শফিকুলের মা। তার সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। বরিশুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. সোবাহান মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, নৌকাটিতে ১১ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন যাত্রী। নৌকায় তারা কামরাঙ্গীরচরের ইসলামপুরে যাচ্ছিলেন। পথে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন উঠে আসতে পারলেও দুই নারী ও দুই শিশু নিখোঁজ থাকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে নদীতে তল্লাশি শুরু করে।

 

বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা নিখোঁজ রেখার লাশ উদ্ধার করে। পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে উদ্ধার করা হয় রেখার মেয়ে সানজিদার লাশ। বিকাল ৩টার দিকে নদী থেকে তোলা হয় রেখার বোন শীতলের ছেলে শফিকুলের লাশ। তবে শীতল এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

রিমান্ডে যুবদলের নেতাদের স্বীকারোক্তির অপচেষ্টা চলছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিভিন্নস্থানে সাম্প্রদায়িক হামলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি, যুবদল নেতাকর্মীদের অকথ্য নির্যাতন করছে। রিমান্ডে নির্যাতন করে তাদের দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের অপচেষ্টা চলছে।

সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সারাদেশে যে সাম্পদায়িক হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত। সরকারের নানা ব্যর্থতা ঢাকতে তারা নিজেরাই হিন্দু সম্পদায়ের ওপর হামলা করেছে। বিভিন্ন জেলায় ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। রংপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বলছেন, হামলা করেছে আওয়ামী লীগের লোকেরা। কিন্তু পুলিশ তাদের আটক না করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গণহারে আটক করছে। নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুল আজিম সুমন, সুবর্ণচর উপজেলার আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন, নোয়াখালী জেলার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হোসেন রায়হান, হাতিয়া যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ। তাদের রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার নির্যাতন সংবিধান ও মৌলিক অধকারের লঙ্ঘন। আদালতের রায়ের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মীর শরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দুলাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি নির্বাচনে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা: কাদের

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিরোধী তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, অন্যথায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এবং তাদের মদদদাতা, উস্কানিদাতা নেতা ও জনপ্রতিনিধিরাও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ কঠোর নির্দেশনা দেন।

শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এবং তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রধানের নির্দেশে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবে না- শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

তিনি বলেন, ছলে-বলে কৌশলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হলে শৃঙ্খলাবিরোধী অপকর্ম বলে গণ্য করা হবে।

আগামী ২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

এদেশের ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক এবং নির্ভরযোগ্য ঠিকানা বিএনপি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

দেশের মানুষ ভালো করেই জানেন বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এদেশে কারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, কারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেটা নতুন করে বলার বিষয় নয়।

বিএনপি ক্ষমতায় যেতে এবং ক্ষমতা অবৈধভাবে ধরে রাখতে সাম্প্রদায়িক শক্তির ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৯১ সালেও বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে।

দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির আমলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৬৩টি জেলায় একইসঙ্গে বোমা হামলা হয়েছিল বিএনপির শাসনামলে, শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইরা যে উগ্রপন্থার জন্ম দিয়েছিল তার প্রশ্রয়দাতা আর আশ্রয়দাতা ছিল বিএনপি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, অন্যদিকে বিএনপি চায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে।

সাম্প্রদায়িকতাকে অস্ত্র বানায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ নয় এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ক্ষমতায় যেতে বিএনপিই ধর্মকে আর সাম্প্রদায়িকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে মসজিদের আজান বন্ধ হয়ে যাবে, উলুধ্বনি বাজবে- এসব বক্তব্য কারা রেখেছিল ওবায়দুল কাদের  প্রশ্ন রেখে বলেন, ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা আর ভারত বিরোধিতা তাদের কাছে রাজনৈতিক ট্রাম্পকার্ড।

তিনি বলেন, এখন আর এসবে কেউ কান দেয় না, বিএনপির স্বার্থান্বেষী, ক্ষমতার রাজনীতি নতুন প্রজন্মের কাছেও স্পষ্ট।

ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগের কোনো ষড়যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না, আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের দল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, আর এখন তার কন্যা শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্ন পূরণে অবিরাম লড়ে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ জনগণের রাজনীতি করে বলেই জনগণ আওয়ামী লীগের প্রাণ শক্তি, অপরদিকে যারা ক্ষমতাকে নিজের ভাগ্য বদলের চাবি মনে করে এবং দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে, ষড়যন্ত্র, হত্যা, সন্ত্রাস নির্ভরতা রাজনীতি করে তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

টাকার বিনিময়ে আ.লীগের কমিটিতে বিএনপি নেতারা!

ঢাকার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে কোটি কোটি টাকার পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। গঠনতন্ত্র অমান্য করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিএনপির সক্রিয় নেতাদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় সাভারের স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা বলছেন, এতে দলের শৃঙ্খলা নষ্টের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে পড়বে।

স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯ অক্টোবর আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির দেওয়ানকে ছাড়াই আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ফারুক হাসান তুহিন ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান শাহেদ নতুন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার কথা। কিন্তু দলের গঠনতন্ত্র অমান্য করে একটি ওয়ার্ডে সম্মেলনের আয়োজন করেই ৮টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই সম্মেলন থেকে ৮টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। যাদের অনেকেই এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিল এবং এদের অধিকাংশের নামে গাড়ি পোড়ানো মামলাসহ বিভিন্ন মামলা চলমান রয়েছে। মূলত পদ বাণিজ্য এবং নানা সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে এসব বিতর্কিত লোকদের কমিটিতে নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবগঠিত ইয়ারপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটির ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সোহরাব সরকারকে। তিনি এক সময় শ্রমিক দলের আশুলিয়া থানা কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ৩নং ওয়ার্ডে সভাপতি করা হয়েছে ইউনুছ পালোয়ান নামের একজনকে। তিনি এই ওয়ার্ডে এক সময় বিএনপির সহ সভাপতি এন্তাজ পালোয়ানের ছেলে। আর ৯নং ওয়ার্ডে সভাপতি করা হয়েছে ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোল্লাকে। এছাড়া অন্যান্য পদেও স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় সদস্যদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিরব রহমান শাহেদের যৌথ সিদ্ধান্তে এসব কমিটি গঠন করেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে এ ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাকে বাদ দিয়েই কমিটি গঠনের সব কার্যক্রম করা হয়েছে।

দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি ও বিএনপির লোকদের কমিটিতে নেয়ার প্রসঙ্গে আব্দুল কাদির দেওয়ান বলেন, সার্চ কমিটির বিভিন্ন সদস্যদের মাধ্যমে আশুলিয়া আওয়ামী লীগের আহবায়ক ফারুক হাসান তুহিন পদ বাণিজ্য করেন। অর্থের লোভে এমন কমিটি গঠন করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করার স্পষ্ট ষড়যন্ত্র।

ইয়ারপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা সাদেকুর রহমান, সাইফুল ও হাসিবসহ একাধিক কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, দলে অনেক যোগ্য ব্যক্তি থাকার পরও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মূলত মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফারুক হাসান তুহিন এ কমিটিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের স্থান দিয়েছেন। এ কমিটি বিলুপ্ত করা না হলে ভবিষ্যতে দলের শৃঙ্খলা নষ্ট কবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়ারপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান শাহেদ বলেন, ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সময় আশুলিয়া থানা কমিটির সিনিয়র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি পদ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ভুলবশত বিএনপির কোনো নেতার নাম চলে আসলে, তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ফারুক হাসান তুহিন  বলেন, কমিটি গঠনের দিন আমি এবং সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলাম না। তাই আমার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে টাকার বিনিময়ে বিএনপির লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে, খোঁজখবর নিয়ে প্রমাণ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা  বলেন, কমিটি গঠনের দিন আহবায়ক উপস্থিত না থাকলেও পরে তাকে আনন্দ মিছিল ও গলায় মালা পরার চিত্র রয়েছে।

বিদেশ সফরে যুক্তরাজ্যের পথে প্রধানমন্ত্রী

দুই সপ্তাহের বিদেশ সফরে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৬ ও অন্য কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।  ফ্লাইটটির স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ৩টায় গ্লাসগোর প্রেস্টউইক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তিনি ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ, সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ এবং ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গ্লাসগোতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসের কমনওয়েলথ প্যাভিলিয়নে ‘সিএফভি-কমনওয়েলথ হাইলেভেল প্যানেল ডিসকাশন অন ক্লাইমেট প্রসপারিটি পার্টনারশিপ’ শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি কপ ২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং ভাষণ দেবেন।

শেখ হাসিনা শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি গোটাবায় রাজাপাকসের সঙ্গে বৈঠক করবেন।  প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্যাভিলিয়নে ‘অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটি-দ্য ক্রিটিক্যাল ডিকেড’ শীর্ষক বৈঠকে অংশ নেবেন।

একই দিন বিকালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ‘কপ-২৬’-এর ভিভিআইপি সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী স্কটিশ প্যাভিলিয়নে ‘ওমেন অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।

শেখ হাসিনা দুপুরে স্কটল্যান্ডের  ফাস্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। বিকালে প্রিন্স চার্লস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এর পরেই ইউকে সভাকক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।  শেখ হাসিনার এদিন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

শেখ হাসিনা ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৩ নভেম্বর ঢাকার উদ্দেশে প্যারিস ত্যাগ করবেন এবং ১৪ নভেম্বর সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মাইলফলকের দৃশ্যমান অবস্থায়-যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ¦ মো: জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বলেছেন,  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মাইলফলকের দৃশ্যমান অবস্থায় এখন দেখতে পাচ্ছি, আমাদের দেশেও মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু ও উড়াল সেতুসহ ৮/১০ লেন বিশিষ্ট হাজারো রাস্তাঘাটের ছড়াছড়ি। এখন আর আক্ষেপ নেই। আমাদের দেশেই এখন বিদেশের মতো উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। আজ শনিবার গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ মাঠে কমিউনিটি পুলিশিং ডে—২০২১ উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর পুলিশ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিপদ আপদে যারা মানুষের কাছে ছুটে যায় তাঁরাই পুলিশ। এই পুলিশ বাহিনীই আজ কমিউনিটি পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পুলিশী সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ৯৯৯ চালু করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। অনুষ্ঠানের মূল শ্লোগান ছিল, “মুজিব বর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি”। সারা দেশে ৬০ হাজার কমিউনিটি কমিটির মাধ্যমে ১২ লাখ কমিউনিটি পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ খান বিপিএম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির বিপিএম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শামসুন্নাহার ভূইয়া এমপি, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদ, কাজী ইলিয়াস আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, ওয়াজ উদ্দিন মিয়া।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মাঝে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার ইলতুৎমিশ, আবদুল্লাহ আল মামুন, জাকির হাসান, হাফিজ উদ্দিন, এসি পীযূষ কুমার দে, ওসি টঙ্গী পূর্ব পশ্চিম থানা শাহ আলম ও জাভেদ মাসুদ, ফজলুল হক, রজব আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক, নাসির উদ্দীন মোল্লা, সাদেক আলী, আবুল হোসেন, জবে আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন সরকার, আবদুল্লাহ আল মামুন মন্ডল, জয়নাল আবেদিন বিএ, বিকম মতি, বিল্লাল হোসেন মোল্লা, কাজী মঞ্জুর, মশিউর রহমান সরকার বাবু, হারুন আর রশিদ, মামুন উর রশিদ মোল্লা, বদরুল আলম পাশা, আসাদুল কবির, দেলোয়ার হোসেন, মোঃ হিরন, জাহিদুল কবির আনোয়ার, আলাউদ্দিন মিয়া ও আবু জাফর আহমেদ প্রমূখ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৭ নথি ‘গায়েব’

গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি গায়েব বা খোয়া যাওয়ায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাদিরা হায়দার বাদী হয়ে এ জিডি করেন।

আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ক্রয়-২ এর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারিয়ে গেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

জিডিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর বুধবার অফিস করে নথিগুলো ফাইল কেবিনেটে রাখা হয়। পরদিন দুপুর ১২টায় কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় ফাইলগুলো কেবিনেটের মধ্যে নেই। যে নথিগুলো খোয়া গেছে সেগুলোর সিংহভাগই স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিভাগের কেনাকাটা সম্পর্কিত।

জান্তাবিরোধী সংঘর্ষে মিয়ানমারে ৮৫ সেনা নিহত

মিয়ানমারে সামরিক সরকার বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গত তিন দিনে ৮৫ সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে সংঘর্ষে প্রাণহানির ‍এই ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ সেনা সদস্য নিহত হন। বুধবার মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী কাউলিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (কেএলপিডিএফ) যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান ৪০ জন।

এদিকে কেএলপিডিএফ’র সংবাদ প্রকাশকারী কাউলিন রিভ্যুলিউশন (কেআর) জানিয়েছে, দুই দিনে প্রাণহানির পাশাপাশি সাগাইংয়ের কাউলিন শহরের কিউনবিনথা এলাকায় পৃথক আরেকটি লড়াইয়ে জান্তা সরকারের আরও ২০ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

এ বছরের ফেব্রয়ারির শুরুতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন  সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। ক্ষমতা দখল করেই অং সান সুচি ও তার দল এনএলডির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীকে গৃহবন্দী করেন।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভে জান্তা সরকারের হাতে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭ হাজারের বেশি মানুষকে বন্দী করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়: তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, আমাদের এই দেশ সবার এবং আমরা মনে করি এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবার মিলিত রক্তের স্রোতের বিনিময়েই এ দেশের অভ্যুদয়।

শনিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার আগে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, বৃহত্তর দিনাজপুরের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. জাকিয়া তাবাসসুম জুইঁ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, অ্যাড. সফুরা বেগম রুমী, আব্দুল আউয়াল শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে তথ্যমন্ত্রী বর্ধিত সভায় যোগ দেন।

ড. হাছান মাহমুদ সভায় যোগ দেওয়ার আগে আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে ৭২’র সংবিধানই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতা দখল করে, এরশাদ সাহেব ক্ষমতা দখল করে ৭২ সংবিধানের কাটাছেড়া করেছে। তারা সংবিধানের মূল চেতনাকে নষ্ট করেছে। আমরা সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য কাটাছেড়া করা সংবিধান পরিমার্জন করেছি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। তারা তো জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করেন না। তারা ষড়যন্ত্রের শক্তি আর বন্দুকের শক্তিতে বিশ্বাস করেন। সেই জন্য তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কথা বলেন। সেই জন্য তারা অতীতে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তারা সফল হয়নি। প্রতিনিয়ত তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে এবং সমাজের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করে সেই চক্র অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াত চক্র সাম্প্রদায়িক উগ্র গোষ্ঠী দেশের পূজা মণ্ডপসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করেছে। সেগুলো ধীরে ধীরে দিবালোকের মত স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা শুরু থেকে সেই কথা বলেছিলাম, আজ তদন্তে দেখা গেছে কিভাবে নোয়াখালী বরকতুল, ইকবালকে ইন্ধন দিয়েছে। ধীরে ধীরে এসব তথ্য বের হচ্ছে। পক্ষান্তরে আমাদের দল তাৎক্ষণিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সরকার তাৎক্ষণিক হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত ১২৯টি মামলা হয়েছে, ১২শ’র বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেটি সর্বমহল কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের দেশের কূটনীতিকরাও প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন।