আসুন দেশটাকে গড়ে তুলি: তারেক রহমান

দীর্ঘ দেড়যুগ পর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান। কার্যালয়ে ঢুকে সোজা চলে যান দোতলার বারান্দায়। সেখানে দাঁড়িয়ে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের সালাম দিয়ে বলেন, শুধু এতটুকুই বলব—আসুন দেশটাকে নতুন করে গড়ে তুলি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সাজসাজ রব ওঠে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে। বিকাল তিনটার দিকে তার আসার কথা থাকলেও উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভিড়ে কার্যালয়ে ঢুকতে সময় লেগে যায় বেশি। ৪টার দিকে তিনি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।

এসময় তারেক রহমান বলেন, ‘এক মিনিট কথা বলি আপনাদের উদ্দেশে। আজকে কোনো দলীয় কর্মসূচি নেই। যেদিন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সেদিন বক্তব্য রাখব। শুধু এতোটুকু বলবো- যার যতটুকু অবস্থান আছে আসুন দেশটাকে নতুন করে তোলার চেষ্টা করি। সবাই ভালো থাকবেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা সচেষ্ট হই, কোথাও যদি রাস্তায় এক টুকরো কাগজ পড়ে থাকে, ময়লা হয়ে থাকে তা আমরা সরিয়ে দেবো। এভাবে ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে আসুন আমরা দেশটাকে গড়ে তুলি।’

এসময় মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তারেক রহমান বলেন, সকলে ভালো থাকবেন, আমার জন্য ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

এর আগে বেলা ৩টায় তারেক রহমান গুলশান এভিনিউর বাসভবন থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান বিকেল ৪টায় এসে পৌঁছালে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় তারেক রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা।

কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজি বিরোধী মানববন্ধনে হামলা

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা নেওয়া বন্ধ করার দাবিতে মানববন্ধন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার সংলগ্ন কাঁচামালের আড়ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মানববন্ধন চলাকালে এই হামলার পর ব্যবসায়ীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীদের তাড়া করেন। এ ঘটনায় দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ‘চাঁদাবাজের আস্তানা ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও’, ‘চাঁদাবাজের আস্থানা এই বাংলায় হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আজকে পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজদের পক্ষে কাজ করেছে। তারা প্রতিমাসে মাসোহারা পায় বলেই এমন হামলার পরেও তারা চুপ থাকে। কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাঁদাবাজি বন্ধের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করতেছিলাম কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়। পাশেই পুলিশের সদস্য ছিল তবুও কীভাবে তারা এই হামলা করতে পারে আমরা জানতে চাই। এ ঘটনার পর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এ হামলাকারীদের প্রতিহত করছি। এই এলাকার আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় চাঁদাবাজ আব্দুর রহমানের বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান তারা উত্তপ্ত করেছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে আগুন, নিহত ১৬

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরে একটি বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডের জেরে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন এবং দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও তিন জন।

 

ইন্দোনেশীয় বার্তাসংস্থা অন্তরা নিউজের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার

মানাদো পুলিশের কর্মকর্তা আলমসিয়াহ পি. হাসিবুয়ান অন্তরা নিউজকে জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতে আগুন লেগেছিল। সোমবার ভোরের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে সেই আগুন। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি, তবে পুলিশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

 

ইন্দোনেশীয় টিভি চ্যানেল মেট্রো টিভি বৃদ্ধনিবাসটিতে আগুনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে আগুনের লেলিহান শিখা রীতিমতো গ্রাস করছে বৃদ্ধনিবাস ভবনটিকে, সেখানে বসবাসরতরা জীবন বাঁচাতে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।

 

মানাদো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান জিমি রতিনসুলু জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের শিকার ও বৃদ্ধনিবাস ভবনটিতে যারা ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই বয়সজনিত কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল। আগুন লাগার পর ভবনটিতে আটকা পড়েছিলেন তারা।

সারাদেশের শিক্ষার্থীদের শাহবাগে আসার আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

দেশের সব শিক্ষার্থীদের আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর শাহবাগে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

গতকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শাহবাগে এ ঘোষণা দিয়ে অবস্থানস্থল ছাড়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, সোমবার (আজ) দুপুর ২টায় বাংলাদেশের যত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, কওমি ও আলিয়া মাদরাসা রয়েছে, স্কুল-কলেজ রয়েছে এবং স্বাধীনতাকামী জনগণ রয়েছে, প্রত্যেককে শাহবাগে হাদি চত্বরে এসে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ রইল। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

 

লড়াই কঠোর থেকে কঠোর হবে। ১০টার মধ্যে আজকে শাহবাগ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।

 

উল্লেখ্য, এর আগে রাত ৮টায় বিভাগীয় শহরগুলোর অবরোধগুলো তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের ফেসবুক পেজ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

 

এর আগে রোববার শাহবাগ মোড়ে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে চার দফা দাবি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

 

ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

 

১. যেসব ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বা হত্যায় সহযোগিতা করেছে, তাদের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

 

২. বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্কার্স পারমিট বাতিল করতে হবে।

 

৩. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যেসব ব্যক্তি বাংলাদেশে গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। ভারত আশ্রয় দিলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।

 

৪. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে দায়িত্বে থাকা যারা ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং যেসব আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের চাকরিচ্যুত করতে হবে।

অবিশ্বাস্য! মাত্র দু’সেকেন্ডে ৭০০ কিমি/ঘন্টা গতি তুলল চীনের ট্রেন

প্রযুক্তির দিক থেকে চীন যে গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিতে পারে সেটাই আবারও প্রমাণ হল। চীনের  ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকরা এক অসাধ্য সাধন করেছেন।  মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে একটি ট্রেনকে ৭০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় গতিতে ত্বরান্বিত করেছে। একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছেন চীনা গবেষকরা। এই ট্রেনের গতি এতটাই যে  কিছু বোঝার আগেই তা অদৃশ্য হয়ে যাবে।

 

চীনে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকরা একটি চৌম্বকীয় উত্তোলন ট্রেনের উপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তারা প্রায় এক টন (প্রায় ১,০০০ কেজি) ওজনের একটি গাড়িকে এই অবিশ্বাস্য গতিতে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ৪০০ মিটার (১,৩১০ ফুট) ম্যাগলেভ ট্র্যাকে পরীক্ষাটি করা হয়েছিল এবং সেই গতিতে পৌঁছানোর পর ট্রেনটিকে নিরাপদে থামানো হয়েছিল।

 

এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক ম্যাগলেভ ট্রেনে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষার ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রূপালী বজ্রপাতের মতো ঝলকানি দিয়ে ট্রেনটিকে চলে গিয়েছে। গতিবেগ এতটাই ছিল যে খালি চোখে ট্রেনের যাওয়াকে দেখতে লেগেছে হালকা কুয়াশার মতো।

দেখা গিয়েছে, ট্রেনটি ট্র্যাকের উপরে ভেসে চলেছে সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট ব্যবহার করে যা রেলিং স্পর্শ না করেই ট্রেনটিকে উপরে তোলে এবং সামনের দিকে এগিয়ে দেয়। ত্বরণ এতটাই শক্তিশালী যে এটি একটি রকেটও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। এই গতিতে, ম্যাগলেভ কয়েক মিনিটের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের শহরগুলিকে সংযুক্ত করতে পারে।

 

এই ম্যাগলেভ প্রযুক্তিটি এটাও দেখুয়ে দিয়েছে যে হাইপারলুপের মতো ভবিষ্যতের ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব হতে পারে, যেখানে ট্রেনগুলি ভ্যাকুয়াম-সিল করা টিউবের মধ্য দিয়ে অতি উচ্চ গতিতে চলাচল করবে। যদি এই গতিতে ট্রেন চলে তাহলে দূরের শহরে ভ্রমণে সময় বাঁচবে অনেক।

 

ম্যাগলেভ ট্রেনকে ত্বরান্বিত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি, যাকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অ্যাক্সিলারেশন বলা হয়, মহাকাশ এবং বিমান চলাচলেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। রকেট এবং বিমানগুলি দ্রুত, মসৃণ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে, একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ কমাতে এবং যাত্রার খরচ কমাতে পারে।

 

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজির অধ্যাপক লি জি বলেন, “এই অতি-উচ্চ-গতির সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক ম্যাগলেভ সিস্টেমের সফল বিকাশ চীনের অতি-উচ্চ-গতির ম্যাগলেভ পরিবহনের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।” বর্তমান সাফল্যের পিছনে থাকা দলটি ১০ বছর ধরে এই প্রকল্পে কাজ করছে। এই বছরের শুরুতে, জানুয়ারিতে, তারা একই ট্র্যাকে ট্রেনটি পরীক্ষা করে ৬৪৮ কিমি/ঘন্টা সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছেছিল।

বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ এই দু’টি আসনে লড়বেন তারেক রহমান

বগুড়ার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও লড়বেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ এই দু’টি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদ।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দু’টি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এটি দলীয় সিদ্ধান্ত। একটি বগুড়া-৬ আসন এবং আরেকটি ঢাকা-১৭ আসন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসনে যথাক্রমে বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দু’টি আসনে অর্থাৎ বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে বিএনপির অন্যতম শরিক বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করবেন বলে বনানী- গুলশান- বারিধারা এলাকায় পোস্টার টানানো হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরো বলেন, নিজের বাড়ি ভোলা-১ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ সাহেব নির্বাচন করবেন। তিনি তার দলের নির্বাচনি মার্কায় নির্বাচন করবেন। এই আসনে (ভোলা-১) ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এর আগে এই আসনে বিএনপি গোলাম নবী আলমগীরকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এখন এই আসনে বিএনপি আন্দালিভের বিপরীতে কোনো প্রার্থী রাখবে না বলে জানা গেছে।

শীত কি আরো বাড়বে?

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশা স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। তবে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিনে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। এই কয়েকদিনে সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবওহাওয়াওবিদ বলেন, শনি, রবি ও সোমবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি জানান, সাত জেলার ওপর দিয়ে শুক্রবার বয়ে যাওয়া মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহটি বইছে না। তবে কুয়াশার কারণে শীত বেশি মনে হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছিল, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

এদিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে ব্যর্থ হয়ে কলকাতা, ব্যাংকক ও চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে আটটি ফ্লাইট। এতে বলা হয়, ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন কয়েকটি ফ্লাইটকে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ‘ডাইভার্ট’ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে, চারটি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে এবং একটি ফ্লাইট ব্যাংকক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপ ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু করেছে

ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মিলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে শিগগরিই ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর মধ্যেই শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ নিয়ে এই মন্তব্য করলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমার মতে, আমরা এখন আমেরিকা, ইসরাইল ও ইউরোপের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে আছি। তারা চায় না আমাদের দেশ নিজের পায়ে দাঁড়াক।

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আবার হামলা হলে আগের চেয়ে বেশি শক্ত জবাব দেবে তেহরান। পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের প্রিয় সামরিক বাহিনী শক্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সব সংকট থাকা সত্ত্বেও এখন তাদের সরঞ্জাম এবং জনবলের দুই দিক থেকেই বেশি শক্তি আছে। তারা (ইসরাই ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) যদি আবার হামলা চালায় আগের চেয়ে শক্তিশালী জবাব পাবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই সংঘাত ৮০ দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ হবে। দাবি করেন, পশ্চিমা শক্তি ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু সামরিক নয় বরং নিষেধাজ্ঞা, কূটনীতি আর নিরাপত্তার সমন্বিত যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এরমধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির যুবসমাজকে প্রতিরোধের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার দাবি, মার্কিন-ইসরাইলি চাপ মোকাবিলায় তরুণদের সাহস ও আত্মত্যাগই তেহরানকে টিকিয়ে রেখেছে। খামেনির ভাষায়, লড়াইটা শুধু পারমাণবিক ইস্যু নয়, এটা বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান।

এদিকে, তেহরান-ওয়াশিংটনকে সরাসরি সংলাপে ফেরাতে চেষ্টা করছে ইরাক। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানী জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতিই আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

খালেদা জিয়া সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন : ডা. জাহিদ

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন , ‘ওনার (খালেদা জিয়া) অবস্থার উন্নতি হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। ওনার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং উনি একটা সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন।’

তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; ভর্তি হওয়ার পরবর্তীতে ওনার শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকেরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান তাতে যুক্ত রয়েছেন।

এদিকে শনিবার দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে আবারও মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তারেক রহমান। দুই ঘণ্টার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে রাত ১১টা ৫৮মিনিটে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার স্বদেশের জমিনে পা দিয়েই মা-কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি।

জামায়াতের নেতৃত্বে বড় হচ্ছে নির্বাচনী জোট

সমমনা দলগুলোর সাথে জামায়াতে ইসলামীর আসন সমঝোতা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এর মধ্যেই তাদের আটদলীয় জোটের সাথে নতুন করে আরো কয়েকটি দল যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জেএসডি, আমাদের বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে এ আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দলটি সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও নির্বাচনী মোর্চা বা জোটকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা শরিকদের ১০০ থেকে ১১০টি আসনে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য জানা গেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভলেপমেন্ট পার্টি। ইসলামী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে নিয়ে সরকার গঠনেরও টার্গেটে এগোতে চায় তারা। এর সাথে আবার নতুন করে যুক্ত করতে চাচ্ছে এনসিপিসহ আরো কয়েকটি দলকে।

এনসিপি গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আত্মপ্রকাশ করা একটি দল। এ দলটি ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আলোচনা করছে। তারুণ্যের এই নতুন দলটি জামায়াতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করেছে। জামায়াত তাদের সাথে ৩০টি আসনে সমঝোতা করতে রাজি হয়েছে। তবে তাদের এ আলোচনা আজ-কালের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে। অন্যদিকে এলডিপি, জেএসডি ও লেবার পার্টি এতদিন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ছিল। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় বনিবনা না হওয়ায় দলগুলো নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে যাচ্ছে। তারাও এখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে নির্বাচনী জোটে যেতে আলোচনা শুরু করেছে। আজ অথবা আগামী কালই এ জোটের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে একটি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা আমাদের শুরু থেকেই ছিল। আমরা একটি ইনক্লুসিভ জোট গঠনের চেষ্টা করছিলাম। ইসলামী দলগুলোর সব ভোট এক বাক্সে নেয়ার যে টার্গেটে আমরা আট দল একত্রিত হয়েছিলাম তার কলেবর আরো বৃদ্ধি হচ্ছে। দু’-এক দিনের মধ্যে এর চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা হবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র সংস্কারসহ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমরা শুরু থেকে চেষ্টা করে আসছি। সংস্কার এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে যাদের সাথে ঐকমত্য হবে আমরা তাদের সাথে নির্বাচন করতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। শিগগিরই সব কিছু প্রকাশ করা হবে।