এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, ১৪ নভেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

করোনা সংক্রমণ এড়াতে অভিভাবকদের পরীক্ষাকেন্দ্রে না আসারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে এই পরীক্ষার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সারাদেশের তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, এবার ২৯ হাজার ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। তার মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৯৮ জন। দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবে ৩ লাখ এক হাজার ৮৮৭ জন

এছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা দেবে। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। আর প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫১টি। পাশাপাশি কেন্দ্র বেড়েছে ১৬৭টি। এবারের পরীক্ষায় বিদেশ থেকে ৯টি কেন্দ্রে ৪২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

ফেরি উদ্ধারে হামজা

পদ্মায় ডুবে যাওয়ার সময় শাহ আমানত ফেরিতে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক ও ১৪টি মোটরসাইকেল ছিল; এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ৯টি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।

বাকি যানবাহনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার কাজে যোগ দিতে মুন্সিগঞ্জ থেকে উদ্ধাকারী জাহাজ প্রত্যয় রাতেই পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাবে। রাতেও চলবে উদ্ধার তৎপরতা। কর্তৃপক্ষ রাতে বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছে।

বুধবার সকালে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে নোঙর করার পর ওই রো-রো ফেরি উল্টে যায়। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফেরির মাস্টার শরিফুল ইসলাম লিটন জানান, চার মাস আগে ফেরিটি নারায়ণগঞ্জ থেকে ভারী মেরামত শেষে পাটুরিয়া সার্ভিসে আসে। তবে সম্প্রতি ফেরিটি তলদেশে একটি ফুটো হয়। বুধবার দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া গিয়ে ভাসমান কারখানায় মধুমতিতে তা মেরামত করার কথা ছিলো।

তিনি জানান, মাঝ নদী পার হওয়ার পর ফেরিতে পানি ওঠার বিষয়টি তিনি টের পান। ভালোভাবেই তিনি ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাটে নোঙ্গর করেন। এর পর যানবাহন আনলোড হওয়ার সাথে সাথে ফেরিটি কাত হয়ে ডুবে যায়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, শাহ আমানত ফেরিটি ১৯৭৯ সালে ফেরি বহরে যোগ হয়। ফেরিটির কোনও ত্রুটি ছিলো কি না তা জানা নেই। তবে ডুবে যাওয়ার প্রাথমিক যে তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে মনে হচ্ছে ফেরির তলদেশ ছিদ্র হয়ে পানি উঠে ফেরিটি ডুবে গেছে। আমাদের দেশে ফেরি ডুবির ঘটনা এটাই প্রথম।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেলুজ্জামান জানান, পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাটে আমানত শাহ ফেরিটি কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার সময় এতে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক ও ১৪টি মোটরসাইকেল ছিল। ফেরি ও যানবাহনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

দৌলতদিয়া থেকে আসা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার কমান্ডার এস এম ছানোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরির পাটাতন ফেটে পানি ওঠায় এটি ডুবে যায়। ফেরি শাহ আমানতের যে ওজন তাতে কোন কূল কিনারা পাবেনা  উদ্ধারকারী জাহাজটি।

ফেরির অবকাঠামোর ওজন সম্পর্কে জানা গেছে, ১ হাজার টন। সেক্ষেত্রে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার উদ্ধারে সক্ষমতা মাত্র ৬০ টন। এদিকে আরেকটি উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় যার উদ্ধারের সক্ষমতা রয়েছে ২৫০ টন।

বিএনপির মিছিলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আটক ৩০

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সম্প্রীতি মিছিলের আয়োজন করে দলটি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে বের হলে এ সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নয়াপল্টন থেকে বিএনপির প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে হয়েছে। আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, বিএনপির ২৫-৩০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই করে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিএনপির ঘোষিত মিছিল কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই দলটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ শুরুর আগেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মিছিলের কর্মসূচি থাকলেও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু কয়েক হাজার নেতাকর্মী সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে কাকরাইলের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নয়া পল্টনে বিএনপির অফিসের সামনে একটি ছোট ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়। একের পর এক মিছিল এসে যোগ দিতে থাকে বিএনপির অফিসের সামনে। নেতাকর্মীদের জমায়েতের কারণে নয়া পল্টনে দলটির কার্যালয়ের সামনের সড়কটি অনেকটা বন্ধ হয় পড়ে।

বিএনপির এই কর্মসূচিতে ঘিরে নয়া পল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দলটির কার্যালয়ের পূর্ব দিকে রাখা হয়েছে সাজোয়া যান।

মিলিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে: সিআইডি

ঠাকুরগাঁওয়ের মিলি চক্রবর্তীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত মামলার ভিসেরা প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানায় সিআইডি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‌‘মিলি চক্রবর্তীর মৃত্যুর কারণ আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট। ভিসেরা রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। সে অনুযায়ী আমরা মামলার তদন্ত আরও বেগবান করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়ার আগেও আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে, এটা হত্যাকাণ্ড। সে কারণেই পুলিশ তখন একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। এরইমধ্যে আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

গত ৮ জুলাই সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশে নিজের বাসার গলি থেকে মিলি চক্রবর্তীর পোড়া ও অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তখন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। দুইদিন পর পুলিশ বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। গত ৫ আগস্ট মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে পরিবার থেকে হত্যামামলা না করায় সমালোচনা ও সন্দেহ বাড়তে থাকে। অনেকে অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চায় মিলির পরিবার। তবে মিলি চক্রবর্তীর ফেসবুকে কিছু ম্যাসেজ নিয়ে কিছুদিন আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং সিআইডি তদন্তে নেমে মিলির ছেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সোহাগকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে। সোহাগ এখন কারাগারে রয়েছেন।

ভোটের অধিকার আদায়ে আ.লীগের পথেই হাঁটবে নুরুলদের দল

দলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব নেওয়া নুরুল হকের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাঁদের নতুনত্ব কী। জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় দুটি দলের রাজনীতি পরিবারকেন্দ্রিক। কারও বাবার পরে মেয়ে, কারও স্বামীর পরে স্ত্রী। আমাদের দল কখনো রেজা কিবরিয়া ও নুরুলের দল হবে না। এখানে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক হবে। আমরা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের কথা বলছি।’

গণতান্ত্রিক এই লড়াইয়ে জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে বড় করে দেখছেন গণ অধিকার পরিষদের নেতারা। এই লড়াইয়ের কর্মকৌশল কেমন হবে, তা নিয়েও কথা বলেছেন তাঁরা।

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখন যে প্রধানমন্ত্রী আছেন, ওনার শিক্ষা নেব। উনি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৯১ সালে কাজ করেছেন, আমরা সেভাবে অগ্রসর হওয়ার চিন্তা করছি। যাঁরা বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে রাজি আছেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলব, তাঁদের সঙ্গে কাজ করব। এ ব্যাপারে কারও আপত্তি থাকলে থাকতে পারে, তাতে আমাদের কিচ্ছু করার নেই।’

দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে নব্বইয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিল রাজনৈতিক দলগুলো। সে সময় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ যেমন আন্দোলন করে, তেমনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীও রাজপথে ছিল।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে গণ অধিকার পরিষদ মাঠে নামবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করাকে আমি এতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আসল কথা হলো, আমরা একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। জাতিসংঘের পরিচালিত একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা চাই। এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনো মানে হয় না। যারা আগে প্রতারণা করেছে দুবার (২০১৪ ও ২০১৮ সালে), তারা তৃতীয়বার যে প্রতারণা করবে না, আমি এটা ভরসা করি না। সুতরাং আমরা প্রতারকদের নির্বাচনে যাব না, এটা পরিষ্কার।’

গণ অধিকার পরিষদ নির্বাচনে কারও সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে কি না, জানতে চাইলে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘জোটবদ্ধ নিশ্চয়ই হব। তবে কার সঙ্গে জোট হবে, সেটা তখনকার পরিস্থিতির আলোকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন রেজা কিবরিয়া। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোও। জোটের প্রার্থী হিসেবে রেজা কিবরিয়াও পৈতৃক এলাকা হবিগঞ্জের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ওই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল বিএনপির, মাত্র সাতটি আসনে জিতেছিলেন তাদের প্রার্থীরা।

এই নির্বাচনের পর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে এসেছিলেন রেজা কিবরিয়া। এ নিয়ে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে গণফোরাম ছাড়ার ঘোষণা দেন রেজা কিবরিয়া। এখন তাঁকে নতুন দলে দেখে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা।

আপনি কিছুদিন গণফোরামের ছিলেন, এখন গণ অধিকার পরিষদে, আগামী দিনে নতুন কোনো দলে প্রস্তাব পেলে যাবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘এটা হলো গণমুখী একটা দল। আমি মনে করি, এখানে থাকাই সবচেয়ে শ্রেয়।’
নতুন দলের প্রথম কর্মসূচি কী হবে, এ প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘এখানকার বড় ইস্যু হলো সাম্প্রদায়িকতার সমস্যাটা বেশি মাথা তুলেছে অনেক বছর পর। আমরা মনে করি, যেগুলো ঘটেছে, এগুলো সাজানো নাটক। এ দেশের কিছু লোক এবং বাইরের কিছু লোকের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই অসহায় মানুষদের অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা এটার বিরুদ্ধে একটা শক্ত অবস্থান নেব।’

আগামী নির্বাচন নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের পরিকল্পনা জানতে চাইলে রেজা কিবরিয়া বলেন, পরিকল্পনা এই মুহূর্তে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া। কিন্তু পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বিষয়টা। তবে প্রথম কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

নিরপেক্ষ সরকার ফেরাতে না পারলে কী করবেন, প্রশ্নের জবাবে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘জনগণ সঙ্গে থাকলে আমরা নিশ্চয়ই আদায় করতে পারব। জনগণ আমাদের বড় শক্তি, এই শক্তির ওপর ভরসা করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছি।’

দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নুরুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষায় যেন বাংলাদেশকে গড়তে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আমাদের দলের নাম ঠিক করা হয়েছে গণ অধিকার পরিষদ। আমাদের স্লোগান হবে, “জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার”।’

নতুন দলের নাম ঘোষণার জন্য বড় মিলনায়তন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। আজকে এমন একটা শাসনকাল অতিক্রম করছি, যখন মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকারগুলো বলতে গেলে হারিয়ে গেছে। যে কারণে আজ সভা-সমাবেশ করার অধিকারও নেই। আজকের অনুষ্ঠান করার জন্য আমরা আবেদন করেও বড় মিলনায়তন পাইনি। আমরা এর নিন্দা জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক গণ অধিকার পরিষদের ঘোষণাপত্র পড়ে শোনান। এরপর দলের চার দফা মূলনীতি (গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ) ও ২১ দফা কর্মসূচি পড়েন যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান। সবশেষে আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করেন দলের নবনিযুক্ত আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে যোগ দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি নতুন দলের সংগঠকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি এসেছি একটা বিশ্বাস নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। রেজা কিবরিয়া অক্সফোর্ডে পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিত। আর নুরুলরা স্বপ্ন দেখাতে জানে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। এই তরুণদের সংগ্রামের ঐতিহ্য আছে। তোমরা সততার প্রতীক, তোমরাই নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারো। নতুন উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।’

পালিয়েছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাসের মালিকপক্ষ, গ্রেপ্তার ১০ কর্মচারী

ভুক্তভোগীরা পোশাককর্মী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, অটোচালক, সবজি-ফল ব্যবসায়ী, গৃহকর্মীসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। কাগজে–কলমে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যসংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

গতকাল সোমবার বেলা দেড়টা থেকে আজ সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। মিরপুরের নান্নু মার্কেট এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ১৭টি মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব বই, ২৬টি চেক বই, ২টি হিসাব বই, ৩টি সিল, ১২০টি সঞ্চয়ী হিসাবের বই, পাসপোর্ট, টাকাসহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জসীম উদ্দিন একজন অলৌকিক, ভৌতিক চরিত্র। সমিতির সদস্যদের তিনি দেখা দেন না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দেশেই আছেন। আমরা সব বন্দরকে জানিয়ে দেব, তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।’

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় জসীম উদ্দিনের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক ও শ্যালিকা আছেন বলেও মোজাম্মেল হক জানান।

র‌্যাবের ভাষ্য, জসীম উদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ২০০৩ সালে তিনি কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড চালু করেন। সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন নেন ২০০৬ সালে। সেটি নবায়নও করিয়েছেন। এমনকি ২০১৯ সালে অধিদপ্তর নিরীক্ষাও করেছে প্রতিষ্ঠানটির। তখনো প্রতারণা বিষয়টি বেরিয়ে আসেনি। র‌্যাব ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কাজকর্ম সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করে।

কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কোম্পানি লিমিটেড নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রাখত। এক লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত তারা। আর যে গ্রাহক জোগাড় করে দিত, তাকে দেওয়া হতো এক হাজার টাকা। আবার সঞ্চয়ী হিসাবও চালু করেছিল তারা।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, কেউ যদি মাসে ১ হাজার টাকা জমা দিত, তাহলে পাঁচ বছর পর তাঁকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা ভেঙে ভেঙে প্রথম কয়েক মাস দু-চার হাজার টাকা করে দিলেও পরে তারা ঘোরাতে শুরু করে।

র‌্যাব জানায়, ভুক্তভোগীদের মূলধনের পুরোটাই হাতিয়ে নিয়েছেন জসীম উদ্দিন। পরে এই টাকা দিয়ে জসীম মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কর্ণফুলী রিয়েল এস্টেট লি., জসীম ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিস লিমিটেড, জসীম স্টুডেন্টস কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেড, জসীম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, জসীম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও জসীম নিট কম্পোজিট লিমিটেডের মালিক হন। তাঁর দুই স্ত্রীর একজন বসুন্ধরায় ও অন্যজন গ্রিন রোডে থাকেন। জসীমের একটি প্রাডো গাড়ি রয়েছে, গাজীপুরের মাওনায় প্লট ও তিনতলা বাড়ি, মিরপুরে বাড়ি, ঢাকার বাইরে কয়েক একর জমির সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

জসীম উদ্দিনকে ধরা যায়নি, কর্মচারীদের ধরে কী লাভ, এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৪–এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন শাকিল আহম্মেদ প্রকল্প পরিচালক। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জেনেশুনে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। জসীম উদ্দিন তাঁর মুঠোফোনটি গ্রিন রোডের স্ত্রীর বাসায় রেখে গেছেন। এখনো দেশের সীমানা পার হননি বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আজ কয়েক ভুক্তভোগী ছিলেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, দুটি বাস ভরে ভুক্তভোগীরা এসেছিলেন র‌্যাব-৪–এর কার্যালয়ে। সবাইকে সঙ্গে করে আনা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীরা পোশাককর্মী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, অটোচালক, সবজি-ফল ব্যবসায়ী, গৃহকর্মীসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। কাগজে–কলমে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যসংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

ভুক্তভোগীদের একজন অটোচালক মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বউ নার্গিস আক্তার দেড় লাখ টাকা রাখছিল প্রথমে। পরে দুইটা ডিপোজিট রাখছে। সব টাকা মাইর। আমরা শেষ। আর কি টাকা ফেরত পামু?’

সুদানের প্রধানমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করল সেনাবাহিনী

সুদানের প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদককে গৃহবন্দি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার ভোরে সেনাবাহিনীর একটি ফোর্স রাজধানী খার্তুমে বাড়ি ঘিরে ফেলে। এর পরপরই সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জবাবে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী হামদকদের একজন উপদেষ্টাকেও আটক করেছেন সেনারা। পরে আবদাল্লা হামদকের মন্ত্রিসভার আরও চার সদস্য এবং ক্ষমতাসীন সভরেইন কাউন্সিলের একজন বেসামরিক সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

এ দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খার্তুমে ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ার কথা বলছেন অনেকে। সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

সুদানের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ২০১৯ সালে সরিয়ে দেওয়ার পর সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর নড়বড়ে এক ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির মধ্য দিয়ে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল পূর্ব আফ্রিকার দেশটি।

সেপ্টেম্বরে বশিরের অনুগত সেনাদের ব্যর্থ এক অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেসামরিক নিয়ন্ত্রিত জোট ফোর্সেস অব ফিডম অ্যান্ড চেইঞ্জের (এফএফসি) সংস্কার এবং মন্ত্রিসভায় রদবদলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে বেসামরিক নেতারা এ দাবিগুলোকে দেখে আসছিলেন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ‘ক্ষমতা দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে।

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

শেয়ারবাজারে দরপতন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিন বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দরবৃদ্ধি একা সূচকের পতন ঠেকিয়ে পরোক্ষে বাজারের পতনকে ঠেকানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহে শেয়ারটির দর ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা হওয়ার পর সোমবার এ শেয়ারের কিছুটা দর সংশোধন পুরো বাজার পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে।

আজ সোমবার লেনদেনের সাড়ে তিন ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেন হচ্ছিল ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে মাত্র ৩১টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৩০টি। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা যায় ১৫ শেয়ারকে। এ সময় পর্যন্ত এ বাজারে ৯২৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

লেনদেনে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার দর হারানোয় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৩৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৮৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচক পতনের হার ছিল ১.৯৫ শতাংশ।

সূচকের এ পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দরপতন। গতকালের তুলনায় ৯ টাকা দর হারিয়ে ১৫৮ টাকা ৫০ পয়সায় কেনাবেচা হওয়ায় শেয়ারটি সূচক কমিয়েছে ২২ পয়েন্টেরও বেশি।

এর বাইরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর কারণে প্রায় ১৩ পয়েন্ট, বেক্সিমকো ফার্মার কারণে ৯ পয়েন্ট, সামিট পাওয়ারের কারণে ৭পয়েন্ট, স্কয়ার ফার্মার দরপতনে ৬ পয়েন্ট হারায় ডিএসইএক্স সূচক।

দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে সূচকটির পতন ছিল আরো ভয়াবহ। ওই সময় সূচকটি গতকালের তুলনায় ১৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৮৪১ পয়েন্টে নেমেছিল। সূচক পতনের হার ছিল ২.৩৪ শতাংশ।

এর আগে চলতি অক্টোবরে গতকাল পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসে সূচক হারিয়েছিল ৩২৩ পয়েন্ট। এর মধ্যে ১০ কার্যদিবসে সূচকটি হারিয়েছিল ৪৫৪ পয়েন্ট। বিপরীতে বাকি ৫ কার্যদিবসে বেড়েছিল ১৩১ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত কিছুদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারীরা যতটা শেয়ার কিনছেন তার থেকে শেয়ার বিক্রি করছেন বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের বিক্রি অনেক শেয়ারের দর পতনকে উস্কে দিয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র। সক্রিয় বাজার কারসাজি চক্রগুলোও একই কাজ করছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির কারণ হিসেবে একটি বেসরকারি কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগের অযুহাত দিচ্ছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, চলতি এ দরপতনের কারণ বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারে। নানাজন নানা মত দিচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত। ক্রমাগত দরপতন থাকায় আরো দরপতনের ভয়ে তারা শেয়ার বিক্রি করছেন। এতে দরপতন ত্বরান্নিত হচ্ছে।

তবে একটি অংশের ভাষ্য, সূচক টানা প্রায় দেড় হাজার পয়েন্ট বৃদ্ধির পর এখন কিছু সংশোধন হচ্ছে। এটাকে স্বাভাবিক প্রবণতা বলছেন তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির শেয়ারগুলো থেকে মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির ধারাই বাজারকে নিন্ম মুখী করেছে বলে তাদের মত। কারণ ওই সব শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার মূলধন এবং মূল্য সূচকে সেগুলোর দরের ওঠানামা সূচকে বেশ প্রভাব রাখছে। সূচক দেখে সাধারণ বিনিয়েগকারীরা শেয়ার কেনাবেচা করে সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার দিনের লেনদেনের শুরুতে গুটিকয় শেয়ারের দরে ভর করে সকাল লেনদেন শুরুর মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে ডিএসইএক্স সূচক ৭৬ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু পরের ২৫ মিনিটে ১১১ পয়েন্ট হারানোর নেপথ্যেও গুটিকয় শেয়ারের  দরপতনই কারণ ছিল।

কিন্তু দুপুর ১টার পর বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বাড়লে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। এতে অন্য অনেক শেয়ার কিছুটা দর ফিরে পায়। ওইদিন সূচকও ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছিল।

গতকাল রোববার লভ্যাংশ ঘোষণার পর বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদও ২৮ পয়েন্ট বাড়লেও ডিএসইএক্স ৭০ পয়েন্ট হারিয়েছিল। আজ বেক্সিমকোর শেয়ারদর সংশোধন সূচকের পতন ত্বরান্নিত করায় বাজার পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে বলেও মত বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তাদের।

বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের নাম পাঠানোর নির্দেশ কাদেরের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকে নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু স্থানে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূল থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদের মনোনয়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, তারপর জেলা হয়ে কেন্দ্রে নামে সুপারিশ আসে।

ওবায়দুল কাদের এর আগে নাম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোনোরূপ স্বজনপ্রীতি ও লোভের বশবর্তী না হয়ে এবং প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য গোপন না করে নাম প্রেরণের জন্য দলীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না,বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আত্মঘাতী প্রবণতাছাড়া আর কিছুই নয়।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বিএনপি এখনো পুরনো ধূসর পথে হাঁটছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে সময় ও স্রোতের মতো নির্বাচনও বসে থাকবে না।

তিনি আবারও বলেন, নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে না,নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, তবে তা ব্যালটের মাধ্যমে নয়, ভিন্ন কোনো অগণতান্ত্রিক এবং চোরাগলি পথে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপি আরও একটি ওয়ান ইলেভেনের স্বপ্নে বিভোর উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেশে আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হয় না।

দেশের জনগণের ধ্যান- ধারণা বদলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ এখন উন্নয়নপ্রিয়,ভবিষ্যতদর্শী।

যারা গুজব ও অপপ্রচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে তাদের চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়েছে,তাইতো তারা এখন উভয় সংকটে। না পারছে আন্দোলন জমাতে, না পারছে নির্বাচনে যেতে।

আওয়ামী লীগ নয়, প্রকৃত অর্থে বিএনপিই এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে, তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন এমনটা মনে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা নির্বাচনকে ভয় পায় এবং তাদের আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ হাসে।

বিএনপি ষড়যন্ত্র ও গুজব নির্ভর, তাদের রাজপথে কোন অস্তিত্ব নেই   উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন তাদের অস্তিত্ব শুধু ফেসবুক আর অনলাইনে।

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, এসব কি বিএনপির দেউলিয়াত্বের লক্ষণ নয়?

‘অস্ত্রপচারের পর সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ছোট একটি অস্ত্রপচারের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ ও বিপদমুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অপারেশনের পর খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। তিনি বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট ভাইয়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ ছাড়া চিকিৎসকরাও বলেছেন, এখন তার বিপদের সম্ভাবনা নেই।’ সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে এভারকেয়ার হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে গতকাল রোববার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসেন তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার পর ১০ তলার কেবিন ব্লক থেকে খালেদা জিয়াকে তিন তলার অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে আসা হয়। এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়াও কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

গত ১২ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সপ্তাহখানেক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে। তবে পরিবার বা দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এতদিন কেউ কথা বলেননি। এবার তার চিকিৎসাকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে বলে একাধিক নেতা বলেছেন। এমনকি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তার বোন সেলিমা রহমানও কিছু বলতে রাজি হননি। গতকাল সন্ধ্যায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

গত এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন খালেদা জিয়া। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে তাকে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। পরে আরো তিনবার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার।