যেভাবে রাজাকার থেকে মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়া

তারা মিয়া (৭০) ছিলেন রাজাকার। সময়ের ব্যবধান আর সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার পর ধীরে ধীরে অনেকটা আড়াল হয়ে পড়ে তার অপকর্ম। তবে বসে থাকেননি তিনি। ধুরন্ধর তারা মিয়া নিজের বাবার নাম গোপন করে অন্য একজনের নাম ব্যবহার করে বনে যান মুক্তিযোদ্ধা। আর সড়ক দুর্ঘটনায় আহতাবস্থাকে পুঁজি করে নাম লেখান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। এর পর তিনি ভোগ করেন সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা। অবশেষে গ্রেপ্তার হন তিনি।

ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারা মিয়াকে এলাকাবাসী জেনে আসছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা পরোয়ানামূলে

পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেরই প্রশ্ন- কীভাবে এতদিন আসল পরিচয় গোপন করে একজন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং সুবিধা ভোগ করেন।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তারা মিয়ার চার ভাই। তিনি ছাড়া অন্য তিন ভাই বাবার নাম হিসেবে শাহনেওয়াজ নামটি ব্যবহার করেন। একমাত্র তারা মিয়ার বাবার নাম ‘শমসের আলী’।

জানা গেছে,  গৌরীপুর উপজেলার ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামে তারা মিয়া নামে ভাতাভোগী এক বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। যার বাবার নাম শমসের আলী। ধুরন্ধর তারা মিয়া এ বিষয়টি জানতে পেরে তদ্বির করে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় নাম উঠান। এর সুবাদে বাগিয়ে নেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত বহুতল ভবনে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট। নিজ গ্রাম ইটাউলিয়ায় সরকারিভাবে বরাদ্দ পান ১০ শতাংশ জমি। প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট হতে উত্তোলন করতেন ৩০ হাজার টাকা ভাতা। অত্যাধুনিক হুইল চেয়ারে করে তারা মিয়া পৌঁছে গেছেন বঙ্গভবন পর্যন্ত।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাক্ষরিত ২০১৪ সালের ১ জুলাই ইস্যু করা এক পরিচয়পত্রে তারা মিয়ার নাম যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে তারা মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের দাবি, তার স্বামী নির্দোষ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পড়ন্ত বয়সে তিনি কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন, তার পরও পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

তারা মিয়ার ছেলে আবুল কালাম বলেন, স্থানীয় একটি চক্র আমার আব্বার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

এ ব্যাপারে আঠারবাড়ী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রঞ্জন ঘোষ বলেন, তারা মিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। পাশের উপজেলার এক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ও বাবার নামের মিল থাকার সুযোগে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কাছিমপুরের লতিফ মাস্টারকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া পাকবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ঘেরাওয়ে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার। আমরা যখন জানতে পারি সে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, তার পর একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে একজন রাজাকার অনেক কিছুই করেছে। তাকে বঙ্গভবনেও যাতায়াত করতে দেখেছি। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা তারা মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সত্যতা পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কো-অর্ডিনেটর সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমি ২০১৭ সালে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলাম। ওই সময় তারা মিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়- মর্মে আমরা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। সর্বশেষ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস আজ সোমবার এই আদেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে শাহবাগ থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আজ আমলে নিয়েছেন আদালত। এই মামলায় পলাতক আসামি বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রিজভী ও দুলু ছাড়া বাকি চারজনের নাম জানা যায়নি।

আগামী ১২ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত মোট আসামির সংখ্যা ১৮। এর মধ্যে ১২ জন জামিনে আছেন। আজ শুনানির সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শাহরুখপুত্রকে গ্রেপ্তার করা বানখেড়ে এখন নিজেই ভয়ে

বানখেড়ের এ বিবৃতিকে ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির নেতা ও মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টাজবাব বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে বক্তব্য দেন নবাব মালিক। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, এক বছরের মধ্যে চাকরি হারাতে পারেন বানখেড়ে। মালিক বলেন, ‘তাদের (বিজেপি) একটি পুতুল আছে, বানখেড়ে তাঁর নাম। তিনি মানুষের বিরুদ্ধে আজেবাজে মামলা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি, বানখেড়ে এক বছরের মধ্যে চাকরি হারাবেন। ভুয়া মামলাগুলোর প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’

৯ মাস আগে এই এনসিবি কর্মকর্তার হাতেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নবাব মালিকের জামাতা সমীর খান। সেবারও মাদক ইস্যুতেই চালানো হয়েছিল অভিযান। নবাব মালিক নিজেই পরে আরিয়ানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে মুম্বাইয়ে ধরা পড়ার পরও বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নবাব মালিকের দাবি, কর্ডেলিয়াতে যে তল্লাশি হবে, অনেক আগে থেকেই তা পরিকল্পিত। যদিও এনসিবির পক্ষ থেকে সব অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে মুম্বাই পুলিশ প্রধানের কাছে লেখা চিঠিতে বানখেড়ে নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। শুধু বলেছেন, ‘অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি’রা তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এর আগে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার এক সাক্ষী বানখেড়ের তদন্তাধীন মাদক মামলায় প্রভাকর সেইল নামের এক সাক্ষী দাবি করেছেন, ৩ অক্টোবর রাতে সন্দেহভাজন বেসরকারি তদন্তকারী কেপি গোসাভি ও স্যাম ডিসুজার মধ্যকার কথোপকথন শুনেছেন তিনি। হলফনামায় প্রভাকর দাবি করেছেন, ১৮ কোটি রুপিতে গোটা মামলা রফা করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে আট কোটি রুপি এনসিবির কর্মকর্তা সামির বানখেড়েকে দেওয়ার কথা হয়েছিল।

জেল হেফাজতে শাহরুখপুত্র আরিয়ানের সঙ্গে সেলফি তুলে আলোচিত হয়েছিলেন কেপি গোসাভি। এর পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। প্রভাকর সেইল হলেন এই কেপি গোসাভির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। মাদকসংশ্লিষ্ট ওই মামলায় ৯ সাক্ষীর একজন তিনি।

হলফনামায় প্রভাকর আরও লিখেছেন, ওই দিন রাতে কেপি গোসাভি, স্যাম ডিসুজা ও শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানি একটি গাড়ির ভেতরে বসে ১৫ মিনিট ধরে আলোচনা করেছেন। প্রভাকর আরও দাবি করেছেন, কেপি গোসাভির নির্দেশে দুই ব্যাগ টাকা নিয়ে তা স্যাম ডিসুজাকে দিয়েছিলেন তিনি। ওই ব্যাগে ৩৮ লাখ রুপি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

হলফনামাটি আমলে নিতে পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেছেন, মহারাষ্ট্র সরকারের ক্ষতি করতে যে এ মামলা সাজানো হয়েছে, সে দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। রাউত টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, এনসিবি কার্যালয়ের ভেতরে কেপি গোসাভি ও আরিয়ান খান একসঙ্গে বসে আছেন। গোসাভির ধরে রাখা একটি ফোনে কথা বলছেন আরিয়ান।

বাদশাহ আব্দুল্লাহকে খুন করেন সৌদি যুবরাজ!

সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজকে হত্যা করেছেন বর্তমান যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান—এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের একজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। নিজের বাবা বাদশাহ সালমানকে দ্রুত ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে।

 

সাদ আল জাবরি যিনি কানাডায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তিনি ২০১৪ সালে সিবিএস নিউজকে দেওয়া ৬০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে জানান, মোহাম্মদ বিন সালমান গর্ব করেন যে, তিনি সেই সময়ে বাদশাহ আব্দুল্লাহকে হত্যা করেছেন। ওই সময়ে সালমান তার বাবার রাজ দরবারের প্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। এরপর ২০১৫ সালে বাদশাহ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনি ক্ষমতায় বসেন।

আল জাবরি সে সময় মোহাম্মদ বিন সালমানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তার কাছে এমন ভিডিও আছে, যা অনেক গোপন তথ্য জানাতে পারে। আল জাবরি বলেন, তিনি মারা গেলে এই ভিডিও প্রকাশ করা হবে। এটা ছিল সালমানকে চাপ দেওয়ার সর্বশেষ প্রচেষ্টা।

আল জাবরিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার দুই সন্তানকে সৌদি আরবে আটকে রাখা হয়েছে। আবার তিনি যদি ফিরে আসেন তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হবে। তিনি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান ততদিন শান্তি পাবেন না যতদিন না আমি মারা যাই। কারণ, তিনি ওই ভিডিও নিয়ে অনেক ভয়ে আছেন। তিনি একজন সাইকোপ্যাথ কিলার।

২০১৮ সালে জামাল খাশোগির মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মোহাম্মদ বিন সালমান।

২০১৪ সালের বৈঠকে মোহাম্মদ বিন নায়েফও উপস্থিত ছিলেন যিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। আল জাবরি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তিনি তার বাবাকে দ্রুত ক্ষমতায় আনার জন্য বাদশাহ আব্দুল্লাহকে হত্যা করেছেন। সে সময় সালমান বলেন, আমি বাদশাহ আব্দুল্লাহকে হত্যা করতে চাই, আমি রাশিয়া থেকে একটি বিষাক্ত হাতের রিং নিয়ে এসেছি, যা একবার তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেই যথেষ্ঠ।

আল জাবরি দাবি করেন, বিষয়টি পরে সৌদি রাজ পরিবার ধামাচাপা দেয়। তবে ওই ভিডিও রেকর্ডিং এখনো সংরক্ষিত আছে।

এদিকে সৌদি সরকার সিবিএস নিউজকে বলেছে, আল-জাবরি তার অপরাধ লুকানোর জন্য বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আল জাবরি যে এই প্রথম নতুন চাপ সৃষ্টি করছে, তা নয়। ২০২০ সালের মার্চ থেকে তার ছেলে ও মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছে। সৌদি কোর্ট তার ছেলে ও মেয়েকে যথাক্রমে নয় ও সাড়ে ছয় বছরের সাজা ঘোষণা করেছে। তার বিরুদ্ধে যে সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কানাডার বিচারক তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।

খালেদা জিয়ার অস্ত্রোপচার চলছে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ছোট্ট অপারেশন চলছে। সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতালের একটি সূত্র জানা গেছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান। বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন ফখরুল ইসলাম।

 

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিকেলে সংবাদ সম্মেলন রয়েছে। সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে।

জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার পর হাসপাতালের ১০ তলার কেবিন ব্লক থেকে খালেদা জিয়াকে তিন তলার অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়া খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

গত ১২ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সপ্তাহখানেক তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরিবার বা দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এত দিন কেউ কথা বলেনি। এবার তার চিকিৎসাকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

গত এপ্রিল মাসে খালেদা জিয়া করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। গত ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন।

এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান। গত ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন খালেদা জিয়া। কিন্তু বাসায় কিছুদিন ধরে তার শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল।

দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে তাকে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। পরে আরও তিনবার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার।

চেয়ারম্যান হওয়ার আশায় চাকরিতে ইস্তফা, পেলেন না মনোনয়ন

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাসিন্দা আবু হানিফের। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সরকারি চাকরি। তাই স্বপ্নপূরণের আশায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে দেন।

বাঙ্গালা ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যথেষ্ট প্রস্তুতিও ছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি তিনি।

আবু হানিফ বাঙ্গালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। একই সঙ্গে জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। এ বছর বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করে হতাশ হয়েছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন জানান, আবু হানিফ প্রথমে বাঙ্গালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়িয়া রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পরে সেই বিদ্যালয় সরকারি হয়ে যায়। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গত ৪ অক্টোবর শিক্ষা অফিসে এসে ইস্তফাপত্র জমা দেন হানিফ। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিলেন তিনি।

শাহনেওয়াজ পারভীন আরও জানান, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার দিন হানিফকে চাকরি ছেড়ে না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সে অনুরোধ শোনেননি আবু হানিফ। বর্তমানে তার ইস্তফাপত্র শিক্ষা বিভাগ গ্রহণ করেছে। এমনকি হানিফ তার ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে জমানো সমুদয় টাকাও নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য উঠিয়ে নিয়েছেন। এখন তার আর চাকরি নেই। তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর ঢাকায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উল্লাপাড়ার বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান সোহেল রানাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে আবু হানিফের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ৪২ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

১৯৯৭ সাল থেকে কয়েক টার্ম হানিফ বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার স্কুল সরকারি হওয়ার আগে তিনি দু’বার বাঙ্গালা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেলেন না। এটাই তার বড় দুঃখ।

এখন তিনি তার এলাকার নেতাকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন তানজানিয়ার আবদুর রাজ্জাক

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীর্ষ সম্মাননা নোবেল পুরস্কারের সাহিত্য বিভাগে চলতি বছর পুরস্কার পেয়েছেন তানজানিয়ার ঔপন্যাসিক আবদুর রাজ্জাক গুরনাহ। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

 

তানজানিয়ার জাঞ্জিবারে ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করা আবদুর রাজ্জাক গুরনাহ ১৯৬০-এর দশকে শরণার্থী হিসেবে ব্রিটেনে আসেন।

 

বর্তমানে কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গুরনাহ মূলত ইংরেজি ভাষাতেই সাহিত্য চর্চা করেন। মোট ১০টি উপন্যাস ও একটি ছোট গল্পের সংকলন রয়েছে তার।

 

এর আগে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত প্যারাডাইস উপন্যাসের জন্য সাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ বুকার পুরস্কার জেতেন আবদুর রাজ্জাক গুরনাহ।

 

নোবেল পুরস্কারের টুইটার একাউন্টে বলা হয়, ‘ঔপনিবেশিকতার প্রভাব এবং সংস্কৃতি ও মহাদেশের মধ্যবর্তী উপসাগরে শরণার্থীর ভাগ্যে তার অবিচল ও সহানুভূতিপূর্ণ অনুপ্রবেশের জন্য’ আবদুর রাজ্জাক গুরনাহকে ২০২১ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

 

এদিকে সাহিত্য বিষয়ক নোবেল পুরস্কারের কমিটির চেয়ারম্যান আন্দ্রেস ওলসন আবদুর রাজ্জাক গুরনাহকে ‘বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী উপনিবেশ পরবর্তী লেখক’ হিসেবে প্রশংসা করেন।

 

সুইডিশ সাহিত্য একাডেমি প্রতি বছর সাহিত্য বিভাগে নোবেল পুরস্কারজয়ীদের বাছাই করে আসছে। পুরস্কারজয়ীরা একটি স্বর্ণপদক ও এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (নয় কোটি ৭৫ লাখ ৬৩ হাজার দুই শ’ ৭১ টাকা) পুরস্কার লাভ করবেন।

 

গত বছর মার্কিন কবি লুইজ গ্লিক সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সূত্র : আলজাজিরা

চলে গেলেন মাহমুদ সাজ্জাদ

নন্দিত অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদ আর নেই। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাহমুদ সাজ্জাদের ভাই নাট্যজন ম হামিদ। ম হামিদ বলেন, মাহমুদ সাজ্জাদ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ায় গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। তিনি আরও জানান, পরে কোভিড নেগেটিভ ফল এলেও কোভিড পরবর্তী নানা জটিলতায় আক্রান্ত হন মাহমুদ সাজ্জাদ। জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন মাহমুদ সাজ্জাদ।

পরে তিনি খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘ঝড়ের পাখি’, ‘আপন পর’, আজিজ আজহারের ‘চোখের জলে’-সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশ পরিচিতি পান। এক সময় মঞ্চ নাটকে সরব হয়ে পড়েন মাহমুদ সাজ্জাদ। সেইসঙ্গে টেলিভিশন নাটকেও ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেন। টেলিভিশনে তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘সকাল-সন্ধ্যা’। এরপর তিনি সহস্রাধিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকমন জয় করেন।

ওবায়দুল কাদেরের জাল স্বাক্ষর : উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সোহাগকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে দিনাজপুরের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন এই আদেশ দেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আজ (রোববার) ভাইস চেয়ারম্যান সোহাগ আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন : প্রকাশ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা দুই শিক্ষার্থীর

সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ী বহিষ্কার না করায় দ্বিতীয় দফা আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে (রোববার) দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে মো. শামীম হোসেন বিষপানে এবং আবিদ হাসান হাতের রগ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরে আসার আহ্বান জানাতে সেখানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীসহ শিক্ষকদের একদল প্রতিনিধির উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।

বিষপানে অসুস্থ শামীমকে প্রথমে পিপিডি নামের স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসার ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাচেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরবাড়ী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এসময় সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন। অপমান সহ্য করতে না পেরে পরের দিন নাজমুল হাসান তুহিন নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের একটি অংশ বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ এনে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবরোধ চলাকালীন সময়ে বক্তব্য সোহাগ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্বে থাকা মো. শামীম হোসেন আগে থেকেই বলেছিলেন, ‘‘ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করলে আমি আত্মহত্যা করব।’’ গত ২২ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকার অতিথি ভবনের সিন্ডিকেট সভা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ী অব্যাহতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ও সভা মুলতবি করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শামীম আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

সোহাগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট সভা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওই শিক্ষিকাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এসময় দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদেরও তাদের আন্দোলনে শরীক হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলেনের বিষয়ে রবির রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অসহায় অবস্থা এবং অনশনরতদের দুর্ভোগ দেখতে এদিন (রোববার) একাডেমিক ভবনে যাই। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে আমি ও আমার সহকর্মী শিক্ষকরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানার স্থায়ী অব্যাহতি ছাড়া আর কোন কথাই শুনতে রাজি হয়নি।’

এর আগে ভিসি আব্দুল লতিফ জানান, ফারহানা ইয়াসমিনের চাকরি হতে স্থায়ী অব্যাহতির ব্যাপারে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও একটু সময় নেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এ জন্যই সিন্ডিকেটের এ সভা স্থগিত করা হয়। রবির ভিসি আরও বলেন, খুব শিগগিরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।

দীর্ঘ প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও উচ্চ শিক্ষার জন্য আসা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চুল কাটার মতো একটি অসম্মানজনক ও লজ্জাজনক ঘটনার কোনো সমাধান না করে এবং সর্বশেষ শুক্রবারের সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করে ছাত্রদের প্রতি এ উদাসীনতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্রমেই ফুঁসে উঠছে।

এদিকে ফারহানা ইয়াসমিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হলেও তিনি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হননি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে তার আসার কথা ছিল। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও তিনি না আসায় তার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ১৬ কার্যদিবস পরে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। গত শুক্রবার দীর্ঘ সময় চলা সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী অব্যাহতির সিদ্ধান্ত না আসায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দফা আন্দোলনে যাওয়ায় কার্যত বিশ্বদ্যিালয়টির অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।