সাতক্ষীরার ভূমিহীনদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

ভূমি দস্যুদের হাত থেকে জানমাল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার শেখ মুজিব নগর খলিশাখালী ভূমিহীন আবাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ভূমিহীন জনগণ। তারা বলেছেন, ‘ভূমি দস্যুদের হামলা-মামলা ও হুমকিতে আমরা চরম আতংকের মধ্যে আছি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার করে কোন লাভ হয়নি। তাই অসহায় ভূমিহীনদের জানমাল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি।’

 

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূমিহীন নেতা সুনীল স্বর্ণকার। এ সময় শেখ মুজিব নগর খলিশাখালী ভূমিহীন আবাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ভূমিহীন জনগণের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জরিনা বেগম, বিজয় স্বর্ণকার, জাহানারা আক্তার, মো. আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, গোলাপ ঢালী, শাহজাহান গাজী, সফুরা খাতুন, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খাস জমি মুক্তিযোদ্ধা ও ভূমিহীনদের মধ্যে অগ্রধিকার ভিত্তিতে বন্দোবস্ত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ভূমিহীনদের আশ্রয়স্থল খলিশাখালীর ৪৩৯ দশমিক ২০ একর (এক হাজার তিনশত বিঘা) খাস জমি দখলে নিয়ে মাছ চাষ করতে চায় ভূমি দস্যুরা। এজন্য তারা ভূমিহীনদের উপর কয়েকদফা সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। ভূমিহীনদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

আরও বলা হয়, মালিক দাবিদার ভূমিদস্যু আতিকুর ও আনারুল ভূমিহীনদের নামে গত ১২ সেপ্টেম্বর পৃথক দু’টি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছে। সরকারি জমি দখলবাজরা এখনও ভূমিহীনদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে জমি দখলের জন্য অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি নানান ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে। অন্যদিকে ন্যায় বিচার বঞ্চিত ভূমিহীনরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত থেকে রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই খাস জমি উদ্ধার করে রিসিভার নিয়োগের জন্য ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জজ আদালতে আবেদন জানানো হয়। এরপর আদালতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারী সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে ওই জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আদেশ দেন। এরপর গত ১৩ এপ্রিল ওই এক হাজার ৩২০ বিঘা জমি ভূমিহীনদের নামে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য রবিউল ইসলাম, গোলাপ ঢালী ও হাবিবুল্লাহ বাহার সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন। বর্তমানে সহস্রাধিক ভূমিহীন পরিবার ওই জমি দখলে নিয়ে সেখানে বসবাস করছে।

বিএনপির ইন্ধনে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিএনপির ইন্ধনে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে। রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু জেলে পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা তার একটি উদাহরণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে বিএনপি এমন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সোমবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন ও ‘শহীদ শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পীরগঞ্জের একটি জেলেপাড়ায় আগুন দেওয়া হয়েছে, মন্দিরে হামলা হয়েছে। সেখানে গবাদি পশু পর্যন্ত প্রাণে রক্ষা পায়নি। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এ রকম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। আগুন দিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সেই অপপ্রচার থেকেই রংপুরের ঘটনা উদ্ভব। কাজেই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

রংপুরের জেলেপল্লীতে হামলাসহ সব সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় খোঁজ-খবর রাখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোববার রাত থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের জেলেপল্লীতে হামলার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সেখানকার প্রশাসন ও দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় পর্যায়েও নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত ১২ বছরে দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। অথচ এবার পরিকল্পিতভাবে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। পঁচাত্তর সাল থেকে এই দেশে হত্যা, ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে ধারা চলছে, তার উত্তরাধিকার এখনও বয়ে চলেছে বিএনপি। এই হত্যা, ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে বহু কষ্টে অর্জিত দেশের গণতন্ত্র বারবার ব্যাহত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ যে ডালপালা গজিয়েছে, সেই বিষবৃক্ষের ডালপালাসহ সবকিছু উপড়ে ফেলাই হোক শেখ রাসেলের জন্মদিনের শপথ।’

‘সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মন্দিরে হামলা করছে’- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি তো তাদের নেতাকর্মীদের মন্দিরের নিরাপত্তা ও পাহারা দেওয়ার জন্য বলেছে। কোথায় তারা পাহারা দিয়েছে? ওদের পাহারা দিতে দেওয়া মানে হলো শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া।’

সম্প্রতি বাহাত্তরের সংবিধানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দলগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ যদি কিছু বলে থাকেন, সেটা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলের অভ্যন্তরে থেকে কেউ যদি দলের আদর্শবিরোধী বক্তব্য দেন, আচরণ করেন- তাহলে অবশ্যই তিনি শাস্তিযোগ্য হবেন।’

এর আগে ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও শেখ রাসেলসহ ১৫ আগষ্টের শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দলীয় নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে বনানী কবরস্থান মসজিদে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ,আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজ্জামেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর প্রমুখ।

বেড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) কাউলতিয়া এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী (১৩)।

এ ঘটনায় সোমবার (১৮ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে ১৫ অক্টোবর সকালে তার এক বন্ধুর সঙ্গে অটোরিকশায় করে কাউলতিয়া এলাকায় ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে কাউলতিয়া এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজন যুবক তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। সে সময় পাঁচ যুবকের মধ্যে দু’জন ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা বন্ধুকে অটোরিকশার থেকে নামিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। আর অন্য তিনজন ওই ছাত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে পোড়াবাড়ী এলাকায় নিয়ে যায়। তারা সেখানে একটি ভাড়া কক্ষে নিয়ে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের পর দুপুর ২টার দিকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে বিকেলের দিকে নিজ বাড়ি ফিরে স্বজনদের ঘটনাটি জানায় ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সোমবার গাজীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ব জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

স্থায়ী নিয়োগ পেলেন ৯ বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত হিসেবে দুই বছর আগে নিয়োগ পাওয়া নয়জন বিচারপতিকে স্থায়ী করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশে সোমবার (১৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

 

নয় বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন, বিচারপতি মো. জাকির হোসেন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেন, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার, বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ও বিচারপতি কাজী জিনাত হক।

প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য মতে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নয়জন অতিরিক্ত বিচারককে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগ করেছেন। শপথের দিন থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে তাদের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

জ্বালাও পোড়াও মানুষের কাজ হতে পারে না

গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে আলোর পথ দেখতে পায় সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে। জ্বালাও পোড়াও কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না।

আমরা আর কোনো অন্যায়, অনাচার, হত্যাকাণ্ড দেখতে চাই না।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেল এর ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল তথা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের হত্যা মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।

ফেসবুকে তাকে নিয়ে একটি অডিও ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার প্রচারে কিছু যায় আসে না। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে যাতে মাথা নত করতে না হয় সেজন্য সবারর সহযোগিতা দরকার।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি একদিন সত্য প্রকাশ পাবে। সত্যের জয় হবেই এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সত্য চিরন্তন এবং যুগ যুগ ধরে সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসছে।

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহ শামসুল হক রিপন ও যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক, মো. মুজিবুর রহমান সাংবাদিক নাসির উদ্দিন আহমদ, আবুল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।

মেয়র সব সাংবাদিকদের আবাসন ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিন গাজীপুরে কেক কাটা, আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ‘শহীদ শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ, গাজীপুরে জেলা প্রশাসন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালান করা হয়েছে।

কিডনি ভালো রাখতে যা যা খাবেন না

কিডনি মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কিডনিকে ভালো রাখতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেটিকে ‘রুল অব এইটস বা আট নিয়ম’ বলা হয়। এটি ঠিকমত পালন করলে কিডনি ভালো রাখা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেপ্রোলোজি বিভাগের ডা. এএসএম তানিম আনোয়ার।

তিনি জানান, ‘রুল অব এইটস বা আট নিয়ম’ অনুযায়ী, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। যাদের প্রেশার আছে, তাদের প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। সেটা সাইক্লিং হতে পারে, সুইমিং হতে পারে কিংবা হাঁটাহাঁটি হতে পারে। যাদের ব্যাথার ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের তা পরিহার করতে হবে। আর যারা ভাতের সঙ্গে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খান, তা পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিয়ত স্ক্রিনিং করতে হবে। যদিও আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা নেই। তবুও অন্তত একবার হলেও কিডনিটা ভালো আছে কিনা চেক আপ করতে হবে।

 

ডা. এএসএম তানিম আনোয়ার আরও জানান, আর খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে বলতে চাই, আপনারা ফ্রুটস জাতীয় খাবার কম খাবেন। দেড় লিটারের বেশি পানি খাবেন না। যদি ঘাম বেশি হয়, তখন দুই লিটার পর্যন্ত খেতে পারবেন। ভাতের সাথে কাঁচা লবণ খাবেন না।

তেলচর্বি জাতীয় খাবার কম খাবেন। গরুর মাংস, খাসির মাংস কম খাবেন। খেলেও এক টুকরার বেশি খাবেন না। যেসব মাছ তেল আছে- যেমন ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, শুটকি মাছ, পাঙ্গাস মাছ ইত্যাদি কম খাবেন।

আর যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম খাবেন না। ডালের ওপরের পাতলা পানিটা খেতে পারবেন, ঘন ডাল কম খাবেন। যাদের ক্রিয়েটিনিন ২ এর ওপরে তাদেরকে রমজানের রোজা রাখতে মানা করি। রাখলেও ছোলা-বুট, পিঁয়াজু-বেগুনি, হালিম ইত্যাদি খাওয়া যাবে না।শাক-সবজির মধ্যে পুঁই শাক ও পালং শাক খেতে না করি। বিচি জাতীয় সবজি যেমন- শিম, ঢেড়শ, পটল না খাওয়াই ভালো এবং ফুলকপি, বাধাকপি কম খাবেন।

এ ছাড়া যেকোনো ধরনের ফল আর ফলের রস কম খাবেন। বেশি খেতে চাইলে আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা বিচি ফেলে খেতে পারবেন। তিনটা ফল আমরা একদম নিষেধ করি। সেগুলো হলো- কামরাঙা, বেলম্বু, এলোবেরা একদমই নিষেধ। ডিম-দুধ খেতে পারবেন। প্রেশার বেশি থাকলে ডিমের কসুমটা বাদ দিয়ে খাবেন। ক্যালসিয়াম কম হলে দুধ খাবেন। তবে সেক্ষেত্রে যদি আধা গ্লাস দুধ খান তাহলে আধা গ্লাস পানি কম খেতে হবে।

কাল থেকে শতভাগ মুসল্লিতে মুখরিত হবে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ

করোনা মহামারির বিধি-নিষেধ শিথিল করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এতে শতভাগ মুসল্লিতে আবারও মুখরিত হতে যাচ্ছে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ। এরই মধ্যে আগামীকাল রবিবার থেকে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আগের মতো মুসল্লিদের দিয়ে পুরোপুরি ধারণের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। খবর সৌদি গেজেটের।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের নির্দেশক্রমে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বলা হয়েছে, রবিবার থেকে করোনা টিকার ডোজ সম্পন্ন করা মুসল্লিরা স্বাভাবিক পরিস্থিতির মতো মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে আসতে পারবেন। তবে মুসল্লিদের ইমিউনিটি পরিস্থিতি নিশ্চিত করে ‘তাওক্কালনা’ অ্যাপের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। তাছাড়া মসজিদের ভেতর মুসল্লি ও কর্মীদের মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আগের মতোই থাকছে।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ‍নির্দেশনা নিম্নে দেওয়া হলো :

 

১. খোলা জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবদ্ধ স্থানে মাস্ক পরা জরুরি।

২. করোনা টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য করোনা বিষয়ক বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। তা হলো :
ক. মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির পূর্ণ ধারণক্ষমতা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানকার কর্মী ও দর্শনার্থীদের সব সময় মসজিদের সর্বত্র মাস্ক পরা থাকতে হবে। এদিকে মসজিদুল হারামে ওমরাহ ও নামাজ এবং মসজিদে নববির রওজা শরিফ জিয়ারতের জন্য ‘ইতামারনা’ বা ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপের মাধ্যমে আগের মতো নিবন্ধন করতে হবে।
খ. সরকারি অফিস, বিবাহের হল, রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন কেন্দ্র ও সিনেমা হলে সামাজিক দূরত্ব পালন না করে পূর্ণ ধারণ ক্ষমতা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়।
গ. বিয়ে বা যেকোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় সতর্কতামূলক বিধিনিষেধ পালনের অনুরোধ করা হয়।

৩. ২নং ধারায় উল্লিখিত সব সুযোগ-সুবিধা ও কার্যক্রমের অংশ নিতে করোনা টিকার ডোজ সম্পন্ন করতে হবে। আর ‘তাওায়াক্কালনা’ অ্যাপে যাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি বা বাদ দেওয়া হয়েছে তারা মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব কার্যক্রমে অংশ নেবে।

৪. যেসব স্থানে অ্যাপের সাহায্যে যাচাই-বাছাই করা যাবে না সেখানে শারীরিক দূরত্ব ও মাস্ক পরা অব্যাহত থাকবে।

৫. ২নং ধারায় উল্লিখিত সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রতিরোধমূলক সব প্রটোকল প্রস্তুত করতে জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর মধ্য দিয়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর সতর্কতামূলক কঠোর বিধি-নিষেধ জারির দীর্ঘ দেড় বছর পর তা শিথিল করছে সৌদি আরব। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর কারফিউ জারি করে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল।

নিজেদের আত্মীয়দের এনে আরিয়ানের বিরুদ্ধে সাক্ষী বানাচ্ছে এনসিবি’

মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক বলেছেন, শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনসিবির কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচিত ও কাছের মানুষদের সাক্ষী হিসেবে হাজির করেছেন।

এনডিটিভি জানায়, এই মামলার মূল তদন্তকারী সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন নবাব মালিক।

আজ শনিবার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এই ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে তারা হলেন ফ্লেচার প্যাটেল ও এনসিবি কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের বোন জেসমিন ওয়াংখেড়ে।’

আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফ্লেচার প্যাটেলকেই সাক্ষী করেছে এনসিবি।

ফ্লেচার প্যাটেলের সঙ্গে সমীর ওয়াংখেড়ের আরেকটি ছবি প্রকাশ করে নবাব মালিক প্রশ্ন করেন, ‘এনসিবি কর্মকর্তারা তাদের পরিচিতদের এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে দেখাচ্ছেন কী করে?’

গত ২ অক্টোবর মুম্বাই উপকূলের একটি প্রমোদতরীতে অভিযান চালানোর পরে আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত সপ্তাহে, মালিক কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ২ অক্টোবর ওই বিলাসবহুল ক্রুজে অভিযান চালানোর পরপরই ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘অভিযান শেষে এনসিবির সমীর ওয়াংখেড়ে বলেছিলেন ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সত্য হলো, সে দিন মোট ১১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ঋষভ সচদেবা, প্রতীক গাবা ও আমির ফার্নিচারওয়ালা নামে তিন জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।’

ঋষভ সচদেবা এক বিজেপি নেতার আত্মীয় বলে জানা গেছে।

এনসিবি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘মুম্বাই পুলিশের মাদকবিরোধী সেলের উচিত এই বিষয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করা।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও রাজ্যে মাদক অভিযান নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করে করেছেন।

৩ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর থেকে বলিউড তারকা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের জামিন আবেদন ৪ বার খারিজ করেছেন মুম্বাই আদালত।

ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র নিউক্লিয়ার দিয়ে রিপ্লেস করা যেতে পারে: ড. তৌফিক ই ইলাহী

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের ক্লিন এনার্জির মূল মেরুদণ্ড হবে নিউক্লিয়ার। নিউক্লিয়ারে ছোট ছোট মডিউলার রিয়াক্টর আসছে, তেলভিত্তিক ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নিউক্লিয়ার দিয়ে রিপ্লেস করা যেতে পারে।

শনিবার বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) আয়োজিত ‘নতুন বিকল্প জ্বালানি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ চ্যালেঞ্জ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার এলে ক্লিন এনার্জির শেয়ার অনেক বেড়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, সেগুলো নিউক্লিয়ার দিয়ে রিপ্লেস করা ভালো সমাধান হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যেহেতু জমির সংকট রয়েছে। তাই নদী, জলাশয়ের ওপর সৌর বিদ্যুৎ করতে পারি, প্যানেলগুলো যদি দাম বেশি না হয়। সেটি হতে পারে আমাদের জন্য ভালো সমাধান। যানবাহন হয়তো সহজ হতে পারে। আমাদের ১-২ মিলিয়ন থ্রি হুইলারকে আধুনিকায়ন করার বিষয়ে কাজ করছি।’

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রতিদিনেই মিডিয়াসহ বিভিন্ন জনের নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্বায়নের নতুন পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে জ্বালানি বিভাগের চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের বেশি কাজের সুযোগ রয়েছে।’

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ওখানে কোনোদিনেই পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিংয়ে অল্প পরিমান কয়লা তুলতে পারছি। খাদ্য নিরাপত্তা সবার আগে তাই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাওয়া সম্ভব না। তাহলে এখানকার কয়লা শেষ হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাগ্য কী হবে? আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে চালানো সম্ভব না। তাহলে কেনো আমরা এটি এখানে করলাম, আমার মনে হয় সমন্বয় করে করলে ভালো হতো।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হাইড্রোজেন নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। আমি মনে করি, সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন হাইড্রোজেন অন্যতম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্যাটান ভিন্ন, যখন সোলার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি তখন থাকে চাহিদা কম। আবার যখন সোলার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় তখন চাহিদা বেড়ে যায়। তাই স্টোরেজ কিভাবে সাশ্রয়ী করা যায় সেটা জরুরি।’

হাইড্রোজেন এনার্জি গবেষণাগার প্রকল্পের পরিচালক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশে বায়োমাস থেকে ক্ষুদ্র আকারে হাউড্রোজেন উৎপাদন হচ্ছে। আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যেটায় ২০২২ সালের মধ্যে দৈনিক ৫ কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছি। টেকনোলজি ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে, তবে আমরা এখনও মার্কেটে যেতে পারিনি। আমাদের দেশে যানবাহনে হাইড্রোজেন ব্যবহার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা মনে করছি, প্রতি কিলোমিটারে ৮ টাকার মতো খরচ পড়বে।’

বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করছি তবে সেভাবে সফলকাম হতে পারছি না। প্রযুক্তির সঙ্গে থেকে উন্নত দেশের পথে হাঁটতে হবে। সোলারের বড় সমস্যা স্টোরেজ না থাকায় রাতের জন্য সমপরিমান বিদ্যুৎ রিজার্ভ রাখতে হচ্ছে। তবে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি চলছে, আশা করছি ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব।’

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশ হাইড্রোজেনে একেবারে পেছনে পড়ে নেই। বিসিএসআইআর একটি প্রকল্প নিয়েছে ২০২২ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন সামনে নিয়ে আসবে। সেজন্য গবেষণা করছে।’

হাইড্রো কার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একক কোনো এনার্জির ওপর নির্ভরশীলতার সুখকর হতে পারে না। সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। হাইড্রোজেন ভালো সোর্স হতে পারে। রান্না এবং যানবাহনে হাইড্রোজেনকে কাজে লাগাতে পারি।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সুফী বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি মার্কেটে আগুন ধরেছে। কেনো হলো এই পরিস্থিতি, পোস্ট কোভিড ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়েছে, অনেকে কয়লা এবং অন্যান্য সোর্স থেকে সরে আসায় এই অবস্থা হয়েছে। এই অবস্থা আরও কিছুদিন থাকবে। বাংলাদেশের অফসোরে হাইড্রোজেন অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্টেলিয়া প্রবাসী গবেষক অধ্যাপক নওশাদ হক। তিনি বলেন, ‘সোলার যখন শুরু হয় তখন প্রতি মেগাওয়াটে খরচ হতো ৩৫৯ ডলার, এখন খরচ ৩৭ ডলারের নেমে এসেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এক সময় সাশ্রয়ী হবে তবে তার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন হবে। কার্বন ইমিশন কমানো এখন প্রত্যেকটি দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। আমার মনে হয়, একটি নির্দিষ্ট এনার্জির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না, বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার থাকা উচিত।’

বিপিএমআইর রেক্টর মাহবুব উল আলম সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রিন এনার্জি ফান্ড থেকে যদি অর্থায়ন করা যায় তাহলে হাইড্রোজেন এনার্জি সহায়ক হতে পারে। আমরা করতে পারবো কী পারবো না সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। সেমিনারটি চিন্তা-চেতনার জায়গা প্রসারিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

পরিচালক রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- স্রেডার চেয়ারম্যান ড. আলাউদ্দিন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম আলমগীর কবীর, ইপিআরসির চেয়ারম্যান সত্যজিৎ কর্মকার প্রমুখ।

লক্ষ্মীপুর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

দলীয় কোন্দল নিরসনে বিভক্ত নেতাদের দিয়েই লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবুকে সদস্যসচিব করে মোট ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কমিটির অনুমোদন দেন। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত ২০১৯ সালের ৯ই মার্চ রাতে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তখন বলা হয়েছিল, ওই বছর ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু আড়াই বছর পর শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) কমিটি ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকায় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের ডাকা হয়। সেখানে জেলার ৬টি থানা, ৪টি পৌরসভা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বিলুপ্ত জেলা কমিটির সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৭ নেতা আলাদাভাবে গোপন ভোটসহ লিখিত মতামত দেন।
ওই সময় কে›ন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিলুপ্ত জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু উপস্থিত ছিলেন না।

তারা তিনজনই জেলা কমিটির সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, সদর উপজেলা (পূর্ব) কমিটির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ ও জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে সভাপতি ও সাহাবুদ্দিন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে তাদের অন্তর্কোন্দলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং তাদের অনুসারীরা বিভক্ত হয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তখন আবুল খায়ের ভূঁইয়ার বিভিন্ন কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী অংশ নেন।
এ বিষয়ে জানতে বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম, এখন আমাকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। কি আর বলব। এ মুহূর্তে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না।”
এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির আহবায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।