ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার সরে যাবে।

 

শনিবার দুপুরে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ভোটের গাড়ি ‘ক্যারাভান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে দলগুলো যাতে কোনো ধরনের ঝামেলায় না গিয়ে পরস্পর পরস্পরের সহযোগিতা করে, আমরা এটাই প্রত্যাশা করি। শান্তিপূর্ণভাবে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আমরা সরে যাব। দেশ আবার নতুনভাবে একটা স্বাভাবিক পদ্ধতিতে চলবে।”

 

আগামী সংসদ নির্বাচন কয়েকটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, গত ১৫ বছরের সত্যিকারার্থে কোনো নির্বাচন হয়নি। যদি নির্বাচনের কথা বলা হয়, তাহলে সবশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০৮ সালে। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি, খুবই উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

 

 

নির্বাচনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকদের আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার রিপাবলিক ইনস্টিটিউট পর্যবেক্ষক পাঠাবে। যারা আসবেন তাদের সঙ্গে আমার দেখা ও কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, এ বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। “সঙ্গে আরও একটি কথা বলেছি, সরকার আপনাদেরকে কোনো সাহায্য করতেও যাবে না; যতক্ষণ আপনারা না চাইবেন। কারণ সরকার যদি তাদের ব্যাপারে এগোয় তাহলে মনে করা হবে, আমরা তাদেরকে প্রভাবিত করছি। আমরা সেটা এক বিন্দুও করব না।”

 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা শুধু দেখব, পর্যবেক্ষকদের যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। এরপর তারা যদি কোনও সহায়তা চান, তাহলে সহায়তা দেওয়া হবে। যারা পর্যবেক্ষক আসবেন, তাদের বিষয়ে সরকারের এটিই হচ্ছে রোল। এ ছাড়া কারা পর্যবেক্ষক হবেন, সেটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

 

“সরকারের এখানে কোনো ভূমিকা নেই। তারা সেখানে আবেদন করছেন, নির্বাচন কমিশন যাদেরকে নিরপেক্ষ মনে করেন তাদেরকেই পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন দেবেন এবং তারাই আসবেন পর্যবেক্ষক হিসেবে। আমরা চাই, বিপুল পর্যবেক্ষক থাকুক যাতে করে নির্বাচনে কেউ গন্ডগোল করার সুযোগ না পায়।”

 

তৌহিদ হোসেন বলেন, “মানুষ মুখিয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য। কারণ তারা দীর্ঘদিন ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আশা করি আগামী দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি প্রচার হবে।

 

“আমি রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করব, আপনারা মানুষের কাছে যান। মানুষের কাছে গিয়ে আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন। কেউ কাউকে আঘাতের চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে, কাকে ভোট দেবে।”

 

এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক শামীম রহমান এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার

মোবাইল সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সংখ্যা কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, অনিয়ম ও অপব্যবহার কমিয়ে আনতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও মোবাইল ফোন অপারেটররা আগের মতোই এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বে সিম ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।

বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৯ লাখ, টেলিটক ৬৬ লাখ ৭০ হাজার। বর্তমানে দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয়, বাকিগুলো নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি।

সংস্থার তথ্যমতে, সে সময় এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। এর মধ্যে গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। তবে এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিম বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নামাজরত ব্যক্তির ওপর গাড়ি তুলে দিল ইসরায়েলি সেনা

রাস্তার পাশে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করছিলেন একজন ফিলিস্তিনি। এ সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন রিজার্ভ সদস্য এটিভি গাড়ি দিয়ে নামাজরত ওই ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে ধাক্কা নিয়ে ফেলে দেয়।

বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এতে দেখা যায়, কোমড়ে অস্ত্র নিয়ে চার চাকার এটিভি গাড়ি নিয়ে ইসরায়েলি ওই সেনা রাস্তার পাশে নামাজরত ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে ধাক্কা দেন। এ সময় ফিলিস্তিনি ওই ব্যক্তি মাটিতে পড়ে যান। এ ঘটনার পর ইসরায়েলি ওই সেনার চাকরি বাতিলসহ অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়, নামাজরত ফিলিস্তিনিকে ফেলে দেওয়ার পর তাকে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলি সেনা চিৎকার করতে থাকেন।

এদিকে এ ঘটনার পর ফিলিস্তিনি ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে বড় ধরনের চোট না পাওয়ায় তাকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।

শাহবাগে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। গতকাল শুক্রবার শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি বলেছেন, ‘বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। এই অবরোধ চলছে, চলবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত যাব না। যতক্ষণ পর্যন্ত হাদি হত্যার পেছনে যারা জড়িত, পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী– তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’ খবর বিডিনিউজের।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শাহবাগে সমবেত হয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। রাতেও তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের অবরোধের কারণে শাহবাগে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। আশেপাশের রাস্তাগুলোতে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। অবরোধ চলার মধ্যে সন্ধ্যায় শাহবাগে মঞ্চের সদস্য সচিব জাবের তার বক্তব্যে বলেন, আজকে শাহবাগ অবরোধ করেছি। আগামীকালও (শনিবার) শাহবাগ অবরোধ করা হবে। সারা দেশ থেকে জনতা আসছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বলেন, ‘আমরা সারারাত অবস্থান করব। তবে যদি শীত বেড়ে যায়, তাহলে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হতে পারে।’ ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতা বলেছেন, শনিবারও তাদের অবরোধ চলবে।

অবরোধ কর্মসূচিতে ওসমান হাদির ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি বলেন, সরকারের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, বিচার নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ওসমান হাদির বিচারের দাবি এখন বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের দাবি। আমরা রাজপথে নেমেছি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। আমরা আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই বলে দিতে চাই, আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার ‘শহীদী শপথ’ নেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা এবং ‘ইনসাফভিত্তিক’ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এ শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

শিবিরের নতুন সভাপতি সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সেশনের জন্য নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। আর সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিবগাতুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নতুন সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেলের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ২০১৪–২০১৫ শিক্ষাবর্ষের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করছেন। অন্যদিকে, সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত সিবগাতুল্লাহ চলতি বর্ষে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত। খবর বাংলানিউজের।

এদিন রাজধানীর চীন–মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ২০২৫’–এর দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ভোটার হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ভোটার হওয়ার জন্য এনআইডি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ ওসমান হাদি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে যান তারেক রহমান।

নির্বাচন কমিশন ভবনে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধনের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট, চোখের আইরিশ ও সিগনেচার দিয়েছেন।

এর আগে অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন ফর্ম পূরণ করেন তারেক রহমান ও তার মেয়ে জায়মা রহমান।

এদিকে আবেদন করার পর ৭ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতে পাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলে জানিয়েছেন এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এএসএম হুমায়ুন কবীর।

এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, তারেক রহমান আবেদন করার ৭ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি হাতে পাবেন। এই সময়ে না হলে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে ফিরতে না পারায় তিনি ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান দেশে এসে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হন।

উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহীর দাপুটে জয়

নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সিলেট টাইটান্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে রাজশাহী ১৯.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান তুলে নেয়।

ধীরগতির শুরু করেছিলেন শান্ত। প্রথম ৮ বলে করেন মাত্র ২ রান। তবে ষষ্ঠ ওভারে সাইম আইয়ুবকে টানা তিনটি চার মেরে ইনিংসের গতি বাড়ান তিনি। এরপর একই ছন্দে খেলতে থাকেন। ইনিংসের শেষ ওভারে হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের মিস ফিল্ডিংয়ের সুবাদে ডাবলসে সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় শান্তর।

অন্য প্রান্তে মুশফিকুর রহিম ছিলেন সাবলীল। দুজনের অপরাজিত ১৩০ রানের জুটিতে দুই বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে রাজশাহী। শান্ত ৬০ বলে ১০১ এবং মুশফিক ৩১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৭১ বলে এই জুটিতে আসে ১৩০ রান।

লক্ষ্যে নেমে রাজশাহী শুরুটা করে ধীরগতিতে। প্রথম পাঁচ ওভারে তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে তোলে ৩০ রান। তানজিদ ৮ বলে ১০ রান করেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে শান্তের টানা তিন চারে গতি পায় ইনিংস।

অষ্টম ওভারে শাহিবজাদা ফারহান (২০) আউট হওয়ার আগে একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান শান্ত। ১২তম ওভারে টানা দুই চার মেরে ৩৬ বলে ফিফটির দেখা পান তিনি। পরের তিন ওভারে শান্ত–মুশফিক জুটির ব্যাটে আসে ৪৪ রান। ৫৫ বলে এই জুটি ১০০ রান পূর্ণ করে। ইনিংসের শেষ ওভারে ৫৮ বলে ১০ চার ও ৫ ছক্কায় বিপিএলে নিজের দ্বিতীয় শতক পূর্ণ করেন শান্ত। মুশফিকও চারটি চার ও দুটি ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি তুলে ম্যাচ জেতান।

এর আগে সিলেটের হয়ে পাওয়ার প্লেতে ঝড়ো শুরু করেন সাইম আইয়ুব। পঞ্চম ওভারে ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৮ রান করে আউট হন তিনি। ৩৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর হজরতউল্লাহ জাজাই (২০) বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। রনি তালুকদারের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৩২ রানের।

এরপর ইমন ও রনির জুটি বড় না হলেও ইমন পরে আফিফ হোসেনকে নিয়ে দলের স্কোর এগিয়ে নেন। এক বল বাকি থাকতে ৪১ বলে ৮৬ রানের জুটি ভাঙে। ইমন ২৮ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ফিফটি করেন। আফিফ ১৯ বলে ৩৩ রানে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

ফেসবুকে রিয়াজের মৃত্যুসংবাদ নিয়ে যা জানাল পরিবার

হঠাৎ করেই চিত্রনায়ক রিয়াজের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। আত্মগোপনে থাকা এই ঢালিউড তারকার মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম সরাসরি রিয়াজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বুধবার সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মৃত্যুসংবাদ সম্পূর্ণ গুজব। রিয়াজের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, “এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়। যেখানেই আছে, ভালো আছে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই চিত্রনায়ক রিয়াজ আত্মগোপনে রয়েছেন। এরপর থেকে তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি কিংবা চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে যোগাযোগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকেও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত আলোচনার জন্ম দেয়।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘বাংলার নায়ক’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রিয়াজ ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। টানা দুই যুগ তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল নায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। অসংখ্য ব্যবসাসফল ও দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘অপারেশন সুন্দরবন’ মুক্তি পায় ২০২২ সালে। এরপর থেকে নতুন কোনো কাজে তাঁকে দেখা যায়নি।

সারাদেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা

ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক (নৌ-নিট্রা) বাবু লাল ব

তিনি বলেন, নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব হঠাৎ বেড়ে গেছে। এই কারণে আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশালসহ সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। লঞ্চগুলো চলার পথে যে যেখানে অবস্থান করছে, ওই স্থানে নদীর পাড়ে লঞ্চগুলো নোঙ্গর করে রাখার জন্য বলা হয়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে ফের চলাচল স্বাভাবিক হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে ঢাকাগামী দুইটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে। পরে এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে ঝালকাঠি লঞ্চঘাট থেকে অপর অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটিকে জব্দ এবং চারজন স্টাফকে আটক করা হয়।

ইমন ও আফিফের ঝড়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর সিলেটের

 

 

ঘরের মাঠে টস হারলেও ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে সিলেট টাইটান্স। পারভেজ হোসেন ইমনের টর্নেডো ইনিংস এবং আফিফ হোসেনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রানের পাহাড় গড়েছে স্বাগতিকরা। রাজশাহীর বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে চ্যালেঞ্জিং এই স্কোর দাঁড় করায় সিলেট।

সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সিলেটের পাকিস্তানি ওপেনার সাইম আইয়ুব। আউট হওয়ার আগে মাত্র ১৫ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে উড়ন্ত সূচনা দেন তিনি। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৬ রান আসার পর দ্রুতই ফিরে যান হজরতউল্লাহ জাজাই (২০)।

তিন নম্বরে নামা রনি তালুকদার ২৫ বলে ৩৬ রান করে ইনিংসের হাল ধরেন। তবে আসল বিনোদন তখনও বাকি ছিল। ক্রিজে এসেই চার-ছক্কার বৃষ্টি শুরু করেন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ২৮ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই তরুণ তুর্কি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩৩ বলে ৬৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল মোট ৪টি চার ও ৫টি ছক্কার মার।