তৃতীয় মেয়াদে কানাডার প্রধানামন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই খবার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে ৩৩৮ আসনের হাউস অব কমনসে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি ১৫৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে তার প্রতিপক্ষ কনসারভেটিভ পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ১২২টি আসন। দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যে পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

বাদ বাকি ৫৯ আসনের মধ্যে, ব্লক কুইবেকোয়া পেয়েছে ৩১টি ও বামপন্থি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) পেয়েছে ২৬টি আসন। আর এখনো দুইটি আসনের ভোট গণনা শেষ হয়নি। কিন্তু দেশটিতে এককভাবে ১৭০ আসন না পেলে কোন দল সরকার গঠন করতে পারে না। ফলে, অন্যকোন দলের সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় যেতে হবে ট্রুডোর দলকে।

এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রুডো তার সমর্থকদের বলেছেন, সব কানাডিয়ানের মঙ্গলের জন্যে অন্য দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে। হোটেলের বলরুমে সমবেত সমর্থকদের তিনি বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যে আমাদের নির্বাচিত করে আবার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আজ আমরা যা দেখলাম তা হলো লাখো কানাডিয়ান প্রগতিশীল পরিকল্পনার প্রতি রায় দিয়েছেন।’

এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিবিসি’র সমীক্ষায় বলা হয়েছিল হাউস অব কমনসে সরকার গড়তে ট্রুডোর লিবারেল পার্টিকে অন্য দলের সমর্থন নিতে হতে পারে। সিবিসি জানায়, ট্রুডো তার মন্ট্রিয়েল আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি ভোটারদের বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জন্যে সঠিক পথটি বেছে নেওয়া হবে। আমরা যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মহামারিতে কেন নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে তা ভোটারদের বোঝাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ২০১৫ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ট্রুডোকে। গত ২০১৯ সালে নির্বাচনে ১৫৭টি আসন জিতে অন্য বিরোধীদের সমর্থন নিয়ে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি ক্ষমতায় আসে।

ট্রুডোর লিবারেল পার্টির ক্ষমতায় ফেরার সংবাদে আজ মার্কিন ডলারের বিপরীতে কানাডিয়ান ডলার দাম বেড়েছে। তার এই বিজয় দেশটিতে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মুকুট মণি আখ্যা পেলেন প্রধানমন্ত্রী

ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুট মণি’ আখ্যা পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক প্রধানমন্ত্রীকে এই আখ্যা দেয়।

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর সময়  ‘মুকুট মণি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

সম্মেলনে অংশ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্স।

অধিবেশনে জেফ্রি স্যাক্স বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সঙ্গে একসাথে হতে পেরে আমরা আনন্দে উদ্বেলিত। আমরা আপনার কথা শুনতে চাই, বিশেষ করে এই জন্যে যে, আমরা যখন পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি যা প্রতি বছর জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক করে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে বিশ্বে প্রথম হয়েছে। তাই আমরা সেই অর্জনের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

ঢাকা—চট্টগ্রাম,সিলেট লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু \ তদন্ত কমিটি গঠন

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : ঢাকা—চট্টগ্রাম, ঢাকা—সিলেট লাইনে ট্রেন চলাচল গতকাল মঙ্গলবার সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টঙ্গীতে মালবাহী একটি ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে এ রোডে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টঙ্গীর বিমানবন্দর স্টেশনের স্টেশন মাষ্টার হালিমুজ্জামান জানায়, দুপুর দেড়টায় ঢাকা থেকে উদ্ধার কর্মী ও রিলিফ ট্রেন এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি লাইন থেকে সরিয়ে নিলে দীর্ঘ ৮টার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে যাওয়ায় কারণে দেখা দিয়েছে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সাদিকুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে দুর্ঘটনা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।

টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত

টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গী জংশন এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমান বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, টঙ্গীতে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

 

 

এ ঘটনার পরপরই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল কবিরকে।

 

 

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কেন ঘটেছে, এজন্য কে বা কারা দায়ী এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তদন্ত শেষে বলা যাবে।

 

 

 

 

এর আগে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

১৬০ ইউপির ১৩১টিতে নৌকার প্রার্থী জয়ী

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল বিজয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ১৬০ ইউপির চেয়ারম্যান পদের মধ্যে ১৩১টিতে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। এর মধ্যে ৪৪টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে শুধু বাগেরহাট জেলাতেই রয়েছেন ৩৮ জন। ২৮টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। একটির ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেওয়া হয়।

ইউপির চেয়ারম্যান পদে বিজয়ীরা

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খুলনা জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পাঁচজন, একজন বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র তিনজন বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিজয়ী অন্য ২৫ জনের সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জিয়াউর রহমান জুয়েল, বাগালীতে আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ, মহেশ্বরীপুরে আওয়ামী লীগের শাহ নেওয়াজ শিকারী, মহারাজপুরে আওয়ামী লীগের আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কয়রায় আওয়ামী লীগের বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশীতে আওয়ামী লীগের সরদার নুরুল ইসলাম, দক্ষিণ বেদকাশীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আসের আলী, দাকোপের পানখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সাব্বির আহমেদ, দাকোপ আওয়ামী লীগের বিনয় কৃষ্ণ রায়, লাউডোবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের শেখ যুবরাজ, কৈলাশগঞ্জে আওয়ামী লীগের মিহির কুমার মণ্ডল, সুতারখালীতে আওয়ামী লীগের মাসুম আলী ফকির, কামারখোলা আওয়ামী লীগের পঞ্চানন মণ্ডল, তিলডাঙ্গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী জালাল উদ্দিন, বাজুয়ায় আওয়ামী লীগের মানস মুকুল রায়, বানিশান্তায় আওয়ামী লীগের সুদেব রায়, বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুরে বিএনপি সমর্থিত আসলাম হালদার, বালিয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আওসাফুর রহমান আসা, আমিরপুরে আওয়ামী লীগের সি এম মিলন গোলদার, দীঘলিয়ার গাজীরহাটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু, বারাকপুরে আওয়ামী লীগের গাজী জাকির হোসেন, দীঘলিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হায়দার আলী মোড়ল, সেনহাটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়া গাজী, আড়ংঘাটায় স্বতন্ত্র এস এম ফরিদ আক্তার, যোগীপুলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান লিংকন, পাইকগাছার সোলাদানায় আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান গাজী, রাডুলীতে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ, গড়ইখালীতে আওয়ামী লীগের রুহুল আমিন বিশ্বাস, চাঁদখালীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শাহজাদা ইলিয়াস, দেলুটিতে আওয়ামী লীগের রিপন মণ্ডল, লতায় আওয়ামী লীগের কাজল কান্তি বিশ্বাস, কপিলমুনিতে আওয়ামী লীগের কওসার আলী জোয়ারদার ও লস্কর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া গদাইপুরে আওয়ামী লীগের শেখ জিহাদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে সাতক্ষীরায় ১০টিতে আওয়ামী লীগ, চারটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, দুটি স্বতন্ত্র এবং তিনটিতে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

কলারোয়া উপজেলা: কলারোয়ার যুগিখালী ইউনিয়নে মো. রবিউল হাসান (আ’লীগ), জালালাবাদ ইউনিয়নে মাহাফুজু রহমান নিশান (আ’লীগ বিদ্রোহী), কয়লায় শেখ সোহেল রানা (স্বতন্ত্র), লাঙ্গলঝাড়ায় অধ্যাপক এম এ কালাম (আ’লীগ), সোনাবাড়িয়ায় বেনজির আহমেদ (আ’লীগ), চন্দনপুরে ডালিম হোসেন (আ’লীগ বিদ্রোহী), হেলাতলায় মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (স্বতন্ত্র), জয়নাগর ইউনিয়নে বিশাখা তপন সাহা (আ’লীগ বিদ্রোহী), দেয়াড়া ইউনিয়নে মাবুবুর রহমান (আ’লীগ)।

তালা উপজেলা :তালার ধানদিয়ায় মো. জাহাঙ্গীর আলম (স্বতন্ত্র, বিএনপি সমর্থিত), নগরঘাটায় কামরুজ্জামান লিপু (আ’লীগ), ইসলামকাটিতে গোলাম ফারুক (স্বতন্ত্র, জামায়াত সমর্থিত), খলিলনগরে প্রণব ঘোষ বাবলু (আ’লীগ), তালা সদর ইউনিয়নে সরদার জাকির হোসেন (আ’লীগ), তেঁতুলিয়ায় আবুল কালাম আজাদ (আ’লীগ), মাগুরায় গনেশ চন্দ্র দেবনাথ (আ’লীগ), খেসরায় কামরুল ইসলাম লাল্টু (বিদ্রোহী আ’লীগ), খলিষখালীতে মোজাফফর রহমান (আ’লীগ), জালালপুরে এম মফিজুল হক লিটু (স্বতন্ত্র, বিএনপি সমর্থিত)।

বাগেরহাট জেলার ৬৫ ইউনিয়নের মধ্যে এর আগে ৩৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য ২৭টির মধ্যে দুটিতে স্বতন্ত্র এবং অন্যগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তেলিগাতীতে মোর্শেদা আক্তার (আ’লীগ), পঞ্চকরণে আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার (আ’লীগ), পুটিখালীতে আব্দুর রাজ্জাক শেখ (আ’লীগ), দৈবজ্ঞহাটীতে শামছুল আলম মল্লিক (আ’লীগ), রামচন্দ্রপুরে আব্দুল আলীম (আ’লীগ), চিংড়াখালীতে আলী আক্কাস বুলু (আ’লীগ), হোগলাপাশায় মো. শহিদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), বনগ্রামে রিপন দাস (আ’লীগ), বলইবুনিয়ায় শাহজাহান আলী খান (আ’লীগ), হোগলাবুনিয়ায় আকরামুজ্জামান, (আ’লীগ), বহরবুনিয়ায় টি এম রিপন (আ’লীগ), জিউধরায় জাহাঙ্গির আলম বাদশা (আ’লীগ), বারইখালীতে আব্দুল আউয়াল খান মহারাজ (স্বতন্ত্র), মোরেলগঞ্জে সদর হুমায়ন কবির মোল্লা (আ’লীগ)।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের চার প্রার্থী ও দুটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। হাতিয়া উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দুটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ২ নং চরবাটা ইউনিয়নে আমিনুল ইসলাম রাজিব (আ’লীগ), ৭নং চরবাটায় আবুল বাশার মঞ্জু (আ’লীগ), চর আমান উল্যাহতে বেলায়েত হোসেন (আ’লীগ), ৪নং ওয়াপদায় আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (আ’লীগ), ৩নং চরক্লার্কে অ্যাডভোকেট আবুল বাশার (বিদ্রোহী) ও ৮নং মোহাম্মদপুরে মহিউদ্দিন চৌধুরী (বিদ্রোহী); হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নে মেহেদী হাসান (আ’লীগ), চর ঈশ্বরে আলাউদ্দিন আজাদ (আ’লীগ), নিঝুম দ্বীপে নুরুল আফছার দিনাজ (আ’লীগ), তমরদ্দিতে রাশেদ উদ্দিন (আ’লীগ), চর কিংয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ (আ’লীগ), জাহাজমারায় মাছুম বিল্লাহ (বিদ্রোহী) ও বুড়িরচরে ফখরুল ইসলাম (বিদ্রোহী)।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গাছুয়ায় আওয়ামী লীগের আবু হেনা, সন্তোষপুরে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন, আমানউল্ল্যায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম, হরিশপুরে আওয়ামী লীগের কাশেম মোল্লা, রহমতপুরে আওয়ামী লীগের ফরিদুল মাওলা কিশোর, আজিমপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. রফি, মুছাপুরে আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের নাদিম, মাইটভাঙ্গায় আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান, বাউরিয়ায় আওয়ামী লীগের জিলল্গুর রহমান (বিনা), সারিকাইত আওয়ামী লীগের ফখরুল ইসলাম পনির (বিনা), মগধরায় আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন (বিনা) ও হারামিয়ায় আওয়ামী লীগের মো. জসিমউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।\হকপবাজার মহেশখালীর হোয়ানক, মাতারবাড়ীতে আওয়ামী লীগের আবু হায়দার ও কুতুবজোমে আওয়ামী লীগের শেখ কামাল। কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, বড়ঘোপ, দক্ষিণ ধুরংয়ে (স্বতন্ত্র) আলাউদ্দিন আল আজাদ, কৈয়ারবিল আওয়ামী লীগের আজমগীর মাতবর, বড়ঘোপ আওয়ামী লীগের আনম শহীদউদ্দিন ছোটন, লেমশীখালীতে স্বতন্ত্র আকতার হোসেন ও উত্তর ধুরংয়ে স্বতন্ত্র আব্দুল হালিম, পেকুয়ার টেটংয়ে আওয়ামী লীগের জাহিদুর ইসলাম চৌধুরী, টেকনাফের হ্নীলায় আওয়ামী লীগের রাশেদ মো. আলী, সাবরংয়ে স্বতন্ত্র নুর মোহাম্মদ, হোয়াইক্যংয়ে (স্বতন্ত্র) আহমদ আনোয়ারী।

মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে ডিভোর্স, আবার বিয়ে করলেন ইভা

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আবার বিয়ে করেছেন তার স্ত্রী কণ্ঠশিল্পী ইভা রহমান। গত শুক্রবার নিজ বাসায় ঘরোয়াভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়। পাত্র তার পূর্ব পরিচিত। নাম সোহেল আরমান। তিনি ঢাকার ছেলে। পেশায় ব্যবসায়ী।

বিয়ে প্রসঙ্গে ইভা রহমান বলেন, ‘আমাদের গুলশানের বাসায় একদম ঘরোয়া পরিবেশে কাছের কিছু আত্মীয় স্বজনরা বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। অতীত ভুলে নতুন করে জীবনটা শুরু করলাম। যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করেছি সারাজীবন যেন সুখে থাকি- সে দোয়া চাই।’

এটিএন বাংলায় নিয়মিত গান গাওয়ার সুবাদে তুমুল আলোচিত হন ইভা। জানা গেছে, তিন মাস আগে চ্যানেলটির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের তার বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে আসেনি। আইনত বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার পর নতুন জীবনসঙ্গীকে বেছে নিলেন ইভা।

মূলত গান গেয়েই আলোচনায় এসেছিলেন ড. মাহফুজ রহমান ও ইভা রহমান। প্রতিটি ঈদ আয়োজনে নিজ চ্যানেল এটিএন বাংলায় তারা হাজির হতেন। তাদের অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা সবই হতো। ইভা গত বছরের ঈদে সর্বশেষ এটিএন বাংলায় গান গেয়েছেন। এ ছাড়া ইভার গাওয়া গান নিয়ে এ পর্যন্ত ২৪টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।

যমজ শিশুকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন মা

ঝালকাঠিতে আরাফ ও আয়ান নামের ১৬ মাসের দুই যমজ ছেলে সন্তানকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেলেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী।

স্বামী ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

থানা পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। বর্তমানে তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন। তাঁর বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে।

২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন সুমাইয়া।

শিশু দুটির মা সুমাইয়ার দাবি তালাক নোটিশ পাঠানোর আরো আগে থেকে তাঁর এবং সন্তানদের কোন ভরণপোষণ দিচ্ছেনা ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে চায়ের দোকানী মাহফূজ মিয়া বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক নারী তাঁর দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে এসপি অফিসের চেক পোষ্টের সামনে আসেন।

এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে ছেলে দুটিকে রেখে ওই নারী চলে যান। যাবার সময় সে বলে যায়, তোমাদের সন্তান তোমাদের কাছেই থাক।

সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় গিয়ে দেখা যায় , শিশু দুটির কান্নায় থানার পারিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের এক নারী কনস্টেবল শিশু দুটিকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ সময় শিশু দুটির শরীরের তাপমত্রা ছিল অনেক বেশি।

সুমাইয়া আক্তার মুঠোফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আরাফ ও আয়ান ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল।

রোববার সকালে চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি তিনি তার স্বামী কনস্টেবল ইমরানকে জানান। কিন্তু ইমরান টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতে জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।

তাই বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি। ওদের লালন পালন করতে আমার কোন আপত্তি নেই, কিন্তু খরচ চালানোর মত সংগতি আমার নেই ।

এ বিষয়ে জানতে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইলে বলেন, ‘প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসেবে পাঠাই। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাঁদের খোঁজ খবর নেই। কিন্তু মা হয়ে সে কিভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?’

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম্কর্তা্ (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের দাদা দাদীকে খবর দেয়া হয়েছে। তাঁরা আসলে শিশু দুটিকে তাঁদের হাতে তুলে দেয়া হবে।’

চাঁদপুরে বস্তাবন্দী লাশের রহস্য উন্মোচন, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ‘খুনি’

বিপনীবাগ মার্কেটের পৌর পানির পাম্পের স্টাফ রুমের পাশে নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ (৬০) নামের এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতের নাম-রাজু চন্দ্র শীল (৩০)। তিনি স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করেন।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চাঁদপুরের বিভিন্ন দোকানে দীর্ঘদিন ধরে দই-মিষ্টি বিক্রয় করে আসছিলেন। ঘটনার দিন রাতে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তিনি অভিযুক্ত রাজু চন্দ্র শীলের কাছে যান। এরপরই তাকে হত্যা করা হয়।

বিপনীবাগ বাজারের নৈশপ্রহরী মো. ইসমাইল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই বাজারের টিপটপ সেলুনের কর্মচারী রাজু চন্দ্র শীলকে রাত ১টায় সাটার খুলে পানি দিয়ে দোকান পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তখন তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় যে, ধর্মীয় উৎসব থাকার কারণে দোকান পরিষ্কার করে পুরাতন জামা-কাপড়সহ অন্যান্য ময়লা জিনিসপত্র বস্তায় করে নিয়ে যাচ্ছে।

এরপর সেই বস্তাটি আসামি বিপনীবাগ মার্কেটের পশ্চিম পাশে শরীফ স্টীল ও পানির পাম্পের স্টাফ রুমের পূর্ব পাশের গলির ভেতর ফেলে রেখে পুনরায় দোকানে ফিরে আসে। এরপর আসামি পানি দিয়ে সেলুন পরিষ্কার করতে থাকে। সেলুন থেকে লাশ ফেলার স্থান পর্যন্ত রক্তের দাগ দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে সেলুনের মালিক শ্রীকৃষ্ণকে ডেকে আনলে সে দোকান খুলে সেলুনের মেঝেতে রক্ত মাখা পানি দেখতে পান। এ ছাড়া সেলুনের দেয়ালে, চেয়ারের কভারে, মেঝেতে, বালতির মধ্যে রক্তের দাগ দেখা যায়। এই ঘটনার পর আসামি রাজু চন্দ্র শীল পলাতক হয়।

সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সিআইডি নজরে আসে। এরপর ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

তিনি আরও বলেন, সিআইডি অভিযুক্তের সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে সিলেট শহর হতে অভিযুক্তকে সিআইডির একটি টিম গ্রেপ্তার করে।

আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, আসামি স্বীকার করেছে টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই সে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।

নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভে আফগান নারী অধিকারকর্মীরা

নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে এবার বিক্ষোভ শুরু করেছেন আফগানিস্তানের বেশ কিছু নারী অধিকারকর্মী। গতকাল রোববার দেশটির সাবেক নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় অবশ্যই পুনরায় চালু করতে হবে। নারীদের সরিয়ে দেওয়া মানে মানুষকেই সরিয়ে দেওয়া। অপর এক নারী অধিকারকর্মী বলেছেন, মেয়েদের বাড়িতে রেখে, তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তাদের স্কুলে যেতে না দিয়ে আফগান নারীদের দমানো যাবে না।

এদিকে, নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, গত মাসে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যাওয়ার পর তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে মন্ত্রণালয়ে তাদের কাজে ফেরার চেষ্টা করেছেন। তারা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ঢুকতে চেয়েছেন। কিন্তু তালেবান তাদের কাজে ফিরতে দেয়নি।

অন্যদিকে, তালেবানরা নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে নীতিনৈতিকতা-বিষয়ক মন্ত্রণালয় করেছে। নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামফলক মুছে ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে নীতিনৈতিকতা-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামফলক। তালেবানের আগের আমলে এই নীতিনৈতিকতা-বিষয়ক মন্ত্রণালয় ছিল। তখন এই মন্ত্রণালয় তালেবানের কট্টর ধর্মীয় মতাদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছিল।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল। তখন তারা মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। নিষিদ্ধ করেছিল বাইরে নারীদের চাকরি করা।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা নারীর অধিকার সুরক্ষা করবে। কিন্তু নারীর অধিকার সুরক্ষায় তালেবানের কাজের সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতির কোনো মিল এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২

কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে নির্বাচনী সহিংসতা শুরু হয়েছে। সহিংসতায় মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় আবুল কালাম (৩২) ও আব্দুল হালিম (৩৫) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার দিনের বিভিন্ন সময় ঘটনাগুলো ঘটেছে। ঘটনার পর মহেশখালীর কুতুবজুমের দুটি, কুতবদিয়ার বড়ঘোপের দুটি ও টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় মহেশখালীর কুতুবজুম ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ কামাল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে আবুল কালাম নিহত হয়।

এ ছাড়া বেলা সাড়ে ১২টায় ব্যালেট পেপার ছিনতাইকালে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ব্যালেট ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কুতু্বজুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছুরিকাঘাত ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় কুতুবজুমের পশ্চিম পাড়া গ্রামের ছোট মিয়ার ছেলে আবুল কালাম নিহত হয়েছে। এ সময় চারজন আহত হয়েছেন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসাপাতাল আনা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অপরকে দোষারোপ করছে।

এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়াম্যান প্রার্থী শেখ কামাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকরা কুতুবজুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জামিয়ুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসকেন্দ্র দখল নিতে পরিকল্পিতভাবে গোলাগুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটিয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারররফ হোসেন খোকন বলেন, ‘প্রায়ই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে শেখ কামালের সন্ত্রাসী বাহিনী। এমন খবর পেয়ে ভোটার ও তার সমর্থকরা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রে গেলে নৌকার প্রার্থীর ক্যাডাররা গুলি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামিয়ুস সুন্নাহ দারুল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের ফরিদুল আলম ও টিউবওয়েল প্রতীকের জহিরুল ইসলামের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে কুতু্বজুম ইউপি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুর রহমান বলেন, ‘গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। দুই কেন্দ্রই পাশাপাশি। আপাতত দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের মৃতদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।’

এদিকে, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড়ের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবদুল হালিম নিহত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুতুবদিয়া সরকারি কলেজকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মাঝে আহত ১৮ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. শরীফ। নিহত আবদুল হালিম বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুলোক ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ছিনতাই ঠেকাতে আইনশঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য গুলি চালালে গুলিতে আবদুল হালিম আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর হায়দার বলেন, আবদুল হালিম নামে একজন নিহত হয়েছে। নিহতের লাশ কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। নিহত ব্যক্তি নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থক।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পুলিশের গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম নিহত হয়েছে। তবে কি কারণে পুলিশগুলি করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

অন্যদিকে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বারবিল এমদাদিয়া মাদরাসা ভোট কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্বানীয়রা।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরফানুল হক চৌধুরী বেলা ১টার দিকে লম্বাবিল ভোট কেন্দ্রে পৌঁছেন। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও এজেন্টদের অভিযোগ শোনেন। তাৎক্ষণিক দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী।