১০ কেজি চালের জন্য চাচাকে হত্যা!

বরগুনার আমতলীতে ধারের ১০ কেজি চাল ফেরত চাওয়ায় মো. নুরুল ইসলাম মুন্সীকে (৪৫) ছুরি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী (চাঘাট) এলাকায় ভুক্তভোগী নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাণী বেগমের কাছ থেকে এক বছর আগে ১০ কেজি চাল ধার নিয়েছিলেন একই বাড়ির তার ছোট চাচি বাদশা মুন্সীর স্ত্রী আলেয়া বেগম। ওই চাল আর ফেরত দেননি তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর ভাই হাসান মুন্সীর মুরগীর ফার্মের সামনে গিয়ে আলেয়া বেগম বাড়ির জমি-জমার কাগজপত্র চান নুরুল ইসলাম মুন্সীর কাছে। এসময় নুরুল ইসলামের স্ত্রী রানী বেগম তার চাচি আলেয়ার কাছে তার ধার দেওয়া ১০ কেজি চাল ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে আলেয়া বেগম তার পরনে থাকা কাপড়টি খুলে ঘটনাস্থলে রেখে তার বাড়িতে চলে যান। ফলে ধার দেওয়া চাল ফেরত দিতে না পারায় নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রানী বেগম আলেয়া বেগমের পরনের কাপড় খুলে নিয়েছেন বলে তিনি ছেলে আলমগীর প্রকাশ আলানুর (৪০), মেয়ে খালেদা বেগম (৪৫) ও নাতি সাগরকে (১৯) জানান।

এ ঘটনা শুনে তারা উত্তেজিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে চাচাতো ভাই আলমগীর প্রকাশ আলানুরের ছেলে সাগর তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে চাচা নুরুল ইসলাম মুন্সীর পিঠের ডানপাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হলে দ্রুত স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকায় পুলিশ চাচাতো ভাই আলমগীর প্রকাশ আলানুর, বোন খালেদা বেগম ও আলেয়া বেগমকে আটক করেছে। তবে সাগরকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

নিহত নুরুল ইসলাম মুন্সীর ভাই হাসান মুন্সী বলেন, ‘আজ সকালে আমার চাচি আলেয়া বেগমের কাছে ধার নেওয়া চাল ফেরত চইলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তার ছেলে আলানুর, নাতি সাগর মুন্সী ও মেয়ে খালেদাকে পাঠিয়ে দেন। তারা এসে আমার ভাইকে চাকু মেরে খুন করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এদিকে নুরুল ইসলাম মুন্সির স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, ‘আলানুর বগি নিয়ে আমার স্বামীকে মারতে আসে। আমি ওই বগি তার হাত থেকে টেনে নিই। কিন্তু তার ছেলে সাগর মুন্সী ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে আমার স্বামীর পিঠে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হিমাদ্রী রায় বলেন, ‘নিহত নুরুল ইসলাম মুন্সীর পিঠের ডানপাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ধারের চাল ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলাম মুন্সী নামে একজন খুন হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মূল ঘাতক সাগরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আশ্রয়ণের ঘরের ‘দুর্নীতি তদন্ত’ চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আওতায় গৃহহীনদের দেওয়া ঘরের দুর্নীতি বা অনিয়মের তদন্ত চালু রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত বন্ধ করবে কেন? তদন্ত চালু রাখতে হবে, তদন্ত করে দেখতে হবে। সেগুলো (ঘর) কারা ভাঙলো? তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? তারা কেন ভাঙলো?’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলব যে, ৩০০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রত্যেকটির তদন্ত তাদের করতে হবে এবং রিপোর্ট দিতে হবে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘বলতে গেলে ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কম করে হলেও ১০ লাখ মানুষকে আমি ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এবার যে ঘটনাটি ঘটেছে, এখানে (সংসদে) একজন মাননীয় সংসদ সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এটা আমরা তদন্ত করছি।’

তিনি বলেন, ‘নয়টি জায়গায় দুর্নীতি পেয়েছি। ১০-১২টি জায়গায় অতিবৃষ্টি হলো, সেই বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘর পড়ে গেছে। সেখানে কিন্তু আরও অনেক ঘর ছিল। ৩০০টি জায়গায় যেখানে প্রত্যেকটি ঘরের ছবি আমার কাছে আছে। পুরো বিষয় তদন্ত করে দেখা গেছে, সেখানে দরজা-জানালায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ফ্লোরগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তোলা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আগামীতে সংসদে ওই ছবিও দেখাবো। এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি। এটা কারা করলো? তবে হ্যাঁ, কারা করেছে, সেটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। কিছু গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন, দুর্নীতি দমন কমিশন নাকি বলছে, আমরা আর তদন্ত করব কী? প্রধানমন্ত্রী তো এ নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু যারা ভেঙেছে, তাদের নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের এ কথা বলার কথা তো নয়। এ কথা যে কর্মকর্তা বলেছেন, যদি আমি জানতে পারি তাহলে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গরিবদের ঘর করে দেব, সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে? আমরা এখন কংক্রিট এবং স্টিল দিয়ে ঘর করে দিচ্ছি। যাতে সহজে কেউ ভাঙতে না পারে।’

গ্রেফতারের পর উল্টো ইভ্যালির রাসেলের পক্ষেই বিক্ষোভ

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনসহ (প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান) গ্রেফতারের পর উল্টো এখন তাদের মুক্তির জন্যই বিক্ষোভ করছেন কতিপয় গ্রাহক।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‌্যাব রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে বাহিনীর সদর দপ্তরে নিয়ে যায়।

রহমান আলী নামের ইভ্যালির একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি তো বিদেশে পালিয়ে যাননি। যদি পালিয়ে যেতেন, তাহলে প্রশাসন ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু রাসেল ভাই দেশেই ছিলেন এবং আজকেও তিনি কিছু পণ্য গ্রাহকদের ডেলিভারি দিয়েছেন। তাকে গ্রেফতার না করে মুক্ত করে দিক।’

jagonews24এর আগে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বাসা থেকে ‍দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের সাদা গাড়িতে করে সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

নানা অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে ইভ্যালি। এর মধ্যে গত ২৫ আগস্ট ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব চায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক সভায় ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি।

এরপর গত বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি রাসেলের স্ত্রী বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা হয়। সেই মামলার পর বাসায় অভিযানে গিয়ে র‌্যাব দুজনকে গ্রেফতার করলো।

পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী হত্যা মামলায় জড়িত এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

হত্যাকাণ্ডের চার দিনের মাথায় মানিকগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল মাসুদ রানার স্ত্রী বিলকিস আক্তার হত্যা মামলায় জড়িত এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের পর মুখে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ওই পুলিশের স্ত্রীকে।

বিলকিস হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- আখি মনি লিপি (২০), তার স্বামী মো. কবির হোসেন (৩০), রিয়াজ উদ্দিন (২৬) ও শাকিল হাসান (১৯)।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এই তথ্য জানান মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান।

এ সময় মামলার তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা পিপিএম, সদর থানার ওসি আকবর আলী খান, মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামিনুর রহমান প্রমুখ।

পুলিশ সুপার জানান, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করার উদ্দেশ্যে বিলকিসকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জের পশ্চিম দাশড়ার রিজার্ভ ট্যাংক এলাকায় ভাড়াবাড়িতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বিলকিসকে হত্যা করা হয়। টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে বিলকিসকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিলিকিসের পূর্ব পরিচিত ও বন্ধু লিপি আক্তার (২০) ও তার স্বামী মো. কবির হোসেন (৩০) দুজনেই ছিল হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী। পরিকল্পনা অনুযায়ী লিপি শুক্রবার বিলকিসের বাড়িতে আসেন।

রাত ১০টার দিকে বিলিকিসের ছেলে ও মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তার তিন সহযোগীকে বন্ধুর পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢোকায়। আড্ডা দেওয়ার একপর্যায়ে তারা বিলকিসকে ঘুমের ওষুধসহ পানীয় খাওয়ায়।

অজ্ঞান হয়ে গেলে রিয়াজ নামে একজন বিলকিসকে ধর্ষণ করে। এর পর তারা বিলকিসের হাত, পা ও মুখ বেঁধে গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রাত ৪টার দিকে চারজনই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

এদিকে হত্যা মামলার তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, হত্যাটি ছিল ক্লুলেস। এদের কাছ থেকে চুরি হওয়া তিনটি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের পায়েল, তিনটি স্বর্ণের কানের রিং, একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট, একটি স্বর্ণের লকেট, দুটি স্বর্ণের দুল, একটি রুপার নূপুর ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান জানান, প্রথমে সাভারের আশুলিয়া থেকে আখিমনি লিপিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয় বাকি তিনজনকে।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় বিলকিসের বাবা মজেম বেপারি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে আটক চারজনই ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে।
তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়া, শিক্ষার্থীরা ঘুরছে রাস্তায়!

খুলনার পাইকগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শ্রেণিকক্ষ ভা’ড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে স্কু’ল খুললেও শিক্ষার্থীরা এদিকে সেদিক ঘু’রে বাড়ি চলে গেছেন বলে অভি’যোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, ক’রো’নায় প্র’কো’পে দেশের অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত উপজেলার কালুয়া গড়েরআবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় একটি রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের থাকার জন্য বিদ্যালয়ের দু’টি ক’ক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়। বিদ্যালয়টিতে মোট ভবনই আছে অফিস ক’ক্ষ ছাড়া ৩টি। এর মধ্যে দু’টিই ভাড়া দেওয়া হয়ে যায়। দুটি কক্ষে ৮ জন জন নারী-পুরুষ এক মাসেরও অধি’ক সময় থাকা খাওয়া করছে বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে নোং’রা ও অ’পরিচ্ছন্ন একটি কক্ষে শতাধিক শিক্ষার্থীদের রোববার ঠা’সাঠা’সি পরিবেশে পাঠদান ক’রানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম মাসুদুল হক বলেন, আমার স্কুলের সভাপতি সলেমান সানা এ ব্যবস্থা করেছেন। গজালিয়া থেকে চৌমুহনী রাস্তার কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের থাকার স্থান না থাকায় স্কুলে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তবে সভাপতি সলেমান সানা অভি’যোগ অ’স্বীকার করে জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাস ঢালী ও এলাকাবাসীর চা’পে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করতে দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ঝংকর ঢালী বলেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নি’র্দেশ দিয়ে এসেছিলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান ভা’ড়া দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারকে কারণ দর্শা’নোর জন্য বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর আইন’গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল

সারা দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পুনর্গঠন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলের অবস্থা প্রকাশ্যে চলে আসছে। কমিটি দেওয়ার পর তা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে। দাঁড় করানো হচ্ছে পালটা কমিটি। ঘটছে পদত্যাগের ঘটনাও। অনেকেই ক্ষোভে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

এই কোন্দলের পেছনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে নিজের অনুসারীদের যেকোনো মূল্যে নেতৃত্বে আনতে মরিয়া তারা। তদবির আর অনৈতিক উপায়ে সুবিধাবাদীরা চলে আসছে শীর্ষ নেতৃত্বে। বাদ পড়ছেন যোগ্য ও ত্যাগীরা। পুনর্গঠনের গতি বৃদ্ধির সঙ্গে ভবিষ্যতে এ কোন্দল আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। যা আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা।

তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি মানতে নারাজ দলের নীতিনির্ধারকরা। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আমরা ফের পুনর্গঠন শুরু করেছি। ঢাকা মহানগরসহ বেশ কিছু কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। চলছে অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনও। নানা ঝড়ঝাপটার পরও বিএনপি থেকে একজন নেতাও অন্য দলে যায়নি। দলে যে কোন্দল নেই এটাই তার বড় প্রমাণ।

তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। সারা দেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। কিন্তু সে তুলনায় পদের সংখ্যা কম। তাই যোগ্যতা থাকার পরও সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকের মধ্যে পদ না পাওয়া নিয়ে কিছুটা অভিমান থাকতে পারে। সেটাকে আমরা কোন্দল বলছি না। নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো অভিমান বা কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতা ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নড়েচড়ে বসেছেন। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যস্ত তারা। মূলদলসহ অঙ্গ সংগঠনে নিজেদের অনুসারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার চেষ্টায় ত্রুটি করছেন না। তাদের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বেশ কিছু জেলায় বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও নতুন কমিটি দিতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। আবার যেখানে কমিটি দেওয়া হচ্ছে সেখানে যে গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাদ পড়ছেন তারা এ বিদ্রোহের পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২৫ আগস্ট ঘোষণা হয় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। আগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনকে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করে এ কমিটি দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন জেলার নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের দেওয়া আহ্বায়ক কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে গঠন হয় পালটা কমিটি। ২ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও হরহঙ্গা কলেজের সাবেক ভিপি মো. রফিকুল ইসলাম মাসুমকে আহ্বায়ক ও মিয়া মো. বাবুল সরকারকে সদস্য সচিব করা হয়। পালটাপালটি কমিটি কেন্দ্র করে জেলায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মাসুম বলেন, যাদের দিয়ে কেন্দ্র জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করেছে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। পাঁচ বছরে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো কমিটি হয়নি। এমনকি জেলা কমিটিই পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। অথচ ব্যর্থ সেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিগত সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের রাখা হয়নি।

কমিটি গঠন কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে সিলেট বিএনপিতে। কোন্দলে বিপর্যস্ত জেলার রাজনীতি। সম্প্রতি জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে আসে কোন্দল। যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন কেন্দ্রীয় বিএনপি সহ-স্বেচ্চাসেবক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগের। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। পরে তার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। জামানের পর নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১১ নেতা পদত্যাগ করেন। এতে সিলেট বিএনপিতে শুরু হয় উত্তেজনা। বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো জেলায়। ঘোষিত কমিটি বাতিল করা না হলে জামানের অনুসারীরা গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় জামানের অনুসারী কয়েকশ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন, আরও অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামানের গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধলেও জেলার আরেক প্রভাবশালী নেতা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গ্রুপ বেশ ফুরফুরে। তারা শহরে নিয়মিত মহড়া দিচ্ছেন। কমিটির পক্ষে করেছেন আনন্দ মিছিলও। বলতে গেলে সিলেট জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পুরো নিয়ন্ত্রণই এখন মুক্তাদির গ্রুপের হাতে। দলের হাইকমান্ডও তার প্রতি নমনীয়। ফলে বিদ্রোহকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে যুবদলের কমিটি গঠনের পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিলেট বিএনপির কেন্দ্রীয় চার নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আশ্বাসে তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

এদিকে সম্প্রতি ময়মনসিংহের নান্দাইলে হামলা-মামলায় জর্জরিত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর নবগঠিত কমিটির ১৮ নেতা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলা কমিটির ১০ জন এবং পৌর কমিটির আটজন রয়েছেন। সাত সেপ্টেম্বর তারা পদত্যাগ করেন। এর আগে একই অভিযোগে হালুয়াঘাট ও গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ২৩ নেতা নতুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।

এদিকে সম্প্রতি ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি নিয়েও নেতাকর্মীদের রয়েছে চাপা ক্ষোভ। দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকলেও অনেককে রাখা হয়নি কমিটিতে। ফলে অভিমানে দলীয় রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। আগের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন নেতাকে এখন আর কর্মসূচিতে দেখা যায় না। দুই সিটির নবগঠিত কমিটি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেও এসব নেতা সেখানে যাননি।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, করোনা পরিস্থিতি কমে আসায় ফের পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সবাইকে কমিটিতে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোথাও কোথাও নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অভিমান রয়েছে। তা নিরসনের চেষ্টা চলছে।

ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়

অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকাসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেবে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-ভ্যালিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে হাফিজুর রহামন এ কথা জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ইভ্যালির টাকা কোথায় গেছে, সেটা জানা যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তদন্ত করছে।

জমি দখলের জন্য রাজারবাগের পীরের ‘কেরামতি’, স্তম্ভিত আদালত

জায়গা জমির জন্য মুরিদ দিয়ে মামলা করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, বাংলাদেশে পীর সাহেবের কা- দেখেন। জায়গা জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন, দেখেন। সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করেছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন। এটি কি কথা হলো? মুরিদের ঠিকানা দিয়ে মামলা করেছে। একটি মিথ্যা মামলা দিলেই তো মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা দিলো।

রোববার রাজারবাগ পীর সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর এভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
শুনানিকালে আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে পীর সাহেবের কা- দেখেন। জায়গা– জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন, দেখেন। সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করেছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন।
ধর্ষণ, মারধর, চুরি, মানব পাচার এমন সব অভিযোগে দেশের ১৩টি জেলায় ৪৯টি মামলা করা হয় রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা একরামুল আহসানের বিরুদ্ধে। ১ হাজার ৪৬৫ দিন কারাভোগ করতে হয় তাকে। গত ৭ জুন হাইকোর্টে রিট করেন ৫৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী একরামুল। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৪ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্র্বতীকালীন আদেশ দেন। হাইকোর্ট ওই সব মামলা করা ও এর পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এমাদুল হক বশির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। একরামুলের বিরুদ্ধে মামলাকারী আফজাল হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ।
সিআইডির প্রতিবেদনে যা রয়েছে
সিআইডির প্রতিবেদনের ভাষ্য, একরামুল আহসানের তিন ভাই ও এক বোন। ১৯৯৫ সালে তার বাবা আনোয়ারুল্লাহ মারা যান। রাজারবাগ দরবার শরিফের পেছনে ৩ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা পৈতৃক বাড়ি তাদের। বাবার মৃত্যুর পর একরামুলের বড় ভাই আক্তর-ই-কামাল, মা কোমরের নেহার ও বোন ফাতেমা আক্তার পীর দিল্লুর রহমানের মুরিদ হন। কিন্তু রিট আবেদনকারী ও তার আরেক ভাই কামরুল আহসানকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করেও ওই পীরের মুরিদ করা যায়নি। এর মধ্যে একরামুল আহসানের মা, ভাই ও বোনের কাছ থেকে তাদের পৈতৃক জমির অধিকাংশই পীরের দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করা হয়। আর একরামুল আহসান ও তার ভাইয়ের অংশটুকু পীর ও তার দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করার জন্য পীর দিল্লুর ও তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে চাপ দেন। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে একরামুল আহসানের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। সে শত্রুতার কারণেই একরামুল আহসানের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় হয়রানিমূলক মামলা করেন পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীরা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, একরামুল আহসানের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মোট ৪৯টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে জিআর মামলা ২৩টি এবং সিআর মামলা ২৬টি। ইতিমধ্যে জিআর ১৫টি মামলা এবং সিআর ২০টি মামলায় আবেদনকারী আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। আরও বলা হয়, অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানব পাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টার মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও ধর্তব্য ধারায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মামলা করা হয়েছে। অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভুক্তভোগীর কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং ওই দরবার শরিফের পীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

চেক লেনদেনের নতুন নিয়ম

চেকদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনও বৈধ চুক্তি প্রমাণ করতে না

পারলেও এখন থেকে চেক ডিজঅনার হলেই সাজা হবে না মর্মে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশ হয়েছে।

এ রায়ের ফলে এখন থেকে বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে কী চুক্তিমূলে বা বিবেচনায় চেকদাতা চেক ইস্যু করেছিলেন এবং সেই চুক্তিটি ব্যর্থ হয়নি যার কারণেই বিবাদীর কাছে বাদীর পাওনা বলবৎ রয়েছে।

জানা গেছে, আগে চেক ডিজঅনার হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেকদাতার সাজা হতো। চেকমূলে চেকগ্রহীতার টাকা পাওয়ার কোনো কারণ আছে কি না, সেটি দেখার বাধ্যবাধকতা বা দিক নির্দেশনা ছিল না।

এখন থেকে চেকগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে যে, চেকদাতা ও চেকগ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো বৈধ চুক্তি ছিল কি না। সে চুক্তির শর্ত তিনি পূরণ করেছেন কিনা। তাহলেই কেবল চেক ডিজঅনার মামলায় সাজা হবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত এক আপিল নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে চেকদাতারা তাদের নির্দোষ প্রমাণের একটা সুযোগ পেল। এছাড়া এ রায়ের ফলে চেক সংক্রান্ত মামলায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নদীতে গোসলে নেমে ৩ ছাত্রীর মৃত্যু, নিখোঁজ ১

তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে চার ছাত্রী পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিখোঁজ আরেকজনকে  উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন ডুবুরি দলের সদস্যরা।

আজ সোমবার দুপুরে গাজীপুরের পাইনশাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে তিন ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় বইছে শোকের মাতম। ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

নিহত তিনজন হলো, সদর উপজেলার পাইনশাইল এলাকার সোলেমানের মেয়ে রিচি আক্তার, হায়েত আলীর মেয়ে আইরিন, মো. মঞ্জু হোসেনের মেয়ে মায়া আক্তার। আইরিন গাছপুকুর পাড় দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী, রিচি ভাওয়াল মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ও মায়া ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। নিখোঁজ রিয়া আক্তার স্থানীয় সোলেমানের মেয়ে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, পাইনশাইল উত্তর পাড়ায় সোমবার দুপুর ১টার দিকে পাঁচ ছাত্রী তুরাগ নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় একজন পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে অন্য তিনজনও তলিয়ে যায়। অপর শিক্ষার্থী তীরে উঠে লোকজনদের জানালে স্থানীয়রা রিচি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

খবর পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নিখোঁজ আইরিন ও মায়ার মরদেহ উদ্ধার করে তারা। তবে এখনও রিয়ার কোনো সন্ধান পায়নি ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছেন।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহতাব উদ্দিন জানান, বিকেল পর্যন্ত তিন ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তৎপর রয়েছে।