জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষা থাকছে না : দীপু মনি

২০২৩ সাল থেকে জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষা থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা হবে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ওপর। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ওপর। এইচএসসির নাম ও গ্রেডিং পদ্ধতিতেও পরিবর্তন হতে পারে।’

এ ছাড়া ক্লাস থ্রি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না বলেও জানান তিনি। ডা. দীপু মনি বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না। নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুযায়ী ক্লাস থ্রি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। পিইসি পাবলিক পরীক্ষা না। এই পরীক্ষা অন্য সমাপনী পরীক্ষার মতোই হবে।’

নতুন প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষাক্রমে নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের বিভাজন করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান-মানবিক ও বাণিজ্য কোনো বিভাগ থাকবে না। দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবাইকে ১০টি বিষয়ের সব পড়তে হবে। মাদরাসা ও কারিগরির ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট বিষয়সহ পড়তে হবে।’

সনদ সর্বস্ব শিক্ষা নয়, পারদর্শিতাকে নতুন রূপরেখায় জোর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক সব শ্রেণির ক্ষেত্রে এই রূপরেখা বাস্তবায়ন হবে।’

ব্রিফিংয়ের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও কমে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪১

আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬ হাজার ৯৭২ জনে।

একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৫৩ জনের। এতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৩৬৬ জনে। শনাক্তের হার ৭.৬৯ শতাংশ

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, গতকাল রোববার ৫১, শনিবার ৪৮, শুক্রবার ৩৮, বৃহস্পতিবার ৫৮, বুধবার ৫২, মঙ্গলবার ৫৬ ও সোমবার ৬৫ জনের মৃত্যু হয়।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস শিক্ষকরা উন্মুখ: ৫৪৪ দিন পর খুলল স্কুল-কলেজ

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারলেও স্কুলে যাওয়া হয়নি। এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হলেও পা রাখা হয়নি ক্যাম্পাসে। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনাভাইরাস মহামারি। বৈশ্বিক এই মহামারির অবসান না হলেও বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের পড়ুয়াদেরও শ্রেণিকক্ষে ফেরার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে। আজ রবিবার খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ। এর আগে দুই দফা উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি ওঠে। অবশেষে ৫৪৪ দিন পর খুলে দেওয়া হলো প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার তারিখ আগেই ঘোষণা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাকে স্বাগত জানায় বিভিন্ন মহল। সে অনুযায়ী আজ শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ ও পরে ২৩ মে দ্বিতীয় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলে আসায় তা সম্ভব হয়নি।
যদিও করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত বছরের এপ্রিল থেকেই টেলিভিশনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ক্লাস প্রচার শুরু হয়। এরপর বড় স্কুল-কলেজগুলো এবং পরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অনলাইনে ক্লাস শুরু করে। কিন্তু মফস্বল এবং দরিদ্র পরিবারের ডিভাইস ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় সব শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারেনি। ফলে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এ অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি ওঠে। যে কারণে করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকলেও স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের কাছাকাছি এলেও খোলা হয়নি।

টঙ্গীস্থ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জিয়াউর রহমান মামুন

গত ৫ সেপ্টেম্বর আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলায়ও বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গত ২৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে একমত হয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার জন্য সরকার শিক্ষার্থীদের টিকাদানে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এর চেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও সেটা বেশি দূর এগোয়নি।
ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। আর দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান প্রথম। দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও আছে। অনেক দেশই স্কুল খোলার পর সংক্রমণের কারণে পুনরায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর সাকলায়েন,গাজীপুরের টঙ্গীস্থ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জিয়াউর রহমান মামুন ,আশরাফ টেক্সটাইল মিলস্ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন ও হাজী সাইদ ল্যারবেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো: সৈয়দ আতিক বলেন, ‘আমরা স্কুল খুলে দেওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে আমরা চাই আমাদের বাচ্চাদের টিকা নিশ্চিত করতে। যদি তাদের টিকার আওতায় না নিয়ে আসা যায়, তাহলে বড় ধরনের ম্যাসাকারও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খুলে দেওয়ার পর এক দিনে আড়াই লাখ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এসবও আমাদের ভাবতে হবে।’
এ বিষয়ে সরকারও সতর্ক। সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
সরকারের নির্দেশনা : স্কুল-কলেজ খুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা; শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা; প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে সে বিষয়ে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকরণ ব্রিফিং করা; শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঠিকভাবে মাস্ক (সম্ভব হলে কাপড়ের মাস্ক) পরিধান নিশ্চিত করা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা; স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিতকরণ কমিটি করা অন্যতম।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। উপজেলার সব স্কুলে তামপাত্রা মাপার যন্ত্র কেনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে। যদি কারো মাস্ক না থাকে তাহলে স্কুল থেকে ওই শিক্ষার্থীকে মাস্ক দেওয়া হবে। আমরা এখন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
যেভাবে চলবে ক্লাস : ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের ছয় দিন ক্লাস করবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শুরুতে সপ্তাহে এক দিন আসবে। নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কোন শ্রেণির কবে ক্লাস তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষই ঠিক করবে। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন শ্রেণির কবে ক্লাস, তা ঠিক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বন্যাকবলিত জেলা ও উচ্চ মাত্রার করোনা সংক্রমণ এলাকার স্কুল খোলার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রথম ক্লাসে আসবে অনেক শিক্ষার্থী : করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগেই গত বছরের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়। তবে ফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়। যারা পাস করে তাদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিও আটকে যায়। গত অক্টোবরে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। নভেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু কলেজে ভর্তি হয়েও তারা প্রায় ১০ মাস পর আজ শ্রেণিকক্ষে আসছে।

এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীই এ বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। আবার অনেকে স্কুল বদল করে অন্য স্কুলে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। বছরের আট মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এত দিন স্কুলে আসতে পারেনি। অনলাইনে ক্লাস চললেও তারা এখনো শিক্ষকদের চেনে না, বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হয়নি। তারাও এ সপ্তাহেই প্রথম ক্লাসে আসবে।
গত নভেম্বরে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় পায়েল মজিদ অরণি। সে আজই প্রথম কলেজে যাচ্ছে। সে কালের কণ্ঠকে বলে, ‘এত দিন বাসায় আটকে ছিলাম। পড়ালেখায় মন বসেনি। এখন মনে হচ্ছে সেই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছি। বান্ধবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এ ছাড়া অনেক নতুন বান্ধবীও পাব। সব মিলিয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’
অরণির ছোট ভাই নাবিল মজিদ অন্তর এ বছর রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। অন্তর কালের কণ্ঠকে বলে, ‘বাবা নতুন ড্রেস কিনে দিয়েছে, জুতো কিনে দিয়েছে। নতুন স্কুলে যেতে আমার খুবই ভালো লাগছে।’
সংক্রমণ বাড়লে ফের বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল জামালপুরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পরও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফের বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকলেও পড়াশোনা বন্ধ ছিল না। টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশোনা চালানো হয়েছে।’ কোনো শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে বা উপসর্গ থাকলে তাদের বিদ্যালয়ে না পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি।
আটকে আছে দুই পাবলিক পরীক্ষা : প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার করোনার প্রাদুর্ভাবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবস ও এইচএসসির জন্য ৮৪ কর্মদিবসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করলেও সে অনুযায়ী ক্লাস করানো সম্ভব হয়নি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কমে আসতে থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মধ্য নভেম্বর থেকে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের প্রথমে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তিনটি ঐচ্ছিক বিষয়ের ছয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সাবজেক্ট ম্যাপিং করে আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে বাকি বিষয়গুলোর নম্বর দেওয়া হবে।
গত বছরের এইচএসসি ও সমমানে অটো পাস : করোনার কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও এসএসসি পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে, যা অনেকটা অটো পাসের মতোই। এতে ৯ হাজার ৬৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফরম পূরণের আবেদন করে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন।
দেড় বছরে কোনো পরীক্ষাই হয়নি : স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকাকালে কোনো পরীক্ষাই হয়নি। পাবলিক পরীক্ষা না হলেও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে আগ্রহ থাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিশেষ প্রস্তুতিও নেয়। কিন্তু গত বছর এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরীক্ষা নেওয়াই সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া স্কুলগুলোর প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষাও হয়নি। সব শিক্ষার্থীকেই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শহরের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেলেও মফস্বল ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ পায়নি। তাদের ডিভাইস, ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখার বাইরে চলে গেছে। টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার করলেও তা দেখতে পায়নি অনেকে। আবার এসব ক্লাস মনোযোগও আকর্ষণ করতে পারেনি। ফলে বড় রকমের শিখন ঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। যেহেতু এ বছরেরও আট মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তাই এই শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা কষ্টকর হয়ে পড়বে।
বন্ধ ১০ হাজার কিন্ডারগার্টেন, লাখো শিক্ষকের পেশা বদল : কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সরকারি কোনো অনুদান নেই। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিতেই চলে এসব স্কুলের বাড়িভাড়া, শিক্ষকদের বেতনসহ নানা খরচ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর এসব স্কুলও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর্থিক অনটনে বাড়িভাড়া দিতে না পারায় অনেক কিন্ডারগার্টেনই গুটিয়ে গেছে। এসব স্কুলের অনেকগুলোই আর খুলবে না। স্কুল উঠে যাওয়ার পর কোনো কোনো ভবন মেস, গোডাউন বা ফ্ল্যাট হিসেবে ভাড়া হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে অনেক শিক্ষক পেশা ছেড়ে দিয়েছেন, যাঁদের কেউ কেউ আর এ পেশায় ফিরতে পারবেন না। অনেক শিক্ষক সবজি বিক্রি, দোকানের কর্মচারী, নানা ধরনের হকারি ব্যবসা করে জীবনধারণের উপায় খুঁজে নিয়েছেন। অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের তথ্য মতে, দেশে কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার, যেগুলোর অর্ধেকই করোনাকালে বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ স্কুল ছেড়ে দিয়ে দু-এক রুমের বাসায় মালপত্র রেখে অপেক্ষা করছে। তবে ২০ শতাংশ বা প্রায় ১০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল আর খুলবেই না।
বেতন পাননি ৮ লাখ বেসরকারি শিক্ষক : দেশের ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। যেহেতু এসব স্কুলে টিউশন ফি বন্ধ, তাই তাঁরা গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন পান না। এ ছাড়া দেশের সাত-আট হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীও দেড় বছর বেতন পান না। যদিও সরকার তাঁদের দুই দফায় প্রণোদনা দিয়েছেন। প্রতিবার শিক্ষকদের পাঁচ হাজার ও কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অনেক স্কুলেই খণ্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারী রাখা হয়। স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদেরও বাদ দেয় কর্তৃপক্ষ, যাঁদের সংখ্যা লক্ষাধিক। সব মিলিয়ে বেসরকারি আট লাখ শিক্ষক-কর্মচারী গত দেড় বছরে দুর্দশার মধ্যে আছেন।

৭৭৯ মেগাওয়াটের ৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন। আজ রোববার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উদ্বোধন করেন তিনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্র পাঁচটি হচ্ছে- হবিগঞ্জের জুলদায় বিবিয়ানা-৩ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জে মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, বাগেরহাটে মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উত্তরণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসেকা আয়েশা খান, জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিসুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)’র চেয়ারম্যান এবং গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০০৯ সালে কাজ শুরুর পর সরকার সফলভাবেই ২০ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ১১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছিল। তবে এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে- যা ২০০৯ সালে ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট।

ভাড়া না থাকায় ২ শিশুকে নদীতে ফেলে দিলো লঞ্চ কর্তৃপক্ষ!

ভাড়া না থাকায় দুই শিশুকে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, শিশু দুইটি লঞ্চে পানি বিক্রি করছিল। ভাড়া চেয়ে না পাওয়ায় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের নদীতে ফেলে দেয়।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া মেঘনা নদী থেকে শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের নাম সজীব (১২) ও আরেকজনের নাম মেহেদুল (১৩)। তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। গজারিয়া থানা পুলিশের ফেসবুক পেজে শনিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা জানানো হয়।

এ ব্যাপারে গজারিয়া থানার ওসি রইস উদ্দিন জানান, বেলা ১১টার দিকে স্পিডবোটে মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় দুই শিশুর চিৎকার শুনে তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে নিয়ে আসি। শিশু দুইটি লঞ্চে পানি বিক্রি করে। ইমাম হাসান-৫ নামের একটি লঞ্চে তারা ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিল। ভাড়া না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাদের লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়। তাদেরকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে নিয়ে এসে সেখানে দুপুরের খাবার খেতে দেই। পরে ভাড়া দিয়ে চাঁদপুরগামী অন্য লঞ্চে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলে দেই।

সংক্রমণ বাড়লে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ : দীপু মনি

খোলার পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে পুনরায় তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ শনিবার সকালে জামালপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর রোববার থেকে খোলা হচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা কম। তারপরও সংক্রমণ বেড়ে যাবার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফের বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

কোনো শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে বা উপসর্গ থাকলে তাদেরকে বিদ্যালয়ে না পাঠানোর অনুরোধও জানান ডা. দীপু মনি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের কয়েকদিন পর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়। প্রায় দেড় বছর পর আগামী রোববার থেকে আবার সব স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তবে দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকলেও পড়াশুনা বন্ধ ছিল না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশুনা চালানো হয়েছে।’

এদিকে বছরের শেষভাগে এসএসসি ও এইচএসসির পাশাপাশি পঞ্চমের প্রাথমিক সমাপনী, অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিস এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

জামালপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরে দীপু মনি জামালপুর পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করেন। এ সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরপেক্ষ সরকার ও ইসি ছাড়া নির্বাচন নয় : মির্জা ফখরুল

নিরপেক্ষ সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠন ছাড়া দেশে আগামীতে জাতীয় নির্বাচন হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত দুদিন আগে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আজ শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এই হুশিয়ারি দেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান মহিলা দল প্রতিষ্ঠা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) নির্বাচনের কথা বলেছেন, তার দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কোন নির্বাচন? যে নির্বাচন শুধু মাত্র আপনাকে নির্বাচিত করবে সেই নির্বাচন, যে নির্বাচনে আমাদের জনগন যারা ভোটার আছে তারা ভোট দিতে যেতে পারবে না, ভোটকেন্দ্রে গেলে তাদেরকে বেইজ্জতি করা হবে, নির্যাতন করা হবে সেই নির্বাচন? যে নির্বাচনের আগের রাতেই আপনারা দখল করে নিয়ে চলে যাবেন সেই নির্বাচন? যে নির্বাচন আপনাদের ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটা পথ সুগম করবেন সেই নির্বাচন?’

এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘নির্বাচন একটা হবে। সেই নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, সেই নির্বাচন হতে হবে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়। আর সবার আগে গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং একই সঙ্গে মুক্ত করতে হবে যারা কারাগারে আছেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যাদেরকে আটক রাখা হয়েছে তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে। আর ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে সেই মামলাগুলোকে প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে কোনো নির্বাচন হবে না এদেশে।’

নির্বাচন কমিশন গঠন সংসদ আইন প্রণয়নে আপত্তি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন গঠন হবে তখনই যখন একটা সত্যিকার অর্থেই একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হতে পারে সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। আইন করা হবে বলছেন। কোন আইন? আপনারা আইন করবেন পার্লামেন্টে যেখানে আর কেউ নেই, কথা বলার সুযোগ নেই বা আপনারা একতরফা আইন পাস করবেন যা আপনাদের সুবিধার জন্য। সেই আইনের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে সেটাও এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেওয়াজ হালিমা আরলি, হেলেন জেরিন খান, ইয়াসমীন আরা হক, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণই পরবর্তী সরকার নির্বাচন করবে : কাদের

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণই তাদের পরবর্তী সরকার নির্বাচন করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতার পালাবদলের কোনো সাংবিধানিক পথ নেই। আজ শনিবার বিকেলে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

গত ১৩ বছরের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে বিএনপিকে এখন নির্বাচনমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের রায় মেনে নেওয়ার সৎসাহস শেখ হাসিনার আছে, তাই এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন।’ এসময় তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে গত একযুগ ধরে কোনো লাভ হয়নি, বাকি সময়েও লাভ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।’

আন্দোলন শুরু হলে মানুষ রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়বে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়াতো দূরের কথা, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপি নেতারাই ঝাঁপ বন্ধ করে ঘরে অবস্থান নেয়। হিন্দি সিরিয়াল দেখে আর জানালা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে পুলিশের গতিবিধি লক্ষ্য করে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১২ বছর ধরে বিএনপির কথিত আন্দোলনের ডাক রাজপথে কোনো কম্পন তুলতে পারেনি, তাই জনগণ মনে করে এসব হাঁক-ডাক আষাঢ়ে গল্পের মতো।’ ফেসবুক আর মিডিয়ায় যতটা গর্জে, বাস্তবে রাজপথে ততটা বর্ষে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন জনঘনিষ্ট ইস্যু ও যুৎসই সময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও গণমুখী রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলো ইস্যুর খরায় ভুগছে। এজন্যই এই মুহূর্তে দেশে বিএনপির কথিত আন্দোলনের অবজেক্টিভ কোনো অবস্থা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ভাবছে আন্দোলনের ডাক দিলেই মানুষ হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসবে। প্রকৃতপক্ষে এসব তাদের আকাশকুসুম ভাবনা। বিএনপি নেতারা যা বলছেন নিজেরাও তা বিশ্বাস করে না বলে জনগণ মনে করে না।’ ওবায়দুল কাদের মনে করেন, গত একযুগের বেশি সময় ধরে আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতা থেকে বিএনপি কোনো শিক্ষা নিতে পেরেছে বলে মনে হয় না।

বিএনপি নেতারা সরকারের বিরোধিতাকে দেশবিরোধীতায় নিয়ে গেছেন, তারা ক্ষমতার জন্য রাষ্ট্রের ইমেজ নষ্ট করতেও ভ্রুক্ষেপ করছে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নিজেরা আন্দোলন তো করতেও পারেই না, আবার পরাশ্রয়ী আন্দোলনে ভর করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, জনমানুষের প্রয়োজনে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে জনগণও কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের আহ্বানে সাড়া দেয় না। তিনি বলেন, ‘এসব কথা বুঝতে পেরেই বিএনপি অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা ফিরে পেতে ব্যাকুল হয়ে দিগ্বিদিক ছুটছে।’

মুক্তিপনের টাকা না পেয়ে টঙ্গীতে স্কুল ছাত্র হত্যা

মুক্তিপনের টাকা না পেয়ে টঙ্গীতে স্কুল ছাত্র হত্যা

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গীতে মুক্তিপনের টাকা না পেয়ে উত্তরা মডেল স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইসমাইলকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামী রবিউল ইসলাম রবু (২২) গত ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুর আদালতে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহ আলম জানান, স্কুল ছাত্র ইসমাইল হোসেন উত্তরা থেকে গত ১৬ মার্চ ২০২১ ইং তারিখে নিখোঁজ হয়। অনেক খোজাঁখুজি করে ছেলের সন্ধান না পেয়ে দরিদ্র মুদি দোকানদার বাবা নূরনবী আশ্রয় নেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তুরাগ থানায় ১৮ মার্চ ২০২১ইং তারিখে করেন একটি নিখোঁজ জিডি করেন। গত ১৯ মার্চ ২০২১ইং তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গুটিয়ায় তুরাগ নদীর শাখা নদীর কিনারায় একটি লাশ ভাসমান অবস্থায় আছে মর্মে খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ এসআই সাব্বির হোসেন এর আন্তরিকতায় (মামলার বাদী) অজ্ঞাতনামা লাশটি উদ্ধারপূর্বক সুহরতহাল রিপোর্ট লিখে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। পুলিশ নিখোঁজ ইসমাইলের বাবা নুরনবীর নিকট একাধিকবার গিয়ে এবং থানায় নিয়ে আসে। নুরনবী লাশটি দেখে প্রথমে চিনতে না পারলেও পরে জামাকাপড় দেখে চিৎকার করে উঠে নিশ্চিত করে এটা তার সন্তান ইসমাইল এর লাশ। তথাপিও ভিকটিম ইসমাইল হোসেন যেই সেলুনে চুল কাটত সেই সেলুনের মালিক কে নিয়ে এসে মাথার চুলের কাটিং দেখে আমরা ভিকটিমের পরিচয় অধিকতর নিশ্চিত হয়। লাশটির পরিচয় নিশ্চিত হবার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির—পিপিএম, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিণ) ইলতুৎ মিশ মামলাটি অধিকতর গুরুত্ব বিবেচনায় রহস্য উদঘাটনে আমাদেরকে ধারাবাহিক তদন্তের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সার্বিক দিক নির্দেশনায় হত্যাকান্ডের শিকার ইসমাইলের পিতা নুরনবীর সাথে কথা বলে জানা যায় একটি নাম্বার থেকে একাধিকবার ফোন দিয়ে ১০/১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। এই তথ্যের উপড় মামলাটি নতুন মোড় নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব—ইন্সপেক্টর ইয়াসিন আরাফাত নাম্বারের রেজিষ্ট্রেশন বের করে দেখেন নাম্বারটি একজন মহিলার নামে রেজিষ্ট্রেশন করা এমতাবস্থায় সে দীর্ঘ কললিস্ট সিডিআর সংগ্রহ করে। মোবাইলের সিডিআরের তথ্যানুযায়ী এক মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে মহিলা জানায় তার মোবাইলটি একমাস পূর্বে হারিয়ে যায়। কোথায় হারিয়েছে জানতে চাইলে মহিলা জানায় সে হামীম গ্রুপের গার্মেন্টসে চাকরি করে এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা হামীম গ্রুপের সিসি ক্যামেরা রেকর্ড সংগ্রহ করেন এবং দেখতে পারেন এক মহিলা মোবাইলটি নিয়েছে। ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে জানায় সে মোবাইলটি তার স্বামী আতাউল কে দিয়েছে।এই সুত্র ধরেই এসআই/আরাফাত গ্রেফতার করে আতাউল কে। আতাউল হত্যার কথা স্বীকার করে জানায় টাকার লোভে তার বন্ধু রবিউল ইসলাম রবু ও নেয়ামুলের সহযোগিতায় তারা ইসমাইল কে অপহরণ ও হত্যা করে। তার তথ্যামতে গ্রেফতার হয় নেয়ামুল।কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় রবিউল ইসলাম রবু।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক—নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শুভ মন্ডল সঙ্গীয় এস আই অরবিন্দ বিশ্বাস তুরাগ থানাধীন, ডিএমপির এলাকা হতে সারা রাত অভিযান পরিচালনা করে ভোর ৬টার দিকে আসামী রবিউল ইসলাম রবু (২২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।

ভেঙে পড়ল আমিনবাজারের বেইলি ব্রিজ, নৌ চলাচল বন্ধ

ঢাকার গাবতলী এলাকার আমিনবাজার-আশুলিয়া নৌপথের আমিনবাজার পুরাতন লোহার বেইলি ব্রিজ নদীতে ভেঙে পড়েছে।  তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় ওই রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিত্যক্ত ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর বিকেলে বিআইডব্লিউটিএ একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব নৌযানের মালিক/মাস্টার/ড্রাইভারসহ নৌ-অপারেটরদের জানানো যাচ্ছে যে, আমিনবাজার-আশুলিয়া নৌপথের আমিনবাজার পুরাতন লোহার বেইলি ব্রিজ নদীতে ভেঙে পড়ায় নৌপথটি নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপদ নৌ চলাচলের স্বার্থে ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি নৌপথ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত নৌ চলাচল আপাতত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজের স্থানে লাল পতাকা এবং লালবাতি স্থাপন করা হয়েছে।