বসুন্ধরার এমডিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণ ও হত্যার’ মামলা মুনিয়ার বোনের

মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এবার ‘হত্যা ও ধর্ষণের’ মামলা করেছেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।  

সোমবার ঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মাফরুজা পারভীনের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান।

বসুন্ধরার এমডি আনভীরের পাশাপাশি তার বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা এবং শারমিন, সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলায় কী অভিযোগ করা হয়েছে জানতে চাইলে বাদীর আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, “সায়েম সোবহান আনভীর ফুসলিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুনিয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাকে বিয়ে না করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আর এতে তার পরিবারের সদস্যসহ অন্য আসামিরা সাহায্য করে।”

তিনি বলেন, “আমরা আটজনকে আসামি করেছি। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

 

 

গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।

সেখানে বলা হয়, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে সায়েম সোবহান আনভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুনিয়ার সঙ্গে। ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।

সেই অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো ‘সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি’ জানিয়ে গত ১৯ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

পুলিশের ওই প্রতিবেদনে অনাস্থা (নারাজি) জানিয়ে মুনিয়ার বোন, মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া অন্য কেনো সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের আবেদন করেছিলেন। তা খারিজ করে ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী গত ১৮ অগাস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সায়েম সোবহান আনভীরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

বাদীর অন্যতম আইনজীবী ব্যরিস্টার এম সরোয়ার হোসেন সেদিন বলেছিলেন, “আমরা উচ্চ আদালতে রিভিশন চাইব। এ রকম আদেশ আমরা আগেই জানতাম।”

মুনিয়া ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; পরিবার সেখানেই থাকেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি।

মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়টি ডায়েরি ছিল। সিসিটিভির ভিডিও পরীক্ষা করে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথাও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।

তবে তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায়’ আনভীরের ‘সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার’ কথা বলা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

 

টঙ্গীতে যুব মহিলা লীগের কমিটি বাতিলের দাবীতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

নবগঠিত টঙ্গী পূর্ব থানা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবীতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে পদবঞ্চিত টঙ্গী পূর্ব থানার যুব মহিলা লীগের কমীর্রা। টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১১টা ৩৫মিনিট পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। অবরোধ চলাকালে এই সড়কে চলাচলকারী কয়েক শতাধিক যানবাহন রাস্তার দু’পাশে আটকে পড়ে এবং কয়েক হাজার যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো: শাহ্ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এরপর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, রোববার টঙ্গীর হাজী কছিম উদ্দিন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে কয়েক শতাধিক নেতাকমীর্দের উপস্থিতিতে গাজীপুর জেলা মহিলা যুবলীগের আহ্বায়ক রুহুন নেছা রুনা ও যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারা বেগমের আনু মহিলা যুবলীগ টঙ্গী পূর্ব থানার আহ্বায়ক কমিটি ও পশ্চিম থানার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে।
টঙ্গী পূর্ব থানার নতুন আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবীতে পদবঞ্চিত নেতাকমীর্রা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। টঙ্গী পূর্ব যুব মহিলা যুবলীগের কমীর্রা সকালে টঙ্গী প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে যুব মহিলা লীগের কমীর্রা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান করে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদ্য বাতিলকৃত টঙ্গী পূর্ব থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি সুলতানা শোভা ও সাধারণ সম্পাদীকা শিল্পী আক্তারসহ শতাধিক নেতাকমীর্।
অবরোধ শেষে টঙ্গী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা শোভা বলেন, দুইদিন পর পর গাজীপুর মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক রুহুন নেছা রুনা ও যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার সরকার আনু কমিটি ঘোষণা দেবেন আমরা তা মেনে নিতে পারবো না। আমি টঙ্গী পূর্ব থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি আমাকে বহিষ্কার না করে আরেক জনকে কিভাবে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন এটা কোন সাংগঠনিক কাজ হতে পারেনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই ।
এ সময় শিল্পী আক্তার জানান, দীর্ঘ ৪ বছর যাবত আমি যুব মহিলা লীগের সাথে রাজনীতি করে আসছি। বেশ কিছুদিন আগে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাকে বহিষ্কার করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নাজমা আপার কাছে আমাদের দাবি, গাজীপুর মহানগরের নতুন নেতৃত্ব চাই। তাহলে আমরা নতুন করে সাংগঠনিক নিয়ম গুলো জানতে পারবো।

আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার আশা মাহমুদউল্লাহর

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় তা ফিকে হয়ে গেছে। ৭৬ রানে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৫২ রানের বড় পরাজয় বরণ করলো স্বাগতিকরা। এমন ম্যাচে স্বভাবতই ব্যাটসম্যানদের দুষলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে আগামী ম্যাচে আরও শক্তিশালী হয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আলাপচারিতায় রিয়াদ দায়ভার চাপিয়েছেন ব্যাটিং অর্ডারের ওপরই। ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জেতা যেত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তাড়া করার মতই ছিল। বোলাররা ভালো করেছিল। আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। কিন্তু শুরুর ছন্দটা ধরে রাখতে পারিনি। আশা করি আরও শক্তিশালী হয়ে প্রত্যাবর্তন করব।’

মিডল অর্ডারের প্রশংসা করলেও বড় পার্টনারশিপের ঘাটতির কথা টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় মিডল অর্ডার ভালোই করছে। গত ম্যাচে টপ অর্ডার ভালো করেছিল। আজও ভালো শুরু করেছিল। আজ মিডল অর্ডারে পার্টনারশিপ হয়নি। আশা করি পরের ম্যাচে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো। এখনও আরও দুটি ম্যাচ বাকি আছে। পরের ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের চেষ্টা করব।’

আমি শেখ মুজিবের মেয়ে, শুধু শাসক নই সেবক : প্রধানমন্ত্রী

জনগণের সেবা ও কল্যাণ করাই সবচেয়ে বড় কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি শুধু শাসক নই, বাংলাদেশের মানুষের সেবক। জনগণের সেবা ও কল্যাণ করাকেই সবচেয়ে বড় কাজ বলে মনে করি। সেই ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।’

আজ রোববার সকালে নৌ ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ (প্রথম পর্ব) ২০২১-এ অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ঢাকা সেনানিবাসের নৌ ও বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি এ সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী আজ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে বিরল সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে। ’

করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের দায়িত্ব। আমাদের সশস্ত্রবাহিনী সবসময় এ কাজ করে থাকে। যখনই দুর্যোগ এসেছে, সাধারণ মানুষ তাদের সেবা পেয়েছে।’

‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা দক্ষ, তারা প্রমোশন পেয়ে প্রত্যেকটি বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকে কর্তব্য পালনে অনেক দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেন। কাজেই, তারাও যেন অবহেলিত না হন, সেটিও বিবেচনা করতে হবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরীক্ষার্থীদের প্রতিদিন, বাকিদের সপ্তাহে এক দিন ক্লাস

২০২১ এবং ২০২২ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলে আসতে হবে। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস এবং মাধ্যমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে এক দিন।

আজ রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বিকেল সোয়া ৩টায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। সভাশেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাস্ক পরা ছাড়া কেউ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। একেবারে কমবয়সী যারা, তাদের কোনো সংকট হচ্ছে কি না তা শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে।’

দীপু মনি আরও বলেন, ‘শুরুতে চার ঘণ্টা করে ক্লাস হবে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির ক্লাসের সময় বাড়ানো হবে।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

মাথায় গুলি করে চোখ তুলে নেয় তালেবান, ভয়াবহ বর্ণনা আফগান নারীর

হঠা& করেই থমকে যায় আফগানী খাতেরা হাশমির দৈনন্দিন জীবন। আর পাঁচটা দিনের মতো সেদিনও কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন খাতেরা হাশমি। ক্লান্ত, অবসন্ন। কিন্তু বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়েছিল তিন-চার জন। যাদের দেখেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায় খাতেরার, কারণ ওরা তালেবান।

এর পরের ঘটনা এক ঝটকায় বদলে দেয় খাতেরার জীবন। লন্ডভন্ড হয়ে যায় সংসার। সম্প্রতি এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই বিভীষিকাময় দিন মনে করেছেন খাতেরা। তিনি জানিয়েছেন, গত বছর কীভাবে ওই তিন-চারজন তালিবান প্রথমে তাকে ছুরি মারে, তারপর সরাসরি মাথায় গুলি! একেবারে শেষে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে বের করে নেওয়া হয় খাতেরার একটি চোখ। মৃত্যু হয়েছে ভেবে তালেবান জঙ্গিরা তাকে সেখানেই ফেলে চলে যায়। কিন্তু মারা যাননি খাতেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে কাবুলের হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি আসেন ভারতে। সেই থেকে ভারতেই আছেন আফগান পুলিশের প্রাক্তন ওই নারী কর্মকর্তা। তবে তার সন্তানরা এখনো আফগানিস্তানে।

এই সন্তানদের নিয়েই দুশ্চিন্তায় কাটছে খাতেরার বর্তমান দিনগুলো। সাক্ষাৎকারে খাতেরা জানিয়েছেন, এখন প্রতি দিন সকাল-সন্ধ্যায় তালিবান বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাচ্চাদের বলছে, মা-বাবা না ফিরলে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। বিগত ৯-১০ দিন বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি খাতেরা। কী হল তাদের? তালিবানের ভয়ে লুকিয়ে পড়ল কোথাও, নাকি তালিবানের হাতেই পড়তে হলো? চিন্তায় পড়েছেন দুই সন্তানের মা খাতেরা।

নিজের জীবনের আরও একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন খাতেরা। জানিয়েছেন, আফগান পুলিশে কাজ নেওয়া পছন্দ ছিল না খাতেরার বাবার। বাবার বারণ উপেক্ষা করেই নাম লিখিয়েছিলেন পুলিশে। পরবর্তীতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জানতে পারেন, বাবাও ছিলেন তালেবানের দলে, গোটাটা আগে থেকেই জানতেন। ‘আব্বু’কে ক্ষমা করতে পারেননি খাতেরা। খাতেরা বলছেন, ‘‘তালেবান একই আছে। কোনো বদল নেই। আজও তালেবানের মূল লক্ষ্য নারীরা। আজও আফগানিস্তানে নারীদের সবচেয়ে বড় অপরাধ বাড়ির বাইরে বের হওয়া।’

গাজীপুরে পিকআপ ভ্যান চালক সেলিম সরদার হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার

  1. গাজীপুরে পিকআপ ভ্যান চালক সেলিম সরদার হত্যার ঘটনায় আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ৭টি পিকআপ ভ্যানও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ডাকাত দলের সর্দার মারুফ হোসেন ও তার সহযোগী এনামুল, আমিনুল ইসলাম, শামীম হোসেন ও আব্দুল আহাদ।

তাদেরকে গাজীপুর ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। সকালে মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার উত্তরের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারি উপপুলিশ কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ এসব তথ্য জানান।

এসময় তিনি আরো জানান, গত পহেলা সেপ্টেম্বর নগরীর বাসন এলাকায় চালক সেলিমকে হত্যা করে তাঁর পিকআপ ভ্যান ছিনতাই করে নিয়ে যায় ওই ডাকাত দল। পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ঘাতকদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করে।

স্কুল-কলেজে সপ্তাহে একদিন ক্লাস

 

স্কুল-কলেজ খোলার পর প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একদিন ক্লাস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আজ শনিবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি কেয়ার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাখাতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় অনলাইনে, অফলাইনে ও টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করেছি। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাসহ সব পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়।’

‘আমরা আশা করছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী যে সুনির্দিষ্ট তারিখ দিয়েছেন তারপর থেকে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ক্লাস শুরু করতে পারব। প্রাথমিকভাবে একদিন করে ক্লাস নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছি। আপাতত এটাই আমাদের পরিকল্পনা। তবে সেটা পরিবর্তন হতে পারে’, যোগ করেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এর আগে গতকাল শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, স্কুল-কলেজ ‘খোলার জন্য আমরা আগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বরকে আমরা নির্ধারণ করেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও অ্যাসাইনমেন্ট প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’

দেশে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ১ লাখ ৮৩ হাজার

দেশে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬০ জন। আজ শনিবার জাতীয় সংসদে এ কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৩ আসনের সরকার দলীয় এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যাদের নাম বেসামরিক গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক গেজেট বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন অন্তর্ভুক্তি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাতিল সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭০০ সদস্যের পরিবারকে সরকার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর অংশ হিসেবে ১৩টি পরিবারকে সন্মাননা দেওয়া হয়েছে। বাকি সন্মাননার ক্রেস্টগুলোতে মূল্যবান ধাতু রৌপ্য দ্বারা নির্মিত স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি থাকায় তা নিরাপত্তা হেফাজতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্রেস্ট প্রাপকের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সেই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণের অভিযোগে রানা মিয়া (২৭) নামের এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত মঙ্গলবার নরসিংদীর পলাশ থানার পুলিশ কনস্টেবল রানা মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে গৌরীপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাবা।

এরপর প্রথমে তাকে ক্লোজড করা হয়। পরবর্তীতে রানাকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। রানা মিয়া গৌরীপুর উপজেলার খালিজুরী গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি নরসিংদীর পলাশ থানায় পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাড়ি একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী গ্রামে।

জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল রানা বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ওই কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। গত ২৮ আগস্ট রাতে বাড়ির সামনে বাগানে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে স্থানীয়রা। এ নিয়ে ওই রাতে সালিস চলাকালে রানা কৌশলে পালিয়ে যান। তাই পরদিন বিকেল থেকে ওই তরুণী ফাঁসির দড়ি সঙ্গে নিয়ে রানার ঘরে অবস্থান করলেও সম্পর্ক মেনে নেয়নি রানার পরিবার। অবশেষে গৌরীপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে রানার বিরুদ্ধে মামলা করেন তরুণীর বাবা।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, আদালতে জবানবন্দি ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর ভিকটিমকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই রানাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।