ডিএনএ নমুনা থেকে ছবি আঁকা শেষ হয়নি ঘাতকদের

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন নাহার রুনিকে হত্যার সাড়ে ৯ বছরেও আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এখন পর্যন্ত ৮২ বার সময় নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ধার্য দিনেও প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় সিএমএম আদালত আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শফিকুল আলম গত বছরের ৭ অক্টোবর অবশ্য একটি প্রতিবেদন দেন আদালতকে। তাতে উল্লেখ করা হয়- ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ডিএনএ থেকে ছবি প্রস্তুতের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। কিন্তু দীর্ঘ ১১ মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুটি প্রতিষ্ঠান সেই ছবি আঁকার কাজ শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

হত্যাকা-ের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। নৃশংস হত্যাকা-ের দুদিন পর ওই সময়ের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন- তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’

হয়েছে। সর্বশেষ তদন্ত সংস্থা র‌্যাবও কয়েক বছর ধরে একই ‘অগ্রগতি’র গল্প শুনিয়ে আসছে। সর্বশেষ আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের আনুষঙ্গিক কাজসহ মোট আটজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে জেলহাজতে আছেন এবং দুজন জামিনে মুক্ত। এদিকে মামলাটি যথাযথভাবে তদন্তের লক্ষ্যে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের আইএফএসে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিস) পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগে পাঠানো আলামতগুলো এবং গ্রেপ্তার করা আসামিদের বুকল সোয়াব পর্যালোচনায় অজ্ঞাতনামা দুজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তদন্তকালে অজ্ঞাতনামা ওই পুরুষকে চিহ্নিতের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারাবন স্টারশট নামে যুক্তরাষ্ট্রের অপর একটি ডিএনএ ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ডিএনএ থেকে অপরাধী বা জড়িত ব্যক্তির ছবি প্রস্তুতের সক্ষমতা রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমানে আগের প্রতিষ্ঠান আইএফএসের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ছবি প্রস্তুতের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি আইএফএসে সংরক্ষিত সেই ডিএনএ প্যারাবন স্টারশটকে সরবরাহের সার্ভিস চার্জ হিসেবে এক হাজার ২০০ মার্কিন ডলার ফি চাওয়া হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেই অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে এরই মধ্যে। পরীক্ষার অগ্রগতি বিষয়ে জানতে সর্বশেষ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আইএফএস ল্যাবকে ই-মেইলও পাঠানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত দেয়নি। তবে ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের প্রচেষ্টাসহ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা বিজ্ঞ আদালতের সদয় অবগতির জন্য জানানো হলো।

এর আগেও একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদালতকে জানানো হয়েছিল, মামলায় জব্দ আলামতের সঙ্গে ম্যাচিংয়ের জন্য গ্রেপ্তার আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়স্বজনের ডিএনএ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, নিহতের আত্মীয়স্বজন, অফিসের সহকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ১৫০ ব্যক্তির জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএনএ থেকে ছবি তৈরির প্রক্রিয়াকে সময়ক্ষেপণের হাতিয়ার বলছেন সাগর-রুনির স্বজনরা। দীর্ঘ দিনেও এই হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় তারা হতাশ। পূর্বের তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশের মতো র‌্যাবও ব্যর্থ বলে মনে করেন নিহত সাংবাদিক রুনির ভাই নওশের রোমান। তিনি বলেন, ‘এসব (ডিএনএ থেকে ছবি) কিছুই না। এগুলো আসলে সময়ক্ষেপণের হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। এটি নিয়ে আর কিছু বলার নেই আমাদের।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ডিএনএ থেকে ছবি তৈরির বিষয়টির কী ধরনের অগ্রগতি আছে আমাদের এখনো জানানো হয়নি।’ তবে সেখান থেকে ছবি এবং ডিএনএ প্রতিবেদন পেলেও আসামিদের শনাক্ত করা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর শেরেবাংলানগর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। থানাপুলিশ হয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর ন্যস্ত করা হয়। ৬২ দিনের মাথায় হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এর পর আদালতের নির্দেশে তদন্তভার নেয় র‌্যাব। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য সাগর-রুনির লাশ কবর থেকে উঠায় সংস্থাটি। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সাংবাদিক দম্পতির শিশুপুত্র মাহীর সারওয়ার মেঘের সঙ্গেও দফায় দফায় কথা বলা হয়। র‌্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সাগর-রুনির রক্তমাখা জামাকাপড়, বঁটি, মোজাসহ কিছু আলামত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে পাঠানো হয়। মামলায় আমেরিকান দুটি প্রতিষ্ঠানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়া হয়েছে এ ক্ষেত্রে। কিন্তু এখন পর্যন্ত র‌্যাবও এ ঘটনার তদন্তে কোনো কিনারা করতে পারেনি।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে নিহত রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল জামিনে আছেন। এ ছাড়া বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন ও আবু সাঈদ কারাগারে রয়েছেন।

মুক্তি পেলেন পরীমনি

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত ও সমালোচিত নায়িকা পরীমনি দীর্ঘ ২৭ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তিনি আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাড়া পান বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। কারা ফটকে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী ও খালু জসিম উদ্দিনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় পরীমনিকে এক নজর দেখার জন্য ভক্তরা কারা ফটকে ভিড় করেন।

কারাগার কর্তৃপক্ষ জানান, গতকাল ৬টার মধ্যে জামিন আদেশ না পাওয়া তাকে মুক্তি দেওয়া যায়নি। তবে রাতে তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার হালিমা খাতুন জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৬টার মধ্যে জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়নি। ফলে কারাগার লক আপ হয়ে যায়। তবে তার জামিন আদেশ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌছে। সেখান থেকে তার জামিনের কাগজপত্র রাত ১০টার পরে এ কারাগারে পৌঁছালে তা যাচাইবাছাই করে আজ বুধবার সকাল  ৯টা ২১ মিনিটে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাড়ে ৯টার দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কারা ফটকের সামনে নায়িকা পরিমনি উপস্থিত ভক্ত ও গণমাধ্যম কর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তবে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান,একজন আসামিকে কারাগার থেকে বের করার যে আইনি প্রক্রিয়া সে প্রক্রিয়া মেনে আমরা কারাগার থেকে পরিমনিকে নিতে এসেছি।

গতকাল মঙ্গলবার পরিমনির জামিননামা আদালত থেকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ কারাগারে যেতে হয়েছে। সেখানে এন্ট্রির পর আমরা কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্য কারাগারে আসতে পারলে পরিমনিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করতেন। কিন্তু সময়ের অভাবে আমরা ওই সময়ের মধ্য কারাগারে যেতে পারিনি।

আজ বুধবার সকালে পরিমনির খালুকে নিয়ে কারাগারের ভেতর প্রবেশ করছি। কারা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবারের সদস্য তার খালু জসীম উদ্দিন এবং তার আইনজীবী হিসেবে আমার কাছে হস্তান্তর করেছে।

রিমান্ডে পুলিশ নির্যাতন করেছে কীনা সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে পরীমনির যাতে স্থায়ী জামিন আদেশ পাওয়া যায় সেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জামিন দেন আদালত। দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জামিনের আদেশ দেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে পরীমনি জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। প্রায় ২৬ দিন ধরে রিমান্ড ও কারাগারে থাকা পরীমনির পক্ষে এ দিন জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান। শুনানিতে পরীমনির আইনজীবী বলেন, ‘পরীমনিকে তিন দফায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডের আগে ২৪ ঘণ্টার বেশি তাকে পুলিশ কাস্টডিতে রাখা হয়। রিমান্ডের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত কর্মকর্তা সাদামাটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রমাণাদি সেখানে আসেনি। আসামি শারীরিকভাবে অসুস্থ, রক্তশূন্যতা আছে। বারবার রিমান্ডে নেওয়ায় তার অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পরীমনি জেলে থাকায় তার সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা অনেক ছবি আটকে আছে। বিশেষ করে প্রীতিলতা সিনেমাটি। আসামি ২৭ দিন পুলিশ কাস্টডিতে ও জেলে আছেন। মামলার অবস্থা বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন। আদালত মনে করলে তাকে জামিন দিতে পারেন।’

মজিবুর রহমান বলেন, ‘পরীমনি চিত্রনায়িকা। তার পরিচিতি আছে। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না। তদন্তে বিঘ্ন ঘটাবেন না এটি আদালতকে নিশ্চিত করতে পারি। আর তার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা হয়েছে সেটি প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা হতে পারে। যে কোনো শর্তে তাকে জামিন দেন। পুলিশ তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলে সে ট্রায়াল ফেস করবে। পলাতক হওয়া কোনো সম্ভাবনা নেই।

আসামিপক্ষের পর রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট র‌্যাব তার বাসায় অভিযানে যায়। তার বাসার সামনে র‌্যাব এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু সে দরজা খোলেনি। পরে দরজা খুললে র‌্যাব ভেতরে প্রবেশ করে। তার বাসায় ১৮.৫ লিটার মদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও অনেক খালি বোতল পাওয়া গেছে। র‌্যাবকে বাইরে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে তারা মদের বোতলগুলো খালি করে। এ ছাড়া তার বাসা থেকে এলএসডি, মাদক আইস পাওয়া যায়। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পরীমনি মদের আসর বসিয়ে মাদক সেবন করতেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘অনেক মাদক মামলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন কারাবাসের পরও জামিন হচ্ছে না। আইন সবার জন্য সমান। পরীমনির বাসা থেকে এলএসডি ও আইস নামক ভয়াবহ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের পরিমাণ বেশি, কাস্টডি কম। তাই তার জামিনের বিরোধিতা করছি।

আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অসুস্থ, নারী, অভিনেত্রী, মাদকের পরিমাণ বিবেচনায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের পর এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘জামিন পাওয়া একটা অধিকার। তবে আমরা জামিনের বিরোধিতা করেছি। আদালত যেটি ভালো মনে করেছেন সেটিই আদেশ দিয়েছেন। এতে আমাদের কিছু করার নেই।’

গত ৪ আগস্ট বিকাল ৪টার পর পরই বনানীর ১২ নম্বর রোডের পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় বাসা থেকে ১৮.৫ লিটার বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস, এক স্লট এলএসডি এবং একটি পাইপ জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব ১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান মাদক আইনে একটি মামলা করেন। পরীমনির মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মাদকদ্রব্য কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। মামলায় কবিরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই। একই মামলায় আবার র‌্যাব দাবি করেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যে ধারায় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট পরীমনির চার দিনের ও গত ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড পাঠান আদালত। ওই রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময় মামলায় তৃতীয়দফা রিমান্ড আবেদনে গত ১৯ আগস্ট পরীমনির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। পরের দিন ২২ আগস্ট সিএমএম আদালতের জামিন নামঞ্জুর ওই আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। বিচারক ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির দিন ঠিক করেন। জামিন শুনানির দিন আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ২১ দিন বিলম্বে ধার্য হওয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনির আইনজীবী জেডআই খান পান্না ও মো. মজিবুর রহমান।

গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট ২ দিনের মধ্যে কেন জামিন শুনানির নির্দেশ দেওয়া হবে না- এ মর্মে বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর রুল জারি করেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের বেঞ্চ ওই আদেশ প্রদান করেন। গত রবিবার হাইকোর্টের ওই আদেশ পাওয়ার পর বিচারক ইমরুল কায়েশ হাইকোর্টের রুলের জবাব দেওয়ার আগেই ৩১ আগস্ট জামিন শুনানির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে এগিয়ে আনেন। সে অনুযায়ী গতকাল শুনানি নিয়ে জামিন দেওয়া হয়। এদিকে আদেশের পর মঙ্গলবার বিকাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ফটকে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় জমান পরীমনিকে একনজর দেখার জন্য।

উল্লেখ্য, গত জুনে রাজধানীর আশুলিয়ায় অবস্থিত বোট ক্লাবের ঘটনায় আলোচনায় আসেন নায়িকা পরীমনি। আশুলিয়ার এ ক্লাবে গভীর রাতে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ১৪ জুন তিনি ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগী পরীমনির বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমি গ্রেপ্তার হন এবং সম্প্রতি নাসির উদ্দিন জামিন পেয়েছেন।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার   গাজীপুরের মেয়র আলহাজ্ব এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম এর সার্বিক সহযোগিতায় আলোচনা সভা ও গনভোজের আয়োজন করা হয়েছিল বনমালা রোডে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের সকল মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম,  খতিব ও শিক্ষকগন।  অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা, এবং অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজের গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ ও উক্ত এলাকাসহ বিভিন্ন  এলাকার  কয়েক হাজার সাধারণ লোকজন।

জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত ও সমালোচিত নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তিন দফায় ৭ দিনের রিমান্ডের পর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ।

সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট পরীমনির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তৃতীয় দফায় ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিএমএম আদালত। সিএমএম আদালতের জামিন নামঞ্জুরের ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ২২ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। বিচারক ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির দিন ঠিক করেন। জামিন শুনানির দিন আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ২১ দিন বিলম্বে ধার্য্য হওয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনির আইনজীবী জেডআই খান পান্না ও মো. মজিবুর রহমান।

গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট ২ দিনের মধ্যে কেন জামিন শুনানির নির্দেশ দেওয়া হবে না এই মর্মে বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর রুল জারি করেন।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের বেঞ্চ ওই আদেশ প্রদান করেন। গত রোববার হাইকোর্টের ওই আদেশ পাওয়ার পর বিচারক ইমরুল কায়েশ হাইকোর্টের রুলের জবাব দেয়ার আগেই ৩১ আগস্ট জামিন শুনানির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে এগিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার পর পরই বনানীর ১২ নম্ব রোডের পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় বাসা থেকে ১৮.৫ লিটার বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস, এক স্লট এলএসডি এবং একটি পাইপ জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান মাদক আইনে একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট পরীমনির চার দিনের ও গত ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড পাঠান আদালত। ওই রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মামলায় তৃতীয়দফা রিমান্ড আবেদনে গত ১৯ আগস্ট পরীমনির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরীমনির মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মাদকদ্রব্য কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। মামলায় কবিরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই। একই মামলায় আবার র‌্যাব দাবি করেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যে ধারায় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

আরও উল্লেখ্য যে, গত জুনে রাজধানীর আশুলিয়ায় অবস্থিত বোট ক্লাবের ঘটনায় আলোচনায় আসেন নায়িকা পরীমনি। আশুলিয়ার এ ক্লাবে গভীর রাতে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ১৪ জুন তিনি ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগী পরিমনির বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমি গ্রেপ্তার হন এবং সম্প্রতি নাসির উদ্দিন আহমেদ জামিন পেয়েছেন।

আফগানিস্তানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ঘোষণা

বিদেশি সেনাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে আফগানিস্তান। দেশের মাটি থেকে বিদায় নিয়েছে বিভিন্ন দেশের সৈন্যরা। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্র তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে কাবুল ছেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ফ্লাইট কাবুল ছাড়ার পর আফগানিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান এখন স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র। ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার ঘটনাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাজধানী কাবুলে অবস্থিত হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেন তালেবান যোদ্ধারা। পরই জয় উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের। আকাশে গুলি ছুড়ে আফগান সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এর আগে তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু অবশেষে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণও এখন তালেবানের হাতে।

 

এদিকে, আফগানিস্তান ছাড়ার আগে নিজেদের সামরিক প্লেন, সাঁজোয়া যানবাহনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে কাবুল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ফ্লাইট ছাড়ার আগে সবকিছু নিস্ক্রিয় করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈন্যরা।

মার্কিন মিশনের কমান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাককেনজি জানিয়েছেন, ৭৩টি সামরিক বিমান, ৭০টি সাঁজোয়া যান এবং আরও ২৭টি সামরিক সরঞ্জাম নষ্ট করে ফেলা হয়েছে যেন পরবর্তীতে এগুলো তালেবানরা ব্যবহার করতে না পারে।

 

তিনি বলেন, এই সামরিক বিমানগুলো আর কখনওই আকাশে উড়বে না। এগুলো আর কেউ চালাতে পারবে না। লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তালেবান সদস্যরা বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে মার্কিন সামরিক বিমান এবং অন্যান্য জিনিসপত্র দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাদের উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নিস্ক্রিয় করে গেছে এবং এর কিছুই তারা সাথে করে নিয়ে যায়নি।

মঙ্গলবার কাবুল বিমানবন্দর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আমাদের এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান এখন স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র।

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে এবং আমাদের দেশের পক্ষ থেকে আমরা বিশ্বের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। আমরা আফগান নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমরা আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তি এবং ইসলামিক মূল্যবোধ রক্ষা করব।

বেঁচে ফিরে নতুন দেশে পা রেখে বিমানবন্দরেই আফগান শিশুর নাচ!

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান থেকে বেঁচে ফিরে পা রেখেছে আরেকটি স্বাধীন দেশে। এর অনুভূতি যেন ছুঁয়ে যায় বেলজিয়ামে পা রাখা ছোট্ট শিশুটির উচ্ছ্বাসে। গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। এরপর দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠে বিদেশি গোষ্ঠীকে সহায়তাকারী ছাড়াও কিছু আফগান নাগরিক।

মানবিকতার খাতিরে অনেক দেশই আফগানদেরও আশ্রয় দিচ্ছে। সেরকমই একটি আফগান পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে বেলজিয়াম। গেল বুধবার (২৫ আগস্ট) দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসের নিকটবর্তী একটি সামরিক বিমানবন্দর থেকে তোলা একটি ছবি মন কেড়ে নিয়েছে বিশ্ববাসীর।

ছবিতে দেখা যায়, নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে প্রাণ খোলা হাসি নিয়ে বিমানবন্দরের টারম্যাকেই মনের আনন্দে লাফাচ্ছে এক আফগান শিশু। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে পালিয়ে আফগান মেয়েটির উচ্ছ্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। এমনকি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী গাই ভেরোফস্ট্যাডট নিজেও ওই ছবিটি টুইটারে পোস্ট করেছেন। সাথে লিখেছেন, ‘শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে পারলে এটাই হয়…ছোট্ট মেয়েটিকে বেলজিয়ামে স্বাগত।’

ছোট্ট আফগান মেয়েটির এই ছবি ইন্টারনেটে বহু মানুষ শেয়ার করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আশা করেন, আফগানিস্তানের বিভীষিকাময় জীবন থেকে পালিয়ে বেলজিয়ামে হয়ত একটা ভালো ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে আছে ওই শিশুটির জন্য।

এবার পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরির ধাক্কা

এবার পদ্মা সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের মাঝখানে ‘ওয়ান বি’ স্প্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের। এতে ফেরির মাস্তুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সময় ফেরিতে কোনো যাত্রী বা যানবাহন ছিল না বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেতু পার হয়ে যাওয়ার সময় ফেরির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডটি নামানোর কথা। ভুলে এটি নামানো হয়নি। সেতুর স্প্যানের সঙ্গে লেগে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডটি একটু বাঁকা হয়ে গেছে। সেতুর স্প্যানের কিছুই হয়নি। ফেরিও ঘাটে চলে গছে।’

মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ায় নৌপথে চলাচলে চারবার পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত করে ফেরি। এর মধ্যে ২০ ও ২৩ জুলাই ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারে এবং ৯ ও ১৩ আগস্ট ১০ নম্বর পিলারে আঘাত করা হয়। থানায় জিডি, তদন্ত কমিটি গঠন, ফেরি চালকদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় সেসব ঘটনায়।

ক্ষমতার লড়াইয়ে তালেবানের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব

দীর্ঘ দুই দশকের অভিযান শেষে আফগানিস্তান ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সৈন্যরা। সেই সুযোগে রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটির মার্কিন সমর্থিত সরকারের পতন ঘটিয়েছে তালেবান। কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির অভ্যন্তরে দেখা দিয়েছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ফলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির হামিদ কারজাই বিমান বন্দরের বাইরের গেটে ভয়াবহ বোমা হামলাকে তারই অংশ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

আফগানিস্তানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা একাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তালেবানের সবগুলো ফ্রন্ট একাট্টা হয়ে লড়লেও দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা চলে আসায় তাদের লক্ষ্যের সমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে তাদের লক্ষ্য নতুন করে যে সরকার গঠন হবে সেখানে ক্ষমতার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেওয়া। এ নিয়ে গোষ্ঠীটির বিভিন্ন ফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ফলে দুর্বল হবে তালেবান এবং দীর্ঘমেয়দি সংঘাতে জাড়িয়ে পড়বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি।

প্রাক্তন আফগান সরকারের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তালেবানের অভ্যন্তরে মারাত্মক বিভক্তি দেখা গেছে। দিন দিন সেটা আরও বেশি প্রকট হচ্ছে। প্রতিটি গোষ্ঠী আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করছে। এই গোষ্ঠীগুলোর ওপর তালেবানে কেন্দ্রীয় কোন প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ আর কাজ করছে না। সব দেখে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

ন্যাটো সৈন্যদের আফগানিস্তান ত্যাগ এখন সময়ের ব্যাপার। ফলে, দেশটির সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব বর্তাবে তালেবানের কাঁধে। অথচ তাদের সামনে রয়েছে অসংখ্য চ্যালেঞ্চ। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়, মানবিক সহায়তার দ্বার উন্মুক্তকরণে তৎপরতা, নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা আইএস এর সহযোগী সংগঠন আইএস-কেকে মোকাবিলা করা, সেই সাথে গলার কাঁটা হয়ে ঝুলে থাকা পাঞ্জশিরে আহমদ মাসউদের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে বোঝাপড়া করা মতো অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তালেবানকে। এত এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজেদের মধ্য দ্বন্দ্ব, নিঃসন্দেহে তালেবানের নাভিশ্বাস তুলবে।

স্থানীয় ও কয়েকজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে ক্ষমতার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকতে যে দুটি ফ্রন্ট বেশি তৎপর তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে তালেবানের হেলমান্দভিত্তিক ফ্রন্ট, অন্যটি হাক্কানি নেটওয়ার্ক। হেলমান্দভিত্তিক ফ্রন্টের দাবি- মার্কিন ড্রোন হামলায় তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক প্রাণহানি সত্ত্বেও তারা লড়াই চালিয়ে গেছে। ফলে, সরকার গঠনে তারা তাদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চায়।

অন্যদিকে, তালেবানকে অর্থায়ন এবং বর্তমানে রাজধানী কাবুলের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক।তালেবানের প্রধান হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদার তিন উপ-প্রধানের অন্যতম সিরাজউদ্দিন হাক্কানী এই নেটওয়ার্কের লোক। ন্যাটো সৈন্যদের ফেলে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম তারা গোপনে সরিয়ে ফেলেছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে প্রতিদ্বন্দী ফ্রন্টগুলো। এ নিয়ে তালেবান নেতৃত্বের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

এছাড়া ২০২০ সালের জুনে জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষক দল সতর্ক করেছিল যে, কমপক্ষে একজন জৈষ্ঠ তালেবান নেতা ‘যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে একটি নতুন দল’ তৈরি করে এবং তালেবান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মার্কিনিদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে নারাজ তালেবানের এমন যোদ্ধারা ওই জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে- পদবঞ্চিত তালেবান নেতারা বিচ্ছিন্ন সেই দলটিতে ভিড়তে পারেন। যা তালেবানের ভিতকে আরও নড়বড়ে করে দিবে।

এর বাইরে আরও একটি বিষয় তালেবানের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। তা হলো শরীয়া আইন। অতি-রক্ষণশীল কট্টরপন্থীরা শরীয়া আইনের আরও কঠোর সংস্করণ প্রয়োগের পক্ষে থাকলেও তুলনামূলক মধ্যপন্থীরা চাচ্ছেন এর ঢিলেঢালা প্রয়োগ। আর এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে, যা বিভাজনের দ্বারকে উন্মুক্ত করছে।

এছাড়া নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হোক অথবা মন থেকেই হোক তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতারা মার্কিনীদের হয়ে কাজ করা আফগান নাগরিকদের ক্ষমা করে দিয়েছে। এটা জ্যেষ্ঠ নেতারা মানলেও তালেবানের অন্য ফ্রন্টগুলো মানবে না। ফলে যে ভীতি নিয়ে আফগান জনগণ দেশ ছাড়ার মিছিলে যোগ দিচ্ছে, সেটা আরও প্রলম্বিত হবে এবং আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদে অশান্তির বীজ বপন হবে।

পাইলট নওশাদ ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মধ্য আকাশে থাকার সময় হার্ট অ্যাটাক করা পাইলট ক্যাপটেন নওশাদ কাইয়ুম ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’। আজ রোববার বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপটেন শোয়েব চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপটেন মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর ক্যাপটেন নওশাদ কাইয়ুমের ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে মেডিকেল টিম সিদ্ধান্ত নেবে।’

এর আগে গত শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহেরা খন্দকার বলেছিলেন, আকাশে বসে অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই পাইলট কাইউম কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময়ে তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন। কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে তার নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে অবতরণ করান। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটির ১২৪ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই নিরাপদে ছিলেন।

জরুরি অবতরণের পর পাইলট নওশাদকে নাগপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার এনজিওগ্রাম করা হয় বলেও জানান তাহেরা খন্দকার।

বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি (নওশাদ আতাউল কাইউম) একজন দক্ষ পাইলট। কার্ডিয়াক এরেস্ট হওয়া সত্ত্বে তিনি দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তার প্রেসার হাই হয়ে যাওয়ায় মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিমানের বিজি-২২ ফ্লাইটটি ওমান যায়। সেখান থেকে স্থানীয় সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসার কথা থাকলেও ফ্লাইটটি ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। তবে পাইলটের অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার দিকে না এসে ভারতের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্লাইটটি নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আকাশে থাকা অবস্থায় পাইলট নওশাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তার সহকারী জরুরি ভিত্তিতে কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিমানটিকে নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।

পুকুরে ডুবে মাদ্রাসার দুই ছাত্রের মৃত্যু

কক্সবাজারের রামুর জোয়ারিনালা ইউনিয়নে পুকুরের পানিতে ডুবে মাদ্রাসার দুজন ছাত্র মারা গেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে জোয়ারিয়ানালার মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইউনিয়নের পুর্বমুরা পাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে জিয়া (৬) ও একই এলাকার ডেকোরেশন ব্যবসায়ী ছুরুত আলমের ছেলে জনি (৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল সামশুদ্দিন প্রিন্স। তিনি জানিয়েছেন, শিশু দুটি খেলার ছলে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।