আফগানদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে : কমান্ডার ‍সামি

পুরো আফগান বাহিনীর সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হয়েছে বলে মনে করছেন আফগানিস্তান বাহিনীর কমান্ডার সামি সাদাত। তিনি বলছেন, তালেবান বাহিনী দেশের দখল নেওয়ার পর আফগানিস্তানের রাজনীতিবিদ এবং এতদিনের আমেরিকান সহযোগীরা পালানোর জন্য বিমানবন্দরে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে দিয়ে আফগান বাহিনীর সদস্যদের কার্যত শত্রুর মুখে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদাত আফগানিস্তান ন্যাশনাল আর্মির ২১৫ মাইওয়ান্ড কর্পসের কমান্ডার হিসেবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চাচলে তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ে ছিলেন কিছুদিন আগেও। তারই একটি লেখা গতকাল বুধবার প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। সেখানে সাদাত বলেছেন, তিনি  ক্লান্ত, হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।

আফগানিস্তানের জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাদাত জানিয়েছেন, গত সাড়ে তিন মাস হেলমান্দ প্রদেশে তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে দিন-রাত রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্যে কেটেছে তার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং পশ্চিমা মিত্ররা এখন আফগান সৈন্যদের দুষছে। তারা বলছে, বিনা প্রতিরোধে হাল ছেড়ে দিয়েছে আফগান বাহিনী। তবে তাদের এমন আচরণের স্তম্ভিত সাদাত। কেন আফগান বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে পড়ল, ‘ভেতরে’ আসলে কী ঘটেছিল, সেই কথাটাই  বলছে না তারা- এমনটাই দাবি এই কমান্ডারের।

আফগান আর্মির লড়াই করার ইচ্ছা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এটা মেনে নিয়ে সাদাত বলছেন, আফগান সৈন্যরা এটা বুঝে গিয়েছিল যে, আমেরিকান অংশীদাররা আফগানীদের ত্যাগ করেছে। গত কয়েক মাসে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কথায়, তার শব্দ চয়নে যে অসম্মান আর যে বৈরিতা ছিল, তাতেই সৈন্যদের মধ্যে ওই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল বলেও ধারণা সাদাতের।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদাত লিখেছেন, কাবুল আর ওয়াশিংটনের মধ্যে যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তাতে আফগান বাহিনীর দমবন্ধ দশা হয়েছিল, তাদের কাজ ঠিকভাবে করার সামর্থ্যই কমে গিয়েছিল।

আফগান সেনাবাহিনীর তিন তারকা জেনারেল সাদাত দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ে ১৫ হাজার সৈন্যের নেতৃত্ব দিয়েছেন ১১ মাস ধরে। সেই লড়াইয়ে শত শত অফিসার আর সৈন্যকে তাদের হারাতে হয়েছে।

আফগান বাহিনী কেন ভেঙে পড়ল, তার তিনটি কারণ নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে তুলে ধরেছেন সাদাত।

প্রথমটি হলো ২০২০ সালে দোহায় তালেবানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই শান্তি চুক্তি। ওই চুক্তিতেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার একটি সময়সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। সাদাতের ভাষায়, ওই চুক্তিই আফগান বাহিনীর আশা নিভিয়ে দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন সরবরাহকারীরা আফগান বাহিনীকে সরঞ্জাম দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। মেনটেইনেন্স সুবিধাও আর পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ যুদ্ধের ময়দানে এগুলো ছিল খুবই জরুরি।

তৃতীয়ত, গনির সরকারে দুর্নীতির মহামারী। সাদাতের ভাষায়, ওই দুর্নীতি সেনাবাহিনীর নেতৃস্থানীয়দেরও গ্রাস করেছিল। তাতে মাঠ পর্যায়ের সৈন্যরা কার্যত পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল, পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছিল যে, সারানোরও আর উপায় ছিল না।

এই আফগান কমান্ডারের ভাষায়, দুর্নীতি যে আফগান সরকার আর সেনাবাহিনীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছিল, তার ভুরি ভুরি  প্রমাণ আছে, আর এটা পুরো আফগান জাতির জন্যই একটি ‘ট্র্যাজেডি’।

সাদাত লিখেছেন, ট্রাম্প-তালেবান শান্তি চুক্তির পর যুদ্ধে মার্কিন এবং পশ্চিমা বাহিনীর অংশগ্রহণ কমিয়ে ফেলা হয়েছিল। যুদ্ধের ময়দানে আফগান বাহিনীকে আকাশ থেকে সহায়তা দিত মার্কিন বিমান বাহিনী। সেই নিয়মও রাতারাতি বদলে ফেলা হয়েছিল। তাতে তালেবান আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে আজকের যে পরিণতি, তার সূচনা হয়েছিল তখন থেকেই।

খালেদা দেখে যাওয়ার পরই আইভি চাচিকে মৃত ঘোষণা করা হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নৃশংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘মৃত্যু শয্যায় থাকা নারী নেত্রী আইভি রহমানকে খালেদা জিয়া সিএমএইচ এ দেখতে যাবেন বলে তার পুত্র-কন্যাদের ৩/৪ ঘণ্টা অন্য একটি রুমে আটকে রাখা হয়। খালেদা জিয়া আইভি রহমানকে সিএমএইচ এ দেখে আসার পরপরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঠিক জানি না কখন কোন মুহূর্তে তিনি (আইভি রহমান) মৃত্যুবরণ করেছেন। তার ছেলে-মেয়েরা তার কাছে ছিল। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে দেখতে যাবেন বলে তার ছেলে-মেয়েরা যারা বেডের কাছে ছিল তাদের একটা কামরার মধ্যে নিয়ে তালা মেরে রাখে।’ খালেদা জিয়া চলে যাবার পরই আইভি রহমানকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ দিনটি ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও নারী নেত্রী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার কথা স্মরণকালে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রের পরিকল্পনা বিভাগে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনে আমার আইভি চাচির কথাই বেশি মনে হচ্ছে। আর একটা অবাক কাণ্ড আপনারা হয়তো জানেন না, তাকে যখন সিএমএইচএ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়া হয় আমরা ঠিক জানি না কখন কোন মুহূর্তে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার ছেলে-মেয়েরা তার কাছে ছিল। সে সময় তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে দেখতে যাবেন বলে তার ছেলে-মেয়েরা যারা বেডের কাছে ছিল তাদের একটা কামরার মধ্যে নিয়ে তালা মেরে রাখে। প্রায় ৩/৪ ঘণ্টা নাজমুল হাসান পাপন, বোন তানিয়া, ময়না এদের সবাইকে একটা রুমে তালা দিয়ে রেখে তার পর খালেদা জিয়া যান আইভি রহমানকে দেখতে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আর খালেদা জিয়া যখন দেখে ফিরে আসেন তার পরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় আইভিকে। একথাটা অনেকেরই জানা নেই, আমি এটা জানিয়ে রাখলাম। যে কতবড় নৃশংসতা এরা করতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু হত্যার চেষ্টাই না, হত্যার পর লাশ নিয়েও তারা যে কর্মকাণ্ড করেছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মারা যাওয়ার পর অনেকের লাশ তারা দিতে চায়নি। লাশ আত্মীয়-স্বজনের কাছে তারা দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজে দলের সমর্থক এবং যারা জীবিত তারা যেহেতু সাহায্য করতে যায় এবং সারারাত তাদের চেষ্টার পর একে একে সেই লাশগুলো হস্তান্তর করে।’

শেখ হাসিনা ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের দেশে বিদেশে চিকৎসা প্রদানসহ তাদের সুবিধা অসুবিধায় পাশে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘একে একে অনেকেই আজ ছেড়ে চলে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের তিনি দেশে, ভারতে এবং অন্য দেশে পাঠিয়েও চিকিৎসা করান। যাদের অনেকেই আজ আর নেই মারা গেছেন। অনেকেই পঙ্গু হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আহতদের আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে সহায়তা দিয়েছি এবং সে সময় একটা আলাদা একাউন্ট খুলে যে ফান্ড এসেছে তা থেকে চিকিৎসাধীন প্রত্যেককে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি এবং এখনও আমরা দিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আহত যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের সহায়তা দিচ্ছি। মাসোহারা দিচ্ছি, তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, বিয়ে-শাদী যত রকমের সহযোগিতা দরকার আমি এখনও তা করে যাচ্ছি। যাদের খুব খারাপ অবস্থা ছিল আর্থিকভাবে তাদের সাহায্য এখনও অব্যাহত আছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমানসহ সকলের জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইভি চাচিসহ যারা মারা গেছেন তাদের সবার জন্য দোয়া চাই।’

২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধি শান্তি সমাবেশে এক ডজনের ও বেশি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় এবং এই হামলায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তার শ্রবণেন্দ্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ দলের ২২ নেতা-কর্মী নিহত এবং অন্তত ৫০০ নেতা-কর্মী, পথচারি ও সাংবাদিক আহত হন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমছে উল্লেখ করে এই ধারা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই ধাপে ধাপে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্মরণে শ্রদ্ধায়-৭৫’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, ‘আশা করি যেভাবে সংক্রমণের হার ক্রমেই নিচে নেমে আসছে। এটা আমাদের জন্য সুখবর। এই নিম্নগতি থাকলে খুব শিগগিরই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব। তবে ধাপে ধাপে খুলবো। কারণ, আমাদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।’

তিনি বলেন, ‘সবাই সপ্তাহে ছয়দিন হয়তো ক্লাস করার সুযোগ পাবে না। একটু সময় নিয়ে হবে সেটা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। শুধু অপেক্ষা সংক্রমণের হার আরেকটু নিচে নামার।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু।

গ্রেপ্তার কাউন্সিলরের নামে এবার স্ত্রী হত্যার মামলা

 

টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেপ্তারকৃত আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন (৫৬) বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—আতিকুর রহমান মোশেদ (৫২), মুন্সী তারেক পটন (৪৯), পারভেজ খান রনি (৩৬), সোহেল ওরফে বাবু (২৭), দুলাল সূত্রধরের ছেলে অন্তর সূত্রধর (২৭), আতিকুর রহমান মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সুমা (৪৫), মুন্সী তারেক পটনের স্ত্রী লিনা (৪০), শামীম আল মামুনের ছেলে রাফসান (২৮) ও আয়নাল মিয়া (৪৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর মোর্শেদের বাসার সামনে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করে। পরে ১৭ নং ওয়ার্ডের কাজী মোস্তফার মাধ্যমে মোর্শেদ ও সৈয়দ আমেনা পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর জোর করে কাজী মোস্তফার বালাম বই থেকে মোর্শেদ তাদের কাবিন নামা ছিড়ে ফেলে দেয়। তাদের সংসারে ছয় বছরের এক মেয়েও রয়েছে।

দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারের মাঝে মাঝে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মুন্সী তারেক পটনের বাসায় দাওয়াতের কথা বলে পিংকিকে নিয়ে যায় মোর্শেদ। সেখানে নিয়েই অভিযুক্ত আসামিরা পিংকিকে হত্যা করে লাশ গুম করে।

সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আমার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদ জোর করে বিয়ে করে। এরপর মোর্শেদসহ তার বাহিনীর লোকজন আমার মেয়েকে হত্যা করে। মোর্শেদসহ তার ক্যাডার বাহিনীর ফাঁসির দাবি করছি।’

এ বিষয়ে ১৭নং ওয়ার্ডের কাজী মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পৌরসভার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে দুইটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার (২০ আগস্ট) আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোর্শেদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গতকাল সোমবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, রিমান্ডে মোর্শেদ জিজ্ঞাসাবাদে তার ওই অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল সদর থানা সূত্র জানায়, আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে।

দুই মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করল তালেবান

দুই মন্ত্রী ও গোয়েন্দাপ্রধানের নাম ঘোষণা করেছে তালেবান। মন্ত্রী দুজন অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। যদিও দেশটির সরকার এখনো গঠন করা হয়নি। আফগান বার্তা সংস্থা পাজহোকের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে গুল আগাকে, ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদর ইব্রাহিম ও নাজিবুল্লাহ হবেন গোয়েন্দাপ্রধান। এ ছাড়া কাবুলের গভর্নর করা হয়েছে মোল্লা শিরিনকে। আর রাজধানীর মেয়র হলেন হামদুল্লাহ নোমানি।

এর আগে, ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে তারা। বর্তমানে সরকার গঠনে তোড়জোর থাকলেও দেশটি থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর চলে যাওয়ার শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করবে তালেবান। এ কথা জানিয়েছে তালেবানের একজন মুখপাত্র।

উল্লেখ, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তালেবান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়। ওই সময় শরিয়াহ আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করেছিল তারা। যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে তালেবানের এবার ঠিক কেমন সরকার হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

পরীমনিকে কেন তিনবার রিমান্ড, জানালো সিআইডি

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীমনির তিন দফায় জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে বিভিন্নমহলে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। কেন এবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তার উত্তরে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের স্বার্থেই পরীমনিকে তিন দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের সময় এ কথা বলেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রথমত অভিযুক্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা ও তার বক্তব্য শোনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে অভিযুক্ত কী বলে সেটা আগে জানতে চেয়েছে সিআইডি।’

সিআইডি প্রধান বলেন, ‘তার কাছে মাদক কীভাবে এলো, কারা দিলো, কী উপায়ে এলো। এসব তথ্য জানার পর আমরা কিন্তু আর পরীমনিকে রিমান্ডে চাইনি। কিন্তু তদন্ত ও যাচাই করতে গিয়ে দেখি পরীমনির দেওয়া সেসব তথ্যের অনেক কিছুই ‍মিথ্যে বা ভুল। তখন আমরা আদালতে আবারো রিমান্ড চেয়ে অনুরোধ করি। আদালত একদিনের রিমান্ড দেন।’

ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা কখনো দরকার না হলে কোনো আসামিকে রিমান্ডে চাই না। আমরা ওই এক দিনের মধ্যে পরীমণির দেওয়া তথ্য যাচাই করি। পুলিশ রিপোর্টের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করার জন্য তিন দফায় পরীমণিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ. বি. এম. ইকবালের সঙ্গে পরীমনির ছবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে। এই বিষয়ে সিআইডি তদন্ত করছে কি না, এইচ. বি. এম. ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি না? জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে যাকে প্রয়োজন তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। এখন পর্যন্ত পরীমনির মাদক মামলায় যাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল তাদের ডেকেছি, জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আপাতত পরীমনিসহ ১৫ মামলায় আর কাউকে ডাকা আর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। পরে যদি বিষয়টি অন্য কোনোদিকে টার্ন নেয় বা মানি লন্ডারিং মামলার কোনো বিষয় আসে তা ভিন্নভাবে দেখা হবে। প্রয়োজনে ডাকা হবে। তবে আপাতত কাউকে ডাকা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না।

টঙ্গীতে অপহৃত মাদ্রাসার ছাত্র উদ্ধার

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ সোমবার রাতে গাজীপুর সদর থানার পিবিআই অফিসের পিছনের জঙ্গল থেকে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্র হেদায়েতুল্লা (১৪) কে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানায়, রোববার টঙ্গীর মিলগেইট এলাকা থেকে কয়েকজন অপহরণকারী মাদ্রাসা ছাত্র হেদায়েতুল্লাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরনকারীরা অপহৃতের অভিবাবকের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবী করে। হেদায়েতুল্লার মা হেলেনা বেগম মুক্তিপনের টাকা জোগার করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোঃ শাহ আলম এর দিকনির্দেশনা এস আই মেহেদী হাসান ও এএসআই জাবেদসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। অপহৃত বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। সে টঙ্গীর মিলগেইট নামাবাজার এলাকায় বসবাস করে। মো: হেদায়েতুল্লাহ টঙ্গীর অলিম্পিয়া মতি মসজিদ মাদ্রসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইন চার্জ মো: শাহ্ আলম বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শিশু সুরক্ষা ও শিশু অধিকার নিয়ে শিশু সংলাপ অনুষ্ঠিত

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : টঙ্গীতে গতকাল মঙ্গলবার শিশু অধিকার বিষয়ক শিশু সুরক্ষা ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ শিশু সংলাপ অনুষ্ঠান টঙ্গীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

টঙ্গী শিশু ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন আরবান প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর মঞ্জু মারিয়া পালমা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিক্ষা ও আইসিটি সহকারী কমিশনার উম্মে হাবিব ফারজানা। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাবেদ মাসুদ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ প্রোগ্রাম অফিসার লরেন্স ফলিয়া, জসিম উদ্দিন, শ্রাবণতী বিশ^াস, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেয়া শারমিন, নাসরিন আক্তার শিরিন, নূরুল ইসলাম নূরু, ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, বাল্য বিবাহ বন্ধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। যৌন হয়রানি ও নির্যানের শিকার হলে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ও ১০৯ এর সহযোগিতা নেয়ার কথা বলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে শিশু অধিকার নিয়ে সংলাপ উপস্থাপন করেন শিশু মাহমুদুর রহমান নাইম, সাবিনা ইয়াসমিন জুথি ও সাদিয়া জান্নাত।

প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম: জিসিসি’র কাছে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা তলব

সহায়তা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি)। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেয়া হয়নি। বৈদেশিক অর্থসহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগুলো অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে করতে হয়। এ বিধিও মানেনি সংস্থাটি।

এই প্রেক্ষোপটে জিসিসির কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত ১৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত চিঠি জিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে এমওইউ না করার জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গাজীপুর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সোনার বাংলা এমব্যাংকমেন্ট প্রজেক্ট লিমিটেডের মধ্যে গত ৩০ জুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদিত হয়েছে। সেটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথম পক্ষ হিসেবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র স্বাক্ষর করেছেন।

এতে আরও উল্লেখ আছে, দ্বিতীয় পক্ষ বৈদেশিক অর্থ সংগ্রহ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে, যা পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করবে। এছাড়া প্রকল্পের ফান্ডিং প্রক্রিয়ার জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৭ লাখ মার্কিন ডলার ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে প্রসেসিং ফি প্রদান করবে।

বৈদেশিক অর্থসহায়তায় যেকোনো প্রকল্প অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হয়। এই এমওইউ স্বাক্ষরের বিষয়ে এর আগে এ বিভাগকে (অর্থনৈতিক সম্পর্ক) অবহিত করা হয়নি বলেও চিঠিতে জানানো হয়।

এ অবস্থায় বৈদেশিক অর্থসহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সোনার বাংলা এমব্যাংকমেন্ট প্রজেক্ট লিমিটেডের সঙ্গে জিসিসি কেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এমওইউ সম্পাদন করলো, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমাদের নলেজে আসছে উনারা (গাজীপুর সিটি করপোরেশন) একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এমওইউ করেছেন। কিন্তু নিয়ম হলো কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ করতে হলে মন্ত্রণালয়ের পারমিশন লাগবে। সেই এমওইউতে যেসব শর্ত থাকবে তা সরকারের বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভেটিং (পরীক্ষা) করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘তাই তারা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এটা করল, সে বিষয়ে আমরা তাদের কাছে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছি।’

মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এমওইউ করার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতির জন্য লিখব, আগে অনুমতি নেয়া হয়নি। তাদের (সোনার বাংলা এমব্যাংকমেন্ট) সঙ্গে এমওইউ হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রজেক্ট দাঁড় করানো হয়নি এখনও। বিদেশি দাতব্য একটি সংস্থা থেকে আমাদের সহায়তা দেবে প্রতিষ্ঠানটি, বিষয়টি এমন ছিল।’

‘আমরা এই এমওইউ’র মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে চেয়েছি। নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে এমন কিছু প্রকল্পই আমরা নিতে চেয়েছি তাদের সহায়তায়।’ স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চাওয়া ব্যাখ্যা আমরা দেব। আমার মনে হয় মেয়র স্যারের সঙ্গে কথা বলেন, স্যার এ বিষয়ে ক্লিয়ার বলতে পারবেন।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এমওইউ নয়

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান/সংস্থার সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সোনার বাংলা এমব্যাংকমেন্টসহ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পৌরসভাসহ সিটি করপোরেশনগুলোর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো প্রকার প্রাথমিক সমীক্ষা ছাড়া এমওইউ স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করে পত্র দিচ্ছে। কিছু কিছু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এসব সংস্থার সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করছেন বলে জানা যায়, যা যথাযথ নয়।

‘এমতাবস্থায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক আর্থিক সহায়তায় পৌরসভাগুলোতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যসম্পাদনের জন্য পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এমওইউ/সম্মতিপত্র সম্পাদনে আগ্রহী হলে তা সম্পাদনের আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে’ বলে চিঠিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমরা দেখছি অন্যান্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলোও এই নিয়ম (চুক্তি করার আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন নেয়া) মানছে না। তাই আমরা অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বলেছি তোমরা যদি এগুলো করতে চাও তাহলে মন্ত্রণালয়ের পারমিশন নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অনেক মেয়র বা সংশ্লিষ্টরা হয়তো আইন কানুনের বিষয়ে জানেন না। তাই তাদের জানানো হয়েছে।’

 

বজ্রপাতে প্রাণ গেল চার শিশু ও তিন যুবকের

দিনাজপুরের দুই উপজেলায় শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা সদর ও চিরিরবন্দরে সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বজ্রপাতের এই ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে জেলা সদরে মারা গেছে চার শিশু ও চিরিরবন্দরে মৃত্যু হয়েছে তিন যুবকের।

চার শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন।

তারা হলো ১০ বছরের মিম, ১২ বছরের হাসান, ১৩ বছরের সাজ্জাদ ও ১৬ বছরের আপন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫ বছরের সাজু এবং ১৬ বছরের মমিনুল ও আতিক।

হতাহতদের সবার বাড়ি ৮ নম্বর নিউটাউন ও রেলঘুন্টি এলাকায়।

কোতোয়ালি থানার এসআই মো. আসাদ জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সদরের নিউটাউন ৮ নম্বর ব্লকের মাঠে ফুটবল খেলতে যায় এলাকার শিশুরা। সে সময় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। বৃষ্টি বেড়ে গেলে মাঠের পাশে একটি ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয় তারা। সেই ছাউনিতে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহত শিশুদের সদরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মমিনুল ও আতিককে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় একই সময়ে জেলার চিরিরবন্দরের সুকদেবপুর গুড়িয়াপাড়ায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে তিন বন্ধু আব্দুর রাজ্জাক, আব্বাস আলী ও নুর ইসলামের।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি সুব্রত বলেন, বৃষ্টির মধ্যেই দুপুরে গ্রামের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যান ওই তিন যুবক। সে সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

তাদের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।