ফের ২ দিনের রিমান্ডে পরীমনি, রাজের ৬ দিন

মাদকদ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই আইনের মামলায় প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের দুই দিন ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতের বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ ছাড়া পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপুর মাদক আইনের মামলায় দুই দিন ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীর চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চারদিনের রিমান্ড শেষে বনানী থানার মাদক মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের এই আদেশ দেন।’

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) পরীমনিকে রিমান্ডে নেয় সিআইডি।  রিমান্ড শেষ হলে আজ মঙ্গলবার আবার তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতের হাজির করা সময় আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ পাহাড়ায় আদালতে প্রবেশ করেন পরীমনি ও অন্যরা।

গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ পরীমনি ও তার সহযোগীকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন বনানী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে পরীমনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে পুলিশের আবেদনে পরীমনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। র‌্যাব, থানা পুলিশ, ডিবি ঘুরে চতুর্থ সংস্থা হিসেবে পরীমনির বিরুদ্ধে করা মাদক মামলার তদন্ত করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

পরীমনিকে আটকের দিনই রাজ মাল্টিমিডিয়ায় মালিক প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজকেও আটক করা হয়। তার বাসা থেকে মাদক, পর্নোগ্রাফি তৈরির সরঞ্জাম ও ‘বিশেষ বিছানা’ জব্দ করে র‌্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মা-বাবার কবরে ‘শ্মশানের’ মাটি, কাঁদলেন শামীম ওসমান

ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধশতাধিক মানুষের কবরের ওপর এসে পড়েছে শ্মশানের পুকুর খননের মাটি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি কবর। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্যদের কবরসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কবর।

এই কবর ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি নিজেকে একজন ব্যর্থ সন্তান উল্লেখ করে বলেন, তার বাবা-মা-ভাই ও স্বজনদের কবরগুলোও তিনি রক্ষা করতে পারেননি। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলেই বলেই শ্মশানের মরদেহ পোড়া মাটি দিয়ে তার বাবা-মায়ের কবর ভরা হয়েছে, এসব কথা বলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জের এই সংসদ সদস্য। কবরের সামনে মোনাজাত ধরে ভেঙে পড়েন কান্নায়।

গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর মাসদাইর এলাকায় কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থান পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এসময় তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মায়ের কবর জিয়ারতের সময়ও স্বাভাবিক অবস্থা ছিল। সিটি করপোরেশনের নিয়োগকৃত ঠিকাদার কবরস্থানের পাশে শ্মশানের পুকুর খননসহ সংস্কার কাজ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় প্রায় ৩ ফুট মাটি ফেলে ভরাট করায় অর্ধশতাধিক কবর সমতলে মিশে গেছে। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কবরের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে।

শ্মশানের মাটি কবরস্থানে রেখে রীতিমতো টিলা বানিয়ে রাখা হয়েছে। শ্মশানের পুকুর কেটে মাটি দেওয়ায় শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব এম ওসমান আলী, দাদি জামিলা ওসমান, বাবা ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবুল খায়ের মোহাম্মদ (একেএম) সামসুজ্জোহা, মা ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা ও বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের কবর প্রায় সমতল হয়ে গেছে।

যারা এই কাজ করেছে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননাসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। সেই সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কবরগুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্তান হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেব। একজন স্থানীয় সংসদ সদস্য হয়েও যে তিনি তার বাবা-মায়ের কবরের পবিত্রতা হেফাজত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলোকে অবমাননার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি সেজন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামীম ওসমান। তিনি কাউকে দোষারোপ করছেন না জানিয়ে এই সাংসদ আরও বলেন, বাবা-মা-ভাই মারা যাওয়ার পর যেমন কষ্ট পেয়েছি, আজও তেমন কষ্ট পেলাম।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার, যা বললেন সিটি ব্যাংকের এমডি

মা’দক মাম’লায় গ্রে”প্তার চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছেন সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তা মাসরুর আরেফিন- সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এ সংবাদকে মিথ্যাচার বলে দাবি করছেন মাসরুর নিজেই। তার দাবি, গাড়ি উপহার দেওয়া তো দূরের কথা পরীমনির সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি এ ব্যাংক কর্মক’র্তার। গত জুনে ‘উত্তরা বোট ক্লাব’ ঘটনায় পত্রপত্রিকার মাধ্যমে পরীমনি নামটা শুনেছেন মাত্র।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এ বি’ষয়ে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন তিনি।  পাঠকদের জন্য পোস্টটিতুলে ধ’রা হলো-

‘আমেরিকায় বিএসইসি আয়োজিত বিনিয়োগ রোড শো-তে অংশ নিয়ে আমি এখন ঢাকার পথে। এর মধ্যেই শি’কার হলাম এক প্রবল মিথ্যাচারের। (একটি গণমাধ্যম) লিখে দিল- ‘একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে পরীমনির অডিও রেকর্ডে একটি গাড়ি উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমনির গভীর সখ্যের বি’ষয়টি কথোপকথনে উঠে এসেছে।’

আমা’র কোনোকিছু বলার কোনো ভাষা নেই।

আমি এই মর’্তের পৃথিবীতে, এই ধ’রাধামে পরীমনি নামের কাউকে দেখিনি। অতএব তার নম্বর আমা’র কাছে থাকার প্রশ্নই আসে না। এমনকী ‘বোট ক্লাব’ ঘটনার আগে পর্যন্ত পরীমনি নামটাও শুনিনি। আমা’র তখন মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে হয়েছিল যে, কে এই পরীমনি?

আমা’র কাজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাংকিং আর তারপর সাহিত্য নিয়ে পড়ে থাকা। ঢাকার কেউ (যারা ক্লাবে যান তাদের কেউও) বলতে পারবেন না তারা আমাকে কোনোদিন কোনো ক্লাব বা পার্টিতে দেখেছেন (এখানে আমি ক্লাব বা পার্টিতে যাওয়ার নিন্দা করছি না, সেটা যারা যাব’ার তারা যেতেই পারেন; আমি শুধু বোঝাচ্ছি যে মানুষ হিসাবে আমা’র টাইপটা কী?)। এতটাই অফিস ও ঘরমুখী এক মানুষ আমি।

অতএব বলছি, পরীমনিকে গাড়ি দেওয়ার কথাটা আমা’র কানে লাগছে মঙ্গল গ্রহের ভাষায় বলা কিছুর কথার মতো।
আমা’র নিজের একটাও গাড়ি নেই। ব্যাংক আমাকে চলার জন্য গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে, তাতেই চড়ি। ব্যাংকের চাকরির শেষে নিশ্চয় কোনো ব্যাংক থেকে কার লোন নিয়ে একটা গাড়ি কিনে তাতে চড়ব।

কোনো অ’ভিযোগের মধ্যে মিনিমাম মিনিমাম এক সুতো সত্য থাকতে হয়। কিন্তু এ এক ভ’য়’ঙ্কর বি’ষয় যে, আমি যাকে চিনি না, জীবনে যার বা যাদের সঙ্গে হ্যালো বলা দূরে থাক, যাদের নামটা পর্যন্ত আমি প্রথম জানলাম এই কদিন আগে, সেই নায়িকা বা মডেলকে আমি গাড়ি দিয়ে ফেললাম? কোথায় যোগাযোগ হল আমা’দের? ফোন কল? তার নাম্বার কী? কল রেকর্ড আনা হোক।

তাহলে ঘটনা কী? আমি সত্যি জানি না, ঘটনা কী। বুঝি যে, আমাকে নিয়ে (অর্থাৎ এক অর্থে সিটি ব্যাংক নিয়ে) একটা ‘সস্তা’ ষড়যন্ত্র চলছে।

গণমাধ্যমটির খবরে ওরা দেখেন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যানের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেনি। লিখেছে- ‘ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমনির গভীর সখ্যের বি’ষয়টি..।’ শওকত রুবেল নামের মানুষটা কে? এই নামে তো কেউ নেই।

আমা’র ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম আলাদা। সেটা শওকত রুবেল না। আমা’র অনুমান এই যে, ব্যবসায়ী জনাব শওকত আজিজ রাসেল আমা’দের ব্যাংক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই। একটা গোষ্ঠী তার হয়তো ক্ষ’তি চায়, এবং তারা তাদের সেই চাওয়ার সঙ্গে তাকে সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান ভেবে নিয়ে ব্যাংক প্রধান হিসেবে আমাকেও নিষ্ঠুর ও বাছবিচারহীন এক সামাজিক নর্দমা’র মধ্যে ঠেলে দিতে এক মুহুর্ত দ্বিধা করলেন না।

তারা বুঝলেন না যে, ‘আগস্ট আবছায়া’ (বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডের ওপরে চার বছরের গবেষণার শেষে লেখা আমা’দের অন্যতম এক প্রধান উপন্যাস), ‘আলথুসার’ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ নামের উপন্যাসের লেখকের, বাংলায় ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র’ কিম্বা ‘হোমা’রের ইলিয়াড’-এর এই অনুবাদকের এক পয়সা দুর্নীতির টাকাও থাকতে পারে না যা দিয়ে তিনি নিজের জন্য—ব্যাংক লোন নেওয়া ব্যাতিরেকে—একটা বিলাসী বা ভাল গাড়ি কিনতে পারেন। অন্যকে কিনে দেবার কথা বাদই দিন।

এবার লেখক সত্তার জায়গা থেকে একটা কথা বলি। আইনী বি’ষয় ও সামাজিক বোঝাপড়ার বি’ষয়গু’লো বেশ তো গু’লিয়ে যাচ্ছে! আমা’র কাউকে কোনো গাড়ি দেবার সামর’্থ্য নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমা’র কাউকে ধরুন ভালো লাগল (যার সম্ভাবনা বাস্তবে কম, কারণ আমা’র দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে এক সুন্দর সংসার আছে), তখন তাকে যদি আমি আমা’র সামর’্থের মধ্যে দুই বক্স চকলেটও কিনে দিই, সেটা নিয়ে আইন ছাপিয়ে, সংবিধানের মৌলিক অধিকার ছাপিয়ে ‘সমাজের বিচার’ নামের যে-এক ড্রা’গন আছে, সে এই সোশাল মিডিয়ার যুগে হাউ-হাউ করে উঠবে।

ব্যক্তি স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নকে টেনে টেনে এনে আইনের আরও ‘উর্ধ্বেই’ বা ‘বাইরেই’ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দৈনন্দিনের বাছ-বিচারগু’লোকে। এরকম সমাজে অনেকের লাভ, কারণ আমর’া সাধারণ মানুষেরা তখন ইতিহাসের ল্যাব’রেটরিতে কাঁউ-কাঁউ করে বেড়ানো ইঁদুর হয়ে থেকে যাই। আমা’দেরকে সেই ইঁদুর হওয়ার বিরু’দ্ধে লড়তে হবে। ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতি মুহূর্তের একটা ‘ongoing work’ । এই রা’ষ্ট্র আমা’দের স্বাধীনতাগু’লো—স্বাধীনতার যে কাজটুকু অন্যের জন্য ক্ষ’তিকর না—এভাবে কেড়ে না নিক। বাস্তবেই অনেক ক্ষ’তিকর কিছু ঘটছে অনেক দিকে, অনেক অবিচার ও আর্তনাদের ময়লা উড়ছে অনেক অনেক কোনায়। সেদিকে চোখ থাকুক আমা’দের।

শেষ কথা একটাই, আমি আমা’র মানব জীবনে এই নায়িকা বা মডেলদেরকে দেখিনি। তাদের সঙ্গে না-দেখা জগতের ফোনের যে-হ্যালো, সেটাও কোনোদিন বলিনি। তারা কারা’ তাও আমি জানতাম না ‘বোট ক্লাব’ কাণ্ডের আগে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গাফ্‌ফার চৌধুরীর আহ্বান হায়েনা গোষ্ঠীর হাত থেকে পরীমণিকে বাঁচান

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি আবেদন জানিয়েছেন প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। সোমবার আবেদনটি তিনি গণমাধ্যমে পাঠান।

প্রবাসী প্রবীণ এই সাংবাদিক লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এটি তার একার আবেদন নয়। দেশে প্রশাসন, একটি বিত্তশালী গোষ্ঠী এবং মিডিয়া গোষ্ঠী মিলে ২৮ বছরের এক তরুণীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে সে সম্পর্কে সচেতন নাগরিক সমাজের আবেদন।

তিনি লিখেছেন, ”পরীমণিকে গ্রেপ্তারের জন্য দু’চার জন র‌্যাব কিংবা পুলিশ সদস্য গেলেই হতো, সেখানে যে আয়োজন করা হয়েছিল তাতে মনে হয়েছিল কোনো ভয়ংকর ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য এই যুদ্ধযাত্রা। গ্রেপ্তারের পর থেকেই পরীমণির বিরুদ্ধে একটার পর একটা স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। এটা বোঝাই যায়, কোনো একটি মহল থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এগুলো করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিচারের আগেই বিচার। চয়নিকা চৌধুরীর মতো একজন বিখ্যাত নাট্যকারকে অহেতুক রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো ক্ষমতার বাড়াবাড়ি। এগুলো চলতে দিলে দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে।”

আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘বোট ক্লাবের ঘটনার পরে আসামিরা যে সহজেই জামিন পেল তার রহস্য কী? এই শক্তিশালী মহলটি প্রশাসনের একাংশকে বশ করে যে এই ঘটনাগুলো সাজিয়েছে তা বুঝতে কি কষ্ট হওয়ার কথা? তারপর মিডিয়ায় প্রচার। এই প্রচারগুলো যে সত্য নয় তা সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বিবৃতিতে জানা গেছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে পরীমণির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে আরেফিন সাহেবের বিবৃতিতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

পরীমণির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে প্রচারণার কথা উল্লেখ করে এই প্রথিতযশা সাংবাদিক লিখেছেন, ‘পরীমণি নায়িকা। তার নানাবিধ পুরুষের সঙ্গেই সম্পর্ক থাকতে পারে। সেটা কি অপরাধ? সবিনয় জিজ্ঞাসা, আদালতে বিচার হওয়ার আগে দেশের চলচ্চিত্র জগতের সম্ভাবনাময় তরুণীর জীবন যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলো তার দায়িত্ব কে নেবে? আদালতের বিচারে পরীমণি যদি দোষী সাব্যস্ত হয় এবং শাস্তি পায় তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু একজন তরুণীকে যেভাবে আটক করে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা শুধু নারী সমাজের অপমান নয়, মানবতার অপমান। আমাদের নাগরিক স্বাধীনতার ওপর একটি ভয়ংকর থাবা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলেই নারীদের ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সবিনয় আবেদন, পরীমনির ব্যাপারে তিনি হস্তক্ষেপ করুন। তাকে বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে বলি না। তাকে হায়েনা গোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। পরীমণির সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা যে দেশের আর একজন নাগরিকের ওপর করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?’

বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের সচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে আবেদন জানাই, তারা পরীমণির ওপর এই হেনস্থার প্রতিবাদ করুন। দয়া করে চুপ থাকবেন না। পরীমনির ওপর অত্যাচারের নিন্দা জানান। মিডিয়ার কাছে অনুরোধ, তারা যেন অত্যাচারিতের পক্ষে দাঁড়ান। অত্যাচারী গোষ্ঠীর পক্ষে না যান।’

পবিত্র আশুরা ২০ আগস্ট

আকাশে আজ সোমবার সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার শুরু হচ্ছে মহররম মাস ও নতুন বছর ১৪৪৩ হিজরি। আগামী ২০ আগস্ট শুক্রবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম।

শেষ ম্যাচ জয় টাইগারদের

 

নিজেদের ইতিহাসে কখনো এমন লজ্জায় পড়েনি অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৭৯। এবার বাংলাদেশে এসে ৬২ রানে অলআউট হলো ক্যাঙ্গারুরা। সিরিজ তো হেরেছিল আগেই, শেষটায় লজ্জায় লাল হলো ম্যাথু ওয়েডের দল।

 

মিরপুরে আজ (সোমবার) সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা স্বাগতিক দল শেষ করেছে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে।

বাংলাদেশের পুঁজি ছিল মাত্র ১২২ রানের। তবে এই উইকেটে এ রানটাও যে পাহাড়সমান, সেটা হারে হারেই টের পেল অস্ট্রেলিয়া। ১৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারাল তারা।

 

১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় ম্যাথু ওয়েডের দল। দুটি উইকেটই নেন নাসুম আহমেদ।

গত ম্যাচে বলতে গেলে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানের ব্যাটিংয়ের কাছেই হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ১০৫ রানের ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অসি ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসানের এক ওভারেই হাঁকান ৫ ছক্কা।

 

 

ভয়ংকর এই ব্যাটসম্যানকে এবার উইকেটে থিতু হতে দেননি নাসুম। টাইগার বাঁহাতি এই স্পিনার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নিয়েই বোল্ড করে দেন ক্রিশ্চিয়ানকে।

নাসুমের ঘূর্ণি ডেলিভারিতে ক্রস খেলতে গিয়ে পুরোপুরি মিস করেন ক্রিশ্চিয়ান (৩ বলে ৩), ভেঙে যায় উইকেট। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। পরের ওভারে এসে নাসুম তুলে নেন এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানকেও।

অসি ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মিচেল মার্শকে এলবিডব্লিউ করেন নাসুম। স্লগ করতে গিয়ে বল মিস করলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মার্শ (৪)।

এরপর ম্যাথু ওয়েড আর ম্যাকডরমট কিছুটা চোখ রাঙানি দিয়েছিলেন। গত ম্যাচে বেদম মার খাওয়া সাকিব আল হাসান এবার অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই নিজের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন অসি অধিনায়ক ওয়েডকে (২২ বলে ২২)।

পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুঃখ আরও বাড়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজের প্রথম ওভারে তিনিও সাফল্য পান, ফেরান ম্যাকডরমটকে (১৬ বলে ১৭)।

এক ওভার একটু স্বস্তিতে কেটেছিল অস্ট্রেলিয়ার। তারপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জোড়া আঘাত। প্রথমে দারুণ এক ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করেন অ্যালেক্স কারেকে (০)। এক বল পর উইকেটের পেছনে ক্যাচ ময়েচেস হেনড্রিকস (৩)।

পরের ওভারে সাকিবকে কাট করতে গিয়ে শর্ট কভারে ক্যাচ অ্যাশটন টার্নার (১)। ৫৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর লেজটা মুড়ে দিতে আর সময় লাগেনি। ১৩.৪ ওভারেই ৬২ রানে গুটিয়ে যায় অসিদের ইনিংস।

আগের ম্যাচের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সাকিবই দলের সেরা বোলার। মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সাইফউদ্দিন ১২ রানে ৩টি আর নাসুম ৮ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা শেষের দিকে এমনভাবেই চেপে ধরেন টাইগার ব্যাটসম্যানদের, প্রত্যাশার কাছাকাছিও যেতে পারেনি স্বাগতিকরা।

শেষ ৫ ওভারে মাত্র ২০ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। হারায় ৩ উইকেট। ফলে অলআউট না হয়েও ৮ উইকেটে ১২২ রানে আটকে যায় টাইগারদের ইনিংস।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সৌম্য সরকারের টানা ব্যর্থতায় এবার ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনা হয়। প্রমোশন পেয়ে নাইম শেখের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করে মাহেদি হাসান।

নতুন জুটি খারাপ করেনি। প্রথম তিন ওভারেই ৩৩ রান তুলেছিলেন নাইম আর মাহেদি। তাদের ২৭ বলে ৪২ রানের ঝড়ো জুটিটি শেষ পর্যন্ত থেমেছে মাহেদির ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অসি অফস্পিনার অ্যাটশন টার্নারকে ব্যাকফুটে গিয়ে পুলের মতো খেলতে চেয়েছিলেন মাহেদি। হাত থেকে তার ব্যাট ছুটে যায়, অন্যদিকে বল উঠে যায় ওপরে। মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ নেন অ্যাশটন অ্যাগার।

 

এরপর নাইম সেট হয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। নবম ওভারে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানকে অযথা রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনিও। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ নেন অ্যাগার। একটি করে চার-ছক্কার নাইম করেন বল সমান ২৩ রান।

গত ম্যাচের মতো আজও উইকেটে এসে শুরু থেকেই হাসফাঁস করছিলেন সাকিব আল হাসান। বারকয়েক ভাগ্যগুণে বেঁচে যান। তবে বাঁচতে পারেননি দশম ওভারে এসে। অ্যাডাম জাম্পার ঘূর্ণি ডেলিভারি প্যাডে লেগে এলবিডব্লিউ হন সাকিব (২০ বলে ১১)।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে ৮২ ইনিংসে কখনও লেগবিফোর উইকেট হননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তার ওপর হঠাৎ যেন খারাপ সময় ভর করেছে। গত ম্যাচেও ব্যাটে-বলে অনুজ্জ্বল ছিলেন।

গত ম্যাচে ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশ্য এবার শুরু করেছিলেন ঝড়ো গতিতে। তবে সফট ডিসমিসাল হয় তার। অ্যাশটন অ্যাগারের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে হালকা ব্যাট ছুঁইয়ে দেন টাইগার অধিনায়ক, বোলারই নেন ফিরতি ক্যাচ। তাতেই থামে তার ১৪ বলে এক ছক্কায় ১৯ রানের ইনিংসটি।

ওই ওভারের শেষ বলে বড় এক ছক্কা হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবার চারে খেলতে নামা সৌম্য। কিন্তু শুরুর দিকে বল নষ্ট করা এই বাঁহাতি এবারও উৎড়ে যাওয়ার মতো ব্যাটিং করতে পারেননি। ১৮ বলে ১৬ রান করে লংঅফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

এরপর বল নষ্ট করে সাজঘরের পথ ধরেন নুরুল হাসান সোহান (১৩ বলে ৮)। ছক্কায় ইনিংস শুরু করেও এবার আর মনে রাখার মতো কিছু করতে পারেননি আফিফ হোসেন ধ্রুব (১১ বলে ১০)।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন রানআউট হন শূন্যতে। ৮ বল খেলে মাত্র ৪ রান তুলতে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ফলে ১২২ রানের বেশি এগোতে পারেনি টাইগাররা।

অসি বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট নেন নাথান এলিস আর ড্যান ক্রিশ্চিয়ান।

১১ আগস্ট থেকে চলবে গণপরিবহন

বিধিনিষেধ শেষে আগামী ১১ আগস্ট (বুধবার) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু খুলে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সকল সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্বশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরনপূর্বক খোলা থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন/যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/সংস্থা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যা অর্ধেক চালু করতে পারবে।

এর আগে দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘বিধিনিষেধ আগামী ১০ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। ১১ তারিখ থেকে যেটি চিন্তাভাবনা চলছে যে, এটি ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে শিথিল করা। আমাদের করোনা শনাক্তের হার একটু কমছে, কিন্তু মৃত্যুর হার ২০০ এর উপরে আছে। সে বিষয়ে কিন্তু অবশ্যই আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে।’

পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার ‘কঠোর লকডাউন’ : কাদের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান কঠোর লকডাউন আগামী বুধবার শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস ও দোকান খোলা থাকবে। শতভাগ যাত্রী নিয়ে অর্ধেক গণপরিবহন চালু করা হবে। তবে মানুষের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে লকডাউন শিথিল করা হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় আবার কঠোর লকডাউন দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও সড়ক ভবনে মহাসড়কের পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউনের ফলে সব কিছু স্তব্ধ হলে কিছু কিছু মানুষ রাস্তায় পড়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও কঠোর লকডাউন দেওয়া হবে।’

প্রজ্ঞাপনে যে বিষয়টি এসেছে- সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনা করে নেওয়া উচিত ছিল বলেও এ সময় উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘গণপরিবহন চালুর পর সড়কে বিশৃঙ্খলতা এড়াতে বিআরটিএর বিভিন্ন টিম সড়কে কাজ করবে। গণপরিবহনে যত সিট তত যাত্রী কিনা এটা দেখা হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে কিনা সেটাও দেখা হবে। যে ভাড়া আগে কার্যকর, সে ভাড়ায় চলবে। বর্ধিত ভাড়ায় আর চলবে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাস্তাগুলো টেকসই করতে হবে। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে। যে সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজ করছে না তাদেরকে ব্ল্যাকলিস্টেড করতে হবে। তাদের কাজ পাওয়ার কোনো অধিকার নেই।’

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ভালোভাবে মেরামত করতে হবে। গাজীপুরের এ ভোগান্তি কেন। কেউ কারও দোষারোপ না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। গাজীপুরের রাস্তাকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে যাতে জনগণের ভোগান্তি না বাড়ে। সরকারের এত অর্থ খরচ অথচে সড়কে ও পরিবহনে আমরা শৃঙ্খলা আনতে পারলাম না। এ বিষয়গুলোতে নজরদারির মধ্যে আনতে হবে।’

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ শুরু হলে গত ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তা বাড়িয়ে আরও এক সপ্তাহ করা হয়। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

একই প্রজ্ঞাপনে ২৩ তারিখ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা ও ১১ আগস্ট থেকে লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

কালোজিরাতেই ঘায়েল করোনা, যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

রান্নাঘরের অতি সাধারণ একটি মসলা কালোজিরা। আর সেটাই হতে পারে করোনার ওষুধ! ভাবতে অবাক লাগলেও এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম নাইজেলা স্যাটিভা। এটি বছরের পর বছর ধরে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে সংক্রামক অসুখ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উচ্চ রক্তচাপ, অ্যালার্জি, ত্বকের সংক্রমণ কমাতেও এর জুড়ি নেই।

কালোজিরা কেন করোনা মোকাবিলা করতে পারে?

সিডনির একটি সমীক্ষা বলছে, এতে রয়েছে থাইমোকুইনোন নামে একটি উপাদান, যা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এই উপাদানটি করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে আটকে যায়, ফলে ভাইরাসটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না।

এ ছাড়া করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক যে ‘সাইটোকাইন স্টর্ম’, সেটিও আটকে দিতে পারে কালোজিরা। আর সেই কারণেই করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে এটি।

তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওষুধ তৈরির উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সমস্যা কাটানো সম্ভব। তখন ওরাল মেডিসিন হিসেবেও এটি নেওয়া যাবে। তবে এখন পর্যন্ত রোগীদের নাকের স্প্রে হিসেবেই এর ব্যবহার হয়েছে।

অধ্যক্ষকে ৬ টুকরা করে কলেজ প্রাঙ্গণেই পুঁতে ফেলা হয় লাশ

সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে (৩৬) হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে কলেজের মাঠে পুঁতে ফেলা হয়। স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে খুন করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মাটি খুঁড়ে মিন্টু বর্মণের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করে র‍্যাব। এ সময় অধ্যক্ষের এক সহকর্মীসহ আটক তিনজন র‌্যাবের সঙ্গে ছিলেন।

মিন্টু লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শরত বর্মনের ছেলে। তার পরিবার গ্রামে থাকে।

র‍্যাব জানায়, মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। বছর দুই আগে মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে জামগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

অন্য তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন- রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন এর অধ্যক্ষ। সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃত্ব ও মালিকানা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। গত ১৩ জুলাই থেকে হঠাৎ মিন্টুর খোঁজ মিলছিল না। পরে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে গত ২২ জুলাই সন্ধান চেয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র‍্যাব আটক করে গণিতের শিক্ষক রবিউল ইসলাম, তার ভাগনে বাদশা ও ইংরেজির শিক্ষক মোতালেবকে।

তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ওই শিক্ষককে ১০৬ নম্বর কক্ষে মেরে প্রথমে লাশ ছয় টুকরো করা হয়। পরিকল্পনা করা হয় ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ পুঁতে ফেলার। তবে পাকা মেঝের কারণে তা না করে মিন্টুকে টুকরা টুকরা করে দুটি পা ও বুক থেকে নাভি পর্যন্ত অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে পুঁতে ফেলা হয়। মিন্টুর মাথা দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় একটি ডোবায় ফেলা দেওয়া হয়।

র‍্যাব-৪ সিপিসি-২’র লে. কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, ‘নিখোঁজের ঘটনাটি র‍্যাব উদঘাটন করেছে। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আটক ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই মিন্টু বর্মণকে কুপিয়ে খুন করা হয়। লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠেই পুঁতে ফেলা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন মাথা ফেলা হয় দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায়। আটক সবাই খুনের সঙ্গে জড়িত।