টঙ্গীর দেওড়া এলাকায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ৭টার দিকে ভাদাম এলাকার তুরাগ নদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকার হাসান মিয়ার ছেলে হাসনাত (১১) ও একই এলাকার ওমর আলীর ছেলে ইউলাত হোসেন তামজিদ (১০)।
নিহত হাসনাত টঙ্গীর দেওড়া এলাকার হাজী মোহাম্মদ আলী স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র এবং তামজিদ কাজু খান মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, বুধবার দুপুরে বাসা থেকে বের হয় তারা দুই বন্ধু কিন্তু তারা কেউ আর বাসায় ফেরেনি। বিকেল থেকেই দুই পরিবার ও এলাকা বাসি খোঁজা খুঁজি করেও সন্ধান পায়নি। পরে থানা পুলিশ কে অবগত করলে তারাও এলাকাবাসীর সাথে খোঁজাখুঁজি করেন। এক পর্যায়ে দুইজনই নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল তথ্য পেয়ে থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কে খবর দিলে প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। পরে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পেরুতে বামপন্থী কাস্তিলিওর বিজয়
পেরুর রাষ্ট্রপতি হলেন একজন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক। দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গত ৬ জুন হলেও এর ফলাফল ঘোষণা হয়েছে গত ২৮ জুলাই। অর্থাৎ, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ পরে।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচন নিয়ে ডানপন্থী প্রার্থী ফুজিমোরি কিকো কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন। এ কারণে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় কমিশন এই সময় নিয়েছে।
এই নির্বাচনে পেরুর বামপন্থী দলের প্রার্থী স্কুল শিক্ষক পেদ্রো কাস্তিলিও নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের কবল থেকে ২০০ বছর আগে দেশটি মুক্ত হয়। কাকতালীয়ভাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির ২০০ বছর উদযাপনের সময়ই নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী শপথে কাস্তিলিও তার প্রথম বক্তব্যে বলেন, পেরুর ঔপনিবেশিক শাসনের যে গভীর ক্ষত রয়েছে তাকে তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সারিয়ে তুলতে চান। পেরুর গ্রামের ও গরীব মানুষের ভোটেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্রথম পেরু একজন কৃষক দ্বারা পরিচালিত হবে।
কাস্তিলিওই পেরুর ইতিহাসে প্রথম রাষ্ট্রপতি যার সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের উচ্চস্তরের কোনো আমলা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। তার এ বিজয় দেশের এলিটদের জন্য এক বড় ধাক্কা।
পেদ্রো কাস্তিলিও কে?
পেদ্রো কাস্তিলিও উত্তর পেরুর একটি গরীব কৃষক পরিবারের সন্তান। যেখানে উন্নতমানের সোনার খনি রয়েছে। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। লেখাপড়ার পাশাপাশি কাস্তিলিও তার বাবাকে কৃষি কাজে সাহায্য করতেন। ১৯৬৯ সালে জন্ম নেওয়া কাস্তিলিও ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০২ সালে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে দীর্ঘসময় কাস্তিলিও ডানপন্থী দলের সদস্য ছিলেন। দুর্নীতির কারণে সেই দলের বিলুপ্তি হলে তিনি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী সংগঠন ‘পেরু লিবারে’ যোগদান করেন। এ সময় তিনি ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আন্দোলন গড়ে তোলেন।
কাস্তিলিও একবার মেয়র নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন।
সার্বক্ষণিক ঐতিহ্যবাহী তালপাতার হ্যাট মাথায়, পায়ে স্যান্ডেল ও দলের নির্বাচনী প্রতীক পেনসিল নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তিনি।
কী ছিল তার নির্বাচনী স্লোগান ও কর্মসূচী?
কাস্তিলিও ও বামপন্থীদের প্রধান স্লোগান ছিল, ‘সম্পদশালী দেশ পেরুতে কোনো গরীব থাকবে না’।
পেরু একটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশ। তামা, রূপা, স্বর্ণ, পেট্রোলিয়াম, কাঠ, কয়লা, লোহা আকরিক, ফসফেট, পটাশ, প্রাকৃতিক গ্যাস, মাছ প্রভৃতি সম্পদ রয়েছে দেশটিতে।
করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি পেরু। এই বৈরী সময়ে দেশটির মানুষের দারিদ্রতা দূর করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্পে উন্নতি ঘটাতে ও বৈষম্য কমাতে চায় নতুন সরকার। পেরুর খনি ও হাইড্রোকার্বন খাতকে জাতীয়করণ করা এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করতে চান কাস্তিলিও।
প্রতি বছর এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কারাগারে সাবেক স্বৈরশাসক ফুজিমোরি রচিত সংবিধানের সংশোধন ও অপরাধ রোধে পুনরায় মৃত্যুদণ্ডের প্রথা চালু করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন কাস্তিলিও। তিনি সমকামিতা, সমকামী বিয়ে ও গর্ভপাতের বিরোধী। তার নির্বাচনী কর্মসূচীতে বাম, উদার ও রক্ষণশীল ভাবনার সংমিশ্রণ লক্ষণীয়।
জয় সহজ ছিল না
নির্বাচনে কাস্তিলিওর প্রতিপক্ষ ছিলের দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি জাপানি বংশোদ্ভূত ফুজিমোরর কন্যা কিকো। তাদের পরিবারের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য। দেশের শহুরে ধনিক শ্রেণী, দেশ-বিদেশের কর্পোরেট স্বার্থবাদী ও শাসকরা ছিল কাস্তিলিওর বিপক্ষে।
পেদ্রো কাস্তিলিও খুব অপরিচিত ও গ্রাম থেকে উঠে আসা একজন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের আগেও শহরের মানুষ তাকে চিনতেন না। তার ছিল না কোনো গ্ল্যামার, বাড়তি খ্যাতিও।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এবং শপথ নেওয়ার আগে তিনি রাজধানী লিমাতে পরিবার নিয়ে আসেন। এ থেকে সহজেই বোধগম্য তিনি কতটা প্রান্তিক পর্যায় থেকে কেন্দ্রের শীর্ষ পর্যায়ের মূল মানুষে পরিণত হয়েছেন।
সরকার পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ
খুব বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি নির্বাচিত হননি। দ্বিতীয় দফায় তিনি মাত্র ৫১ ভাগ ভোট বা ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। উচ্চকক্ষে তার দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে জটিল, বিতর্কিত রাজনৈতিক শক্তি ও নেতৃত্ব।
নিজের রাজনীতিতে তিনি বাম ঘরনার সঙ্গে কিছুটা রক্ষণশীল নীতিও গ্রহণ করেছেন। পেরুর বাম রাজনীতিতে কিউবার বিপ্লবীদের প্রভাব রয়েছে। সে বিষয়ে মার্কিন, তার সহযোগী ও প্রতিপক্ষের তরফ থেকে থাকবে বাড়তি চাপ।
তামাসহ খনিজ উৎপাদনের বিভিন্ন খাতে উচ্চহারে করারোপের ভাবনাকে বিনিয়োগকারীরা সহজ ভাবে নেবেন না। এখানে দেশের অর্থনীতি সংকটের একটি বড় চ্যালেঞ্জ তার সামনে আছে। বিরোধী ও ব্যবসায়ীরা এই ইস্যুগুলো নিয়ে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে পারেন, অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তাকে শাসনকার্য পরিচালনা করতে হবে।
পেরুর বিজয়ে বাংলাদেশের বামপন্থীদের কী বার্তা?
যেকোনো দেশের নির্বাচনে বামপন্থীদের বিজয় আমাদের দেশের বামদের মধ্যে এক ধরণের উৎসাহের সৃষ্টি করে। সামাজিক মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হয়। শুধু উদ্দীপনার বিষয় নয়, সেখান থেকে বামদের শেখারও আছে অনেক কিছু।
প্রথমত, যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন অখ্যাত রাজনীতিবিদ।
দ্বিতীয়ত, ১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের মাথায় ৫১ বছর বয়সে তিনি দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলকে ক্ষমতায় এনেছেন।
তৃতীয়ত, কৃষিকর্মের ঐতিহ্যবাহী হ্যাট মাথায় দিয়েই ও দলের প্রতীক পেনসিল নিয়ে তিনি সার্বক্ষণিক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
চতুর্থত, ‘সম্পদের দেশে কোনো গরীব থাকবে না’ এই স্লোগানকে তিনি জনপ্রিয় করেছেন। গরীব ও গ্রামের মানুষের ভোট আদায় করেছেন।
পঞ্চমত, তিনিই পেরুর প্রথম নেতা যার সঙ্গে নির্বাচিত হওয়ার আগে দেশটির সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক এলিটদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
বাংলাদেশের বামপন্থী দলের অনেক নেতার শারীরিক নয়, শুধু রাজনীতির বয়সই ৫০ থেকে ৬০ বছর। এই সুদীর্ঘ সময়ে তাদের অর্জন কী? নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ছাড়া তাদের কোনো অর্জন নেই। কোনো একটি দলের মূল নেতৃত্বও পাঁচ থেকে ছয় দশকে নিজ সামর্থ্যে জাতীয় সংসদের যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, দলকে ক্ষমতায় নেওয়া তো দূরে থাক। এ সময়ে দলগুলো হয় ভেঙেছে, না হয় ছোট হয়েছে। যদিও তারা ধারাবাহিকভাবে সমাজ-রাজনীতির নানা ইস্যুতে রুটিন কর্মসূচী পালন করেছে।
অবশ্যই প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ দেশের অবস্থা-বাস্তবতা অনুযায়ী রাজনীতি করবেন। কাউকে অনুকরণ বা অনুসরণ করবেন না। কিন্তু অন্যদের সাফল্য ও অর্জন থেকে শিক্ষা নিতে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশের বামপন্থীদের ক্ষমতা দখলের মডেল কী? নির্বাচন বা বিপ্লব? তার নকশা-পরিকল্পনা, রোডম্যাপ কোথায়? তার ফলোআপ কী?
তারা আজও ইতিহাস ও ঐতিহ্য নির্ভরতা ছাড়তে পারেনি। প্রত্যেকটি দল বয়োবৃদ্ধ গতিহীন নেতৃত্বে আটকে আছে। তারা কর্মীদের এবং জনগণকে স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ। তারপরও তারা নেতৃত্বে আছেন, আমৃত্যু থাকবেন। তারা নিজেদের কোনো ব্যর্থতা দেখেন না, নতুনদের সামনে আনছেন না। নেতৃত্ব, কাঠামো ও কর্মসূচীতে কোনো পরিবর্তন নেই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই। এতে বামপন্থার অবস্থা, ভাবমূর্তি ও সম্ভাবনা যতটুকু ছিল সেটুকুও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লাতিন আমেরিকা ও মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তনের হওয়া
লাতিন আমেরিকার রাজনীতি ও ক্ষমতা কাঠামোয় পরিবর্তনের ধারা অনেক আগের। কিন্তু সেই ঢেউ শুধু লাতিনের দেশগুলোতে আটকে থাকেনি। তা এসে খোদ আমেরিকাতেও পড়েছে। কমিউনিজম ও সমাজতন্ত্রের কথা উচ্চারিত হলে ভর্ৎসনা করার জমানা আর নেই। মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য কয়েক বছর ধরেই মার্কিন শাসকের সাম্রাজ্যবাদী নীতি, ধনীদের তোষণ, তাদের সম্পদের পাহাড়, শোষণ-বৈষম্য, কর্মসংস্থান, আয়-উপার্জন নিয়ে কথা বলছেন।
সর্বশেষ মার্কিন নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড়ে বামপন্থী বার্নি স্যান্ডার্স অন্যদের ঘাম ছুটিয়েছেন। তিনি এক কোটির ওপরে ভোট পেয়েছেন। সে সময়ের এক জরিপে দেখা গেছে মার্কিন জনগণের মধ্যে বামপন্থার ঝোঁক বাড়ছে। এক্ষেত্রে বার্নিই প্রথম রাজনৈতিক নয়, তার কৃতিত্ব হলো তিনি এই রাজনৈতিক ভাবনাকে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে পেরেছেন। তিনি কর্মক্ষেত্রের গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা বলছেন। প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণ চেয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা এক শতাংশের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এক শতাংশ মানুষের হাতে এখন দেশের ৪০ শতাংশ সম্পদ। তারাই রাজনীতি-অর্থনীতির সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ও তার বামপন্থী বন্ধুরা এই অবস্থার পরিবর্তন চান। তবে তারা সমাজতন্ত্রের পুরনো ধারণা ও কাঠামো নয়, নতুন ধারনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে হয় বামপন্থী ও তাদের জোট ক্ষমতায়, না হলে এ দেশগুলোতে তারা প্রধান বিরোধী দল বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আছেন। কিউবা, ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো— সর্বত্রই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও কর্পোরেট বেনিয়াদের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তারা টিকে আছেন এবং অগ্রসর হচ্ছেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মার্কিন আগ্রাসন নীতির কারণে বামপন্থীদের প্রভাব দিন দিন আরও বাড়ছে ও অপ্রতিরোধ্য হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : স্বাস্থ্যবিধি না মানা, ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ব্যবহার করায় বুধবার দুপুরে টঙ্গীতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ধায্য ও আদায় করেছে।
গাজীপুর জেলাপ্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না রহমান জুতি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে টঙ্গীর খাঁ পাড়ায় হাফিজ বেকারি ও গাজীপুরা ড্যান্ডি ফুডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে হাফিজ বেকারীকে ১ লক্ষ টাকা ও ড্যান্ডি ফুডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য ও আদায় করা হয়। এ অভিযানের সময় গাজীপুর জেলা মাকিটিং অফিসার আব্দুস সালাম ও টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরীমনি আটক, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদস্যরা। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বনানীতে তার বাসায় অভিযান শুরু হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরীমনির বাসার গেটের বাইরে র্যাবের সদস্যরা অবস্থান করছেন। তার বাসাটি ঘিরে রেখেছেন। প্রথমে বাসার গেট খুলতে চাননি পরীমনি। পরে র্যাব সদস্যদের পরিচয় জানতে পেরে বাসার গেট খুলে দেন তিনি। এখন র্যাব সদস্যরা তার বাসার ভেতরে অবস্থান করছেন।
এর আগে ফেসবুক লাইভে এসে পরীমনি বলেন, ‘কারা যেন আমার বাসায় ঢোকার চেষ্টা করছে। কেউ কালো কাপড় পরে আছেন, কেউ রঙিন কাপড় পরে আছেন। এরা কারা ভাই? আমি লাইভ কাটছি না।’
পরীমনি বলেন, ‘পুলিশ হলে তো দরজা খুলেই দেব। কিন্তু তারা তো পরিচয় দিচ্ছে না। মেরে ফেললে সবার সামনে মেরে ফেলে যাক। আমি লাইভ কাটব না। সবাই দেখুক। সবাইকে দেখায় দেব, এরা কী কী করে।’
এ সময় পরীর বাসার দরজা ধাক্কার শব্দ পাওয়া যায়। পরীমনি বলেন, ‘ভাই আপনারা কিছু দেখতেসেন না, কিছু বলতেসেন না। আমি যে কী পরিমাণ সিক। তিন দিন ধরে বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। আমার পরিচিতরা কী আসবেন? একটু দেখবেন, এরা কারা। লিটারেলি আমার দরজা ভাঙচুর করতেসে।’
করোনায় আজ মৃত্যু ২৪১, শনাক্তের হার ২৭.৯১ শতাংশ
করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ২১ হাজার ৬৩৮ জন মারা গেছেন। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮১৭ জনের, শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
আজ বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল এবং গত ২৭ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়।
আজ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে ৪৯ হাজার ৫১৪টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ১৩ হাজার ৮১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ নয় হাজার ৯১০ জনের করোনা শনাক্ত হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৪১ জনের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ ও ১১৬ জন নারী।
২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ জন মারা গেছেন। বরিশাল ও সিলেট বিভাগে এ সময়ে সবচেয়ে কম পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, খুলনা বিভাগে ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ১৫ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে সাত জন মারা গেছেন।
আর, তাদের মধ্যে দেশের সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৮৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৭ জন, বাসায় ১৮ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন একজন।
একই সময়ে দেশে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ১১২ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৭ জন।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত মোট পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মোট শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ১২ শতাংশ ও মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।
গাজীপুর জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু
গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি আব্দুর রহিম (৫৫) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি শ্রীপুর উপজেলার ডালেশ্বর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ জানান, আব্দুর রহিম গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মারামারি মামলায় গ্রেপ্তার হন। আদালতের নির্দেশে ২৫ জুন তাকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে দিনি এ কারাগারেই বন্দি ছিলেন। তার হাজতি নং ৫৮৯৫/২১।
তিনি জানান, আব্দুর রহিম কিডনি ও বহুমূত্ররোগী ছিলেন। এর আগেও অসুস্থ হলে তাকে ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
কারাগারের সুপার আরও বলেন, বুধবার ভোর ৫টার দিকে জেলা কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ৬টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বজ্রপাতে ১৬ বরযাত্রীর মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীতে বজ্রপাতে বরযাত্রীবাহী নৌকায় থাকা ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৬ জন। আহত ব্যক্তিদের সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাকিব-আল-রাব্বি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যবের সঙ্গে একমত নয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
কঠোর বিধি-নিষেধ শেষে আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৮ বছরের ওপরের কেউ টিকা ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে একমত নয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, টিকা নেওয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ বাইরে বের হতে পারবে না- বলে যে সংবাদটি প্রচার হচ্ছে তা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। প্রচারিত এ তথ্য সঠিক নয়।
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘১১ আগস্টের পর ভ্যাকসিন ছাড়া কেউ বাইরে বের হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১৪ হাজার কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
আইন না করলেও অধ্যাদেশ জারি করে হলেও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। ‘ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭ দিনে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে। সুতরাং ভ্যাকসিন ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ রাস্তায় বের হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ‘
বৈঠকে ১২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ১৬ জন সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইইডিসিআর পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
মিতু হ’ত্যা: বাবুলের ‘ভারতীয় প্রেমিকার’ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পিবিআই!
চট্টগ্রামে পাঁচ বছর আগের চাঞ্চল্যকর মিতু হ’ত্যা মা’ম’লার আ’সামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের ভারতীয় প্রেমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মা’ম’লার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা গণমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছ থেকে
বাবুল আক্তারের ভারতীয় প্রেমিকার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। মা’ম’লার তদন্তকাজকে এগিয়ে নিতে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ওই নারী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’
ওই নারীর অবস্থানের বিষয়ে জানতে আরো তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআর বরাবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘মা’ম’লার এজাহারে গায়ত্রী নামের ওই নারীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, গত ২৩ মে বাবুলের কথিত এই প্রেমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।
গত মে মাসে জানা গিয়েছিল, বাবলুকে তার কথিত প্রেমিকা দুটি বই উপহার দেন। যা ফরেনসিক পরীক্ষা করতে পাঠাতে চায় পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মা’ম’লার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’ ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় কু’পিয়ে ও গুলি করে হ’ত্যা করা হয় মাহমুদা খানম ওরফে মিতুকে।
ওই ঘটনায় বাদী হয়ে বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় মা’ম’লা করেন। তাতে তিনি বলেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। তবে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় মাহমুদা হ’ত্যার তদন্ত নতুন মোড় নেয়। অব্যাহতভাবে মাহমুদার মা–বাবা এই হ’ত্যার জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে আসছেন।
পরে পিবিআই দাবি করে, মিতু হ’ত্যায় বাবুল জড়িত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এরপরই আগের মামলার চার্জশিট ও নতুন করে মা’ম’লা দায়ের হয়। ওই এজহারে বাবুল আক্তারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের ওই এনজিও কর্মীর পরকীয়া ছিল বলে অ’ভিযোগ করেন মা’ম’লার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।
এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গায়ত্রী অমর সিং নামে এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এর পরই কর্মক্ষেত্রে ও সমাজে সম্মান হারানোর ভয়ে মিতুকে পরিকল্পিতভাবে খু’ন করে চিরতরে তার মুখ বন্ধ করে দেন বাবুল।
মা’ম’লার এজজার ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গায়ত্রী অমর সিং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের ফিল্ড অফিসার হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। বুল আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজার জেলায় চাকরি করার সময় তার সঙ্গে গায়েত্রীর দেখা হয়। তখনই তার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পর্ক হয়। ব্যক্তিগত জীবনে গায়ত্রী বিবাহিত এবং তার একটি ছেলে রয়েছে।
তারা কক্সবাজারের মারমেইড বিচ রিসোর্টে একান্ত সময় কাটিয়েছেন বলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে। মিতুর বাবার দায়ের করা হ’ত্যা মা’ম’লার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,বাবুল-গায়ত্রী সম্পর্কের বিষয়টি জানা যায় ২০১৪ সালে। সেসময় বাবুল সুদানে জাতিসংঘের মিশনে যান। তখন তার বাসায় দুটি বই উপহার পাঠান গায়ত্রী। এছাড়াও বাংলাদেশে রেখে যাওয়া বাবুলের মোবাইলে ২৯টি মেসেজও পাঠান তিনি।
সর্বশেষ মিতু হ’ত্যার কয়েকমাস আগে বাবুল একটি ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় গায়েত্রী তার বাসায় দুইটি বই উপহার পাঠান। বই দুটির নাম-তালিবান ও বেস্ট কেপ্ট সিক্রেট। তালিবান বইটির ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় গায়েত্রী নিজ হাতে একটি বার্তা লিখে দেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমাদের ভালো স্মৃতিগুলো অটুট রাখতে তোমার জন্য এই উপহার। আশা করি এই উপহার আমাদের বন্ধনকে চিরস্থায়ী করবে। ভালোবাসি তোমাকে, গায়ত্রী।’
একই বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় গায়ত্রী তাদের প্রথম দেখা, প্রথম একসঙ্গে কাজ করা, প্রথম কাছে আসা, মারমেইড হোটেলে ঘোরাফেরা, রামু মন্দিরে প্রার্থনা, রামুর রাবার বাগানে ঘোরাফেরা এবং চকরিয়ায় রাতে সমুদ্রের পাশ দিয়ে হাঁটা ইত্যাদি স্মৃতির কথা উল্লেখ ছিল। এছাড়াও বেস্ট কেপ্ট সিক্রেট নামের বইয়ের ২য় পাতায় গায়েত্রীর নিজ হাতে ‘তোমার ভালোবাসার গায়ত্রী (ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা)’।
চাদা না পেয়ে বন কর্মকর্তার কান্ড
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালায় চাদা না পেয়ে এক কৃষকের পাঁজ হাজার লেবু গাছ কেটে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের অভিযোগ, ‘কেটে দেওয়া গাছগুলোতে পুরোদমে ফলন এসেছিল। বন রেঞ্জ কর্মকর্তার দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার বাগানের পাঁচ হাজার লেবু গাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার।’
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক নজির আলম বলেন, ‘রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা বন রেঞ্জের আওতাধীন সোনাইছড়ি খালের তীরবর্তী বনাঞ্চলের প্রায় পাঁচ একর জমিতে গত ২০ বছর ধরে আমি চাষাবাদ করে আসছি। একসময় এখানে তরমুজ, মরিচসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করতাম। পরবর্তীতে অপহরণকারী ও সশস্ত্র ডাকাতের উৎপাত বেপরোয়াভাবে বেড়ে গেলে আট বছর আগে লেবুর বাগান শুরু করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সব গাছে লেবুর ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত লেবু ধরেছে। আমার এই সফলতা দেখে বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও হেডম্যান লোভের বশবর্তী হয়ে আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতে থাকে। চাঁদা দিতে না পারলে গত বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ বন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু একদল লোক নিয়ে এসে আমার লেবু বাগানের ফলবান গাছগুলো কাটা শুরু করেন।’
‘তারা একে একে আমার পুরো বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার লেবু গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেন। জীবনের সব সঞ্চয় ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিলে তিলে বাগান গড়ে তুলেছি। একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম,’ যোগ করেন তিনি।
নজির আলমের ছেলে আরিফ বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে রেঞ্জ বন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু আমাকে তার রেঞ্জ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে লেবু বাগান রক্ষা করতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন। টাকা না দিলে পুরো বাগান কেটে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন। বাবা চাঁদার টাকা দিতে না পারায় রেঞ্জ কর্মকর্তা পরিকল্পিতভাবে বাগানের সব লেবু গাছ কেটে ফেলেছেন।’
স্থানীয়রা জানান, ওই জমিটি খালের তীরবর্তী হওয়ায় অন্যান্যদের মতো নজির আলমও চাষাবাদ করতেন। তিনি অনেক টাকা ব্যাংক ঋণও নিয়েছেন। কিন্তু বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার অমানবিক আচরণে নজির আলম এখন নিঃস্ব।
জানতে চাইলে জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ বন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে বাগানটি সৃজন করায় সেটি কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা এভাবে বনভূমি দখল করে বাগান করেছেন তাদের বাগানও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।’
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
রামু অঞ্চলের লেবু বাগান মালিকদের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ বলেন, ‘নজির আলম বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমিতে লেবু বাগান করেছে এটি ঠিক। তার মতো আরও অনেক মানুষ বন বিভাগের জমিতে চাষাবাদ এবং বাগান করছেন। তাহলে শুধুমাত্র নজির আলমের বাগান কেন কেটে ফেলা হবে। এখানেই তো বন বিভাগের কর্মচারীদের অবৈধ, অনৈতিক ও বিতর্কিত ভূমিকা প্রমাণিত হয়।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের রামু উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলম লেবু গাছ কেটে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘ফলবান গাছ কাটার চেয়ে বড় বর্বরতা আর কিছুই হতে পারে না।’
