সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা। সারাদেশে মুসলমানরা দিনটি যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করছে। গতবারের মতো এবারও করোনার কারণে ভিন্ন আবহে পালিত হচ্ছে ঈদ। করোনার কারণে নানা বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। অনেকেই যাননি গ্রামে। আবার অনেকেই করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে শহর ছেড়ে ছুটেছেন গ্রামে।

আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও আকুন্ঠ আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ঈদের নামাজের পর আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন।

করোনার কারণে এবারও জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের অনেক ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। ঈদের আনন্দের দিনে খোলা থাকবে না বিনোদন কেন্দ্রগুলো।

মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আসুন কোরবানির ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, মসজিদে ঈদের নামাজ আয়োজনের ক্ষেত্রে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে পুরো মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মুসল্লিদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদ/ঈদগাহে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদ বা ঈদগাহে ওজুর স্থানে সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদ বা ঈদগাহ মাঠের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান ও পানি রাখতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, ও অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা হয়।

হাইতির নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল হেনরি

প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই সপ্তাহ পর দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যারিয়েল হেনরি। গতকাল মঙ্গলবার তিনি শপথ গ্রহণ করেন বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।

মইসি নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লদে জোসেফ। কিন্তু গত সোমবার তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী পোর্ট আ প্রিন্সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন হেনরি। শপথ গ্রহণের পর তিনি দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর নিহত প্রেসিডেন্ট মইসি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আনেন অ্যারিয়েল হেনরি। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।’

এর আগে গত সোমবার পদত্যাগের পর ক্লদে জোসেফ বলেন, হেনরির ক্ষমতা গ্রহণের ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পথ সুগম হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই রাতে নিজ বাসভবনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জোভেনেল মইসি। এর মাত্র দুই দিন আগেই হাইতির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যারিয়েল হেনরিকে মনোনীত করেন তিনি। তবে তার শপথ গ্রহণের আগেই নিহত হন।

 

ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াকাটা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটমার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে পাড়াকাটা গ্রামের কিশোররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে স্থানীয় জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলে। খেলায় জয় পরাজয় নিয়ে ওই দিন উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর সূত্র ধরে আজ বুধবার সকালে পাড়াকাটা গ্রামের সজল গাইনের (১৭) সঙ্গে একই গ্রামের জামাল মল্লিকের (৩৮) কথা কাটাকাটি হয়।

এরপর দুদল গ্রামবাসী একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোটালীপাড়া থানা ও ভাঙ্গারহাট নৌতদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাওন সিকদার জানান, গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানান তিনি।

চামড়ার দাম খুবই কম

 

 

রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় চলছে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার ধুম। কিন্তু আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে এবারও পানির দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া।

 

 

 

ফলে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন বহু মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী। তারা বলেন, পানির দাম আছে কিন্তু চামড়ার দাম নেই! নানা অজুহাত দেখিয়ে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন পাইকারি আড়তদাররা।

 

 

ফলে বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে পানির দামে চামড়া বিক্রি করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। আকার ভেদে পোস্তায় প্রতি পিস গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

 

 

 

তবে আড়তদাররা বলেছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দাম দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করছেন। ক্ষেত্র বিশেষে দাম একটু কম বেশি হতে পারে।

 

 

 

বুধবার (২১ জুলাই) দুপুর লালবাগের পোস্তায় গিয়ে দেখা যায়, বিকেল ৩টার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির চামড়া আসতে শুরু করে।

আড়তদারদের হাঁকডাকে সরব হয়ে উঠেছে লালবাগের শায়েস্তা খান, রাজ নারায়ণ ধর রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন রোড। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। এ বছর পোস্তার আড়তগুলোতে বড় চামড়া ৫৫০ টাকা, মাঝারি ৪০০ টাকা ও ছোট চামড়া ২৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করছেন অড়তদাররা।

তবে করোনাকালে কোরবানির ঈদ হওয়ায় পশুর চামড়া কম সংগ্রহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পশু কোরবানি এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় পোস্তায় এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি কাঁচা চামড়ার বেচাকেনা। রাতের দিকে পুরোদমে চামড়া কেনাবেচা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পোস্তার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বিকেল ৫টার পর থেকে চামড়া কেনাবেচা জমে ওঠে। গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ করা হবে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সে দামে শুধু লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ করা যাবে। কিন্তু বর্তমানে যে চামড়া আসছে সেটা লবণ ছাড়া, তাই এ চামড়ার দামও কম। কারণ প্রতিটা চামড়ার জন্য আরও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ করতে হবে প্রসেসিংয়ে জন্য। এজন্য ব্যবসায়ীরা চামড়ার গুণগত মান দেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ করছেন। এতে প্রতিটি চামড়ার দাম গড়ে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পড়ছে। গতবছরও এই দামে বিক্রি হয়েছে। চামড়া প্রসেসিংয়ের পরে সাভারের ট্যানারিগুলোতে পাঠিয়ে দেবেন আড়তদাররা। এছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার আড়তে গতবারের মতো এবারো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ হবে না বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

রূপগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে ৩০০ চামড়া এনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক ফারুক। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, গত ১০ বছর দরে চামড়ার ব্যবসা করছি। কিন্তু গত দুই তিন বছর ধরে পানির দরে চামড়া বিক্রি করছি। পানির দাম আছে ভাই, চামড়ার দাম নেই। গত এক বছরে সবকিছুর দাম বাড়ছে কিন্তু চামড়ার দাম বাড়েনি। যে চামড়া ২ হাজার টাকায় বিক্রির কথা, সেই বড় চামড়া বিক্রি করছি ৫৫০ টাকায়। মাঝারি চামড়া ৩০০ টাকায়, ছোট চামড়ার তো কোনো দামই নেই। আর ছাগলের চামড়া ১০ টাকা। সব চামড়া লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে।

সরকার তো দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তাহলে লোকসান হবে কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়া কিনছে। সরকার যদি তদারকি করতো তাহলে এমনটা হতো না।

মৌসুমি ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া বলেন, চামড়াজাত পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু চামড়ার দাম বাড়েনি। করোনার সময় সবকিছুর দাম বেড়েছে শুধু চামড়ার দাম বাড়েনি। ৫০০ পিস চামড়া এনেছিলাম। ছোট, বড় গড়ে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দিয়েছি। কিছু করার নেই। এক ঘণ্টা পড়ে বলবে চামড়ার মান খারাপ হয়ে গেছে। তখন আরও কম দাম দেবে। তাই বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হয়েছে। আমরা কার কাছে যাবো, কার কাছে বলবো, আল্লাহ ছাড়া বলার কেউ নেই!

এ বিষয়ে ছমির হানিফ অ্যান্ড সন্সের মালিক হাজী মো. ছমির উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ৪৬ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করছি। এমন বাজার আর দেখি নাই। আজকে গড়ে প্রতিটি চামড়া আমরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দর দিচ্ছি। আগামী তিনদিন আমরা এই কাঁচা চামড়া নেবো। পড়ে লবণযুক্ত চামড়া নেবো।

এস এম কামাল অ্যান্ড সন্সের আনোয়ার বাংলানিউজকে বলেন, সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম গতবছর থেকে ৫ টাকা বেশি নির্ধারণ করেছে। আমরা সেই চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই কিনবো। কিন্তু আগামী দুই দিন পর্যন্ত লবণ ছাড়া কাঁচা চামড়া আসবে সেটা আমরা নির্ধারিত দাম থেকে ৩/৪ টাকা কমে কিনছি। যা গত বছরের বিক্রি হওয়া চামড়ার দামের সমান পড়ে যাচ্ছে। কারণ একটি চামড়া কেনার পর প্রসেস করতে আমাদের ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পড়ে যায়। এজন্য লবণ ছাড়া চামড়ার দাম কম।

রিয়াজ উদ্দিন ট্রেডাসের মালিক মো. রিয়াজ বলেন, গরুর চামড়ার দাম না থাকায় এ বছর ছাগলের চামড়া কিনছি। আগে যেখানে একটি বড় গরুর চামড়ার দাম ছিলো ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। তারপর প্রসেসিং খরচ সব মিলিয়ে গরুর চামড়া কিনলে লোকসানে পড়তে হবে। তাই ছাগলের চামড়া কিনছি প্রতি পিস ১২ টাকা দরে।

তিনি বলেন, করোনার জন্য আমাদের চামড়া রপ্তানি কমে গেছে। ফলে ট্যানারি মালিকরাও চামড়া কম নেবে। কারণ তাদের প্রচুর মজুদ রয়ে গেছে। রপ্তানি বাজার ভালো হলে যদি চামড়ার দাম বাড়ে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি আফতাব খান বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা শহর ও এর আশেপাশের কোরবানির পশুর চামড়া পোস্তায় আসতে শুরু করেছে। দুপুর থেকেই আমরা কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছি। বিকেলের দিকে কেনাবেচা জমে উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবেন তত ভালো। আমরা আগেও বলেছি, চামড়া কেনার সময় যেন ভেবেচিন্তে কেনে। চামড়ার মান বুঝে আমরা দাম দেব। আমাদের কাছে যারা আসছেন সবাই ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। এখানে (পোস্তা) দাম কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

চলতি বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গত বছর যা ছিল ৩৫ থেকে ৪০টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে গত বছর যা ছিলো ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা। গত বছর যা ছিলো ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপশি বকরির চামড়ার দাম নির্ধরণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা, গত বছর যা ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ঈদ উপহার ও কোরবানির জন্য ২৩৫টি গরু দিলেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঈদ উপহার ও কোরবানির জন্য ২৩৫টি গরু পেয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন ভাসানচরের রোহিঙ্গারা। সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে উপহার সামগ্রী ও কোরবানির পশু নিয়ে তারা আনন্দ মিছিল করেন।

নৌবাহিনীর ভাসানচর ক্যাম্পের ইনচার্জ শংকর বিশ্বাস দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জীবন নির্বাহ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঈদ উপহার এবং কোরবানির পশু নিয়ে ওয়্যার হাউসের সামনে থেকে আনন্দ মিছিল বের করেন রোহিঙ্গারা। গরুগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। বিভিন্ন ক্লাস্টার এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয় আনন্দ মিছিলটি।

শংকর বিশ্বাস আরও বলেন, গত দুদিন ধরেই ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রথম দিনে পৌঁছে দেওয়া হয় ভ্যান গাড়ি, সেলাই মেশিন ও মাছ ধরার জালসহ নানা সামগ্রী। এরপর ২৩৫টি গরু পৌঁছে দেওয়া হয়।

ভাসানচরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, মূলত জীবিকা নির্বাহের নানা সামগ্রী ও কোরবানির গরু দেওয়ায় রোহিঙ্গারা আনন্দ মিছিল করেন। মিছিলকারীরা গরুগুলোর গায়ে মালা ও বেলুন ঝুলিয়ে তাদের আবাসের কাছে নিয়ে যান। মিছিলকারী রোহিঙ্গারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।

কোরবানির বিষয়ে আয়েশা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, ঈদ তো আনন্দের উপলক্ষ। শুনেছি সবার ঘরে ঘরে গরুর মাংস দেওয়া হবে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভালোভাবে ঈদ কাটবে। গত ঈদের মতো এবারও বাচ্চাদের জন্য খেলাধুলার আয়োজন থাকছে। এতো বড় খোলামেলা এলাকা। সবাইকে নিয়ে এখানে ঘুরতেও ভালো লাগে।

ভাসানচরের আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের পরিচালক কমডোর এম রাশেদ সাত্তার জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো কয়েকটি দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে রোহিঙ্গাদের জন্য দুই শতাধিক গরু দিয়েছে। এসব নিয়ে কোরবানির ঈদের আয়োজন করা হচ্ছে। ভাসানচরের প্রতিটি পরিবারের মধ্যে কোরবানির ঈদের দিন মাংস বিতরণ করা হবে।

অন্যদিকে বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাফর আলম জানান, ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য ইসলামিক রিলিফ ১৩৫টি গরু বগুড়া থেকে এনেছে। কোরবানির দিন প্রতিটি গরু দিয়ে ৩৫টি পরিবারের মধ্যে গড়ে দুই কেজি মাংস দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর দ্বীপে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এরপর একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর আরও এক হাজার ৮০৪ জন, চলতি বছরের ২৯-৩০ জানুয়ারি দুই হাজার ৪২১ জন ও ১৩ ফেব্রুয়ারি তিন হাজার ৬০০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়

করোনার টিকা নিলেন খালেদা জিয়া

করোনাভাইরাসের টিকা নিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আজ সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তিনি রাজধানীর মহাখালীর ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান খালেদা জিয়া। গত ১২ জুলাই খালেদা জিয়া টিকার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেন।

গতকাল রোববার (১৮ জুলাই) তার টিকার এসএমএস আসে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সেখানে ৫৪ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৯ জুন রাতে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন খালেদা জিয়া।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমইউয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ভুগে মহানবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা ডেনিশ কার্টুনিস্টের মৃত্যু

মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা ডেনিশ কার্টুনিস্ট কুর্ট ওয়েস্টারগার্ড মারা গেছেন।

রোববার এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তার পরিবার জানায়, ১৪ জুলাই কোপেনহেগেনে তার মৃত্যু হয়। ৮৬ বছর বয়সী ওয়েস্টারগার্ড দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ডেনমার্কের এ কার্টুনিস্ট রক্ষণশীল জাইল্যান্ডস-পোস্টেন পত্রিকায় ১৯৮০ সালের আগে থেকে কাজ করতেন।

তার আঁকা কার্টুন ফ্রান্সের রম্য ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো-তে প্রকাশিত হলে তা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৫ সালে ওই ম্যাগাজিনটির কার্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ম্যাগাজিনটির সম্পাদক ও নামকরা তিনজন কার্টুনিস্টসহ ১২ জন নিহত হয়। আর দুই হামলাকারী নিহত হন। এর কয়েকদিন পর প্যারিসে আরেকটি হামলায় ৫ জন নিহত হয়। সেই হামলার সঙ্গে আগের হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ডেনমার্কের নাগরিক কার্ট ১৯৮০’র দশক থেকেই রক্ষণশীল পত্রিকা জিল্যান্ড-পোস্টেন এ কার্টুনিস্ট হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। এই পত্রিকায় ২০০৬ সালের শুরুর দিকে ‘দ্য ফেস অফ মুহাম্মদ’ শিরোনামে ১২টি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়। তবে তা প্রকাশের পর অনেকটাই আড়ালে চলে গেলেও একটি নির্দিষ্ট ব্যঙ্গচিত্রের জন্য দুই সপ্তাহ পর এগুলো প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে কোপেনহেগেনে এর তীব্র বিরোধীতা করা হয়। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে মুসলিম বিশ্বে এন্টি-ডেনিশ মুভমেন্টের মূল কারণও ছিলো এই ব্যঙ্গচিত্র। সূত্র : ডেইলি মেইল, বিবিসি

এক যুগ পর জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জিতল টাইগাররা

দীর্ঘ এক যুগ পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন উইকেটের জয় পেয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে জিতে এগিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আজ রোববার জিম্বাবুয়ের হারারেতে টসে জিতে ব্যাট করতে এসে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে পাঁচ বল ও তিন উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। দলের পক্ষে ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব আল হাসান।

এর আগে তরুণ পেসার শরিফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিং সত্ত্বেও বাংলাদেশের সামনে ৯ উইকেটে ২৪০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়েছে জিম্বাবুয়ে। যদিও বাংলাদেশের লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ এবং পিচ কোন সাপেক্ষেই এমন লক্ষ্যমাত্রা কঠিন কিছু ছিলো না।

তবে নিয়মিতো বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আর সেখান থেকেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাকিব। এক্ষেত্রে তার সহকাপ্তান ছিলেন সাইফুদ্দিন। যিনি ৩৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ২৮ রানে।

ছেলে না হওয়ায় অন্তঃসত্ত্বাকে ব্যাটারির অ্যাসিড পুশ করে ‘হত্যা’

মাদারীপুরে ছেলে সন্তান না হওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যাটারির অ্যাসিড পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলা কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই গৃহবধূর নাম রোজিনা আক্তার (২২)। তিনি কালিকাপুর ইউনিয়নের নুর হোসেনের (২৪) স্ত্রী। দুমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় স্থানীয়দের চাপের মুখে স্ত্রীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে অ্যাসিড পুশ করার কথা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, তিন বছর আগে নুর হোসেন ও রোজিনার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই ছোট-খাটো বিষয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। রোজিনাকে মারধরও করতেন নুর হোসেন। এক বছর আগে তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। ছেলে সন্তান জন্ম না হওয়ায় কলহ আরও বেড়ে যায়।

তারা আরও জানান, দাম্পত্য জীবনের এসব কলহের জেরে মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভূগছিলেন রোজিনা। দুদিন আগে রাতে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় নুর হোসেন ব্যাথার ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলে স্ত্রীর শরীরে ব্যাটারির এসিড পুশ করেন। পরে রোজিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তবর্ণ দাগ হয়ে যায়। নুর হোসেন তাকে ডাক্তারের কাছে না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে থাকে।

একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

চরনাচনা গ্রামের বাসিন্দা মুহসিন উদ্দিন বলেন, ‘রোজিনা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। পরে শুনি সে মারা গেছে। কিন্তু রোজিনা হাসপাতালে যাওয়ার আগে আমদের বলেন, ‘‘আমাকে ইনজেকশন দেওয়ার পরই এমন হয়েছে’’।’

মুহসিন উদ্দিন আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে আমরা নুর হোসেনকে ইনজেকশনে কী ছিল তা জানতে চাপ দেই। পরে নুর হোসেন স্বীকার করেন, ‘‘দুই মাসের সন্তানকে মেরে ফেলতে ইনজেকশনে অ্যাসিড পুশ করেছেন।’’ রোজিনাকে মারার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাচ্ছি। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাজারে এল নতুন এসি, যত ইচ্ছে চালালেও দিতে হবে না বিদ্যুত বিল

 

দিন দিন তাপমাত্রা যেন বেড়েই চলেছে। আর সেই সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের বিলও। এই গরমে একটু স্বস্তির জন্য এসি ছাড়া থাকার কথা অনেকেই ভাবতেই পারেন না। অন্তত রাতের ঘুমটা যেন শান্তি মতো হয় সে কারণে এসি কথা চিন্তা করেন অনেকেই।

তবে এসি চালালে সেখানে আবার দিতে হয় আকাশচুম্বী বিদ্যুতের বিল। আর এ কারণে অনেকই এসি কিনা কিংবা ব্যবহার থেকে কিছুটা দূরে থাকেন।

তবে এবার মুশকিল আসানে এসে গেল এমন এক এসি, যা আপনি যত ইচ্ছে চালান বিদ্যুতের বিলের কথা না ভেবে।

শুনে একটু অবাক লাগলেও কথাটা সত্যি। এসি চালালেও এবার আর বিদ্যুতের বিল আসবে না। কেননা বাজারে এসে গেছে সৌরশক্তি চালিত এসি। আর এমন এসি বাজারে এনেছে ভিডিওকন আর এলজি। এটি ব্যবহারে সবচেয়ে বড় লাভ এটাই যে একবার লাগান আর বিদ্যুতের বিলের থেকে মুক্তি পান চিরকালের জন্য।

বাজারে এল নতুন এসি

বাজারে এল নতুন এসি

এছাড়া এ এসির মেন্টেনেন্স খরচও অনেক কম। যে কোম্পানি এটি তৈরি করেছে তাদের দাবি যে, যেন কোনো ঋতুতে কাজ করবে এটি। এর বেশি মেন্টেনেন্স করতে হয় না, ফলে আপনার খরচও কমে যায়।

এছাড়া এই এসির সঙ্গে সাথে আপনি পেয়ে যাবেন সোলার প্যানেল আর ডিসি থেকে এসি কনেক্টার। সোলার প্যানেল লাগানোও অনেক সহজ। বাড়ির ছাদে বা যেখানে ভালো রোদ আসে এমন একটি যায়গায় এই সোলার প্যানেল লাগালেই হবে।

বাজারে এল নতুন এসি

বাজারে এল নতুন এসি

এছাড়া এই এসি কে আপনি রাতেও ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যাটারির সাহায্যে সারারাত চলবে এটি। এই ব্যাটারিটি দিনের বেলায় সোলার প্যানেলের থেকে চার্জ হয়ে যাবে আর তার সাহায্যে রাতে চলবে।

১টন এসির জন্য ৪টি সোলার প্যানেল। কোম্পানি এসির সঙ্গে সোলার প্যানেল, ডিসি টু এসি কনেক্টর আর ইন্সটলেশন সব দিচ্ছে।  তবে নরমাল এসি থেকে এর দাম কিছুটা বেশি পড়বে। কিন্তু আপনি এটাও ভাবেন যে এই খরচাটি শুধু একবার করতে হবে। এই মুহূর্তে সৌরশক্তি চালিত এই এসির দাম পরবে প্রাই ১ লাখ টাকার মতো।