টঙ্গীর শিল্প এলাকায় পশুর হাট প্রতিবাদে মানববন্ধন

টঙ্গী পূর্ব (গাজীপুর) প্রতিনিধি : বাংলাদেশে ভয়াবহ করোনাকালীন সময়ে টঙ্গী শিল্প এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে কোরবানীর পশুর হাট না বসার দাবীতে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল গ্রীন সোসাইটি (টঙ্গী শিল্প এলাকা) কারখানা সমূহের মালিক-শ্রমিক ও সকল কারখানার মালিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিলগেইট এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কোভিড-১৯ (ডেল্টা ভেরিয়েন্ট) বা নভেল করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশে কঠোর লকডাউন চলমান। সরকার দেশের অর্থনীতি সচল রাখার নিমিত্তে এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ সাপেক্ষে শিল্পকারখানা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা সরকারি নির্দেশ মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের কারখানা পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করছি। কিন্তু এই কঠিন সময় আমাদের এই শিল্প এলাকায় পশুর হাট বসানো হলে করোনা ভাইরাস বিস্তার ও সংক্রমনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, নিউ মেঘনা টেক্সটাইল মিলস্ লি: পরিচালক ও ইন্ডাষ্ট্রিয়াল গ্রীন সোসাইটির অর্থ সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান ও মো: হানিফ প্রমুখ।

হাসলেন মেসি, কাঁদলেন নেইমার

অনেকের মতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তবে সময়ের সেরা ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। অথচ দু’জনের কেউই বিশ্বকাপ কিংবা নিজ মহাদেশিয় টুর্নামেন্টে কোনো শিরোপ জিততে পারেনি এতদিন। অবশেষে সেই অধরা শিরোপা জিতেছেন মেসি। তবে শিরোপার খুব কাছ থেকে আক্ষেপ নিয়ে ফিরতেছে হয়েছে নেইমারকে। অবশ্য ব্রাজিল গেল আসরে শিরোপা জিতলেও ইনজুরির কারণে ছিলেন না নেইমার।

ক্লাব ক্যারিয়ারে নেইমার যখন বার্সেলোনায় যোগ দেন তখন থেকেই মেসির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে তার। দু’জনের বন্ধুত্বের কারণেই কোপার এই আসরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল দেখতে চেয়েছিলেন পিএসজির এই তারকা ফরোয়ার্ড। কেননা এই মঞ্চেই দু’জনের মধ্যে একজনের শিরোপা খরা কাটবে। মারাকানায় ঠিক তাই হয়েছে ক্যারিয়ারের পড়ন্ত সময়ে এসে আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছেন মেসি। ঘরের মাঠে হেরে চোখের জলে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার।

অবশ্য ম্যাচের পর মেসিকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কেঁদেছেন নেইমার। দু’জনের মধ্যে আবেগময় কণ্ঠে হয়তো অনেক কথাই রয়েছে। হয়তো বন্ধুর পড়ন্ত বেলায় একমাত্র আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন নেইমার। তবে নিজের ক্যারিয়ারে কোপার শিরোপা জয় অধরা থেকে যাওয়ার কষ্ট তো অবশ্যই ছিল তার। আরও একবার কোপার শিরোপার জন্য অপেক্ষা বেড়েছে নেইমারের।

শিরোপাটা মেসিরই প্রাপ্য ছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে টেনে তুলতেও শিরোপা জেতা হয়নি আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। পরের দুই মৌসুমে কোপার ফাইনালে আবারও ভরাডুবি তার। আসরজুড়ে দুর্দান্ত খেললেও কোনো আসরের ফাইনালে গোল করতে পারেননি মেসি। গোল করাতেও পারেননি তিনি। তবে এই আসরে গোল করতে না পারলেও দলকে শিরোপা জেতাতে দারুণ অবদান রেখেছেন তিনি। জিতেছেন গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট।

বৃদ্ধ বাবা-মাকে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখলেন ছেলে!

পীরগঞ্জ উপজেলায় জমিজমার বিরোধ নিয়ে বাবা ও মাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও নাতিদের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে দেহানাগড় ডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আজিম উদ্দিন (৯০) ও কুলসুম বেগম (৭০) পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত বড় ছেলে কফিল উদ্দিন, তার ছেলে মানিক ও মুক্তাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আজিম উদ্দিনের ছোট ছেলে রফিক ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বড় ভাই কফিল উদ্দিনের সঙ্গে বাবা ও মায়ের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে বড় ভাই কফিল উদ্দিন ও তার দুই ছেলে মানিক ও মুক্তা জোর করে জমি দখল করার চেষ্টা করে। এ সময় বাবা আজিম উদ্দিন ও মা কুলসুম বেগম বাধা দেন। এরপর কফিল উদ্দিন ও তার দুই ছেলে মানিক ও মুক্তা বাবা-মাকে বেধরক লাঠিপেটা করে আহত করেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।

এদিকে, অভিযুক্ত কফিল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সকালের দিকে জমিতে আমি আমন ধানের চারা রোপন করতে যাই। এ সময় আমার বাবা ও মা জমিতে আসে এবং পেছন দিক থেকে ছোট ভাই রফিক ও তার স্ত্রী আমাদের বাধা দিলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে আমাকে ও আমার ছেলে মানিক ও মুক্তাকে মারপিট করে আহত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মাথায় ৮টি সেলাই রয়েছে ও আমার ছেলে মানিকের হাত ভেঙে গেছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন উল্টো তারা আমাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করছে।’

হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই জমিজমা নিয়ে আজিম উদ্দিন ও তার সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে বিষয়টি সমাধান করা হয়নি।’

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বৃদ্ধ আজিম উদ্দিনের জমিজমা নিয়ে তার সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া এসব জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। গতকাল সকালের জমিজমাকে কেন্দ্র করে কফিল উদ্দিন ও রফিকের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় হয়তো বৃদ্ধ বাবা-মা বাধা দিতে গেলে তারাও আহত হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ইতিমধ্যে উভয় পক্ষকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গীতে গরুর হাটের প্রস্তুতি করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানার পিছনে লকডাউন উপেক্ষা করে কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় কতিপয় আওয়ামী লীগের নেতারা। হাট বসানোর খবরে এলাকায় করোনা সংক্রমণের বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা করছেন বাসিন্দারা।
পথচারী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত শিল্প কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করে থাকে। এই সড়ক বন্ধ করে কোরবানির পশুর হাটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া পূর্বে একই সড়কে হাট বসানোর পর ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে রাখার ও অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুর মহানগরের ৫৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও স্বঘোষিত হাট ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন জানান, আমাদের কোন লিখিত ভাবে অনুমোদন দেয়া হয় নাই। তবে আমরা মৌখিক ভাবে হাট বসাতে চাচ্ছি। আগামী ১২তারিখে বলা যাবে হাট বসবে কিনা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মৃধা জানান, হাট সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন লিখিত অনুমোদন দেয়া হয়নি। আগামী ১২ জুলাই দেশের করোনা পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে লিখিত অনুমোদন দেয়া হতে পারে। গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম দক্ষিন) ইলতুৎ মিশ জানান, আমাদের কাছে হাট ইজারার কোন তথ্য নাই। যদি সরকারিভাবে ইজারা না দেয়া হয় তাহলে হাট বসাতে পারবে না। এ বিষয়ে জানার জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি।

আগুনে মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না সরকার: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একদিকে লকডাউন ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে মিল-কল কারখানা চালু রেখেছে। লকডাউন নিয়ে সরকারের দ্বৈত-নীতির কারণে নারায়ণগঞ্জের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে এসে অগ্নিকাণ্ডে নির্মমভাবে জীবন দিতে হলো খেটে খাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে। মর্মান্তিক এসব মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না।

শুক্রবার (৯ জুন) হাসেম ফুডস কারাখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মিল-কলকারখানা, বাসা, বাড়ী, হোটেল, রেঁস্তোরা, মার্কেট, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস বিস্ম্ফোরণসহ নানা দূর্ঘটনা ঘটেই চলছে। এতে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের। এসব দূর্ঘটনা রোধে সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।

ফখরুল বলেন, সঠিক তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, নিহত-আহতদেরকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, এ ধরণের দূর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের

সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান-এমডিসহ আটক ৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে (সেজান জুসের কারখানা) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চেয়ারম্যান-এমডিসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কারখানার আগুনের ঘটনায় মামলা হবে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার হবে। ইতিমধ্যে আটজনকে আটক করা হয়েছে। গাফিলতি বিন্দুমাত্র থাকলে কারো ছাড় নেই। ’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত করছি এবং আশা করছি যারা অসুস্থ তারা ফিরে আসবেন। ’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তের পরই বলা যাবে কার দোষ কতটুকু। কিন্তু তদন্তে কারো নির্মাণ ত্রুটি, শ্রমিক পরিচালনায় ত্রুটি বা কেউ যদি সামান্য ভুলও করে থাকেন তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ সময় শিশুশ্রম নিয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্তে সেটি বেরিয়ে আসলে অবশ্যই বিচার হবে।’ শ্রমিকরা ছাদে তালাবদ্ধ ছিল এমন অভিযোগ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, তদন্তের সামান্যতম ত্রুটি বা গাফিলতি যদি পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

কারখানার মালিক বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আটজনকে আটক করেছি। সবাই নজরদারিতে রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ২৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। তবে এ সময়ের মধ্যে ঝরে গেছে ৫২টি প্রাণ। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

রোববার সকালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা ‘ফাইনাল’

আর্জেন্টিনা বাঙালির আবেগ। ব্রাজিলও তাই। এক দল যদি বলে পেলে-গারিঞ্চা-নেইমারের কথা। অন্য দল টেনে আনবে ম্যারাডোনা-মেসিকে।

ফুটবলে বাঙালির চালচুলো না থাকতে পারে, আবেগ আছে ষোলোআনা। কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফাইনাল ঘিরে সেই আবেগে ঢেউ লেগেছে। না, ঢেউ নয় এটাকে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বলাই ভালো! তাই বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার মাইল দূরের রিও’র মারাকানায় রাত পোহালে (বাংলাদেশ সময় কাল সকাল ৬টায় শুরু ফাইনাল) কী হবে তা নিয়ে উদগ্রীব আমি, আপনি সবাই! উদগ্রীব বাংলাদেশের মতো গোটা দুনিয়াও।

 

কে জিতবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের শতাব্দী প্রাচীন লড়াইয়ে এই প্রশ্নটাই অবান্তর। যদিও নেইমার বলেছেন, ‘মেসি আমার দেখা সেরা ফুটবলার। পরম বন্ধুও। কিন্তু এই ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষ। নিজের এবং দেশের হয়ে প্রথমবারের জন্য ট্রফিটা আমি জিততে চাই। ’ নেইমার পারবেন কিনা তা সময়ই বলবে।

 

অন্যদিকে মেসি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার তুলনা হয়। নেইমারের সঙ্গেও। কিন্তু দুনিয়া জানে তার সামনে একজনই আছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বিশ্বকাপ যার ভল্টে। নাপোলিকে একা অমরত্ব দিয়ে গেছেন। শুধু বার্সেলোনার হয়ে অমর কীর্তিগাঁথায় সেই ঈশ্বরকে ছোঁয়া দূর, আলোচনাতেই আসা যাবে না। তাই বিশ্বকাপ না হোক মেসির একটা কোপা অন্তত চাই। এবার সেই সুযোগ। বয়স ৩৪। আন্তর্জাতিক ফুটবলারের জন্য এটা গত-যৌবন। তাই যা করার আজই করতে হবে। আশার কথা তুখোড় ফর্মে আছেন তিনি। চলতি কোপায় ১১ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। প্রতিটাতেই মেসি আছেন। চারটা করেছেন নিজে। পাঁচটাতে সরাসরি পাস দিয়েছেন। অন্য দুটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন যথাসাধ্য। কাল ভোরে মারাকানায় কী করবেন? লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে আর্জেন্টিনার সব আক্রমণের উৎস যে তিনিই হবেন তা নিয়ে কোনো সন্দেই নেই! কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে সেমির বাধা পেরুনোর পর তিন শট ঠেকানো এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন, সেই ছবিতেই স্পষ্ট ফাইনালে উঠতে পারাটা কতটা আরাধ্য ছিল মেসির জন্য। শিরোপাবুভুক্ষু মেসি বলেছেন, ‘ফাইনালে উঠেই রোমাঞ্চিত আমরা। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শিরোপা জয়ের জন্য বেশি উন্মুখ। ’

ম্যারাডোনা যখন খেলতেন তখন ফুটবল মাঠে তার ঐশ্বরিক দক্ষতাময় স্টাইলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডিওগিজম’। এটা কী জিনিস ছিয়াশি দেখেছে। নাপোলিও জানে। মিশেল প্লাতিনি এতটাই মুগ্ধ ছিলেন সেই ম্যারাডোনা স্টাইলে যে একবার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেই ফেলেন, ‘জিদান যা বল নিয়ে করে দেখাতে পারবে, ম্যারাডোনা সেটা করে দেখাতে পারত কমলালেবু নিয়ে। ’ তো মেসিও কিন্তু ডিয়েগোর মতো একা ম্যাচের রঙ বদলে দেওয়ার ম্যাজিক জানেন। গোলমুখে একটা ফ্রি-কিক দিয়ে দেখুন। কিংবা পাস। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ম্যারাডোনার মতোই তিনি ‘শিল্পের বিস্ফোরণ’ হয়ে উঠবেন। পাস খেলতে খেলতে ফুলের কমনীয়তায় ডিফেন্স চিরে দেবেন। মেসির হঠাৎ ক্ষিপ্রতাও ভয়ংকর। প-িতরা এই প্যাকেজের নাম দিয়েছেন ‘মেসিজম’। মুহূর্তে যা ম্যাচের রঙ বদলে দেয়। মারাকানায় ব্রাজিল তেমন কিছুর মুখে পড়লে রোজারিওতে খুশির বন্যা বইবে। তার ঢেউ লাগবে বাংলাদেশেও।

কোপার রেকর্ড অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে। ২০১৯ সালের সেমিফাইনালেও তারা আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচে নেইমারও ছিলেন না চোটের কারণে। এবার খেলবেন তো বটেই, সঙ্গে আছে ব্রাজিলের দুর্ধর্ষ ডিফেন্স। বিশ্বকাপ বাছাই এবং কোপা মিলিয়ে তিতের দল ১২ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল হজম করেছে। রাইট ব্যাকে দানিলো দারুণ খেলছেন। বাম দিকে রেনান লোদিও দারুণ। সেন্টার ব্যাকে মার্কিনহোস অনবদ্য। সঙ্গে থিয়াগো সিলভা, একটু গতি কমলেও এখনো দুর্ধর্ষ। তুলনায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্স একটু পিছিয়ে আছে। ইনজুরির কারণে গত তিন ম্যাচে না খেলা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো কি খেলবেন? পেসিলা ও নিকোলাস ওতামেন্দি কি ঠেকাতে পারবেন নেইমারদের সাম্বা নাচ। কাসিমিরো, ফ্রেড, লুকাস পাকুয়েতা, ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল বারবোসা এবং অবশ্যই নেইমার এদের থামানো কিন্তু সহজ নয়। পেরুর সঙ্গে লাল কার্ড পাওয়ায় ফাইনাল খেলতে পারবেন না গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

মেসির সঙ্গেও আক্রমণের সৈন্য-সামন্ত কম নেই। স্কালোনি ৪-৪-২ ছকে খেলালে মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল এবং জিওভান্নির মাঝে খেলতে পারেন লিওনার্দো পারেদেস। সঙ্গে রদ্রিগুয়েজ এবং নিকোলাস গঞ্জালেস। চলতি কোপায় আর্জেন্টিনার মাঝমাঠই সবচেয়ে ঝলমলে। গোল করার জন্য আছেন মার্তিনেজ, আলেসান্দ্রো গোমেজ এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং অবশ্য লিওনেল মেসি।

এত কিছু লেখার দরকার ছিল না। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ফাইনাল প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব বোঝাতে মেসি-নেইমার নাম দুটিই যথেষ্ট। ভুবনব্যাপী করোনা অতিমারীর তা-বে এরাই পারেন মৃত্যুভয়কে অল্প সময়ের জন্য হলেও ভুলিয়ে রাখতে। মারাকানায় মেরে কেটে পাঁচ হাজার দর্শক থাকবে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এ ম্যাচের দর্শক সংখ্যা অগণন। লাতিন অমেরিকার ফুটবল উৎকর্ষের সমঝদার কে নয়! কাল ভোরে সেই উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের লড়াই। বহু মৃত্যুশোকে ভারাতুর পৃথিবী সেই লড়াই দেখার অপেক্ষায়!

অগ্নিকান্ডের সময় হাসেম ফুডসে কাজ করছিল শিশুরাও

রূপগঞ্জের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে শিশু শ্রমিকেরা কাজ করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। যদিও দেশে শিশুশ্রম আইনিভাবে নিষিদ্ধ।

শুক্রবার হাসেম ফুডস কারখানায় স্বজনদের খুঁজতে আসা অনেকে এমনটাই জানিয়েছেন।

ঝুমা নামে একজন জানান, তার বোন ইসরাত জাহান ফুলির বয়স ১৬, সে অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় কাজ করছিল।

 

রূপগঞ্জ থানার এসআই মিন্টু হাসেম ফুডস কারখানার ফটকে বসে নিখোঁজদের তালিকা করছিলেন। স্বজনদের কথায় জানা গেল, সেই তালিকার অনেকেরই বয়স ১৮ পার হয়নি।

ঝরনা বেগম নামে এক নারী মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে তিনি কারখানা এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তিনি জানান, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে ফারজানা গত তিন বছর ধরে পাঁচ হাজার টাকায় এ কারখানায় কাজ করছিল।

ফারজানার সহকর্মী ১৬ বছর বয়সী মৌমিতা জানান, যখন আগুন লাগে তিনি তখন কাজে ছিলেন না। তার বয়সী অনেক কিশোর-কিশোরী ছিল কারখানার কর্মীদের মধ্যে। তবে কম বয়সীদের সাধারণত রাতের পালায় রাখা হত না।

কম বয়সীদের এভাবে কারখানায় কাজ করানোর বিষয়ে হাসেম ফুডসের কর্মকর্তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লিমা বললেন, পোশাক কারখানাগুলোতে কম বয়সীদের নেয় না।

তবে হাসেম ফুডসে সেই সুযোগ ছিল বলে স্থানীয় অনেক কিশোর-কিশোরীই সেখানে কাজ করত।

 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের চেষ্টায় ১৬ ঘণ্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র।

ইভ্যালির ৩৩৯ কোটি টাকার খোঁজ নেই, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ শুক্রবার দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সূত্র জানায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালির নেওয়া প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি দুদকের অনুসন্ধানে। এই অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা আছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন ও এমডি মো. রাসেল গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছে বলে জানতে পেরেছে দুদক। সে কারণে, তাদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে দুদক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সূত্র জানায়।

দুদক জানায়, ইভ্যালির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ২০২০ সালের নভেম্বরে দুদকের দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি কার্যক্রম শুরু করে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৪ মার্চ ইভ্যালির চলতি সম্পদ পাওয়া যায় প্রায় ৬৫ দশমিক ১৮ কোটি টাকা এবং সংস্থাটির মোট দায় প্রায় ৪০৭ দশমিক ১৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে, ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে প্রায় ২১৪ কোটি টাকা নিয়েছে।

দুদক জানায়, ইভ্যালির চলতি সম্পদ দিয়ে চলতি দায়ের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এর আগে, দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, ইভ্যালি বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অগ্রিম আদায় করছে। কিন্তু, গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করছে না। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের অর্ডার করা পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলেও যথাসময়ে গ্রাহকের পণ্য মূল্য ফেরতও দেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সব রেকর্ড ভেঙে দেশে মৃত্যু ২১২ জনের

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে  গত ২৪ ঘন্টায় ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৩২৪ জন। শনাক্তের হার ৩০.৯৫ শতাংশ। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা-বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে নতুন ২১২ জনসহ মোট মৃত্যু সংখ্য ১৬ হাজার ৪। অপরদিকে, শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়ছে ১০ লাখ ৫৪৩ জনে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সোরা দেশে করোনায় মৃত্যু হয় ১৯৯ জনের। গত বুধবার মৃত্যুর সংখ্য প্রথমবারের মতো ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের। চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে দেশে দৈনিক ১৩০ জনের উপর করোনায় মৃত্যু হচ্ছে।

মৃত্যুর সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। গতকাল বৃহস্পতিবার ১১ হাজার ৬৫১ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন। আগের দিন বুধবার করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৬২ জনের। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৫২৫ জন শনাক্ত হন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ২০৯ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩ হাজার ২৬৮টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৬২ জন ৩৮৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২১২ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগেরই ৭৯ জন। এছাড়া ঢাকায় ৫৩, চট্টগ্রামে ২৬, রাজশাহীতে ২৩, বরিশালে ৫, সিলেটে ৬, রংপুরে ১২ এবং ময়মনসিংহে ৮ জন মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ১১৯ জন পুরুষ এবং ৯৩ জন নারী। এদের মধ্যে ১৬ জন বাসায় মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১৬ হাজার ৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ২৫৪ জন এবং নারী ৪ হাজার ৭৫০ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৯০ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৫৬, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৪০, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৭, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৭ এবং ১১ থেকে ২০ বছরের ২ জন রয়েছেন।