টঙ্গীতে রাসায়নিক গুদামে আগুনের ঘটনায় মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুরের টঙ্গীতে ফেমাস কেমিক্যাল লিমিটেডের রাসায়নিক গুদামে আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের তিনজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন ৩-এর উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলায় রাসায়নিক গুদামটির মালিকানায় থাকা ইসমাইল হোসেন (৪২), সোলাইমান (৩৫), তাজুল ইসলাম (৪০) ও রাকিবের (৩৮) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৫-২০ জনেকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে রাসায়নিক গুদামে আগুনের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খন্দকার জান্নাতুল নাঈম, ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ ও নুরুল হুদার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানের কর্মচারী বাবু হাউলাদারের (২০) মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে সাহারা মার্কেট এলাকায় রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। পরে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মী ও পার্শ্ববর্তী দোকানের একজন কর্মচারী অগ্নিদগ্ধ হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই চারজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার সাতদিন পর রোববার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। তবে এ ঘটনার পর থেকে গুদামের মালিকানায় থাকা চার আসামি পলাতক রয়েছেন। আগুন লাগার সাতদিন পরেও ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক গুদাম থেকে নির্গত গ্যাস মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলের একশো মিটারের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলে সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা শাহিন আলম বলেন, রোববার গুদামের চারজন মালিককে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ওসি ওহিদুজ্জামান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নির্বাচন নিয়ে বর্তমানে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে – হাসান উদ্দিন সরকার

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বর্তমানে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, বিশেষ করে বিএনপি যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে সেই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গভীর চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ নেতা। তিনি সব ষড়যন্ত্র ভেদ করেই দেশে ফিরবেন। আর তিনি দেশে ফিরলে বিএনপির পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার বিকেলে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপি নেতা মো. বাবর আলী এবং সঞ্চালনা করেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হক রাজু মাস্টার। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর তাঁতী দলের সভাপতি তাজুল ইসলাম বেপারি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মো. সুমন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান আতিক, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন খোকন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন এবং বিএনপি নেতা অমিত দাস প্রমুখ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, এটি আমার শেষ ইচ্ছা, জীবনের শেষ নির্বাচন করার। অনেক অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে দল বঞ্চিত হবে না; বরং না দিলে আমার এলাকাবাসী বঞ্চিত হবেনতিনি এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম উল্লেখ করে বলেন, “পা দিয়ে রাজনীতি হয় না, রাজনীতি হয় মেধা ও প্রতিভা দিয়ে। বর্তমানে চিকিৎসার ফলে আমার পায়ের অবস্থা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। বরং আরও খারাপ অবস্থাতেও ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। তখনও জনগণের রায় আমার পক্ষে ছিলো, কিন্তু ফ্যাসিবাদ সরকার আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার চেকার্সে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা ছাপিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায়, সফরের পর পর্যন্ত ঘোষণাটি বিলম্বিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই সতর্ক করেছেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হামাসকে পুরস্কৃত করার সমান হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আমেরিকা যুদ্ধের অবসান চায়। তবে হামাসের মতো বর্বরদের সঙ্গে কখনো তা সম্ভব নয়।

তবে ইসরায়েল যুক্তরাজ্যের এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে, যা কার্যত স্বীকৃতিকে নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘স্টারমার হামাসের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করছেন এবং এর শিকারদের শাস্তি দিচ্ছেন। আজ ইসরায়েলের সীমান্তে একটি জিহাদি রাষ্ট্র হলে তা আগামীকাল ব্রিটেনকে হুমকি দেবে। জিহাদি সন্ত্রাসীদের প্রতি তুষ্টি সবসময় ব্যর্থ হয়। এটি আপনাকেও ব্যর্থ করবে। এটি ঘটতে দেওয়া হবে না।’ফিলিস্তিন স্বীকৃতির জন্য লেবার পার্টির ভেতরেও চাপ বাড়ছে। মন্ত্রিসভার এক-তৃতীয়াংশ সদস্য স্যার কেয়ারকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং ১৩০ জনেরও বেশি এমপি সমর্থনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার গাজা সিটিতে ইসরায়েলের আক্রমণকে একেবারে বেপরোয়া ও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আরো রক্তপাত ঘটাবে, আরো নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করবে এবং সেখানে ইসরায়েলি জিম্মিদের বিপদে ফেলবে।’

আগস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হামাস যদি ক্ষমতায় থাকে তবে ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে কি না। তখন সরকারের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, গাজার ভবিষ্যৎ সরকারে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। তাদের অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে এবং সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। হামাস ফিলিস্তিনি জনগণ নয়। ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে এবং আমরা আগে যে পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করেছি তার পথ ধরে সেই স্বীকৃতি আসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাসের হাতে থাকবে না।’ সরকার বলেছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগে তারা মূল্যায়ন করবে পক্ষগুলো কতটা শর্ত পূরণ করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান প্রথমবারের মতো গাজার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

জনসম্মুখ একটি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি গাজায় যা ঘটছে তা গণহত্যা। আমি যখন শিশুদের অনাহারে থাকার ছবি দেখি, ইসরায়েলের নীতির কারণে ২০ হাজার শিশু অনাহারে মারা গেছে। যখন আমি গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে দেখি, সরবরাহ সংকট দেখি, মানুষের তৈরি দুর্ভিক্ষ দেখি, আইসিজের অন্তর্বর্তীকালীন রায় পড়ি এবং জাতিসংঘ কমিশনের প্রতিবেদন দেখি, তখন মনে হয় গাজায় আমাদের চোখের সামনেই গণহত্যা ঘটছে, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনিবার্য।’

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।

ইসরাইলি আগ্রাসনের সামনে নত হবে না হিজবুল্লাহ

হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম জোর দিয়ে বলেছেন, প্রতিরোধ বাহিনী (হিজবুল্লাহ) কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না বা ইসরাইলি আগ্রাসনের সামনে নত হবে না।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহ প্রধান এ কথা বলেন।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘লেবাননের মূল বিষয় হলো—সকল লেবানিজ নাগরিকের জন্য একটি জাতি গঠন।’

শেখ কাসেম জোর দিয়ে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ লেবানন ও তার ভূখণ্ড রক্ষার জন্য তাদের নেতাদের বলিদান দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরোধ বাহিনী ইসরাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দিচ্ছে।’

লেবানন সরকারকে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চায় ইসরাইল লেবাননকে নিয়ন্ত্রণ করে।’

হিজবুল্লাহ নেতার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও  ইসরাইল চায় না যে লেবাননের কোনো সামরিক শক্তি থাকুক।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ কোনো মূল্যে আত্মসমর্পণ করবে না। মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন থামাতে লেবাননের জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।’

নাঈম কাসেম ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুতির কথা জানান।

এছাড়া তিনি মঙ্গলবার কাতারের দোহায় ইসরাইলি বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে সতর্কবার্তা দেন যে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য।

হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেন, ‘গ্রেটার ইসরাইল’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একদিন তেল আবিব সৌদি আরব এবং ইউএই-তেও হামলা করতে পারে।’

তার দাবি, “ইসরাইলকে এখন পর্যন্ত প্রতিরোধই থামিয়ে রেখেছে।’

ইসরাইলের হামলায় হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেঁচে গেছেন

কাতারে মঙ্গলবারের বিমান হামলায় যদি হামাসের নেতাদের হত্যা করতে ইসরায়েল ব্যর্থ হয়েও থাকে পরেরবার সফল হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত। এ হামলার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রচেষ্টায় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ইসরায়েলি কূটনীতিক ইয়েখিয়েল লাইটা মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এখন আমরা হয়তো কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছি। তবে তারা এটা কাটিয়ে উঠবে।

আর ইসরায়েল এখন বদলাচ্ছে, আরো ভালো হচ্ছে। যদি এবার না পেরে থাকি, পরেরবার আমরা সফল হবো।’দোহায় মঙ্গলবার হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে একতরফা আক্রমণ বলে অভিহিত করে, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্বার্থ অগ্রসর করবে না বলে মন্তব্য করেছে।
হামলাটি বিশেষভাবে স্পর্শকাতর, কারণ কাতারই ছিল দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী।হামাস জানিয়েছে, এ হামলায় তাদের গাজা-নির্বাসিত শীর্ষ নেতা ও আলোচক খালিল আল-হাইয়ার ছেলেসহ পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে। তবে দলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব হামলা থেকে বেঁচে গেছেন।একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বুধবার বলেন, শুরুতে আশাবাদী থাকলেও হামলার ফলাফল নিয়ে এখন সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও স্পষ্ট ফলাফল না পাওয়া উদ্বেগজনক।কাতার জানিয়েছে, হামলায় তাদের একজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা ইসরায়েলকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে’ জড়িত বলে অভিযুক্ত করেছে।

হামলার পর আরববিশ্বের কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও জর্দানের যুবরাজ হুসেইন বুধবার কাতারে পৌঁছবেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার সেখানে পৌঁছবেন বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ হামলার নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেছে, এটি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কিছু বহিরাগত শক্তির ‘একপেশে অবস্থানের’ বহিঃপ্রকাশ।

দোহায় হামলার পর গাজা সিটি থেকে ফিলিস্তিনিদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। একসময় প্রায় ১০ লাখ মানুষের আবাস এই এলাকায় এখন আবারও বড়সড় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনের ৬৫ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের মা উম তামের রয়টার্সকে বলেন, ‘এর মানে কি আর যুদ্ধবিরতির কোনো আশা নেই? আমার ভয় হচ্ছে, এখন ইসরায়েল গাজা সিটির দখল আরো ত্বরান্বিত করবে।’

ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গাজার একটি ১২তলা ভবনে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, আগেই বাসিন্দাদের ভবন ছাড়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, আশপাশের অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। গাজায় বুধবার সারা দিনে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোহা হামলা নিয়ে বলেন, তিনি এই ঘটনার ‘প্রতিটি দিক নিয়েই অত্যন্ত অসন্তুষ্ট’।

এ হামলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি রয়টার্সকে বলেন, ‘সৎ উত্তর হলো—আমরা জানি না এটা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কী প্রভাব ফেলবে। হামাস এখন পর্যন্ত প্রতিটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট, ‘হামাসকে যেতে হবে’ এবং ভবিষ্যতে তারা গাজা পরিচালনায় থাকতে পারবে না।

হামাস আবারও জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি যুদ্ধ শেষ করে সেনা প্রত্যাহার করে, তবে তারা সব বন্দি মুক্তি দেবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চান একটি ‘অল-অর-নাথিং’ চুক্তি—যেখানে সব বন্দিকে একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে ও হামাসকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। দোহায় মঙ্গলবারের অভিযানে বিশ্বব্যাপী নিন্দাকে তিনি অস্বীকার করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়, যেখানে ইসরায়েলের হিসাবে এক হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন বন্দি হয়। এর পর থেকেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষসহ এক ভয়াবহ মানবিক সংকট বিশ্বকে হতবাক করেছে।

লোহিত সাগরে কেবল কাটার জেরে ইন্টারনেট বিভ্রাট

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় সমুদ্র তলদেশে একাধিক কেবল কাটা পড়ার পর ইন্টারনেট বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। তবে রোববার এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে কেবল কেটে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার জায়ান্টটি আরো জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের অ্যাজুর ক্লাউড কম্পিউটিং সেবায় প্রভাব পড়েছে, অ্যামাজনের পর যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্ল্যাটফরম। তবে সাধারণ নেটওয়ার্ক ট্রাফিকে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘যে নেটওয়ার্ক ট্রাফিক মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে যায় না, সেটি প্রভাবিত হয়নি। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে অথবা প্রতিদিন আমরা আপডেট দিতে থাকব।’

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে এই বিভ্রাট শুরু হয়।

এদিকে ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারতসহ কয়েকটি দেশে ইন্টারনেট সংযোগের ‘অবনতি’ হয়েছে, যার ফলে ‘গতি কমে গেছে এবং মাঝে মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে’।

সৌদি আরবের জেদ্দার কাছে এসএমডব্লিউ৪ ও আইএমইডব্লিউ কেবল সিস্টেমে ত্রুটির কারণে এই সমস্যা হয়েছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভিও রবিবার সকালে নেটব্লকসের উদ্ধৃতি দিয়ে কেবল কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম সেবা প্রদানকারী পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশনস এক্সে এক বিবৃতিতে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে, দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পিক আওয়ারে কিছু অবনতি অনুভব করতে পারে। তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সমস্যার সমাধানে কাজ করছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

বিশ্ব রাজনীতিতে আর একক আধিপত্য চলবে না

যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বিশ্ব রাজনীতিতে আর একক আধিপত্য চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দেন তিনি।

পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সবার সমান অধিকার থাকতে হবে এবং সবাইকে সমান অবস্থানে থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

তার মতে, ভারত ও চীনের মতো বড় দেশগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আইন রয়েছে। এসব দেশের নেতৃত্বকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা রাজনৈতিক সংকটে পড়বে।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে পুতিন পশ্চিমা বিশ্বকে উপনিবেশিক অতীত স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, একসময় দেশগুলোকে উপনিবেশবাদ ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করার মতো কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। এখন উপনিবেশ যুগ শেষ, তাই পশ্চিমা দেশগুলোকে বুঝতে হবে, অংশীদারদের সঙ্গে সেই সুরে আর কথা বলা যাবে না।

পুতিনের এ মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ করেছে। ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কের অর্ধেক ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য শাস্তি হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে।

এদিকে ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের বৈঠককে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন।

নাভারোর অভিযোগ, ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে যে অর্থ দিচ্ছে, তা ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, মোদিকে শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা দুঃখজনক। আমরা আশা করি তিনি বুঝবেন, তার জায়গা আমাদের সঙ্গে, রাশিয়ার সঙ্গে নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কের ওপর হঠাৎ কঠোর শুল্ক চাপানো বড় ধাক্কা। ভারত অবশ্য রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে বৈধ প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ বলেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের আরোপিত এই ‘দ্বিতীয় শুল’ কেবল ভারতের ওপরই পড়েছে। অথচ চীনও রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি না হয়েও বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি না হয়েও বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন সাভারের এক নিরীহ ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলায় আসামি করা হলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে জমি নিয়ে নিজের ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি। তারাই পুলিশকে প্রভাবিত করে আশুলিয়ার দোশাইদ স্কুল ও কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি আমির হোসেন সরকারকে (৫৪) হত্যা মামলার আসামি করে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমির হোসেন আশুলিয়া সরকার মার্কেট এলাকার মৃত আমিন উদ্দিন সরকারের ছেলে। কোনো মামলায় যাতে জামিন হতে না পারে, সেজন্য একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। কথা হয় আমির হোসেনের মেয়ের জামাই মামুন পালোয়ানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমির হোসেনের পৈতৃক ভিটার ২০ শতাংশ জমি লিখে নিতে চায় আমার চাচাশশুর এমারত হোসেন। এছাড়াও আশুলিয়ায় সম্প্রতি ক্রয় করা ৭ বিঘা জমিও ফেরত নিতে চান এমারত। আমার শ্বশুর ওই জমি কিনে নেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। এরই জেরে আগে থেকেই আমিরের বিরুদ্ধে একটি দুষ্টচক্র গড়ে তোলা হয় সব সম্পত্তি দখলে নিতে। আমিরের এসব সম্পত্তির মূল্য ৬ কোটি টাকার ওপরে। ওই চক্রটিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যা মামলাকে কাজে লাগাচ্ছে।১৪ আগস্ট বিকালে আশুলিয়ার আড়াগাঁও দোসাইদ এলাকা থেকে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে আমিরকে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাভারের রংমিস্ত্রি মুজাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডও চাওয়া হয়। এদিকে ডিবির দেখানো মামলায় কারাগারে থাকতেই ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মজিবুর রহমান ভূইয়া আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন আমিরের বিরুদ্ধে।

আমির হোসেনের স্বজনরা বলেন, তিনি কখনোই রাজনীতি করতেন না। এক বছর ধরে  ষড়যন্ত্র করে পুলিশকে দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গোয়েন্দা পুলিশের ঢাকা জেলা উত্তরের ওসি জালাল উদ্দিন জানান, এক ভাইয়ের সঙ্গে আমিরের বিরোধের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।
আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, আমির হোসেন সরকার আওয়ামী লীগ করতেন। কোনো পদে ছিলেন কি না, জানা নেই।  আমি শুনেছি তার ভাইদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। যদি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে।

আশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, আমাদের জানামতে, আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই আমির হোসেন সরকারের বাড়ি। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলেন না। নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করে খান। নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো কখনোই সমর্থন করি না।

আমির হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমির কেবল পারিবারিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী শুধু আমির হোসেনকে হয়রানি করছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, মিথ্যা মামলায় কাউকে যাতে হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি আমার গোচরে আসার পর তা নিয়ে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমারত হোসেন সরকার বলেন, আমার ভাইকে কেন পুলিশ ধরেছে, তা আমার জানা নেই। ২০২১ সাল থেকেই আমি অসুস্থ। আমার ভাইয়ের সঙ্গে একটি জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে পারব না।

এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নে আসছে নতুন ব্যাংক

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা চীনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করেছেন। এতে সংস্থার উন্নয়ন, সামরিক সহযোগিতা, জাতিসংঘ সংস্কার, মাদকবিরোধী পদক্ষেপ এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে বৈষম্যহীন অংশগ্রহণসহ নানা ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বের) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

ঘোষণার মূল দিকগুলোতে বলা হয়, এসসিও একটি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করবে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও সংলাপ অংশীদার মর্যাদা একীভূত করা হবে। টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে শিল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন সদস্য দেশগুলো। এছাড়া কৃষি, ই–কমার্স, পর্যটন ও চিকিৎসা খাতেও অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং বিজ্ঞান–প্রযুক্তি উদ্ভাবন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ডিজিটাল কাস্টমস, ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ এবং ‘স্মার্ট কাস্টমস’ ব্যবস্থার বিকাশকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে উত্তর–দক্ষিণ ও পূর্ব–পশ্চিম করিডরসহ নতুন পরিবহন রুট নির্মাণ ও বিদ্যমান রুটের আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এসসিও দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের পূর্ণ মেনে চলার আহ্বান জানায়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিমুখী মানদণ্ডের নিন্দা করা হয়।

এছাড়া জাতিসংঘকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। নাজিবাদ মহিমাকীর্তন প্রতিরোধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, মাদক পাচার দমনে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ এবং নতুন মাদকদ্রব্যের বিস্তার প্রতিরোধেও একযোগে কাজ করবে এসসিও।

সবশেষে, ক্রীড়াক্ষেত্রে বৈষম্যহীন প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং সবার জন্য উন্মুক্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার যুক্তরাজ্যও অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশটি ১৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাদের দেশে পাঠানো হয়। ফ্লাইট HFM851 বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে ইসলামাবাদ হয়ে শুক্রবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখা জানায়, ফেরত আসা যাত্রীদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ বৈধ পাসপোর্টধারী, কারো পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে নারীও আছেন।

যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, তারা মূলত সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঢাকার বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ট্রাভেল পারমিটের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ফেরত আসা ১৫ জনের মধ্যে অন্তত ছয়জনের কোনো পেশা উল্লেখ ছিল না। বাকিদের মধ্যে কেউ যুক্তরাজ্যে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন, কেউবা ছিলেন শিক্ষার্থী।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই ফেরত পাঠানোর এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করেন। যুক্তরাজ্য তাদের নিজস্ব আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে, আর ফেরত পাঠানো সেই ব্যবস্থারই অংশ।