নগদকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

ডাক অধিদপ্তরের মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) নগদকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

আজ বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিট ২০২৫ ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ তথ্য জানান।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, এমএফএস নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের হাতে এখনো কেবল একটি বড় প্রতিষ্ঠানই আছে। এই খাতে আরও কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা ও নতুন বিনিয়োগ তৈরি করতে হবে। সে জন্য নগদকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার এবং বিনিয়োগ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নগদকে ডাক বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের এ সেবা পরিচালনার সক্ষমতা নেই। নগদে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আনতে হবে।

গভর্নর আরও জানান, ইতিমধ্যে নগদে বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে। আগের মালিকদের কারণে ইওসি-সংক্রান্ত নানা অনিয়মের যে সমস্যাগুলো ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি ভুয়া কিংবা অকার্যকর হিসাব বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের পথে রয়েছে।

তবে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগকারী প্রয়োজন উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, এখন এমন একটি প্রতিষ্ঠান দরকার, যেমন বিকাশের মতো যারা ধাপে ধাপে, শেয়ার ধরে ধরে নগদে বিনিয়োগ করতে পারবেন। আশা করছি, নগদকে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।

নগদকে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার, সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন প্রমুখ।

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের পদ ৩ মাসের জন্য স্থগিত

শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের পদ আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফজলুর রহমানকে দেওয়া পদ স্থগিতের চিঠিতে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট আপনার (ফজলুর রহমান) নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। আপনি নোটিশের লিখিত জবাব না দিয়ে সময় বর্ধিত করার আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সময় আরো ২৪ ঘণ্টা বর্ধিত করা হয়। আপনি আজ নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন, তা সন্তোষজনক নয়।তথাপিও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান বিবেচনা করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে আপনার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ তিন মাসের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।

এখন থেকে আপনি টক শো বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলার সময় দেশের মর্যাদা ও দলের নীতিমালা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় এবং দেশের জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে সে বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকবেন।

এর আগে, কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব দেন ফজলুর রহমান। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বরাবর পাঠানো লিখিত জবাবে তিনি বলেন, ২৪ আগস্ট রাত ৯টায় আপনার স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ আমি হাতে পাই। এরপর যথাসময়ে নোটিশের জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর জন্য আমি আবেদন করি। আপনি আমাকে ২৪ ঘণ্টা সময় বৃদ্ধি করেছেন, এজন্য ধন্যবাদ।

তিনি লিখেন, আপনার নোটিশে আমার কাছে সবকিছু জানতে চাওয়া হয়েছে। তাই অভিযোগগুলোর উত্তর একত্রে দিচ্ছি।

নোটিশের জবাবে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন, অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমি জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই অভিযোগ আমি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছি। আমি কোনোদিন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেইনি।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাইদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যার পর আমিই প্রথম বলেছিলাম, তিনি একুশ শতকের প্রথম ‘বীরশ্রেষ্ঠ’। আমার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমি সবসময় জুলাই-আগস্ট শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছি।

আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, আমি নাকি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কথা বলেছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, এটি সত্য নয়। আমি ইসলাম ধর্ম এবং আল্লাহ-রাসুলে বিশ্বাসী একজন মানুষ।তবে রাজনৈতিকভাবে ধর্মের ব্যবসায়ীদের (যেমন জামায়াতে ইসলামী) বিরুদ্ধে অতীতেও বলেছি, ভবিষ্যতেও বলব।

১১টি পয়েন্টে ফজলুর রহমান লেখেন,

>> কোটাবিরোধী আন্দোলন যখন ছাত্রদের নেতৃত্বে প্রথম শুরু হয়েছিল তা ছিল নির্দলীয় চরিত্রের এবং রাজনৈতিক দাবি বিবর্জিত। আমিই প্রথম তাদেরকে ইউটিউবের মাধ্যমে উৎসাহ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলাম, ‌‘বাবারা তোমরা শুধু চাকরি চাও, গণতন্ত্র চাও না? তোমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করো।’

>> জুলাই আন্দোলনের পরতে পরতে সব কিছুর সঙ্গে জীবনের শঙ্কা নিয়েও যুক্ত ছিলাম, যা আমার দল (বিএনপি) এবং এ দেশের মানুষ জানে।

>> ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপি আহূত লাখ লাখ জনতার মহা-সমাবেশকে স্বৈরাচারী সরকার ১ ঘণ্টার আক্রমণে ভেঙে দিয়েছিল। পঁচিশ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী যখন জেলে ছিল, লাখ লাখ নেতাকর্মী যখন মিথ্যা মামলার আবর্তে পড়ে জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিল, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমি তখন প্রতিদিন অনলাইন এবং টেলিভিশন টক শোর মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছি এবং জাতির সামনে আশার আলো জাগিয়ে রেখেছি।

>> ৫ আগস্ট আন্দোলনের বিজয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্ট শক্তি পালিয়ে গেল এবং জনগণ বিজয়ী হলো। আমি সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম ‘ইসলামী ছাত্র শিবিরের’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করল ‘জামায়াত শিবিরই ছিল জুলাই আন্দোলনের মূল ভ্যানগার্ড’। আমি সেদিনই প্রথম শুনলাম এবং আন্দোলনের সব বিজয়কে তারা নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করল।

>> আমি জামায়াত-শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের এই অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে শতবার বলেছি বিগত ১৫ বছরের আন্দোলনে জমিটি তৈরি করেছিল বিএনপি, বীজ এবং চারা রোপণ করেছিল বিএনপি, তৈল মবিল পানি দিয়ে ধান ফলিয়ে ছিল বিএনপি, কিন্তু ধান কাটার লগ্নে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেই তৈরি ধানটি কেটে দিয়েছিল। তারা ছিল আমার ভাষায় ‘দাওয়াল’, কাজেই আন্দোলনের সব ফসল পাওয়ার দাবিটি অনুচিত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবাক বিস্ময়ে সবাই দেখল একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত শিবির স্বদর্পে মাঠে হাজির হয়েছে এবং দাবি করছে সব আন্দোলনের ভ্যানগার্ড তারাই এবং শুধু একটা নির্বাচনের জন্যই তারা আন্দোলন করেনি বরং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারের মতো দুঃসাহস তারা প্রদর্শন করতে লাগল। জামায়াত শিবিরের পত্রিকার আহ্বান জানানো হলে ’৭১-এ যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল তারা আল্লাহর কাছে মাফ চাও (সূত্র : বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)। সেদিন থেকে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে তাদেরকে সাবধান করার চেষ্টা করেছি।

>> এরপর থেকে জামায়াত-শিবির এবং এনসিপি একসাথে বলতে শুরু করল ১৯৪৭ হলো প্রথম স্বাধীনতা এবং ২০২৪ সালে হলো দ্বিতীয় স্বাধীনতা, আর ১৯৭১ হলো ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া (সূত্র : বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে হলো এসব অশ্রাব্য এবং মিথ্যা তথ্য শোনার আগে আমার মৃত্যু হওয়া উচিত ছিল। তাই জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সত্য কথাগুলো বলতে শুরু করলাম এবং জামায়াত-শিবিরকে ‘কালো শক্তি’ চিহ্নিত করে এনসিপিকে তাদের সহযোগী বলতে শুরু করলাম। তারাই এখন দেশের প্রশাসন, অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয় দখল করেছে।

>> সবশেষে বলতে চাই মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে জুলাই আন্দোলনের দুটি রূপ ছিল। প্রথমতো বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বে ‘গণ-আন্দোলন’। যার লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা। যার প্রধান স্লোগান ছিল ‘এক দফা এক দাবি হাসিনা তুই কবে যাবি’। কিন্তু আমি যাদেরকে অন্ধকারের ‘কালো শক্তি’ বলেছি তারা হলো জামায়াত-শিবির যারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণ-আন্দোলনের ফসলকে কুক্ষিগত করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র এবং শক্তি সৃষ্টি করছে। জাতীয় নির্বাচন তাদের নিকট গৌণ ব্যাপার।

>> বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক ‘মেজর জিয়া’ পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তার মহান স্মৃতিকে শ্রদ্ধা এবং স্মরণ করেই আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর কথা বলা এবং প্রতিবাদ করাকে আমার পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করি। গত ৬ মাস ধরে এ ব্যাপারে আমি শত শত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছি, এর মধ্যে দু-একটা বক্তব্যে আমার কিছু ভুল-ত্রুটিও থাকতে পারে, কারণ আমি তো মানুষ। আমি আরো দাবি করতে চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার অন্যায়ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করার পরে আমি স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নেত্রীর মুক্তির জন্য সমগ্র বাংলাদেশে শত শত সভা ও জনসভায় বক্তব্য রেখেছি। এমনকি ইদানীংকালে একটি দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এমন জঘন্যতম কুৎসিত স্লোগান দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে অপমান করা হচ্ছিল যার উদাহরণ ‌‘গাছের ডালে কাউয়া’। তখন আমিই প্রথম ইউটিউব চ্যানেল পুর্নিয়াতে কঠিনভাবে এর বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলাম।

>> আমার সার্বিক বক্তব্য উপস্থাপনায় যদি প্রমাণিত হয় আমি কোনো ভুল বক্তব্য দিয়েছি তবে আমি দুঃখ প্রকাশ করব।

>> বিএনপির কোনো ক্ষতি হয় এমন কোনো কথা ও কাজ আমি করিনি এবং করবও না। জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বের বিচার-বিবেচনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ আস্থা আছে, আশা করি আমি সুবিচার পাব এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদাই অনুগত থাকব।

তুরাগ নদে বেইলি সেতু নির্মাণের দাবিতে ফ্লাইওভার অবরোধ

তুরাগ নদের গাজীপুরের টঙ্গী ও ঢাকার আব্দুল্লাহপুরের সংযোগস্থলে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে বিআরটি ফ্লাইওভার অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন টঙ্গী বাজারের ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় তারা এই সড়ক অবরোধ করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অবরোধের কারণে ফ্লাইওভারের ওপর দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরে বেলা ১১টায় অবরোধ তুলে নেন তারা।এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরণ, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাট, মুফতি মাসুদুল করিম, টঙ্গী বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আব্দুস সাত্তার, নাসির উদ্দিন, বশির বেপারীসহ বাজারের কয়েক শ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, তুরাগ নদের উপরে নির্মিত বেইলি ব্রিজটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরার লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। এছাড়া টঙ্গী বাজারটি হলো অত্র এলাকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় একমাত্র বৃহৎ পাইকারি বাজার। এ বাজারে প্রায় ২৫ হাজার দোকানপাট রয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হয়। বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়ক চালু হওয়ার পর থেকে মহাসড়কের পশ্চিমপাশে স্থাপিত বেইলি ব্রিজটি বিআরটি কর্তৃপক্ষ ভেঙে নিয়ে যায়। এতে ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচলরত ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (টঙ্গী উপ-বিভাগ) আনোযার হোসেন খান বলেন, এটি সেতু বিভাগের কাজ। তার পরও আমরা বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করব।
এর আগে ১ মার্চ একই দাবিতে টঙ্গী বাজার এলাকায় বিআরটি ফ্লাইওভারের ওপর সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন টঙ্গী বাজারের ব্যবসায়ীরা।

ইসরাইলে আক্রমণ চালালো ইয়েমেনি বাহিনী

ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী।  একইসঙ্গে অধিকৃত জাফা এবং আশকেলিয়নে দুটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, এই অভিযানে ‘ফিলিস্তিন ২’ ধরনের একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে এবং সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

সারি বলেন, ‘ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী জোর দিয়ে বলেছে যে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শত্রুদের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে লাখ লাখ ইসরাইলি আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অভিযান নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের যোদ্ধাদের (হামাস) সমর্থনে এবং ইহুদিবাদী সরকারের গাজায় গণহত্যা ও খাদ্য সামগ্রী অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় চালানো হয়েছে।’

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর ড্রোন ইউনিট জাফা এবং আশকেলনের অধিকৃত এলাকায় ইহুদিবাদী সরকারের অবস্থান লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন ব্যবহার করে আরও দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে, যা ইসরাইলের সামরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনী।’

তিনি বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া এবং গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ইয়েমেন আপনাদের পাশে থাকবে।’

তথ্যসূত্র: মেহের

বৃষ্টিপাত আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী তিন দিনের মধ্যে আরো একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে বৃষ্টিপাত আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আরো একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া আগামীকাল রবিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আগামী সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পরদিন বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সীতাকুণ্ডে ৯৫ মিলিমিটার। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিশ্ব সেরা বিমানবন্দর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ  ভ্রমণের উপযুক্ত আবহাওয়ার শহর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন। ২০২৫ সালের জন্য টাইম আউটের বিশ্ব সেরা বিমানবন্দরের তালিকায় শীর্ষে দেশটির কেপটাউন বিমানবন্দর।

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ২০২৫ সালের জন্য এয়ারহেল্প স্কোর র্যাকিংয়ে ‘বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর’ হিসেবে মনোনীত করেছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই স্বীকৃতি গ্রহণ করেন ওয়েস্টার্নকেপ প্রভিন্সের প্রিমিয়ার এলান উন্ডি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হোম এফেয়ার্স মিনিস্টার, কেপটাউন সিটি মেয়রসহ বিএমএ কর্মকর্তারা।

দেশটির কেপটাউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের এয়ারহেল্প স্কোর অনুসারে বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর ঘোষণা করেছে; যার সামগ্রিক স্কোর ৮.৫৭, সময়মতো পারফরম্যান্স, গ্রাহক অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

ঋণের টাকার জন্য রিকশাচালককে মুখে বিষ ঢেলে হত্যা

রাজশাহীতে ঋণের বোঝা আর সুদের চাপ সহ্য করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে শহরে রিকশা চালাতেন ফজলুর রহমান (৫৫)।  গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এর আগে তার মুখে ঢালা হয়েছিল ঘাস মারার বিষ। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন (গত শুক্রবার) মারা যান তিনি। এক ভিডিওতে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বলে গেছেন। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধুলু মিয়াকে অভিযুক্ত করে শনিবার রাতে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন ফজলুরের স্ত্রী আনজুয়ারা বিবি। ওই রাতেই ধুলুকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ধুলু মিয়া (৪৫) মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার বাসিন্দা। ফজলুরের স্ত্রী আনজুয়ারা বিবির করা হত্যা মামলা তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে আনজুয়ারা উল্লেখ করেন, তার স্বামী ফজলুর শহরে রিকশা চালান।

তিনি সেখানেই থাকতেন। মাঝেমধ্যে বেলনা গ্রামে আসতেন। রাজশাহী শহর থেকে ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেশরহাটে যান। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি বেলনার উদ্দেশে রওনা দেন। পরে রাত ১১টার দিকে তাদের বাড়িসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে ফজলুরকে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়।একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হয়ে দেখতে পান, ফজলুরের মুখ থেকে অনবরত লালা পড়ছে এবং মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছে। তখন তাকে মোহনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ফজলুর তার বড় ছেলে শাহ আলমকে (২৫) জানান, ধুলুসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫–৬ জন মিলে হাত-পা বেঁধে তাঁকে বিষ খাইয়েছেন। পরে শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুরের মৃত্যু হয়।

ফজলুরের চাচাতো ভাই এনামুল হক অভিযোগ করেন, ধুলু সুদের কারবার করেন। গ্রামের আরো লোকজনকে টাকা ধার দিয়েছেন। ২০২২ সালে ধুলুর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন ফজলুর। সেই টাকার সুদ বাবদ ৪৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু আরো ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন ধুলু। এ টাকা তিনি দিতে পারেননি। এ নিয়ে সালিসও হয়েছে। সালিসে ১৫ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু ধুলু মানেননি। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

আনজুয়ারা বিবি বলেন, ‘গত কোরবানি ঈদের তিন থিকে চাইর দিন আগে ধুলু আইছিল। আমার স্বামী বলিনু, আমার তো পরিস্থিতি খারাপ। আমি পাঁচ হাজার টেকা দিনু। এটা নিয়া আমারে মাফ কইরা দেন। পরে টেকা না নিয়া বলে, “তোর যদি ব্যবস্থা না করতে পারি…” আরো পরে কী কী বলছিল, জানি না। তারপর সেদিনকাই (ফজলুর) রাজশাহী শহরে চলে যায়। আর এখানে আসেনি। তার পর থিকে আমি ছিনু এখানে। আমরাই মাঝেমধ্যে যাই। আর বাড়ি আসিনি স্বামী। লাশ হয়ে ফিরিচ্ছে।’

কথা বলার এ পর্যায়ে কান্না চেপে রাখতে পারেননি আনজুয়ারা। তিনি কান্না করতে করতে বলেন, ‘কাইল থাইক্যে পাড়া-প্রতিবেশীরা চাইল দিছে। আমার ঝাইয়েরা দিছে। আমার ঘরেত একমুঠোত নাই যে হাড়ি দিব। একবারে নিঃস্ব। আমার স্বামীকে যারা মাইরেছে, আমি চাই, তারাও যেন না বাঁইচতে পারে না।

এলাকার লোকজন জানান, ‘ধুলুর কাছে আলু চাষের জন্য কিছু টাকা নিয়েছিলেন ফজলুর। পরে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী বসেছিল। সেখানে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। শুনেছি, মারা যাওয়ার আগে একটি ভিডিওতে ফজলুর একজনের নাম বলেছেন। তিনি ঋণে জর্জরিত ছিলেন। অনেক এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এ কারণে বাড়িতেই থাকতেন না। শহরে গিয়ে রিকশা চালাতেন।’

ধুলুকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, মারা যাওয়ার আগে ফজলুর রহমান অভিযুক্ত একজনের নাম ভিডিওতে বলে গেছেন। তাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী আবদুল লতিফ আর নেই

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী আবদুল লতিফ গতকাল ভোর ৪টায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। গাজীবাড়ী জামে মসজিদে জানাযার পর তাকে গাজীবাড়ী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার নামাজে জানাযায় গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রনি, টঙ্গী পূর্ব থানার বিএনপির সভাপতি জাভেদ আহমেদ সুমন,টঙ্গী পশ্চিম থানার বিএনপি সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন  সহ কয়েকশত লোক উপস্থিত ছিলেন। মরহুমের জন্য আগামী শুক্রবার গাজীবাড়ী মসজিদে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে টঙ্গী পূর্ব থানার বিএনপির সাধারন সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন অনুরুদ করেছেন।

আমরা ফিলিস্তিনের মুক্তির পক্ষে-লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার প্রধান নাঈম কাসেম

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার প্রধান নাঈম কাসেম বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইলের  আগ্রাসন এবং আক্রমণ অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না। প্রয়োজনে তারা কারবালার যুদ্ধ করবে।

আরবাইনে জনতার উদ্দেশে নাঈম কাসেম বলেন, ‘ইমাম হুসেন (আ.)-এর জিহাদ এবং বিপ্লবের জন্য আমরা মুক্তির পথে আছি। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানুষকে ইমাম হুসেন (আ.)-এর সঙ্গে থাকা অথবা ইয়াজিদের সঙ্গে থাকা বেছে নিতে হবে। ’

‘শেখ রাগেব হারব, সাইয়্যেদ আব্বাস আল-মুসাভি এবং সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ইমাম খোমেনী এবং ইমাম খামেনীরা একই পথে হেঁটেছিলেন। আমরা ফিলিস্তিনের মুক্তির পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি জালিমদের প্রতিনিধিত্বকারী যুগের ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। আজকের প্রতিরোধ কারবালার একটি পরিণতি। ’

কাসেম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ২০০৬ সালের বিজয় ছিল মোহাম্মদী-আলাউইত সমর্থনের আশীর্বাদগুলোর মধ্যে একটি। কারণ   আল্লাহ বিপুল সংখ্যক শত্রু থাকা সত্ত্বেও আমাদের সাহায্য করেছিলেন। ২০০৬ সালের বিজয় ১৭ বছর ধরে শত্রুকে নিরুৎসাহিত করেছিল এবং হিজবুল্লাহর ভয়ে আগ্রাসন শুরু করতে বাধা পেয়েছিল। ’

তিনি বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এখনও আমাদের পক্ষে রয়েছে এবং তাই থাকবে, ঠিক যেমন প্রতিরোধের পতাকা উঁচু থাকবে। ’

তিন আরও বলেন, ‘হিজবুল্লাহর কোনও পরোয়ানার প্রয়োজন নেই, আমাদের ছাড়া লেবাননের কোনও সার্বভৌমত্ব নেই, যারা ইসরাইলি হামলা ও বসতি স্থাপন প্রতিরোধ করে।  যারা প্রতিরোধ করে না তাদের আমাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, ইসরাইলি আগ্রাসন এবং দখলদারিত্বের সময় তোমরা কোথায় ছিলে? প্রতিরোধ বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে লেবানিজ সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুবিধা করে দিয়েছে।’

‘এই লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অবসান ঘটাতে মার্কিন-ইসরাইলি আদেশ বাস্তবায়ন করছে। সরকারের উচিত ছিল লেবানন থেকে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা এবং ইসরাইলিদের বহিষ্কার করা। ৫ আগস্ট লেবানন সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল আগ্রাসনের সময় প্রতিরোধ, জনগণ এবং লেবাননের প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র কেড়ে নেওয়া। সরকার কি নেতানিয়াহুর তার সিদ্ধান্তে খুশি? ইসরাইলি ও মার্কিন শত্রুদের হাতে দেশ হস্তান্তরের চেয়ে দেশকে গড়ে তোলা সরকারের কর্তব্য।’

হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, ‘সরকার একটি বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা সহাবস্থান লঙ্ঘন করেছে এবং দেশকে একটি বড় সংকটের মুখোমুখি করেছে। যেকোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং লেবাননের ভূমি রক্ষার দায়িত্ব পরিত্যাগ করার জন্য লেবানন সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘আগ্রাসন অব্যাহত থাকাকালীন ইসরাইল কখনও তার অস্ত্র সমর্পণ করবে না, প্রয়োজনে আমরা কারবালার যুদ্ধ করব এবং আমরা নিশ্চিত যে আমরা বিজয়ী হব। হয় লেবানন দাঁড়িয়ে থাকবে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো, নয়তো সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং এর দায় আপনি একাই বহন করবেন।’

 

জাতীয়করণে শিক্ষকদের আলটিমেটাম, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কর্মসূচি

জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা দাবি আদায়ে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে দাবি না মানলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুমকিও দিয়েছেন তারা।

আজ বুধবার শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।

জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজী জানান, তাদের দাবি যৌক্তিক।

যা আদায়ে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে সর্বাত্মক আন্দোলনে যাবেন তারা। এ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

এর আগে দুপুরে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেননি শিক্ষকরা।

পদযাত্রার পরিবর্তে পুলিশের সহায়তায় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে যান শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে।