সাংবাদিক হত্যার দায় এড়াতে পারে না পুলিশ

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেছেন, সাংবাদিক হত্যার দায় আমরা এড়াতে পারি না৷ আমাদের ব্যর্থতা ও জনবল স্বল্পতা রয়েছে। পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ দমন করা সম্ভব হয় না। এখানে জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হয়।

শনিবার দুপুরে গাজীপুর শহরে জিএমপির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

জিএমপি কমিশনার বলেন, সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের ওপর ছিল। আমরা প্রিভেন্ট করতে পারিনি। প্রিভেনশন সব সময় করা যায় না। বিশ্বের কোনো দেশ ক্রাইম একেবারে শূন্যতে নিয়ে আসতে পারেনি। তাই, আমাদের শত চেষ্টার পরেও ক্রাইম হয়ে যেতে পারে। যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, বাদশা নামের এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। এ সময় আসামি গোলাপী তাকে হানিট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা করে। এটি যখন বাদশা বুঝতে পারেন, তখন তার কাছ থেকে ছুটে যেতে চান এবং কিল-ঘুষি মারেন৷ এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা অন্য আসামিরা এসে বাদশাকে কোপানো শুরু করে। বাদশা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে থাকেন৷ এটি সাংবাদিক (আসাদুজ্জামান তুহিন) তার পেশাগত কারণেই ভিডিও করেন। আসামিরা সাংবাদিক তুহিনকে ভিডিও ডিলিট করতে বললে তিনি রাজি হন না। একপর্যায়ে ওই আসামিরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়৷ সিসিটিভি ফুটেজে আমরা ৮ জনকে চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি৷ বাকি একজনকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারব৷

জিএমপি কমিশনার জানান, সাংবাদিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জামালপুরের মেলান্দহ থানার মাহমুদপুর এলাকার মোবারকের ছেলে মিজান ওরফে কেটু মিজান (৩৫), তার স্ত্রী গোলাপী (২৫), পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. স্বাধীন (২৮), খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার ময়লাপোতার হানিফের ছেলে আল আমিন (২১), কুমিল্লার হোমনা থানার আন্তপুর গ্রামের হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে শাহজালাল (৩২), পাবনার চাটমোহর থানার পাঁচবাড়ীয়া গ্রামের কিয়ামুদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং সুমন নামের একজন।

তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রের অপরাধের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন সাংবাদিক। তাকে হত্যাকারী আসামিদের পিএম রিপোর্ট পেলেই চার্জশিট দেওয়া হবে ১৫ দিনের মধ্যে। দ্রুত সময়ে তাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে। সাজার সংস্কৃতি নিশ্চিত করা গেলে ক্রাইম দমন করা যাবে।আসামিরা যদি নাও স্বীকার তবে, এভিডেন্সই তাদের অপরাধ প্রমাণ করবে।

যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারার দায় নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার। তিনি নিহত আসাদুজ্জামান তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গাজীপুরে ৫ আগস্টের পর অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেলে ক্রাইম বেড়ে যায়। এটা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। এছাড়াও আগের রেজিম এই জেলায় শক্তিশালী। সেই দলটি গাজীপুরকে অস্থিতিশীল করছে। সেটিও নজরদারি করা হচ্ছে। এই নজরদারি করতে গিয়ে অন্যান্য অপরাধে মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। তবে, মানুষের স্বস্তি ফেরাতে কাজ করছে জিএমপি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাতজনের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বাকিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তুহিন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ইসরাইলের গাজা দখলের পরিকল্পনা মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক ডাকবে ওআইসি

ইসরাইলের গাজা দখলের পরিকল্পনা মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক ডাকবে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। শনিবার এ ঘোষণা দেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তির সঙ্গে কায়রোতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান বলেন, ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমরা জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি ইসরাইলের পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গাজা পুরোপুরি দখলের ইসরাইলের অভিপ্রায় তাদের সম্প্রসারণবাদী ও গণহত্যামূলক নীতির নতুন ধাপ। তুরস্ক ও মিশর এমন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেবে।

তুরস্কের মানবিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন ফিদান। তিনি জানান, এ পর্যন্ত আমরা গাজার ভাইদের জন্য প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছি। এই সহায়তা পৌঁছে দিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য মিশরকে ধন্যবাদ জানাই।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক হামলায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই অবরুদ্ধ উপত্যকায় ক্ষুধা ও অনাহারে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা চলছে।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে আঙ্কারার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ফিদান বলেন, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিনিদের। ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা অবৈধ ও ব্যর্থ হওয়ারই কথা।

তিনি আরও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ শক্তিতে রক্ষা করব ইসরাইলের গণহত্যামূলক নীতির বিরুদ্ধে।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে দালালদের কাছে জিম্মি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত!

শুধু টঙ্গীর সাধারণ মানুষ নয়, চিকিৎসা সেবা পেতে গাজীপুর, গাছা,পূবাইল এমনকি ঢাকা উত্তরা থেকে প্রতিনিয়ত  বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ছুটে আসেন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেবা নিতে এসে  সাধারণ রোগীরা হাসপাতালের ডাঃ ও কর্মকর্তা ওকর্মচারীদের অসহযোগিতার কারনে দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। হাসপাতালের জরুরি সেবা থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ভর্তি পর্যন্ত সর্বত্রই দালালদের দৌরাত্ব দেখা যাচ্ছে। এইসব দালালদের কারণে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রোগী জানান, হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে উপস্থিত হলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিতরা আমাকে হাসপাতালের গাইনী ডাক্তারের কাছে  পাঠান । গতকাল বুধবার দুপুরে আমি গাইনি  ডাঃ তারার কাছে উপস্থিত হলে জরুরী বিভাগের টিকেটের অজুহাতে তিনি আমাকে কোন ব্যবস্থাপত্র দেননি। আমি পাশ্ববতী আরেকজন গাইনী ডাক্তারের কাছে উপস্থিত হলে তিনি ব্যবস্থা পত্র দেওয়া শুরু করলে ডা: তারা উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে আমার চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। বর্ত মানে আমি মারাত্নক অসুস্থ্য অবস্থায় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না । এ ভাবে প্রতিদিন শত শত রোগী টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।এ ছাড়াও  রোগীদের স্বজনরা রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর উৎপেতে থাকা দালালরা বিভিন্ন কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কোনো রোগী জরুরি বিভাগ অথবা বহির্বিভাগে আসলে দালালরা তাদের টার্গেট করে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এইসব দালালরা সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই এবং অনেক রোগী সুচিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে রোগীদের ভয়ভীতি দেখান। দালালদের এইসব কথা শুনে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে তারা বাধ্য হয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে। এ সুযোগে দালালরা রোগীদের বিভিন্ন অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
এইসব দালালা হচ্ছে-তানিয়া, মেরিন ও লিপি। হাসপাতালের ভেতরে এবং বাহিরে তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি এবং ভালো সিটের ব্যবস্থা কিংবা চিকিৎসা পাওয়ার জন্য দালালদের শরণাপন্ন হতে হয়। এর ফলে সাধারণ রোগীরা সুচিকিৎসা সেবা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। যারা দালালের হাতে টাকা দিতে পারে না, তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এমনকি অনেক সময় তাদের চরম দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগীর স্বজন জানান, তারা বহুবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের অভিযোগ হাসপাতালের কিছু অসাধু ডাক্তার ও কর্মচারীদের সাথে কতিপয় দালালদের মধ্যে একটি গোপন যোগসাজশ রয়েছে। এই যোগসাজশের কারণে দালালদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি হাসপাতালের দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে লোকবল স্বল্পতা এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে সবসময় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আমি অত্যন্ত ব্যস্ত তাড়াতাড়ি কথা শেষ করুন। হাসপাতালের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে তিনি কোন সমাধানের আশ্বাস দেননি।

 

ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী অপশক্তির আর পুনঃজন্ম হবে না: হাসান সরকার

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, আওয়ামী লীগ এ দেশে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি চেতনা ধ্বংস করার জন্য ভারতের কাছ থেকে এজেন্ডা গ্রহণ করেছিল। তাই তারা জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তিকে নির্মূল করতে চেয়েছিলো। কাজেই বিএনপি ও জামায়াতসহ ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই আওয়ামী অপশক্তির আর কখনোই পুনঃজন্ম হবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকালে টঙ্গী প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মো. আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. আরিফ হোসেন হাওলাদার, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. আফজাল হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তানজিল, টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক এমআর নাসির, জামায়াত নেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া প্রমুখ।

সভায় হাসান উদ্দিন সরকার অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই দ্রুত নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ দানের দাবিতে টঙ্গীতে মানববন্ধন

কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ দানের দাবিতে টঙ্গীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার দুই শতাধিক কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা । বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ (বিকপ) ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেব আজ বুধবার সকালে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। স্কুলগুলোর শত শত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কয়েক হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির সরকারি প্রাথমিক বৃত্তির সুযোগ দানের দাবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। মূল কর্মসূচী টঙ্গী প্রেসক্লাবের সম্মুখে হলেও মানববন্ধনটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে দক্ষিণে টঙ্গী বাজার থেকে শুরু করে উত্তরে বড়বাড়ি তারগাছ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ।
এসময় টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন টঙ্গী পূর্ব থানার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি মেরাজউদ্দিন,সংঠনের পশ্চিম থানা সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জনি, পূর্ব থানার সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, অর্থ সম্পাদক সোহেল ভূঁইয়া প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে চলছে। দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু হঠাৎ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১৭ জুলাই কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তির ঘোষণা দিয়ে একটি বিতর্কিত পরিপত্র প্রকাশ করে। যা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চরম বৈষম্যমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বক্তারা আরো বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
বক্তারা বলেন, বৃত্তি শুধু একটি আর্থিক অনুদানই নয় এটি একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস, মেধার স্বীকৃতি এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির অনুপ্রেরণা। যখন একটি শিশু দেখবে তার বন্ধুরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে কিন্তু শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ে না পড়ার কারণে সে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেনা তখন তার মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কোমলমতি শিশুদের মধ্যেই একটি বৈষম্যমূলক মনোভাব তৈরি হবে। কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যদি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে তাহলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ মানষিক চাপ ও যন্ত্রণার সম্মুখীন হবে। তার দায়-দায়িত্ব সরকারের উপরেই বর্তাবে। জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী সরকার। সেই সরকারের আমলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আবার বৈষম্যের শিকার হবে এটি কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায়না।
বক্তারা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আমাদের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের আশা ও ভরসার প্রতীক। দেশের জনগণ আপনার প্রতি আস্থাশীল। সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ বিশাল জনগোষ্ঠীকে যাতে আরো কঠোর আন্দোলনে নামতে না হয় সেই বিষয়ে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং ১৭ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক অবহিতকরণ পত্রটি বাতিল করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন পঞ্চম শ্রেণির সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ -এ অংশ গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন নীলা ইস্রাফিল

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন নীলা ইস্রাফিল। গতকাল সোমবারই এ ঘোষণা দেন তিনি। এরপর দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নীলা ইস্রাফিল এনসিপির কেউ নয়। তবে সে নাগরিক কমিটিতে ছিল।

’আখতার হোসেনের এমন মন্তব্যের পর এনসিপির কাছে নীলা ইস্রাফিলের প্রশ্ন— আপনারা এতদিন আমাকে কিসের ভিত্তিতে ব্যবহার করেছেন?নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে সোমবার রাতে এক পোস্টে এ প্রশ্ন করেন নীলা।

তিনি বলেন, ‘আজ যখন আপনাদের নেতার অপরাধ, অনাচার, এবং লিপ্সার বিরুদ্ধে আমি মুখ খুলেছি, তখন আমি আপনাদের কেউ না? এতদিন আমার কণ্ঠ, আমার পরিচয়, আমার ত্যাগ আপনাদের পক্ষে ছিল তখন তো কোনো সমস্যা ছিল না আপনারা কি দল করেন, না কেবল ক্ষমতা আর নারীকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলার একটা কারখানা চালান?’

নীলা ইস্রাফিল আরো বলেন, ‘আপনাদের অপরাধ ঢাকার জন্য আজ আমাকেই অস্বীকার করছেন? সত্য বললেই কি নারীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়? এটাই কি আপনাদের নৈতিকতা? এই প্রশ্ন আজ শুধু আমার না এই প্রশ্ন প্রতিটি নারীর, যাকে আপনারা দলীয় পরিচয়ে ব্যবহার করেছেন, আর পরে ‘অপরিচিত’ বানিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি আজ আমাকে অস্বীকার করছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় আপনারা কি আমাকে সত্যিই কখনো অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, নাকি কেবল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতেন?’

তিনি বলেন, “আমার কণ্ঠ যখন আপনাদের পক্ষে ছিল, তখন তো ‘আমাদের নেত্রী’, ‘আমাদের শক্তি’ বলে গলা ফাটাতেন।

এখন যখন আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছি, তখন ‘সে তো আমাদের কেউ না’? এটা কি কোনো রাজনৈতিক দলের মূল্যবোধ? নাকি এটি প্রমাণ করে, দল নয়, আপনারা ব্যক্তি রক্ষায় ব্যস্ত? জনগণ দেখছে, বুঝছে এবং প্রশ্ন করছে এই দল কি আদৌ জনগণের ন্যায় ও নৈতিকতার প্রতিনিধিত্ব করে?”

নীলা বলেন, ‘আমি অবাক হই না যে আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি আমাকে অস্বীকার করছে। কারণ সত্য বললেই অনেক সময় আপনজনই মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু আমি একটিই প্রশ্ন করতে চাই যদি আমি আপনাদের কেউ না হয়ে থাকি, তাহলে আমার কণ্ঠ, আমার পরিচয়, আমার মাঠের উপস্থিতি এতদিন আপনারা কেন ব্যবহার করেছেন? একজন নারী যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখনই তাকে দলহীন, আশ্রয়হীন প্রমাণ করতে পারাটাই কি রাজনীতির নতুন রীতি? আমি কারো পরিচয়ে নই, আমি আমার ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো একজন মানুষ। আমাকে অস্বীকার করে সত্যকে অস্বীকার করা যাবে না।

যে তরুণরা দেশ গঠন করবে তারাই এখন চাঁদাবাজি করছে-ফকরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমন্বয়কদের চাঁদা দাবির খবরে আমি বেদনায় নীল হয়ে গিয়েছি।  তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এক বছরেই এই অবস্থা! যে তরুণরা দেশ গঠন করবে তারাই এখন চাঁদাবাজি করছে। আমরা কি এমন পরিণতি চেয়েছিলাম?

তিনি আরও বলেন, এত তাড়াতাড়ি যদি এসব ঘটে, তবে ভবিষ্যৎ কী? গোটা বাংলাদেশ তরুণদের দিকে তাকিয়ে আছে। হাসিনা পতনের পর এই তরুণদের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। কিন্তু দুঃখ হয়, জোর গলায় বলতে পারছি না যে, এ দেশ নতুন করে গড়ে উঠবে। দেশ এমন অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ফ্যাসিস্টদের নতুন করে সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।

সোমবার দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে যুবদলের গ্রাফিতি আর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনার বিচারের তো কিছু দেখতে পেলাম না, এক বছর হয়ে গেল। যারা প্রকাশ্যে হত্যা করল, তাদের কেন গ্রেফতার করা হলো না?

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি সব ধরনের সহযোগিতা করছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তবে যতই চাপ তৈরি করে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হোক না কেন, দেশের মানুষ লড়াই করতে জানে।  দেশের মানুষ লড়াই করে দেশকে মুক্ত করেছেন। তারেক রহমান চেষ্টা করছেন, কিভাবে বাংলাদেশকে আবার গড়ে তোলা যায়।

‘কোনো একটি দল বা ছাত্ররা একা আন্দোলন করেননি, শিশু-বৃদ্ধ সবাই জুলাই অভ্যুত্থানে নেমে এসেছিল। সবার অংশগ্রহণে স্বৈরাচারের বিদায় সম্ভব হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সত্যিকার অর্থে দেশকে পরিবর্তন ও নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাইলে, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, শ্রমিক, কৃষকদের মতামত নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ, তাদের হাত ধরেই সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে লেখালেখি হলেও মহিয়সী নারী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে সেভাবে লেখালেখি হয় না। সাংবাদিক ভাইয়েরা কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলতে শিখুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৪ সালের জুলাই মাসে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের গুম, হত্যা ও গ্রেফতার করা হয়েছে।  ডিবি অফিসে নিয়ে জুলুম ও নির্যাতন করা হয়েছে।  জুলাই আন্দোলনে যুবদলের শহীদ ৭৯ জন, ছাত্রদলের ১৪২ জন।  যার যা অবদান আছে, তা তাকে দিতে হবে।  সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে।  ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা লড়াই করেছে।  কিন্তু দুঃখের বিষয়- ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নের এক বছর হয়ে গেলেও তাকে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না?

বাংলাদেশকে আবার কিভাবে গড়ে তোলা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি ৪৪ জনের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত হয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি ৪৪ জনের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের এখন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের এক সিনিয়র কনসালট্যান্টের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত আরও ১৩ জনের অবস্থা গুরুতর।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বার্ন ইনস্টিটিউটে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করতে এবং তাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনতে সহায়তা করছেন।’
কাউকে বিদেশে পাঠানো হতে পারে কিনা- জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান নাসির উদ্দিন।

উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৯

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।আহত ও দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসেছে। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈমানিকের বিষয়েও কোনো তথ্য এখনো দেয়নি আইএসপিআর।

আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।

স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বলেন, বিমানটি একটি ভবনের গেইটে আছড়ে পড়ে। সেটি অ্যাকাডেমিক ভবন। সেখানে স্কুলের বাচ্চাদের ক্লাস চলছিল। আগুনে অনেকেই সেখানে দগ্ধ হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি ২৮ জনের নাম পাওয়া গেল

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ২৮ জন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন- শামীম ইউসুফ (১৪), মাহিন (১৫), আবিদ (১৭), রফি বড়ুয়া (২১), সায়েম (১২), সায়েম ইউসুফ (১৪), মুনতাহা (১১), নাফি () মেহেরিন(১২), আয়মান (১০), জায়েনা (১৩), ইমন(১৭), রোহান (১৪), আবিদ (৯), আশরাফ (৩৭), ইউশা (১১), পায়েল (১২), আলবেরা (১০), তাসমিয়া (১৫), মাহিয়া (), অয়ন (১৪), ফয়াজ (১৪), মাসুমা (৩৮), মাহাতা (১৪), শামীম, জাকির (৫৫), নিলয় (১৪), সামিয়া।

ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলা ১টা ১৮ মিনিটে এ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। মাইলস্টোন কলেজে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। তাদের ইউনিটগুলো পৌঁছায় দুপুর ১টা ২২ মিনিটে। এখন  উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের আটটি ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সব সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

আহত–নিহতদের জন্য দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

চাকরি হারাবে ১০ লাখ মানুষ!

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানীকৃত পণ্যে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী ১ আগস্ট। এ অবস্থায় দেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে এক ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতসহ চামড়া, প্লাস্টিক, কৃষি, লজিস্টিকস ও আর্থিক খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিষয়টি কেবল একটি বাণিজ্য সংকট নয়, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা।

যথাসময়ে সরকার হস্তক্ষেপ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারাবে বাংলাদেশ, যা পুনরুদ্ধারে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে এবং ৫০ লক্ষাধিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে। 

এ বিষয়ে স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ‘এটি কেবল একটি বাণিজ্য বিষয় নয়, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। যারা ভাবছেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানীকৃত পোশাক পণ্যে প্রভাব পড়বে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। বড় ক্রেতারা এক দেশ থেকে একাধিক বাজারের জন্য পণ্য নেয়; ফলে এই প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে।

’ ইউরোপীয় পোশাক ব্র্যান্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যদি এই শুল্ক ইস্যুর সমাধান না হয়, তাহলে আমাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা হারাবে। আমরা হয়তো বিকল্প উৎস বিবেচনা করতে বাধ্য হবো। বর্তমানে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে সরাসরি ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন এবং আরো ১০ লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে সংশ্লিষ্ট খাতে।’ শিল্প নেতারা বলছেন, যদি অর্ডার কমে যায়, তাহলে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ১০ লাখের বেশি চাকরি হারাতে পারে।
 

জানা যায়, স্প্যারো গ্রুপ বছরে ৩০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ৪০ কোটি টাকার বেশি মজুরি দেয়। শোভন ইসলাম বলেন, ‘এই বাজার ভেঙে পড়লে আমরা দুই মাসও টিকে থাকতে পারব না।’

চট্টগ্রামের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘৯৩ শতাংশ রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে। সরকার যদি অনুকূল সমঝোতা করতে না পারে, তাহলে আমরা টিকতে পারব না।

’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে ৬০ কোটি টাকা মজুরি দেয়, আর মোট পরিচালন ব্যয় ৭০ কোটি টাকার মতো। আমাদের অন্যতম ক্রেতা ওয়ালমার্ট অর্ডার অব্যাহত রেখেছে, তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, লেভিস, আমেরিকান ঈগল, সিঅ্যান্ডএসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য কেনে। বর্তমানে তারা ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে পুনর্বিবেচনায় আছে। অনেক বায়িং হাউস ইতিমধ্যে কারখানাগুলোকে উৎপাদন ও চালান স্থগিত করতে বলেছে।’

জানা যায়, শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক হা-মীম গ্রুপের মাসিক মজুরি ৯০ কোটি টাকা। শুধু হা-মীমেই ৭০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৮০১টি প্রতিষ্ঠান তাদের মোট রপ্তানির অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে করে, ফলে তারা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে।

ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত যেমন স্পিনিং, ডাইং, অ্যাক্সেসরিজ ও কেমিক্যাল শিল্প রপ্তানিনির্ভর। অর্ডার কমলে এসব খাতেও উৎপাদন ব্যাহত হবে, কর্মী ছাঁটাই ঘটবে। তদ্রূপ পরিবহন ও লজিস্টিকস খাত, সিঅ্যান্ডএফ, গুদাম ব্যবসা সবগুলোই রপ্তানির সঙ্গে জড়িত। অর্ডার কমলে তাদের রাজস্বেও বড় ধস নামবে। এক ব্যাংক কর্মকর্তার ভাষ্য, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও ফ্যাক্টরিংয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা বড় চাপে পড়বে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি সরবরাহকারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে : রপ্তানি কারখানাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অর্ডার কমার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান মূলত এক বা একাধিক বড় কারখানার ওপর নির্ভর করে।

কূটনীতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, এগিয়ে ভারত-ভিয়েতনাম : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোনো বাণিজ্যিক ছাড় পায় না, যেখানে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশ কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছাড় আদায় করেছে।

শোভন ইসলাম বলেন, ‘চীন ট্রাম্প-যুগে শুল্ক আরোপে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হারিয়েছে। বাংলাদেশও তেমন বিপদের মুখে পড়তে পারে।’

সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন, ‘বিষয়টি জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সঠিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল নিতে না পারলে দেশের রপ্তানি, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি এবং ১৫ লাখের বেশি চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে।