ইসরাইল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারবে না: নাঈম কাসেম

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, ইসরাইরি সরকার কখনো হিজবুল্লাহর অস্ত্র কেড়ে নিতে পারবে না।  ইসরাইলি আগ্রাসনের ক্ষেত্রে যোদ্ধারা সব সময় আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত।

শেখ নাইম কাসেম শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে কমান্ডার আলী কারাকির স্মরণে ভাষণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাঈম কাসেম বলেন, ‘কমান্ডার আলী কারাকি ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর উম্মাহ শহীদদের মাস্টার সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর সাঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ কারাকি হিজবুল্লাহ সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন।’

লেবাননে প্রতিরোধ বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের উদ্দেশে শেখ কাসেম বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিরোধ বাহিনীর সাফল্য অনেক।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটা সত্য যে প্রতিরোধ বাহিনীর লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি যুদ্ধ ঠেকাতে পারেনি, তবুও তারা শত্রুদের সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্যরা ১৭ বছর ধরে ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।’

নাঈম কাসেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একটি নতুন চুক্তি প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি তাদের স্বার্থের সঙ্গে যায় না। নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা।’

তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ লেবাননের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি লক্ষ্য করছে। প্রতিরোধ এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের এই হুমকি মোকাবিলা করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, যোদ্ধারা হয়তো ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে পারবে না কিন্তু আত্মসমর্পণ শত্রুকে সমগ্র দেশ আক্রমণ করার সুযোগ করে দেবে। ’

ইরাকের শপিং মলে ভয়াবহ আগুনে নিহত অন্তত ৫০

ইরাকে একটি শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের একটি শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

যদিও আগুনের ঘটনাটি ইরাকের ঠিক কোন স্থানে ঘটেছে, তা সরকারি সূত্রে এখনো পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, এই ভয়াবহ আগুন লেগেছে আল-কুট শহরের একটি সুপারমার্কেটে।

ভাইরাল ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, একটি বড় ভবনের বেশ কিছু অংশ দাউদাউ করে জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, পূর্ব ইরাকের কুট শহরের একটি হাইপারমার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে প্রদেশটির গভর্নরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতভর কুটের একটি পাঁচ তলা ভবনে আগুন জ্বলছে এবং দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে গভর্নর জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে। গভর্নরের উদ্ধৃতি দিয়ে আইএনএ জানিয়েছে, “আমরা ভবন এবং মলের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।”

উল্লেখ্য, ইরাকে অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে সেসময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবন নির্মাণের ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ফের দেশটির বিপণি ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আরও ৭৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজাজুড়ে চালানো ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় একদিনে কমপক্ষে ৭৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  নিহতদের মধ্যে অনেকেই ত্রাণ নিতে গিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এদিকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের পাশ ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।  এর মধ্য দিযে ইসরাইলি ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রের আশপাশে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৮৩৮ জনে পৌঁছেছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরে বাস্তুচ্যুতদের এক শিবিরে বিমান হামলায় ৯ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে এক বাণিজ্যিক ভবনে হামলায় নিহত হয়েছেন ৪ জন।

এছাড়া ইসরাইলি সেনারা উত্তর গাজা ও গাজা শহরে আবারও হামলা জোরদার করেছে। গাজা শহরে এক অ্যামবুশে একটি ট্যাংকে রকেট হামলা ও পরে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম।  এতে তিনজন ইসরাইলি সেনা নিহত হন।

পরে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে  টুফাহ ও শুজাইয়া এলাকার অনেক আবাসিক ভবন ধ্বংস করে। ওয়াফা জানায়, শুধু গাজা শহরেই ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ডজনখানেক আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যামূলক হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। যাতে এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, অন্তত ৫৭ হাজার ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 

চীনের কাছ থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের চালান পেল ইরান

চীনের কাছ থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের চালান পেল ইরান।ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে নাটকীয় পরিবর্তন আনার আভাস দিল এক নতুন খবর। ব্রিকস নিউজ-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দাবি করেছে, চীনের জে-১০ সি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড এএইসিএসএ রাডার এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ইসরাইলের এফ-৩৫ স্টিলথ জঙ্গি বিমানগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ব্রিকস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে শক্তির ভারসাম্য ইরানের পক্ষে চলে যেতে পারে। অবশ্য প্রথম চালানে কয়টা বিমান ইরানকে দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কয়টি চালান দেওয়া হবে তাও জানান হয়নি।

এর আগে ইরানের জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে মোট ৪০টি জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে। প্রতিটি জে-১০ সি-এর দাম প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার হওয়ায় পুরো ৪০টি বিমানের সম্ভাব্য মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে কেবল বিমান কেনার খরচই শেষ কথা নয়—দীর্ঘমেয়াদে এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিমানের মূল দামের প্রায় তিনগুণ হতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

হামশাহরি অনলাইনের আরেক প্রতিবেদনে এই জে-১০ সি যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জে-১০ চীনের তৈরি অন্যতম অত্যাধুনিক কৌশলগত যুদ্ধবিমান। এই বিমানকে চীনের সামরিক স্বনির্ভরতার প্রতীক এবং ২১ শতকের অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির অগ্রগতির দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হয়। চেংদু এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং কর্পোরেশন বা সিএসি এই বিমানটির নকশা তৈরি করেছে এবং তৈরিও করেছে। ন্যাটো চীনের এ বিমানকে “ফায়ার বার্ড” নামে ডাকলেও চীনে একে “মাইটি ড্রাগন” বলা হয়।

রাশিয়ার কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ফাইটারটির নকশায় এফ-১৬-এর মতো কিছু দিকও রয়েছে। প্রায় দুই দশক গবেষণা ও উন্নয়নের পর ২০০৫ সালে জে-১০ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়। আজও এটি চীনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সব মিলিয়ে, চীনা জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ইরানের হাতে পৌঁছানো শুধু তেহরানের সামরিক ক্ষমতা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শক্তির ভারসাম্যকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

চীনের কাছ থেকে ভূমি-থেকে-আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র–ব্যবস্থা হাতে পেয়েছে ইরান। ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় শক্তিশালী করতে তেহরান নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

একজন আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, গত ২৪ জুন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর চীনের তৈরি ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তেহরানে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক আরব কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা জানত যে তেহরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউসকেও ইরানের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধবিরতির পর চীনের কাছ থেকে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র বা এসএএম পেয়েছে, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কিছু বলেননি। তবে একজন আরব কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান তেলের বিনিময়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিনেছে।

ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার (ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট চীনে রপ্তানি হয়। কনডেনসেট হলো প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় সংগৃহীত হালকা তরল জ্বালানি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে। আমদানি করা তেলের উৎস গোপন রাখতে চীন মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে ট্রানশিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এই চালানগুলো বেইজিং ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত দেয়। ইরানে এমন এক সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ওই চালান এসেছে যখন পশ্চিমাদের ধারণা, ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার সময় চীন ও রাশিয়া ইরান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছে।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধকালীন ইরান চীন থেকে উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছিল।

১২ দিনের ওই সংঘাতে ইসরায়েল ইরানের আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। ইসরায়েল সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাগুলো নিশানা করতে এবং কয়েকজন শীর্ষ ইরানি জেনারেল ও পরমাণুবিজ্ঞানীকে হত্যা করতে সক্ষম হয়।

ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফা শহরের বেশ কিছু সংবেদনশীল স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বিবদমান দুদেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। গত ২৪ জুন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধকালীন ইরান চীন থেকে উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছিল। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান কুয়েতের ওপর হামলা করে এবং তথাকথিত ‘ট্যাংকার যুদ্ধের’ সময় একটি মার্কিন পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

২০১০ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান চীনের কাছ থেকে এইচকিউ৯ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে।

বিএনপির চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদা দাবিসহ নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গাজীপুর মহানগর বিএনপির চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার (৬ জুলাই) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন— গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুল হালিম মোল্লা, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য জিয়াউল হাসান স্বপন (জিএস স্বপন),

টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সাথী।

এতে বলা হয়, এসব নেতা দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এজন্য তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

বহিষ্কারের এ ঘোষণার পর গাজীপুর মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতির প্রতি আনুগত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

তবে বহিষ্কৃত নেতাদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে “একতরফা” ও “প্রতিহিংসাপরায়ণ” বলে দাবি করেছেন। তারা মনে করছেন, এর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শাহ পরানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শাহ পরানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে ধর্ষণের ঘটনায় ছবি ও ভিডিওসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

মূলত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে ভিডিও ছড়ানোর মূল হোতা শাহ পরান ও তার ভাই ফজর আলীর বিরোধ। ফজর আলীকে বিপদে ফেলে প্রতিশোধ নিতেই পুরো ঘটনা সাজিয়েছিলেন তারই ভাই শাহ পরান।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ছোট ভাই মব সৃষ্টি করে ভুক্তভোগী ও ধর্ষককে নির্যাতন, শ্লীলতাহানী করেন ও অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাহেরচর গ্রামের শহিদের বড় ছেলে ফজর আলী ও ছোট ছেলে শাহ পরান দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ঘটনার দুই মাস আগে তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে গ্রাম্য শালিসে জনসম্মুখে বড় ভাই ফজর আলী তার ছোট ভাই শাহ পরানকে চর মারেন। পরবর্তীতে শাহ পরান তার বড় ভাইয়ের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সুযোগের সন্ধানে থাকে। শালিসের কিছু দিন পর ভুক্তভোগী নারীর মা ফজর আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে ধার নেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পরে ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে সুদের টাকা আদায়ের অজুহাতে ভুক্তভোগীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। এর ২০ মিনিট পর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর বাড়ির আশপাশে অবস্থান করা মামলার মূল হোতা শাহ পরান ও একই গ্রামের আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান এবং অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি দরজা ভেঙে ভুক্তভোগীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে এবং ভুক্তভোগীকে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানী ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র ধারণ করে পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনার পর মূল হোতা শাহ পরানসহ আবুল কালাম ও অন্যান্য আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামি শাহ পরানকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে তার ভাই ফজর আলীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ভুক্তভোগী ও ফজর আলীকে নির্যাতন, শ্লীলতাহানী ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, শাহ পরান মব সৃষ্টির জন্য ইমোতে অন্যদের মেসেজ দিয়ে ডেকে আনেন। তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে এবং অন্যদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন বাহেরচর গ্রামে এক নারীকে নিগ্রহের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গত ২৯ জুন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধর্ষণে অভিযুক্তসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও ২৮ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

 

গত২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮টি ‘শত্রু বিমান’ শনাক্ত ও প্রতিহত করার দাবি করেছে ইরান। এর মধ্যে একটি গুপ্তচর ড্রোন ছিল, যা ইরানের ‘সংবেদনশীল’ স্থানগুলো সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশটির সামরিক বাহিনী এর আগেও একাধিকবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

তবে ইসরায়েল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ইরানে তাদের অভিযানের সময় কোনো যুদ্ধবিমান বা ক্রু সদস্যের ক্ষতি হয়নি।

ইরানে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে ২১ মুসলিম দেশের বিবৃতি

ইরানে ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানিয়ে ২১টি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। একইসাথে তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নির্বিচারে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই বিবৃতি এসেছে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তির উদ্যোগে, যিনি অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করেন।

যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেয়া দেশগুলো হলো—তুরস্ক, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, বাহরাইন, ব্রুনেই, চাদ, গাম্বিয়া, আলজেরিয়া, কোমোরোস, জিবুতি, সৌদি আরব, সুদান, সোমালিয়া, ইরাক, ওমান, কাতার, কুয়েত, লিবিয়া, মিসর ও মৌরিতানিয়া।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের ভূখণ্ডে ইসরাইলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘ সনদের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।

তারা চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করেন, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই তারা ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের শত্রুতামূলক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং একটি সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

গত শুক্রবার ইসরাইল ইরানের একাধিক সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় সমন্বিত বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

নরকের রাত কাটল ইসরায়েলিদের

দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন করে যৌথভাবে মিসাইল ছুড়েছে ইরান ও ইয়েমেন। রোববার শেষরাতে এসব মিসাইল ছোড়া হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দখলকার ইসরায়েলের অঞ্চলে একাধিক

বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, কয়েক মিনিটের মধ্যে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠবে।

সাধারণ ইসরায়েলিদের বোমা শেল্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হোম ফ্রন্ট কমান্ড।

এর আগে রোববার রাতে দখলদারদের লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ে ইরান। যা তাদের বন্দরনগরী হাইফায় সরাসরি আঘাত হানে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১৫ জুন) সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও নতুন এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দিকে ‘নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইরান ইসরায়েলের ওপর নতুন আক্রমণ শুরু করেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্স টুডের বাংলা বিভাগের সম্পাদক আশরাফুর রহমান জানিয়েছেন, ইসরায়েলে ৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তেল আবিবে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ইরানের ভেতরে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, বিশেষ করে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে। এতে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের মৃত্যু হয়েছে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

 

ইরানের হামলায় ইসরাইলে নিহত ৪০ আহত ৫০০

ইসরাইলে শনিবার মধ্যরাত ও রোববার ভোরে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।  এতে অন্তত চল্লিশ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫০০ জন।

অপরদিকে ভোরের হামলায় ৬০ বছর বয়সি এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা মেগান ডেভিড আদম জানিয়েছে,মধ্য ইসরাইলের  বাত ইয়ামে ওই নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া সেখানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।

অপরদিকে রেহেবোতে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইরানি হামলায় বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব এবং রামাত গানেও বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানকার হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি

ইরানের এ হামলার আগে ইসরাইলিদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়সেনাবাহিনী। তবে এখন তারা এ নির্দেশনা তুলে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলের ওই আরব শহরটিতে হতাহতের সংখ্যা বেশি কারণ সেখানে আশ্রয় নেওয়ার মতো খুব বেশি সুবিধা নেই।