সুপরিকল্পিতভাবে জাতীয় নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে

সুপরিকল্পিতভাবে জাতীয় নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মির্জা ফখরুল ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে নতুন একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার এবং সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ মুক্ত যে একটি আধুনিক বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার, সেখানেও আমরা দেখি একটা কালো ছায়া এসে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া, জনগণের যে অধিকার সেই অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা এবং ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটা পাঁয়তারা শুরু হয়েছে।

আবার বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে গোত্রে গোত্রে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরস্পর মুখোমুখি করার একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কিছু মানুষ যারা সরকারের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে; অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বাংলাদেশকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, ভিন্নখাতে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির ওপর সব সময় গুরু দায়িত্ব এসে পড়ে। সেই দায়িত্বটি হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবার দায়িত্ব, বাংলাদেশ আবার নতুন করে গড়ে তুলবার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব হচ্ছে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবার জন্য কাজ করা শুরু করেছিলেন- এখন তরুণ নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বাস্তবায়িত করবার জন্য আজকে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে অত্যন্ত সজাগ ও সচেতনভাবে তাদের কাজ করতে হবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেন আর কখনো কেউ কেড়ে নিতে না পারে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ যাতে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার দিয়ে দাবায়ে রাখতে না পারে, সেভাবে বিএনপির প্রতিটি কর্মীকে আজকে সেই ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকীতে আজকে শোক নয়, আমরা শোককে সমস্ত শক্তি পরিণত করতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে; যারা বাংলাদেশকে ১৫ বছর ধরে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের মধ্যে রেখেছিল- বাংলাদেশে আবারো সেই জনগণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবার জন্য এবং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবার জন্য তারা এখনো ষড়যন্ত্র করে চলেছে সীমান্তের ওপার থেকে। এ সময়েও কিন্তু শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম আমাদেরকে বারবার মনে রাখতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আটদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এদিন যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগামী ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত আটদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 

 

রিজভী বলেন, যেহেতু আগামী ৭ জুন কুরবানি ঈদ। সেজন্য আমাদের কর্মসূচি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। কর্মসূচি হবে আট দিনব্যাপী। অর্থাৎ ২৫ তারিখ থেকে ২ জুন পর্যন্ত। আগামী ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি আলোচনা সভা, দুস্থদের মধ্যে চাল-ডালসহ বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির পতাকা অর্ধনমিত রেখে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো জিয়াউর রহমানকে নিয়ে পোস্টার প্রকাশ করবে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে দলটি। কর্মসূচির মধ্যে আছে, ২৯ মে বিকাল ৩টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা, আগামী ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ এবং মসজিদে মসজিদে গণদোয়া ইত্যাদি। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে দুঃস্থদের মধ্যে চাল-ডালসহ ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়াও সারা দেশে জেলা ও উপজেলা-থানা-পৌর ইউনিটগুলোও জিয়াউর রহমানের স্মরণে আলোচনা সভা, দুঃস্থদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করবে।

যৌথসভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আবারও মাঠে নামার হুঁশিয়ারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের

ঢাকার সাত কলেজকে একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেওয়া হলেও নাম প্রস্তাব ছাড়া আর কোনও অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন ওইসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগসহ পাঁচ দফা দাবি না মানলে ১৯ মে থেকে আবারও মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৭ মে) ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পাঁচ দফা দাবি হলো– রবিবারের (১৮ মে) মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ও অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বানাতে হবে; ভুতুড়ে ফলের সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং যাবতীয় অসঙ্গতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে, এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রূপরেখা, লোগো মনোগ্রাম প্রকাশ করতে হবে।
সর্বশেষ আগামী ১৬ জুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেটে নির্ধারণ করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে ১৯ মে থেকে মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ টু যমুনা’য় পুলিশের টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

তিন দফা দাবি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ টু যমুনা’ পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। এ সময় তাদের ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৮ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ অবস্থায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কাকরাইল এলাকায় যমুনা অভিমুখী সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে এ যাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কাকরাইল এলাকায় পৌঁছালে সেখানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

পুলিশের বাধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বসে পড়ে নানা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় ‘জেগেছেরে জেগেছে, জবিয়ান জেগেছে; আমার ভাই অনাহারে, যমুনা কী করে; এসেছি যমুনায়, যাব না খালি হাতে; আমার ভাই আহত কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

বিকাল ৩টার পর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে এসে উপস্থিত হন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, ব্যবসায় অনুষদের ডিন মঞ্জুর মোর্শেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এর আগে সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন জবি শিক্ষার্থীরা। লং মার্চে লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের মোড়ে আসতেই পুলিশ হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, গরম পানি নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে, তারা হলেন- রেদোওয়ান (২৪), আসিফ (২০), রহমান (২২), আকিব (২১), আরিফ (২২), রফিক (২৫), শফিক (২৫), ওমর ফারুক (২৪), অর্থিব (২১), আপেল (২১), মুজাহিদ (২৩), রায়হান (২৩), ফারুক (২৩), আবু বক্কর (২২), নিউটন (২০), হানিফ (২২), জীবন (২২), শহীদ (২০), রাসেল (২২), জিসান (২২), শহীদ (২৪), রাসেল (২৩), গৌরব (২৫), আব্দুল মান্নান (২২), নাহিদ (২৩), জুয়েল (২৩), মোহন (২২), সোহানুর রহমান সানি (২৪), মাছুমা (২০), সংগ্রাম (২০), বাইতুল (২২), রাজু (২২), সুমন (২২), রাজীব (২২), আকাশ (২২), দৈনিক সংবাদের মেহেদী হাসান (২৪), জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা পোস্টের ক্যাম্পাস প্রতিবেদক মাহাতাব লিমন (২৩) এবং বাংলা ট্রিবিউনের জবি প্রেস ক্লাব সভাপতি আসাইফ আশরাফ (২৬)।

এ ছাড়া জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসিরউদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক বেলাল ও সহকারী প্রক্টর নাইম সিদ্দিকি আহত হয়েছেন।

আহত জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, সরকারের এই কর্মকাণ্ডে আমরা মর্মাহত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের বিচার করতে হবে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ৩৮ জন আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা

চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। আর ঘোষণাটি এসেছে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে।

শনিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাতভর দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান একটি পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও দুরদৃষ্টির জন্য দুই দেশকেই শুভেচ্ছা!

ন্যায় বিচারের স্বার্থে আহসান উল্লা মাষ্টার হত্যাকান্ডের পুন:তদন্ত দাবি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকার আ’লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার

গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ডে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ হত্যাকান্ডের পুন:তদন্ত দাবি করেছেন। বক্তারা বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ড ছিলো আওয়ামী লীগের দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের। কিন্তু এ হত্যাকান্ডকে পূঁজি করে আওয়ামী লীগ তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিলো। দেশব্যাপী পরিকল্পিতভাবে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত এবং শিল্প শহর টঙ্গীতে ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারের প্রভাব খর্ব করে এলাকার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় বিএনপির জনপ্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো সাক্ষীতে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার টঙ্গী প্রেসক্লাব আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সূর্য্য পূর্ব আকাশে উদিত হয়ে পশ্চিম আকাশে অস্তমিত হয় যেমন চির সত্য, তেমনি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকার আহাসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ডের জড়িত নয় সত্য।’ প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্যে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারকে শোনা কথার সাক্ষীতে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজির বিহীন।’
বিশেষ আলোচক টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন বলেন, বিগত স্বৈরশাসক অবৈধভাবে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির আবেদন শুনানী করতে দেয়নি। বছরের পর বছর শুনানী স্থগিত রেখে তাকে কারাগারে নির্মম নির্ষাতন চালিয়েছে।
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মো. মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি শেখ আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, টঙ্গী সচেতন নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, অবিভক্ত টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, কারারুদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহানুর ইসলাম রনি, সাংবাদিক নেতা নাসির উদ্দিন বুলবুল, মোস্তফা আমীর ফয়সল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ উদ্দিন, শামসুল হক ভূইয়া, মহিউদ্দিন রিপন, মাহবুব চৌধুরী, সবুর খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গাজীপুর দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী চৌধুরী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গী নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন আহসান উল্লাহ মাস্টার।

পাকিস্তানে মিসাইল ছুড়লো ভারত

পাকিস্তানের পাঁচ জায়গায় মিসাইল ছুড়েছে ভারত। এতে তিন পাকিস্তানি নিহত ও দুটি জেট বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের এক সামরিক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডন।

এরপর পাকিস্তানে মিসাইল ছোড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারত। দেশটি জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী আজাদ কাম্মিরসহ পাকিস্তানের পাঁচ জায়গায় মিসাইল ছুড়েছে।

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের অভিযানে পাকিস্তানের পাঁচ জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে; পাকিস্তানের সেনা সদস্যদের ওপর কোনও হামলা চালানো হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কিছুক্ষণ আগে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করেছে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে। যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে।”

এ হামলায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কোনও অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়নি দাবি করেছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। তারা বলেছে, ‘এটি ছিল কেন্দ্রীভূত, পরিমাপিত’। এছাড়া উত্তেজনা যেন বৃদ্ধি না হয় সে বিষয়টিতেও নজর দেওয়া হয়েছে।

হামলার পর পর ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছে। এতে লিখেছে, ‘ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে। জয় হিন্দ।’

সরকারি চাকরিজীবীদের আতঙ্ক কাটছে না,বিদ্যমান চাকরি আইনকে নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ

সরকার বিদ্যমান চাকরি আইনকে নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে দাফতরিক বা প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যেকোনও এক বা একাধিক কর্মচারীকে তদন্ত ছাড়াই এক সপ্তাহের নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এই আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম বন্ধ হতে যাচ্ছে। এ জন্য করা হচ্ছে নতুন আইন। যেকোনও দাবিতে যখন তখন আন্দোলন, কাজ, কর্ম, অফিস, ডিউটি বাদ দিয়ে ধর্মঘট বা মিছিল মিটিং বা কর্মকর্তাদের দফতরে অবস্থান কর্মসূচি পালন আর চলবে না। এসবের কারণে সরকারি কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে আসে, সৃষ্টি হয় বিশৃ্ঙ্খলা, বাধাগ্রস্ত হয় জনসাধারণের জন্য নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এসব কারণেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রশাসনিক অস্থিরতা দানা বাধে। সেই অস্থিরতায় সরকারের সব কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে এক গ্রুপ অপর একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করার কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সব স্তরের কাজকে গুছিয়ে করার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব, পদোন্নতি, ক্যাডার বৈষম্য, মহার্ঘ ভাতার দাবিসহ সচিবালয়ের কর্মচারীরা সোচ্চার হয়ে ওঠে নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ে। এ নিয়ে পুরো প্রশাসনে চলছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ক্ষোভ আর হতাশা। এর মধ্যে সেই সময়ের অর্থাৎ গত বছরের ৫ আগস্টের আগে পুরো জুলাইজুড়ে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ডিসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম এই অস্থিরতা, ক্ষোভ ও হতাশার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সচিবালয়ে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, প্রশাসনে কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে সরকারকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে, যা এখনও চলমান। এখনও প্রশাসনে চলছে নীরব স্থবিরতা। কাজেকর্মে চলছে ঢিলেমি। সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক অংশ তাদের দাবি দাওয়া আদায় নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এসব বিষয় সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারলে পুরো প্রশাসন একসময় শতভাগ ভেঙে পড়তে পারে। যা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও জানা গেছে, বর্তমান প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এর জন্য বিদ্যমান ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে চাকরি আইনে ছয় বছর আগে বাতিল হওয়া ‘সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ১৯৭৯’ থেকে কয়েকটি ধারা ওই আইনে যুক্ত করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনটি কার্যকর হলে দাফতরিক বা প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কর্মচারীদের তদন্ত ছাড়াই এক সপ্তাহের নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে প্রশাসনে চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জানা গেছে, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত দ্বন্দ্ব, অনুমতি ছাড়াই কিছু কর্মচারীর কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, ডিসি নিয়োগকাণ্ডে হট্টগোল-হাতাহাতি, সচিবের রুম আটকে আন্দোলনসহ বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমে বাতিল হওয়া সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ কার্যকর করার ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘দেশের বিদ্যমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে নানা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে। এদের কেউ কেউ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আইনসংগত আদেশ/নির্দেশ পালনে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পাদনে শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহতকরণ এবং দ্রুত আইনগত কার্যক্রম গ্রহণের ব্যবস্থা হিসেবে রহিতকৃত সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ পুনরায় কার্যকর করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় রহিতকৃত সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ কার্যকর করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলে আলাপ আলোচনার পর বাতিল হওয়া সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিদ্যমান সরকারি কর্মচারী আইনে সংযোজন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে বাতিল হয়ে যাওয়া ‘সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯’-তে যা ছিল, সরকারি কর্মচারী আইনে তা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়াটি প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি সাপেক্ষে শিগগিরই উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, দাফতরিক বা প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়ায় তিন ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে, (ক) চাকরি থেকে বরখাস্ত, (খ) চাকরি থেকে অব্যাহতি এবং (গ) পদাবনতি বা বেতন কমিয়ে দেওয়া। প্রথমত, কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এমন কোনও কাজে যুক্ত থাকেন, যাতে অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় বা শৃঙ্খলা নষ্ট হয় বা অন্য কোনও কর্মচারীর কাজ করতে সমস্যা হয়। দ্বিতীয়ত, যদি কোনও কর্মচারী ছুটি বা অন্য কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বা অন্য যেকোনোভাবে কাজ থেকে বিরত থাকেন। তৃতীয়ত, অন্য কোনও কর্মচারীকে কাজ থেকে বিরত থাকতে প্ররোচনা দেওয়া বা অন্য কোনও উপায়ে কাজ থেকে নিবৃত্ত রাখতে চেষ্টা করা। চতুর্থত, অন্য কোনও কর্মচারীকে তার কর্মস্থলে উপস্থিত হতে বা কাজ করতে বাধা দেওয়া। উল্লিখিত যেকোনও বিষয়ে দোষী যেকোনও এক বা একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীকে তদন্ত ছাড়াই এক সপ্তাহের নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ যেকোনও শাস্তি দিতে পারবে সরকার।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মচারীকে দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব বা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে হবে। উল্লিখিত সময়ে অভিযোগের জবাব না দিলে বা জবাব দেওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট শাস্তি আরোপ করে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেবে। এরপর জবাব না দিলে বা জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত কর্মচারীর ওপর চূড়ান্তভাবে শাস্তি আরোপ করা হবে। তবে শাস্তির বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর সাত দিনের মধ্যে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির বরাবর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাস্তির বিপরীতে আপিলের ক্ষেত্রে ১৯৭৯ সালের বিশেষ বিধান অধ্যাদেশে কোনও ‘আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না’ এমন বিধান ছিল। কিন্তু সরকারি কর্মচারী আইনের প্রস্তাবিত খসড়ায় এটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কাছে আপিলের মাধ্যমে পাওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এ প্রসঙ্গে সচিবালয়সহ কয়েকটি জেলা প্রশাসকের দফতরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু কর্মকর্তার দলবাজির কারণে অনেক নিরপরাধ কর্মকর্তার চাকরি যাচ্ছে বা আগামীতে যাবে। বিশেষ করে যারা গত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন, মাঠ প্রশাসনে কাজ করেছেন, তারা অনেকটাই আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের দফতরে কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “সংবিধানের ৩৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইলো।’ ১৯৭৯ সালের বিশেষ আইনটি যখন হয়েছিল তখন সংবিধান স্থগিত ছিল। অথচ এখন সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় সেটি চাপিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।”

এরই মধ্যে প্রশাসনের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন তাদের বিবৃতি বা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে প্রশাসনকে উত্তেজিত করে রেখেছে। প্রশাসন ক্যাডারের বিরুদ্ধে গিয়ে গঠিত হয়েছে অন্য একটি সংগঠন আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। তারা বিবৃতি দিয়ে তাদের সংগঠনের কাজকর্ম জানান দিচ্ছে। যেমন প্রশাসন ক্যাডার পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যমূলকভাবে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফারুক দেওয়ান জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনকে আলটিমেটাম দেয় এবং সে সময় ও পরবর্তীতে তারা অন্য ক্যাডারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন। এর পূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন কেউ কেউ। তার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ২৫টি ক্যাডারের সদস্যদের সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। এতে প্রশাসনের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে প্রশাসনে।

এ ধরনের ঘটনা সচিবালয়ের ভেতরে অহরহ ঘটছে। এসব অস্থিরতা নিরসনের লক্ষ্যেই সরকার চাকরি আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস উর রহমান সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বলেছেন ‘এটি সরকারের এখতিয়ার। এখানে আমার কোনও বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়।’

ক্যাপিটা টাইমস স্কয়ার মার্কেট: প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক ক্রেতা

গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ক্যাপিটা টাইমস স্কয়ার মার্কেটে দোকান কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক ক্রেতা। রাজধানীর বনানীতে ক্যাপিটা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড প্রতিষ্ঠান এই মার্কেটটির উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

এলাকার লোকজন জানায়, ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রলোভনমূলক প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৩৬ কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের শর্তে দোকান বিক্রি শুরু করে। এর এই প্রলোভনেই পা দেয় শতাধিক ক্রেতারা। তবে দুই-আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০১০ পর্যন্ত করা হলেও কাজের অগ্রগতি হয়নি। ২০১২ সালে নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই স্কয়ার ফুট প্রতি ১,৬৫০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। যা চুক্তি শর্তের বহির্ভুত।

 

২০১৩ থেকে বিভিন্ন সময়ে দোকান হস্তান্তরের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০১৭ সালে জানায়, ওই বছর দোকান হস্তান্তর না হলে পরবর্তী বছর থেকে প্রতিটি দোকানের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হবে। তবে তখনো নির্মাণের ৫০ শতাংশও সম্পন্ন হয়নি।

 

এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কিছু দোকান মালিককে নিয়ে প্রতীকী হস্তান্তরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। বাস্তবে তখনো পুরো মার্কেট দৃশ্যমান ছিল না।

পরে, ২৩ জুলাই ২০২২-এ বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ ১,২০,০০০ টাকা দাবি করে চিঠি দেওয়া হয়, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর বাড়িয়ে ১,৫০,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। সেবা চার্জের ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুতর অনিয়ম। নমুনা দলিলে প্রতি বর্গফুট ৫ টাকা চুক্তি থাকলেও ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা ৯ টাকা এবং ২০২৪ সালের ৩ জুলাই থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সময়মতো পরিশোধ না করলে ১০% হারে সুদের হুমকি দেওয়া হয়, অথচ এখনো ৩য় থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

 

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকান হস্তান্তরের সময় দেওয়া নমুনা দলিল একতরফাভাবে বাতিল করে ক্রেতাদের নতুন দলিল গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। আমাদের অর্থ, সময়, স্বপ্ন—সব কিছু নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে এই কোম্পানি। প্রতারণা বন্ধ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

 

এ বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ইসরায়েলের ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে,জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরে ফেলেছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং বিদেশ থেকে সহায়তা চেয়েছে। জেরুজালেমের পাহাড়ে আগুন লাগানোর সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

জেরুজালেমের পশ্চিম পাহাড়ে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধান সড়কগুলোতে পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।

জেরুজালেম ও তেল আবিবগামী মহাসড়কের কাছে আগুন প্রবলভাবে জ্বলছে, যাতে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি দমকল বাহিনীর জেরুজালেম অঞ্চলের প্রধান বলেন, “আমরা এখনো এই বিশাল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক দূরে রয়েছি।”

ইসরায়েলি অগ্নি নির্বাপণ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, “ভালো অবস্থায় থাকলে আমরা আগামীকাল সকাল নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি।”

সেনাবাহিনী মোতায়েন
দমকল বাহিনীকে সহায়তা করতে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা একটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি, জীবন বাঁচাতে ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের সমস্ত শক্তি নিয়োজিত করতে হবে।”
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম জেরুজালেমে তীব্র বাতাসের কারণে দমকল বাহিনীর অনেক দল আগুনে আটকে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম জেরুজালেমের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সেনারা আগুনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

চ্যানেল ১২ জানায়, অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টের জেরুজালেম ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ব্রিগেড কমান্ডার বলেন, “এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কীভাবে শুরু হয়েছে তা এখনো আমাদের অজানা।”

এছাড়া, পশ্চিম জেরুজালেমের আটটি জনপদের বাসিন্দাদের আগুনের কারণে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমের হাদাসা আইন কারেম হাসপাতাল থেকেও রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি অগ্নি নির্বাপন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিম জেরুজালেমের আগুনের কারণে জেরুজালেম ও বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শত শত বেসামরিক নাগরিক আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা আরও জানায়, তারা ২২ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছে, যাদের মধ্যে ১২ জনকে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ইসরায়েলি পুলিশ “এক্স” প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে জানিয়েছে, “জেরুজালেম পাহাড় ও ১ নম্বর মহাসড়ক এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তারা ওই এলাকায় যাতায়াত না করে।”

দাউদাউ আগুন
লাত্রুন ও বেইত শেমেশ এলাকার মধ্যবর্তী সড়ক বরাবর বন-জঙ্গল পুড়ে যাওয়ার সময় দাউদাউ আগুন দেখা গেছে। এতে বহু চালক তাদের গাড়ি রাস্তায় ফেলে আগুন থেকে পালিয়ে যান।
ঘন ধোঁয়ায় এলাকা ঢেকে গেছে, যা দৃষ্টিশক্তিকে মারাত্মকভাবে সীমিত করছে এবং অনেকেই সেখানে আটকে পড়ে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, জেরুজালেমের পশ্চিমে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বসতি এলাকা খালি করে ফেলা হয়েছে। তারা দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর লড়াইয়ের ছবি সম্প্রচার করেছে।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণেই আগুন লেগেছে।

তবে পরে ইসরায়েলের সরকারি বেতার সংস্থা জানায়, জেরুজালেমের পাহাড়ে আগুন লাগানোর সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪ জানিয়েছে, এই আগুন স্বাভাবিকভাবে লাগেনি, বরং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে লাগিয়েছে।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাফির বলেন, “এই আগুনের পেছনে ফিলিস্তিনিরা রয়েছে” এবং তিনি তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য ইতালি ও ক্রোয়েশিয়া থেকে অগ্নি নির্বাপক বিমান আসবে।

উৎসব বাতিল
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকীর উৎসব শুরুর সাথে সাথে ঘটে, যা ১৯৪৮ সালে দখলকৃত আরব ভূমিতে গঠিত হয়েছিল।

জরুরি সেবা ও উদ্ধার সংস্থা ঘোষণা করেছে, তারা “ইসরায়েলি স্বাধীনতা দিবস” নামে পরিচিত দিবসে  যা আসলে ফিলিস্তিনিদের ‘নাকবা’ (বিপর্যয়)-এর স্মরণদিবস — নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অংশ নিতে পারবে না।

আগুনের ভয়াবহতার কারণে কর্তৃপক্ষ এ উপলক্ষে আয়োজিত অনেক উৎসব ও অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

ইয়েমেনি হামলার মুখে পালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী

হুথি আনসারুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রবল হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান অবশেষে লোহিত সাগর থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এক হামলা থেকে বাঁচতে গিয়ে ওই রণতরী থেকে ৬৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি যুদ্ধবিমান সাগরে পড়ে যায়। এছাড়াও ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষিতর মুখে পড়ার পর মার্কিন বাহিনী পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার ইয়েমেনের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে জানায়, ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো শিগগিরই লোহিত সাগর অঞ্চল ত্যাগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনি সূত্রটির দাবি, ‘আমরা ট্রুম্যান রণতরীতে সরাসরি আঘাত হানার খবরটি নাকচ করছি না। আমরা যে কোনো মুহূর্তে এটিকে লোহিত সাগর এলাকা ত্যাগ করতে দেখতে পারি’।

এদিকে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সোমবার একটি হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, হামলাটি ছিল মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের জবাব।

তারা জানায়, নৌ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান এবং এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর ফলে রণতরী ট্রুম্যান উত্তরদিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।

এদিকে আরেকটি হামলার ঘটনা থেকে বাঁচতে গিয়ে ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান থেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান লোহিত সাগরে পড়ে যায়।

জানা গেছে, রণতরীটি আসন্ন হামলা এড়াতে হঠাৎ কৌশলগত মোড় নিলে হ্যাঙ্গার ডেকে ল্যাড করা যুদ্ধবিমানটি এবং একে টেনে নিয়ে যাওয়া একটি ট্রাক- উভয়ই জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে ডুবে যায়।

বিশ্লেষকদের দাবি, ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান যদি লোহিত সাগর অঞ্চল ছেড়ে গেলে তা প্রথম কোনো ঘটনা হবে না। কেননা, এর আগেও একাধিক মার্কিন রণতরী ইয়েমেনি পাল্টা হামলার কারণে এই অঞ্চল থেকে পালিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইয়েমেনি আক্রমণ ঠেকাতে ও ইসরাইল-সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুগুলো রক্ষায় গত মাস থেকে আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ বাড়ায়।

তবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত গাজায় গণহত্যা ও অবরোধ চলবে এবং ইয়েমেনে মার্কিন হামলা বন্ধ না হবে, ততদিন তাদের হামলাও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। সূত্র: মেহের নিউজ