৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিন হত্যাকারীদের  গ্রেপ্তারের দাবী

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি, ইমাম ও খতিব মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিনকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে । ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবীতে বুধবার টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে  বিক্ষোভ,প্রতিবাদ,মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর এর পীর মাশায়েখ ও আলেম ওলামা সাধারন মানুষ।প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুফতী গিয়াস উদ্দিন আত্ব তাহেরী।

আরো উপস্হিত ছিলেন হযরত মাওলানা মাসুদ হোসাইন আল কাদরী, পীরে তরিকত ওয়ালি উল্লাহ আশেকী, পীরে তরিকত আলহাজ্ব ছিদ্দুকুর রহমান হানাফী,মুফতী শাহ হামেদ রেজা আজহারী,মুফতী রায়হানুল মোস্তফা,মুফতী খাজা শাহ মাহমুদ রেজা,মাওলানা মমিনুল ইসলাম,মাওলানা নজরুল ইসলাম,মাওলানা হাফেজ রাব্বানী,মাওলানা মিরান শাহ,মাওলানা নুর উদ্দিন,মাওলানা মাহমুদ হোসাইন,মাওলানা আমিনুল ইসলাম ওয়ালী,মাওলানা শামছুদ্দিন রিজন,মাওলানা মাসুদ হোসাইন,সহ অনেক ওলামায়ে কেরাম।সভায় বক্তারা বলেন, ছাত্রসেনার নেতা মাওলানা মোঃ রইস উদ্দিন গত ২৬ এপ্রিল গাজীপুর থেকে অসংখ্য লোকজন নিয়ে ঢাকার সমাবেশে এসেছিলেন। এ অপরাধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা আমাদের কাছে ‘স্পষ্ট’। যারা এ হত্যাকাণ্ড করেছে, যারা এ দেশের মধ্যে ইসলামের নাম দিয়ে বিভিন্ন মাজারে ভাঙচুর করে তাদের বলে দিতে চাই,আমরা সুন্নিরা বার বার রক্ত দিয়েছি, প্রয়োজনে সুন্নিরা রইস উদ্দিনের জন্য আবারও রক্ত দিতে রাজপথে নামবো। কিন্তু,নারায়ে রিসালাত- বিরোধী,অলি- আউলিয়া ও মাজার – দরগা বিদ্বেষী অপতৎপরতা আর মেনে নেওয়া হবে না।

নেতৃবৃন্দ, দ্রুত সময়ের মধ্যে মাওঃ রইস উদ্দিন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জোর দাবি করা হয়। না হলে তরিকতপন্থী , সুন্নি জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এবং হরতাল, অবরোধ সহ সারাদেশ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল(শনিবার) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে সুন্নিদের সমাবেশে মাওলানা রইস বিপুল সংখ্যক মানুষ নিয়ে যোগ দেন। এর পরদিন রবিবার সকালে গাজীপুরে ‘বলাৎকারের’ অভিযোগে রইস উদ্দিনকে প্রকাশ্যে ব্যাপক মারধর করে কিছু মানুষ। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠায়। রাত ৩টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রইস উদ্দিন (৩৫) চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুরের হায়দরাবাদ আখলাদুল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন।

 

 

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে আনতে বিএনপির অনুরোধে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরত আনতে বিএনপির পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অনুরোধ নিয়ে কাজ করছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জানা যায়, খালেদা জিয়াকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে কাতারের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আয়োজন করতে গত সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে চিঠি লিখেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন।

তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে ‘আশঙ্কামুক্ত’ নয়। তথাপি তিনি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফেরাতে পরামর্শ দিয়েছেন।
 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিএনপির মহাসচিবের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার লন্ডন ও দোহার বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সব কিছু ঠিক থাকলে খালেদা জিয়া আগামী বুধবারের (৩০ এপ্রিল) মধ্যে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। 

বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। কভিড-১৯ মহামারির সময় বিগত সরকার তাকে বিশেষ বিবেচনায় কারামুক্তি দেয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করেন আদালত।

গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর লন্ডন ক্লিনিক থেকে গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে তারেক রহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অর্ধযুগের বেশি সময় পর এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবন্দি অবস্থায় চারটি ঈদ কেটেছে কারাগারে ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
বর্তমানে তারেক রহমানের বাসায় চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ শারীরিক নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।

পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার অনুসারী কিছু শিক্ষক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করেছে-হাসান উদ্দিন সরকার

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার অনুসারী কিছু শিক্ষক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছিলো। বিগত ষোল বছরে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি রাজনৈতিক দলের অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকতা হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত পেশা। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। কিন্তু শিক্ষকরা দুর্ণীতি করলে মহান শিক্ষকতা পেশা কলংকিত হয়। তিনি বলেন, প্রাইভেট স্কুলগুলো কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকেও পেশার মর্যাদা রক্ষা করে শিক্ষকতা করার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার সকালে টঙ্গীর আল-হেলাল স্কুল মিলনায়তনে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানা আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ। গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন টঙ্গী পূর্ব থানার সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা শেখ মোহাম্মদ সুমন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক শামীম বেপারী, এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ ও পশ্চিম থানা এলাকার সকল প্রাইভেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষকগণ।

আলেয়া বেগম তাঁর দুই সন্তানকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে

টঙ্গীতে মালিহা আক্তার (৬) ও মো. আবদুল্লাহ (৪) নামের দুই ভাই-বোনকে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে তাদের মা আলেয়া বেগম কুপিয়ে হত্যা করেছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে তিনি পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেন বা কী কারণে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। শনিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। আমরা জানার চেষ্টা করছি, কেন বা কী কারণে দুই সন্তানকে তিনি হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গতকাল সন্ধ্যায় টঙ্গীর আরিচপুর জামাইবাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে এই দুই শিশুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই ঘর থেকে রক্তমাখা একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়।নিহত দুই শিশুর বাবার নাম আবদুল বাতেন মিয়া। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তাতুয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে আরিচপুর জামাইবাজার এলাকার সেতু ভিলা নামের আটতলা একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন বাতেন।
পুলিশ জানায়, টঙ্গীর আরিচপুরের যে বাড়ি থেকে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করা হয়, সেখানে আশপাশে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, ঘটনাটি যে সময়ে ঘটেছে, সেই সময়ের মধ্যে তাঁদের ঘরে বা ফ্ল্যাটে সালেহা বেগম ছাড়া আর কেউ যাতায়াত করেননি। সালেহার কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় সন্ধ্যায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় তাঁর হাতে কাটা দাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। একপর্যায়ে মধ্যরাতে আলেয়া বেগম তাঁর দুই সন্তানকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।পুলিশ আরো জানায়, আলেয়া বেগমের স্বজনেরা জানিয়েছেন যে তিনি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু মানসিক সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে আরও পরিষ্কার হওয়া যাবে। পুলিশ এখন তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিহত দুই শিশুর স্বজনরা জানায়, বাতেন মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ছিল নানার বাড়িতে। গতকাল দুপুরে বাড়িতে থাকা শিশুদের বাবা, মা ও দাদি একসঙ্গে খাবার খান। এরপর মা সালেহা বেগম একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। দাদি ওপরতলার ফ্ল্যাটে বেড়াতে যান ও বাবা তাদের ঘরে রেখে বাইরে যান। কিছু সময় পর আলেয়ার চিৎকারে তাদের দাদি ওপরতলা থেকে নেমে আসেন। রক্তাক্ত দুই শিশুকে দেখে তাঁর ছেলেকে খবর দেন। পরে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

টঙ্গীতে ভাই ও বোনকে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুরের টঙ্গীতে ভাই ও বোনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর রূপবানের টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই শিশুর মধ্যে মেয়ে মালিহার বয়স ছয় বছর ও আব্দুল্লাহ নামে অপর শিশুর বয়স চার বছর। তাদের বাবার নাম আব্দুল বাতেন মিয়া। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার তাতুয়াকান্দি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

আব্দুল বাতেন টঙ্গীর রূপবানের টেকের এলাকার জনৈক সানোয়ার মিয়ার আট তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাস করতেন।

ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শিশু দুইটি ভাই বোন। শুক্রবার বিকালে শিশুদের বাবা বাসার বাইরে যান। এ সময় দুই শিশুকে নিয়ে মা সালেহা বেগম বাসায় ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে শিশুদের বাবা আব্দুল বাতেন বাসায় ফিরে কক্ষের মেঝেতে দুই শিশুর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পুলিশের খবর পাঠানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুইটি শিশু লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে মা সালেহা বেগমকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

এবার সারা দেশে কর্মসূচি ঘোষণা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। তাদের দেওয়া ছয় দফা দাবি না মানায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শেষে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাস্তায় নামেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এতে রাজধানীতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আর যানজটের কারণে সড়কে চলাচলকারী মানুষ পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে। 

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো :

১. ২০২১ সালের নিয়োগ প্রাপ্ত বিতর্কিত সব ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরকে কারিগরি অধিদপ্তর এবং সব প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত স্থানান্তর করতে হবে।

২. ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স ৪ বছর মেয়াদি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতি সিমেস্টার (পর্ব) পূর্ণ মেয়াদের (৬ মাস) করতে হবে।

৩. উপসহকারী প্রকৌশলী পদে (১০ম গ্রেড) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ব্যতীত অন্য কেউ আবেদন করতে পারবেন না। উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমান পদ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।

৪. কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংস্কার করে কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় কারিগরি শিক্ষাবহির্ভূত কোনো জনবল থাকতে পারবে না।

 

৫. কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বিতর্কিত নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে সব শূন্য পদে কারিগরি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে।

৬. উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রস্তাবিত চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শতভাগ সিট নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও রেল ক্রসিং অবরোধ করেও তারা। এতে ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়ায় সন্তুষ্ট নয় বিএনপি

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের আউটকাম নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি।  ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট দলটি।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যমুনায় পৌনে দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে বুধবার দুপুর ২টায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জানাননি। তিনি ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছেন। আমরা বলেছি ডিসেম্বর নির্বাচনের কাট অফ সময়।

এখন বিএনপি কী করবে-সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

এর আগে দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এর আগে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বিএনপি সময় চায় বলে জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে বিএনপি। ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে দল। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা জরুরি বলেও জানান দলটির প্রভাবশালী এই নেতা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দুই বৈঠকসহ সার্বিক বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক সূত্র জানায়, এতে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে পৃথক দুই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে, তা ঠিক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং নির্বাচন ঘিরে বিভ্রান্তি দূর করা নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তুতি নিয়ে যান তারা। কিন্তু বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা হয়নি।

এই বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। দেশবাসী তাকিয়ে ছিল বৈঠকের আউটকাম নিয়ে। কিন্তু বিএনপি বৈঠকের আউটকাম নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

গাজীপুর মহানগর প্রজন্মদলের ঈদ পুনমিলনী ও আলোচনা সভা

গাজীপুর মহানগর প্রজন্মদলের আয়োজনে টঙ্গীর মিলগেইট লতিফ টাওয়ারের কার্ষলয়ে গতকাল রোববার ঈদ পুনমিলনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গাজীপুর মহানগর প্রজন্মদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর মহানগর প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক সেলিম রানা, যুগ্মআহবায়ক রুহুল আমিন, যুগ্মআহবায়ক ইমরান হোসেন ও সামসুল আলম স্বাধীন প্রমুখ। সভায় বক্তারা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যন তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

আ. লীগের ‘সদর দপ্তর’ এখন কলকাতায়

আওয়ামী লীগের সভাপতি নয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বা প্রভাবশালী নেতাদের অনেকেই এখন ভারতে।
তবে তাদের বড় অংশ আছেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রভাবশালী অনেক নেতার ছবিও পাওয়া গেছে। দলের অনেক সিদ্ধান্ত কলকাতায় বসেই নিচ্ছেন নেতারা। সেখান থেকেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোজডেল গার্ডেনের তিন নম্বর অ্যাকশন এরিয়ার দুই নম্বর টাওয়ারের ১১ তলার ১১-সি ফ্ল্যাটে বর্তমানে বসবাস করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নিউটাউনের এই অভিজাত ফ্ল্যাটে স্ত্রী, মেয়ে এবং জামাতাকে নিয়ে থাকছেন শেখ হাসিনার অন্যতম আস্থাভাজন সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ওই ভবনেরই নিচ তলায় আরো একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়েছেন তিনি। যেটি কার্যত এখন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকও রীতিমতো কলকাতায় সংসার পেতেছেন। তার স্ত্রী, মেয়ে তার সঙ্গে সেখানে থাকেন। তবে চিকিৎসার জন্য মাঝে বেশকিছু দিন দিল্লিতে ছিলেন নানক। নানকের পিএস বিপ্লবও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কলকাতা বসবাস করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কলকাতায় অবস্থান করছেন।  কলকাতায় নিউটাউন এলাকার একটি ফ্লাটে স্ত্রীকে নিয়ে থাকছেন তিনি। তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। ভারতে অবস্থান করা নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ নেই। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কলকাতায় সেই (অস্থায়ী দলীয় অফিসের মতো) জায়গায় নিয়মিত মিলিত হন। সেখানেও ওবায়দুল কাদেরকে দেখা যায় না বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ভারতে স্ত্রীকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। তার স্ত্রী আগে কানাডায় থাকলেও এখন দিল্লিতে তার সঙ্গেই বসবাস করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতার নিউমার্কেটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন নিউটাউন এলাকায় থাকেন। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি। দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমও কলকাতায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন স্ত্রীকে নিয়ে। সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলও রয়েছেন কলকাতায়। তার স্ত্রী যুব মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অপু উকিলও রয়েছেন তার সঙ্গে। কলকাতার বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তারা বসবাস করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসও রয়েছেন কলকাতায়। তার স্ত্রীও তার সঙ্গে রয়েছেন। তবে তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমও স্ত্রী ও পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিয়ে কলকাতায় বসবাস করছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক সংসদ-সদস্য আওলাদ হোসেন কলকাতায় একই বাসায় থাকেন। স্থায়ীভাবে না থাকলেও তাদের স্ত্রীরাও মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে থাকেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাই টিপুও কলকাতায় রয়েছেন। তার সঙ্গে থাকেন স্ত্রী (রাশিয়ান নাগরিক)।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতাও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভারতে বসবাস করছেন। ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী বেশকিছু নেতাও রয়েছেন এ তালিকায়। তাদের মধ্যে মধ্যে অন্তত বেশ কয়েকজন তাদের সন্তানকে ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। কিছু কিছু নেতার স্ত্রী-সন্তানরা বিভিন্ন সময়ে ভারতে গিয়ে ঘুরেও এসেছেন। গত ঈদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন নেতার স্ত্রী ও সন্তান ভারতে গিয়ে একসঙ্গে ঈদ করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সেই থেকে তারা বেশ আমোদ-ফুর্তিতেই দিন কাটাচ্ছেন। এদের প্রায়ই প্রতিদিনই দেখা-সাক্ষাৎ হয়, চলে আড্ডাবাজি, খাওয়া-দাওয়া। পলাতকদের ভাষায় আওয়ামী লীগের ‘হেডকোয়ার্টার’ হচ্ছে কলকাতা। এখানে বসেই যাবতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন। অপকর্ম বাস্তবায়নের নির্দেশও দিচ্ছেন এসব মাধ্যম ব্যবহার করে। মূলত, দেশকে অস্থিতিশীল করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাধা, সংস্কার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে এসব অপকর্ম হচ্ছে।

বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার টিকাটুলিতে অবস্থিত রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই আওয়ামী লীগের এখন চরম দুঃসময় চলছে। কলকাতার রোজডেল গার্ডেন হচ্ছে তাদের টিকে থাকা লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। আগে-পরে একই পথে হাঁটেন আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, সংসদ-সদস্যসহ প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তাদের অনেকেই দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসামে ঘাঁটি গেড়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী আশ্রয় নিয়েছেন কলকাতায়। সেখানকার রাজারহাট-নিউটাউন, পার্কস্ট্রিট, সল্টলেক, নিউ আলীপুর, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, তপসিয়া, বর্ধমান, বারাসাত, গড়িয়াহাট, বেহালা, যাদবপুর, বশিরহাট, দমদম, মারকুইস স্ট্রিট প্রভৃতি এলাকা এখন আওয়ামী লীগের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলকাতায় গিয়ে ওঠেন। প্রথমে এক সপ্তাহ হোটেলে থাকার পর রোজডেল গার্ডেনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এবারের রমজান মাসে কলকাতার একাধিক রেস্টুরেন্টে ইফতার পার্টিতে দেখা গেছে সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই মূলত আওয়ামী লীগের একটি টিম কলকাতায় বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে কলকাঠি নাড়ছে।

বাংলাদেশকে অগ্নিগর্ভ করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এজন্য ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের চিহ্নিত শীর্ষ এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, ভাড়াটে কিলার, মাদক ব্যবসায়ী, সোনা কারবারি, সীমান্তবর্তী এলাকার চিহ্নিত স্মাগলার, সশস্ত্র সর্বহারা গ্রুপের সদস্যসহ বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে এই নেতারা যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া সক্রিয় হচ্ছে নিষিদ্ধ সর্বহারা পার্টিও। এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পার্বত্য অঞ্চল অশান্ত করার পেছনেও রয়েছে পলাতক ফ্যাসিস্টদের হাত। এসব করতে তারা বিনিয়োগ করছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা অবৈধ উপায়ে গত সাড়ে ১৫ বছরে আয় করেছেন তারা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, অনেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার সাবেক মেয়র, সাবেক কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষক ভারতে অবস্থান করছেন।

রিউমর স্ক্যানার: ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ভুল প্রচারণা

বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৪৭তম স্থানে রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র ৮ মাসে বাংলাদেশকে ৪৭তম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট থেকেও এ দাবি করা হয়।

এই দাবির সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইউএস নিউজ নামে একটি ওয়েবসাইটের নাম।তবে এই দাবিটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে তথ্যের সত্য-মিথ্যা যাচাইকারী নেটওয়ার্ক “রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশ”।

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ সংক্রান্ত তালিকা সর্বশেষ প্রকাশিত হয়েছে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। সেখানে র‌্যাংকিংয়ের জরিপ হয়েছে ২০২৪ সালের ২২ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত।

অর্থাৎ, সর্বশেষ যে র‌্যাংকিং ইউএস নিউজের ওয়েবসাইটে রয়েছে তা বাংলাদেশের বিগত সরকারের সময়ে হওয়া জরিপের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছিল।

মূলত, ২০২৫ সালের র‍্যাংকিং এখনও প্রকাশই করেনি ইউএস নিউজ। রেওয়াজ অনুযায়ী তা এ বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হবে।

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউএস নিউজ মূলত মার্কিন মিডিয়া কোম্পানি যারা সংবাদের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত বিভিন্ন ক্যাটাগরির র‍্যাংকিং ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে আসছে।

রিউমর স্ক্যানার ইউএস নিউজের ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সময়ের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করে দেখেছে, সাইটটি প্রতিবছরের সেপ্টেম্বরে এই র‍্যাংকিং প্রকাশ করে থাকে এবং এ সংক্রান্ত জরিপ হয় সে বছরের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে।

২০২৩ সালেরটি প্রকাশিত হয়ছিল ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর (জরিপ হয়েছিল ১৭ মার্চ থেকে ১২ জুন)। ৮৭ দেশের মধ্যে ক্ষমতার দিক থেকে সেবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪০তম, আর সবমিলিয়ে ৬৯তম।

২০২২ সালের তালিকাটি প্রকাশিত হয়ছিল ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর (জরিপ হয়েছিল ৩০ এপ্রিল থেকে ১৩ জুলাই)। ৮৫ দেশের মধ্যে ক্ষমতার দিক থেকে সেবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪৪তম, আর সবমিলিয়ে ৭১তম।

সম্প্রতি দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ১২৩তম স্থান থেকে উন্নীত হয়ে বর্তমানে ৪৭তম অবস্থানে এসেছে। তবে ওয়েবসাইটটির আর্কাইভ বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার জপানিয়েছে, বাংলাদেশ এই র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয় ২০২২ সালে। ওই বছর থেকে পরবর্তী সময়গুলোতে র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০২২ সালে ৮৫টি, ২০২৩ সালে ৮৭টি এবং ২০২৪ সালে ৮৯টি। এ পর্যন্ত কোনো বছরেই র‍্যাংকিংয়ে ১২৩টি দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না, ফলে বাংলাদেশের কখনো ১২৩তম অবস্থানে থাকার দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের এই র‍্যাংকিং নিয়ে হঠাৎ আলোচনা শুরুর প্রেক্ষাপটও জানার চেষ্টা করেছে রিউমর স্ক্যানার। Global Statistics নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৬ এপ্রিল রাতে ইউএস নিউজকে সূত্র দেখিয়ে শিরোনামে ২০২৫ সালের র‍্যাংকিং দাবি করে এ সংক্রান্ত প্রথম পোস্টটি করা হয় বলে নিশ্চিত হয়েছে রিউমর স্ক্যানার।