অস্ট্রেলিয়ায় শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে আইন পাস

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এই নিষেধাজ্ঞাটি স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, রেডডিট এবং এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রযোজ্য হবে বলে জানা যাচ্ছে। এই তালিকা আরো দীর্ঘ হতে পারে।
 জানা গেছে, শিশুরা যাতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্য করলে পাঁচ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে বিধি-নিষেধ থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার আইনকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর আইন হিসেবে দেখা হচ্ছে।প্রস্তাবটির নাম ‘দ্য সোশ্যাল মিডিয়া মিনিমাম এজ’।
প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার পর আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর এক বছরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আইন প্রণেতাদের বলেন, প্রত্যেক দায়িত্ববান সরকারই শিশুদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সংগ্রাম করছে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘ক্ষতি’ থেকে রক্ষার জন্য আইনটি দরকারি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 যদিও তাড়াহুড়া করে আইনটি প্রণয়নের জন্য দেশটির সরকারকে সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। বিধি-নিষেধগুলো কিভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই আইনে। ফলে আইনটি প্রয়োগ অযোগ্য আইন হিসেবেই থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যবহারকারীর বয়স কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, কে কিভাবে সেই তথ্য সংগ্রহ করবে, সেই প্রশ্ন সামনে আসছে।ইউনিসেফ অস্ট্রেলিয়ার পলিসি প্রধান কেটি মাসকিয়েল বলেন, অনলাইনে তরুণদের সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তবে ডিজিটাল বিশ্বে তাদের অন্তর্ভুক্তও করা দরকার। এই নিষেধাজ্ঞা শিশুদের গোপন এবং অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন স্পেসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনলাইন জগতে অ্যাক্সেস করতে বাধা দেবে। 

শপথ নেওয়ার আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আগেই তিনি ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করতে চান। সেই সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিও করতে চান। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এ কথা জানিয়েছেন।

এ সপ্তাহে ইসরায়েল সফর করেন লিন্ডসে গ্রাহাম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে তিনি বলেন, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেন। আর এতে জিম্মি মুক্তির জন্য একটি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইসরায়েল ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সামরিক জোটের মতো লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়ার আগে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি দেখতে চান—এমনটাই মন্তব্য করেন সিনেটর গ্রাহাম।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা করে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ওই দিনই গাজা উপত্যকায় পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেই শুরু, সর্বাত্মক যুদ্ধ এখনো চলছে। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত নারী–শিশুসহ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত হামাস

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এবার একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। গোষ্ঠীটির এক শীর্ষ নেতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত হামাস। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওই শীর্ষ কর্মকর্তা একই সঙ্গে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকেও স্বাগত জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছি যে, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মি-বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে একটি চুক্তি করতে আন্তরিকভাবে প্রস্তুত।’ তবে তিনি, অভিযোগ করেন—ইসরায়েলই এই চুক্তি বাধাগ্রস্ত করছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, হিজবুল্লাহর সামরিক সমর্থন হারানোর বিষয়টি হামাসকে শান্তির জন্য সমঝোতায় আসতে চাপ দেবে। তবে, জেরুসালেমের মতে, হামাস দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিরতির পক্ষে থাকার দাবি করলেও, তারা জিম্মিদের নিয়ে ইসরায়েলের দাবিগুলি মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, গাজায় সেনা অবস্থানের বিষয়ে ইসরায়েলের দাবি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং উভয় পক্ষই অচলাবস্থার জন্য দায়ী।

আর আগে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি চলবে ৬০ দিন। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদন দেয়। বিষয়টি সুখবর আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানান, এই যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় আজ বুধবার ভোর ৪টা থেকে কার্যকর হবে এবং এটি লেবাননের জন্য এক ‘নতুন সূচনা।’

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলকে গাজায় এবং ইরানের হুমকি মোকাবিলার দিকে মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে পুনরায় অস্ত্র-গোলাবারুদ ও রসদ সংগ্রহ করার সুযোগ দেবে।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ থেকে সরে এলে, হামাস একা পড়ে যাবে। আমরা তাদের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করব।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা হামাসকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব, আমাদের সব বন্দীকে ঘরে ফিরিয়ে আনব। নিশ্চিত করব যে, গাজা আর ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না এবং আমরা উত্তরের বাসিন্দাদের নিরাপদে তাদের ঘরে ফিরিয়ে আনব।’

এদিকে, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে বাইডেন বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি গাজার সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সব ধরনের সহায়তা দেবে।’ এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতি গাজায় সংঘাত বন্ধ করতে এবং বন্দীদের মুক্ত করতে একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় আইনজীবী নিহত, আহত ২৬

চট্টগ্রামে আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন ঘিরে সংঘর্ষে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। নিহত আইনজীবীর নাম সাইফুল ইসলাম আলিফ।মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চট্টগ্রামের আদালতে সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহত ৬-৭ জন চমেক হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ’

সাইফুল ইসলাম আফিফের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সাইফুল ইসলাম শিক্ষানবিশ আইনজীবী ছিলেন। ’আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক কাজী শরিফুল ইসলামের আদালত আনা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে কারাগারে নিতে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুললে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকার বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর করে তারা। ঘটনার পর ওই এলাকার পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২৬ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চমেকে এখন ছয়জন চিকিৎসাধীন।

এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। ’

 

পুলিশের গুলিভর্তি ম্যাগাজিন চুরি, ৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানী ঢাকায় পুলিশের গুলিভর্তি ম্যাগাজিন চুরি ও এপিসি গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের অজ্ঞাতনামা আট হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

গতকাল রোববার পুলিশের উপপরিদর্শক এ কে এম হাসান মাহমুদুল কবীর বাদী হয়ে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ নভেম্বর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের ৭-৮ হাজার শিক্ষার্থী বেআইনি জনতাবদ্ধে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। সরকারি অস্ত্রের (পিস্তল) গুলিভর্তি ম্যাগাজিন চুরি, সরকারি ডিউটিতে ব্যবহৃত এপিসি গাড়ি ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করে।

টঙ্গী দলিল লিখক ও ষ্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন বকুল নির্বাচিত

টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে আজ বৃহস্পতিবার দলিল লিখক ও ষ্ট্যম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির  নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। এতে ১৬১ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো: জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো: মুরাদ হোসেন বকুল, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো: জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো: জাহিদ হাসান স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো: নূরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো: ইব্রাহিম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো: জাহাঙ্গীর আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হাজী মো: ওয়াদুদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো: ফারুক হোসেন, সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো: আল আমিন মিয়া।

নেতানিয়াহু, গ্যালান্ট ও দেইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাসের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। 
আইসিসির এই পদক্ষেপে নেতানিয়াহুর গতি-বিধি তত্ত্বগতভাবে সীমাবদ্ধ হবে। কারণ আদালতের ১২৪ সদস্য রাষ্ট্রের যেকোনো একটি দেশের ভূখণ্ডে তার উপস্থিতির ক্ষেত্রে তাকে গ্রেপ্তার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

হেগভিত্তিক আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে প্রসিকিউশন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

’এ ছাড়া দেইফের বিরুদ্ধেও একটি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে ইসরায়েল চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে জানায়, তারা জুলাই মাসে দক্ষিণ গাজায় একটি বিমান হামলায় দেইফকে হত্যা করেছে। হামাস অবশ্য তাদের এই দাবি অস্বীকার করেছে।তদন্তের স্বার্থ রক্ষা ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো আগে ‘গোপন’ রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছেন, ‘তবে আদালত নিচের তথ্যগুলো প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কারণ পরোয়ানায় উল্লেখিত অপরাধের মতো কর্মকাণ্ড এখনো চলমান বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া আদালত মনে করেন, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য পরোয়ানার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।’এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এই ইহুদিবিরোধী সিদ্ধান্ত আধুনিক ড্রেফাস ট্রায়ালের সমতুল্য এবং এর পরিণতিও একই রকম হবে।’ তিনি মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর আলফ্রেড ড্রেফাস মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন, যেখানে ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর এক ইহুদি ক্যাপ্টেনকে বিশ্বাসঘাতকতার মিথ্যা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটিকে ‘ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘(এটি) ন্যায়বিচারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এটি সাধারণভাবে ভুক্তভোগীদের জন্য প্রতিকার আনতে পারে। তবে এটি প্রতীকী ও সীমিতই থেকে যাবে, যদি না বিশ্বের সব দেশের পক্ষ থেকে এটি পূর্ণ সমর্থন পায়।’

আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান মে মাসে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছিলেন। নেতানিয়াহু ৫ নভেম্বর গ্যালান্টকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন।

আইসিসি এর আগে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়ার বিরুদ্ধে করা আবেদন ২ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে। কারণ ৩১ জুলাই তেহরানে হানিয়ার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে।

হামাস গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালানোর পর ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে। ইসরায়েলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, হামাস যোদ্ধাদের হামলায় এক হাজার ২০৬ জন নিহত হয়, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে গাজা ভূখণ্ড শাসনকারী হামাস সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে অন্তত ৪৪ হাজার ৫৬ জন নিহত হয়েছে। পাশাপাশি গাজা ভূখণ্ডে আহত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ২৬৮ জন।

সূত্র : এএফপি

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ চার বছর হবে এমন কথা বলেননি প্রধান উপদেষ্টা : প্রেসসচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ চার বছর হবে এমন কথা বলেননি প্রধান উপদেষ্টা। অনেকেই ভালোমতো না শুনে একটা হেডলাইন দিয়ে দিচ্ছেন।’ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাতকারের ব্যাখ্যায় শফিকুল আলম বলেন, ‘তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন— সংবিধানের বিষয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে, সেখানে বলা হচ্ছে সংসদের মেয়াদ চার বছরে আনা হোক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, এটা কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয় না। তখন ওনাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনার ক্ষেত্রেও চার বছর কিনা? তারপর প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন— চার বছরের কম। এখানে চার বছরের কথা বলা হয়নি। আপনারা ভালোমতো শুনেন।
আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেকেই ভালোমতো না শুনে একটা হেডলাইন দিয়ে দিচ্ছেন।’সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে টিআইবির দেওয়া প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের উদ্যোগের কারণে ডিমের দাম কমেছে। অন্যান্য দ্রব্যের দামও নিম্নমুখি।

গত বছর কাঁচা মরিচের দাম ১২শ টাকা পর্যন্ত হয়েছিল। আমাদের চেষ্টার অন্ত নেই। আমরা দেখলাম দুটো পত্রিকায় আলুর দাম চারশ টাকা। এমন একটা তথ্য দিচ্ছে মনে হচ্ছে মূল আলুর দামই চারশ টাকা। এটা খণ্ডিত চিত্র।
সংখ্যালঘুদের অধিকারের বিষয়ে সরকার সচেতন বলে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘পুলিশের দেওয়া অপরাধ পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে আইনশৃঙ্খলার ভালো উন্নতি হয়েছে। আমরা মনে করি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ভালোর দিকে যাচ্ছে।’

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।

বাসে পরিচয় থেকে সাবলেট, টাকা-গয়নার সঙ্গে শিশুকেও নিয়ে গেল নারী

রাজধানীর আজিমপুরে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের বাসায় মাকে বেঁধে রেখে টাকা, গয়নাসহ শিশু সন্তানকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটা পরিকল্পিত ঘটনা। ৮ মাসের জাইফাকে অপহরণ ও মূল্যবান সম্পদ চুরি করা ছিল উদ্দেশ্য। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হননি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাবলেট ওঠা নারীকে সন্দেহ করছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার দুপুরে লালবাগ টাওয়ারের পাশে ফারজানা আক্তার নামের এক নারীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর স্বামী আবু জাফর ও তাঁর পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, অপহরণ হওয়া শিশু জাইফা আক্তারের মা ফারজানা আক্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন বিভাগের স্টেনোগ্রাফার পদে চাকরি করেন। গত ছয় মাস ধরে স্বামী তাঁদের সঙ্গে থাকেন না। নিজের মা, বোন ও সন্তান নিয়ে ফারজানা আক্তার ওই কোয়ার্টারে থাকেন। সকালে এক নারী ও তিনজন পুরুষ তাঁদের বাসায় ঢুকে তাঁকে বেঁধে রেখে দেড় লাখ টাকা, চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে যায়।

ফারজানা আক্তার ও তাঁর স্বজনেরা বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ফারজানা একজন নারীকে এই বাসাতে সাবলেট থাকার জন্য ভাড়া দেন। সাবলেটে ওঠা ওই নারী পরিবহন পুলে চাকরি করেন বলে জানতেন ফারজানা। মাঝে মধ্যেই এক সঙ্গে স্টাফ বাসে চলাফেলা করতেন তাঁরা। কথা বার্তার একপর্যায়ে ফারজানা ওই নারীকে সাবলেট ভাড়া দেওয়ার কথায় রাজি হন। তারপর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী বাসায় ওঠেন।

স্বজনেরা ও বাসার দারোয়ান বলছেন, বৃহস্পতিবার সকালে ফারজানার মা ও বোন বরিশালে চলে গেলে বাসা ফাঁকা হয়ে যায়। সাবলেটে ওঠা ওই নারী তখন বাইরে বের হন। ৩০ মিনিট পর আসার সময় একটি বস্তা ও তিনজন ছেলেকে নিয়ে বাসায় ঢোকেন।

বাসার নিরাপত্তাকর্মী ইসরাফিল সরকার বলেন, ‘সকালের দিকে তিনি বাচ্চা ও তাঁর মায়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। কিন্তু তিনি কিছু বুঝতে পারেননি। একটু পর শিশুটির মা তাঁর কাছে এসে বলেন, তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় বের হয়ে দেখতে পারেন, শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে একজন নারী রাস্তা পার হচ্ছেন। মুহূর্তেই বাচ্চাটিকে নিয়ে সটকে পড়েন নারী। পরে আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে লালবাগ থানার ওসি ক্যশৈনু বলেন, ‘পরিচিত হিসেবে কোনো ডকুমেন্টস না রেখেই মেয়েটিকে সাবলেটে ওঠানো হয়। সেই মেয়েটি আমাদের প্রধান সাসপেক্ট। কিন্তু তাঁর নাম-ঠিকানা বা কোথায় কাজ করত কিছুই বলতে পারছেন না গৃহকর্ত্রী।’

সিসিটিভি ফুটেজে তিনজন পুরুষের সঙ্গে সাবলেট ওঠা ওই নারীকেও বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশ তাঁদের শনাক্ত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

সচিবালয়ে আহতদের সঙ্গে হাসনাত-সারজিস, হট্টগোলে বৈঠকে দেরী

সরেজমিন দেখা যায়, আহতদের একটি গ্রুপ সভা বয়কট করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসেন। আহতদের পক্ষ থেকে সভায় কে কে কথা বলবেন, সেই তালিকা করার পরামর্শ দেন তাঁরা। এরপরও আহতদের গ্রুপগুলো নিজেদের পক্ষে কথা বলতে থাকেন।

এদিকে বেলা ২টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও বিকেল ৪টা পার হলেও সভা শুরু হয়নি।