আন্দোলনকারীদের কথা শুনতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি সংঘাত চান না। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য গণভবনের দরজা খোলা আছে। তিনি তাঁদের সঙ্গে বসতে চান, তাঁদের কথা শুনতে চান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমি বসতে চাই। তাদের কথা শুনতে চাই। আমি সংঘাত চাই না।’

মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ, সারা দেশে জমায়েত কর্মসূচি

আন্দোলনে সহিংসতায় প্রাণহানির প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং দেশের সব মহানগর এবং জেলায় জমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (৩ আগস্ট) ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবারের শোক মিছিল নেওয়া হয়েছে সোমবার; ওইদিন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত মিছিল করবে ক্ষমতাসীন দলটি।

তিনি বলেন, ‘একদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অন্যদিকে আমরা কোনো রকম মুখোমুখি অবস্থানে জড়াতে চাই না, সে কারণে সংঘাত হতে পারে এ ধরনের প্রোগ্রাম আমরা এড়িয়ে চলেছি। গতকাল এবং আজকেও আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা এখন নতুনভাবে ৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, যদিও মৃত্যুর বেদনা, জন্মদিবসকে ছেপে চলে যায় শোকের কাছে। আমরা রোববার নতুন করে প্রোগ্রাম দিয়েছি।’

বিএনপি বার বার জনগণ দ্বারা ‘প্রত্যাখাত’ ও রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যে কোনো আন্দোলন দেখলেই সেটাকে সরকার উৎখাতে নিয়ে যেতে উন্মুখ হয়ে থাকে। সরকার সকল উসকানি ও নৈরাজ্য ধৈর্য, সংযমের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।’’

শহীদ মিনার থেকে এক দফা ঘোষণা, যা বললেন নাহিদ ও আসিফ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মোর্চা—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ শনিবার এক দফা দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভার সব সদস্যের পদত্যাগ দাবিতে আগামীকাল রোববার সারা দেশে সর্বাত্মক অসহযোগ শুরু হবে বলেও সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন— 
কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের দাবিতে আমরা বাংলাদেশের ছাত্র–তরুণেরা সারা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছিলাম। আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের হায়েনারা আমাদের বোনদের নির্মমভাবে পিটিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দমন–পীড়নে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ছাত্রদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। যার প্রতিবাদে আমরা সারা দেশে শাটডাউন কর্মসূচি দিয়েছিলাম। সেই কর্মসূচিতে সারা বাংলার ছাত্রদের সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের নাগরিকেরা আমাদের নিরাপত্তা দিতে কর্মসূচিতে যোগ দেন। কিন্তু আমরা দেখেছি সরকার শাটডাউন কর্মসূচিতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন শুরু করেছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নামিয়ে কারফিউ জারি করা হয়। সেই রাতে আমরা কারফিউ ভাঙার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই ঘোষণা কোনো মিডিয়ায় প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও ছাত্র–জনতার প্রতিরোধ থামেনি।

১৯ জুলাই আমাদের সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। আমাদের জবরদস্তি করে আন্দোলন প্রত্যাহার ও সরকারের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দেয়। আমাদের হাসপাতালে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সেটিও না পেরে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে জোর করে আমাদের থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের বক্তব্য বিশ্বাস না করে রাজপথ দখলে রেখেছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সমন্বয়কদের অনশনের কারণে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, খুনের হিসাবটা পর্যন্ত আমরা পাইনি।

এই সরকার মানুষ খুন করেছে এবং লাশও গুম করেছে। যারা খুন করেছে, তারা কীভাবে সেই খুনের বিচার করবে? আমরা এই সরকারের কাছে খুনের বিচার প্রত্যাশা করি না। সর্বস্তরের মানুষকে খুন, গুম ও গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। একদিকে গ্রেপ্তার নির্যাতন করা হচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের সংলাপের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাংলাদেশের জনগণ নেমে এসেছিল। আমরা এই জনগণকে মুক্ত করতে এখন আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা আজকে এক দফার দাবিতে এখানে হাজির হয়েছি। আমরা জীবনের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজে এক দফার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। সরকার এখন বলছে আলোচনার জন্য গণভবনের দরজা খোলা রয়েছে। আমরা মনে করি, তিনি আগেই বুঝে গিয়েছেন যে গণভবনের দরজা খোলা রাখতেই হবে। আমরা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। শুধু পদত্যাগ করলেই হবে না, দেশে যত খুন, গুম হয়েছে তার দায়ে তাঁকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পুরো মন্ত্রিপরিষদকে পদত্যাগ করতে হবে।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, যেখানে আর কখনোই কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসবে না। আমাদের এক দফা হলো, এই সরকারের পতন। এই সরকারের লুটপাট, গণহত্যাসহ সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। সব রাজবন্দীর মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা জনগণকে বলতে চাই, আপনারা স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র–নাগরিক অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে এসে যোগ দিন। পাড়ায়–পাড়ায়, মহল্লায়–মহল্লায় সংগঠিত হন। আমরা খুব দ্রুতই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাত্র–নাগরিক অভ্যুত্থানের জন্য সর্বস্তরের নাগরিক, ছাত্রসংগঠন ও সব পেশাজীবী মানুষের সঙ্গে মিলে সম্মিলিত মোর্চা ঘোষণা করব। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জাতীয় রূপরেখা শিগগিরই আপনাদের সামনে ঘোষণা করব।

আমরা জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন চলবে। আমরা সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা ও সমর্থন করব না। যদি কোনোভাবে ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ দেওয়া হয়—তা আমরা প্রত্যাখ্যান করব।

সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে অসহযোগ ও রাজপথের কর্মসূচি পালন করবেন। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন। নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা সবার কাছে আহ্বান থাকবে, জনগণ যদি সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে, সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ায়, সেই সরকারের হুকুম মানতে আপনারা আর বাধ্য নন। সরকারের সমর্থন না দিয়ে আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের আমাদের মিছিলে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা হুকুমের আসামির বিচার চাই। আপনাদের কেন খুন করতে বাধ্য করা হচ্ছে? আমরা সব গণহত্যার বিচার করবই।

আমরা সরকার ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিলোপ ঘোষণা করছি। এ জন্য ছাত্র–নাগরিকের অভ্যুত্থান আহ্বান করছি।

পরবর্তীকালে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের জরুরি নির্দেশনা দিয়ে আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন—

কেউ কোনো ধরনের ট্যাক্স বা খাজনা প্রদান করবেন না। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিলসহ কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করবেন না। সব ধরনের সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস–আদালত ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। আপনারা কেউ অফিসে যাবেন না, মাস শেষে বেতন তুলবেন।

আসিফ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে কোনো ধরনের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাবেন না। সব ধরনের সরকারি সভা, সেমিনার, আয়োজন বর্জন করবেন। বন্দরের কর্মীরা কাজে যোগ দেবেন না। কোনো ধরনের পণ্য খালাস করবেন না। দেশের কোনো কলকারখানা চলবে না, গার্মেন্টসকর্মী ভাইবোনেরা কাজে যাবেন না। গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, শ্রমিকেরা কেউ কাজে যাবেন না। জরুরি ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য প্রতি সপ্তাহের রোববারে ব্যাংক খোলা থাকবে। পুলিশ সদস্যরা রুটিন ডিউটি ছাড়া কোনো ধরনের প্রটোকল ডিউটি, রায়ট ডিউটি ও প্রটেস্ট ডিউটিতে যাবেন না। শুধু থানা–পুলিশ নিয়মিত থানার রুটিন ওয়ার্ক করবে। বিজিবি ও নৌবাহিনী ছাড়া অন্যান্য বাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ডিউটি পালন করবে না। বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যারাক ও কোস্টাল এলাকায় থাকবে। আমলারা সচিবালয়ে যাবেন না, ডিসি বা উপজেলা কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে যাবেন না। দেশ থেকে যেন একটি টাকাও পাচার না হয়, সব অফশোর ট্র্যানজেকশন বন্ধ থাকবে। বিলাসদ্রব্যের দোকান, শোরুম, বিপণিবিতান, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট বেলা ১১–১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

তবে হাসপাতাল, ফার্মেসি, জরুরি পরিবহন সেবা, যেমন—ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যম, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহন, জরুরি ইন্টারনেট সেবা, জরুরি ত্রাণসহায়তা এবং এই খাতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন সেবা চালু থাকবে।

রবিবার থেকে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক

আগামী রবিবার (৪ আগস্ট) থেকে লাগাতার  ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর আগে আগামীকাল শনিবার (৩ আগস্ট) সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করবে তারা।

শুক্রবার (২ আগস্ট) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সারা দেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে হত্যার প্রতিবাদে এবং ৯ দাবিতে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলো।

বিবৃতিতে, সারা দেশের আপামর জনসাধারণকে অলিতে-গলিতে, পাড়ায় পাড়ায় সংগঠিত হয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার কিছু আগে ফেসবুকে লাইভে এই কর্মসূচির বিষয় ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুক্রবার সারা দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, “সারা দেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে হত্যার প্রতিবাদে এবং ৯ দাবিতে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে কোনো ট্যাক্স দেওয়া হবে না, কেউ কোনো অফিসে যাবেন না, সচিবালয় বন্ধ থাকবে। গণভবন ও বঙ্গভবনে কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না। সব কিছু বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দেওয়া যাবে না।

এই সরকারকে সর্বাত্মক অসহযোগিতা করতে হবে।’তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ গুলি নিয়ে রাস্তায় নামছে। তারা শিশুদেরও হত্যা করছে। লাইভে প্রত্যেককে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মাসউদ বলেন, ‘বারবার নাগরিকদের হত্যা করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

এটা চলতে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে হবে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জানান দিতে হবে এই অত্যাচার আর চলতে পারে না।’আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের গুলি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভাই, সন্তান। আপনাদের সন্তানরা আন্দোলন করছে তাদের মারবেন না। আগামীকাল থেকে এ দেশের মানুষ তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রমাণ দেবে এবং রাজপথে লড়াই করবে।’

গুলির পারমিশন ছিল না, বিচার হবে : আরাফাত

কোটা সংস্কার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গুলি করার অনুমতি ছিল না। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য যারা ছিলেন তাদের সংবিধান ও আইনের অধীনে কাজ করতে হয়েছে। তবে, ক্ষেত্র বিশেষে তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য) কেউ কেউ যে আইন ভাঙেননি, এমনটিও অস্বীকার করেননি তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

আইন ভেঙে থাকলে তাদেরও (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য) বিচারের আওতায় আনা হবে জানিয়ে আরাফাত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তদন্তে সম্পৃক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী আরাফাত।

সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং গভীর নিন্দাও জানান তিনি।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য যারা আছে, কারোই গুলি করার পারমিশন ছিল না। সংবিধান ও আইনের অধীনে তাদের কাজ করতে হয়েছে। তাই বলে আমি এটা অস্বীকার করছি না, ক্ষেত্র বিশেষে কেউ কেউ আইন ভাঙেননি, অন দ্যা গ্রাউন্ডে। আমরা এটা তদন্ত করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনব।’

পুরো পৃথিবীতে এই ধরনের ঘটনা ঘটে- এমন দাবি করে প্রতিমন্ত্রী আরাফাত বলেন, ‘আমেরিকাতেও ঘটেছে আপনারা দেখেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকেই আইন ভেঙে ফেলে। সরকার থেকে তো তাদেরকে আইন ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয় না। কিন্তু তারা এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। আমাদের দায়িত্ব হলো যারা আইন ভেঙেছেন, যারা অন্যায় করেছেন, সে যেই হোন; আমরা তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করব।’

তিনি বলেন, ‘সহিংসতায় যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেটা দেশ জাতির জন্য বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই হতাহতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, গভীর নিন্দা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। তারা (কমিশন) স্বাধীনভাবে প্রতিটি হতাহতের ঘটনার তদন্ত করবে, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে আমরা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করব। কারণ হচ্ছে, আমরা এখানে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতায় থাকতে চাই।’

কোনো মৃত্যুই কাম্য ছিল না দাবি করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী আন্দোলনকারী যারা তাদের যে দাবি ছিল, তার মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে অন্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, আপনাদের চোখের সামনে তার প্রমাণ রয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘জেল ভেঙে জঙ্গিদের নিয়ে যাওয়াসহ যত ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-, এগুলো কী শিক্ষার্থীরা করেছে? করেছে তৃতীয় পক্ষ, অনুপ্রবেশকারী। তারা কিন্তু এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। যাতে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। কিন্তু তারা সরাসরি মুখোমুখি হয়নি, শিক্ষার্থীদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে আরাফাত বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ ঘটবে শুধু সন্ত্রাসীদের ওপরে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসাপেক্ষে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হয়। আমি পুলিশ প্রশানকে বলতে চাই, যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলন করেছে, পানি বিতরণ করেছে; তাদের পরিবারের কোনো সদস্যকে যেন কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়।’

আরাফাত বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, আবেগ অনুভূতিকে আমরা শ্রদ্ধা করি, সেগুলোতে আমাদের সমর্থন আছে। কিন্তু তাদের আবেগকে পুঁজি করে যারা ধ্বংস চালিয়েছে, সেটা তো পরিষ্কার। আমরা নিশ্চিত করতে চাই কোনো শিক্ষার্থী যাতে নাজেহাল না হয়। আর সন্ত্রাসীদের যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।’

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ নামে কর্মসূচি পালন করবে তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমন্বয়ক জানিয়েছেন, জাতির এই দুর্দিনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে শহীদ, আহত, পঙ্গু ও গ্রেপ্তার হওয়া সকলের স্মরণে আগামীকাল দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর যিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সকল উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন ও জুমার নামাজ শেষে ছাত্র জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশের সকলস্তরের নাগরিকদকে আগামীকালের ‘প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল” কর্মসূচিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ্রহনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমাদের প্রাণের জন্মভূমি আজ এক মহাসংকট কাল অতিক্রম করছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা পরিচালনা করে শান্তি প্রিয় ছাত্র-জনতার রক্তে রাজপথকে রঞ্জিত করছে।

কারো পরিচয় শিক্ষার্থী হলে তার ফোন চেক করে অত্যাচার নির্যাতন চালানোর মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড অথচ আজ ছাত্র হওয়া যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজও রক্ষা পাচ্ছে না তাদের নির্যাতনের হাত থেকে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করতেও ছাড়ছে না।
শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমর্থনকারী ছাত্র জনতা কাউকে পেলেই গ্রেপ্তার ও এর মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে বাছাই করে পাড়া মহল্লায় রেইড দিয়ে গণ গ্রেপ্তারের নামে গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গুম করার হুমকি দিয়ে আদায় করছে মোটা অংকের অর্থ।বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সমন্বয়কসহ অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ কেন্দ্রীয় ৬ সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দিলেও এখনো ডাকসুর সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন, সমন্বয়ক আরিফ সোহেলসহ অসংখ্য ছাত্র জনতাকে কারাগার ও রিমান্ডে নির্যাতন করছে।

জুলুম নির্যাতনে নিষ্পেষিত ছাত্র জনতা মুক্তির প্রহর গুনছে। অসংখ্য ছাত্র জনতা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে। অনেক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ চোখ, কান, হাত, পা কিংবা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে।আজ ছাত্রসমাজ ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। প্রতিমুহূর্তে কাটাতে হচ্ছে গ্রেপ্তার ও গুম হওয়ার আতঙ্কে। শহীদ ও গুম হয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে বাংলার আকাশ বাতাস। এ ছাড়াও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীর ওপর ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলা করেছে পুলিশ নামক সন্ত্রাসীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী ও নুসরাত জাহান চৌধুরীর গায়েও হাত তুলেছে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা। এই ঘৃণ্য হামলার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ইসরায়েলে সরাসরি হামলার নির্দেশ খামেনির: রিপোর্ট

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েলে সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির রাজধানী তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে তিন ইরানি সূত্র।

ইরান সরকারের এক কর্মকর্তা ও দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুই কর্মকর্তা জানান, গতকাল বুধবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে খামেনি এই নির্দেশ দেন। ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের অল্প কিছুক্ষণ পরেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ইরান ও হামাস ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তবে দেশটি এখন পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে বিদেশের মাটিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী নেতাদের হত্যার দীর্ঘ ইতিহাস আছে ইসরায়েলের।

এর আগে, ইরান গত এপ্রিলে কয়েক দশকের স্থিতাবস্থা ভেঙে ইসরায়েলের ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আক্রমণ করেছিল। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল বেশ কয়েকজন ইরানি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করে। জবাবে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে ইসরায়েলে হামলা করে ইরান।

এবারে ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ইরান কতটা শক্তিমত্তার সঙ্গে জবাব দেবে তা এখনো নিশ্চিত হয়। ইরানি সূত্রগুলো বলেছেন, তেহরানের সামরিক কমান্ডাররা তেল আবিব ও হাইফার আশপাশে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে আরেকটি সমন্বিত আক্রমণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সূত্রগুলো আরও বলেছেন, ইসরায়েলের আশপাশে থাকা ইরানি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরাক থেকে হামলা চালানো যায় কি না তাও ভাবছেন তাঁরা।

তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ইমাম খামেনি। তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনীর সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় ধরনের পরিকল্পনা প্রস্তুত করার জন্য বলেছেন। ইরান আশঙ্কা করছে, ইরান ইসরায়েলে হামলা চালালে তেল আবিব ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে বলেও জানিয়েছে ওই কর্মকর্তারা।

ডেমু ট্রেনের সরবরাহকারীদের তলব করলো সংসদীয় কমিটি

চীন থেকে ২০১৩ সালে কেনা হয় ২০ সেট ডিজেল মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন। এগুলোর আয়ু ধরা হয়েছিল ২০ বছর। এক দশক পার হওয়ার আগেই বিকল হয়ে যায় একটি বাদে সবগুলো ট্রেন। এতে জলে যায় সরকারের সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু স্বপ্নের অত্যাধুনিক ডেমু প্রকল্পের ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না কেউ। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
বুধবার (৩১ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এবার ডেমু ট্রেনের দেশি–বিদেশি সরবরাহকারীদের তলব করেছে সংসদীয় কমিটি। মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্টদের আগামী বৈঠকে উপস্থিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। সেই সঙ্গে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) পার্থ সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডেমু ট্রেন আমদানিতে সরকারের ৬৫৩ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে কালোতালিকাভুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলেছিল সংসদীয় কমিটি। বুধবারের বৈঠকে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৩ সালে ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু সংগ্রহ করা হয়।

পরে ডেমু সরবাহকারীদের তলবের সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় কমিটি। দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে কমিটি রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) পার্থ সরকারকে ‘বরখাস্ত’ করার সুপারিশ করে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এ ছাড়া সহজ ডটকমের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম, শফিকুল ইসলাম, শামীম ওসমান, ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মো. শফিকুর রহমান ও নুরুন নাহার বেগম অংশ নেন।

স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার হানিয়ার ছেলের

বাবা ‘শহীদ’ হলেও স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া।

তার বাবার হত্যাকাণ্ড ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের অবসান ঘটাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আবদুল সালাম হানিয়া বলেন, আমার বাবা তার দেশপ্রেমের যাত্রায় চারবার হত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এবং আজ আল্লাহ তাকে সেই শাহাদাত দান করেছেন যা তিনি সর্বদা কামনা করেছিলেন।

তিনি বলেন, তিনি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং সব ফিলিস্তিনি উপদলের ঐক্যের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে এই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধকে থামাতে পারবে না,  স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে।

হানিয়া ইরানের প্রেসিডেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ইরান সফরে যান, তিনি তেহরানের উত্তরে একটি বাসভবনে অবস্থান করেছিলেন।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানে ইসমাইল হানিয়ার বাসভবনে হামলায় তিনি নিহত হন এবং তার একজন দেহরক্ষীরও মৃত্যু হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামাস নেতার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের জনগণ, মুসলিম বিশ্ব এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। এই ঘটনার আরও তদন্ত চলছে।

আল জাজিরা 

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহত

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহত হয়েছেন। ইরানের রাজধানী তেহরানে আজ বুধবার ভোরে এক গুপ্ত হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। হামাস এই ঘটনার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। ইসরাইল এ ব্যাপরে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিযে ইরানি মিডিয়ার খবরে বলা হয়, হানিয়া যে ভবনে থাকতেন, সেখানে হামলা হয়। হামলায় হানিয়া এবং তার এক দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান হানিয়া তেহরান গিয়েছিলেন।

বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ‘তেহরানের বাসভবনে বিশ্বাসঘাতক ইহুদিবাদী হামলা হয়েছিল।’ হামলাটি কিভাবে হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

চলমান গাজা যুদ্ধে ইতোপূর্বে হানিয়া বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ স্বজনকে হারিয়েছেন। এপ্রিলে ইসরাইলি বিমান হামলায় তার তিন ছেলে ও চার নাতি-নাতনি নিহত হয়। গত মাসে তার এক বোনকে হত্যা করা হয়।৬২ বছর বয়স্ক হানিয়া কাতারে প্রবাস জীবনযাপন করছিলেন।

হানিয়া গাজা সিটির কাছে এক উদ্বাস্তু শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকে প্রথম ইন্তিফাদা আন্দোলনের সময় হামাসে যোগ দেন। ২০১৭ সালে তিনি হামাসের প্রধান হন।

সূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল, জেরুসালেম পোস্ট এবং অন্যান্য