‘মার্চ ফর জাস্টিস’: পুলিশের বাধা পেয়ে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা হাইকোর্ট অভিমুখে রওনা দিলে মাঝপথে হাইকোর্ট এলাকায় শিশু একাডেমির পর তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে বাধার মুখে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আজ বুধবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদ; জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি ও ছাত্রসমাজের ৯ দফা আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে আজ বুধবার ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দোয়েল চত্বর হয়ে শিশু একাডেমি পার হলে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। এই মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বাধার সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী নাহিদ ও আরিফকে আটক করে পুলিশ। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আটক দুই শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন।

সেখানে উপস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) আটক দুই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। পরে ঢাবির ফলিত রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষক অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্ট চত্বরের দিকে এগিয়ে যান তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে। পরে আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক কামরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের দুই শিক্ষার্থীকে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচি থেকে আটক করা হয়। আমরা তাদের ছাড়িয়ে আনতে গিয়েছিলাম, পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে।’ তিনি জানান, দুজনকে আটক করা হয় ১২টা ৪৫ মিনিটে এবং ১টা ৪০-এ ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুস সালাম, অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম সরকার, সাবেক আহ্বায়ক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ অনেক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

হতাহতের তদন্তে বিদেশি প্রযুক্তিগত সহায়তা নেবে সরকার

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনার সুষ্ঠু ও মানসম্মত তদন্তে ‘বিদেশি কারিগরি সহায়তা’ নিবে এ লক্ষ্যে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। এরইমধ্যে বাংলাদেশ ‘জাতিসংঘের সহায়তার’ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে।
মঙ্গলবার জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্রোস্টার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে সরকারপ্রধান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি (তদন্ত) কমিটি (গঠিত হয়েছে), তাদেরকে সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য, তাদের তদন্তটাটা যেন খুব উচ্চ মানের হয় এ জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে।

তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘের সাথে সহযোগিতার (সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনকে সহায়তা) ব্যাপারে যোগাযোগও হয়েছে। যোগাযোগ বলতে, জাতিসংঘ আগ্রহ প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশও তার ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছে।
দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সব মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টের বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।
জার্মান রাষ্ট্রদূতকে উদ্বৃত করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তারা (জার্মান) দৃঢ় আশাবাদী যে, একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট (স্বাধীন) ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) হবে। যারা দুর্বৃত্ত তারা চিহ্নিত হবে এবং তাদের বিচার হবে।
রাষ্ট্রদূতকে উদ্বৃত করে প্রেস সচিব বলেন, যারা ধর্মীয় উগ্রবাদের সহযোগী তাদের ব্যাপারে জার্মানির কোন সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) নাই।
নাঈমুল ইসলাম খান জানান, বৈঠকের শুরুতে জার্মান রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক সহিংসতায় জীবনহানির ঘটনায় বাংলাদেশ যে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শোক ও সমবেদনা জানান।
জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আখিম ট্রোস্টারকে উদ্বৃত করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এবং এখনো তারা বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে।
দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বিদ্যমান সুসম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় থেকে জার্মানির সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং জার্মানির বেশ কিছু পরিবার বাংলাদেশের যুদ্ধ শিশুকে দত্তক নিয়েছিল; প্রধানমন্ত্রী সে কথা স্মরণ করেন।
ভিসা প্রক্রিয়ার ধীরগতি প্রসঙ্গে আলাপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, জার্মান রাষ্ট্রদূত তাদের ভিসা প্রক্রিয়ায় শ্লথতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রদুত বলেছেন, গুড উইলের (সুনামের) কমতির জন্য এটা হচ্ছে না। তাদের (জার্মান দূতাবাস) সক্ষমতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এটা হচ্ছে।

নির্বাহী আদেশে ৩১ জুলাই নিষিদ্ধ হচ্ছে জামায়াত-শিবির

সরকারের নির্বাহী আদেশে আগামীকাল বুধবারের (৩১ জুলাই) মধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার পরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এর আগে সোমবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করতে একমত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে গণভবনের প্রধান ফটকের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র, চোরাগোপ্তা হামলা করে দেশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছে যে অপশক্তি, তাদের জাতীয় স্বার্থেই নির্মূল করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে দেশবিরোধী অপশক্তি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ছাত্রদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ও তাদের হয়রানি না করার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করতে জামায়াত-শিবির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত করতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি করেন তিনি। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।’

তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘দেশের সাম্প্রতিক ঘটনার বীভৎস বাস্তবতায় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা জরুরি। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হলে তারা আর সংবাদ সম্মেলন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারবে না।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, আজকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। জাতি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, ১৪ দলের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সূচনা বক্তব্য দেন। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, হাসানুল হক ইনু ও নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে কথা বলেন। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত অন্যরা এতে সমর্থন জানান।

তবে বৈঠকে জামায়াত-শিবিরের নিষিদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। এ সময় হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরাও একসময় আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে রাজনীতি করেছি। জনসমর্থন না থাকলে ও জনসমক্ষে আসতে না পারলে রাজনীতি করা যায় না বলেও মত দেন তিনি।

বৈঠকে ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতার বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বক্তব্য দেন, সমালোচনা করেন। ছাত্রদের বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় বক্তব্যের সময় আরও সচেতন হওয়া দরকার ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়।

কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, এর পরও কেন আন্দোলন? এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে এদের দমন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। বিভিন্ন পরীক্ষা চালুর ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে নির্মূল করতে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগিতা করা, মানুষের অর্থ-সম্পদ লুট, নারীদের ধর্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানাবিধ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যা এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে প্রমাণ হয়েছে। এসব অপরাধে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ের মাধ্যমে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ বলে রায় দেন। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত আপিল করলেও ২০২৩ সালে ১৯ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়।

ইসরায়েলি কারাগারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ফিলিস্তিনি নারী

ইসরায়েলের একটি কারাগারে ইসরায়েলি সেনাদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক ফিলিস্তিনি। তাঁর অবস্থা এতটাই নাজুক যে, তিনি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। পরে তাঁকে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন—এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। 

কেএএন—এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এসদি তিমান নামের কারাগারে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ফলে ওই ফিলিস্তিনি গোপনাঙ্গ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তিনি চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে ইসরায়েলি পুলিশের একটি তদন্ত দল এসদি তিমান কারাগারে পৌঁছেছে এবং ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সৈন্যদের গ্রেপ্তার করেছে। সব মিলিয়ে ১০ জন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতনের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো উত্থাপিত এসদি তিমান কারাগারটি বন্ধ করার জন্য দায়ের করা একটি পিটিশন বিবেচনা করছে।

এই এসদি তিমান কারাগারে গাজা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীদের নির্যাতন করা হয় এবং একই সময় তাদের চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনী গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার নারী, শিশু ও চিকিৎসক আটক করেছে বলে মনে করা হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় গাজা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁরা তাদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় নির্বিচারে আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে। গাজা কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৩৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই শিশু ও নারী এবং প্রায় ৯১ হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

ফেসবুক-টিকটক খুলে দেওয়া হবে কখন, জানা যাবে বুধবার

ফেসবুক ও টিকটক কখন খুলে দেওয়া হবে, তা আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টার পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কবে চালু করা হবে- এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বুধবার সকাল ১১টার পর জানাতে পারব। টিকটক, ইউটিউব ও ফেসবুকের কাছে একটি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

মৌখিক ও লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাদের। এরই মধ্যে টিকটক আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানিয়েছে যে তারা উপস্থিত হয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে জবাব দিতে চায়।’‘তবে ফেসবুক ও ইউটিউব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) কোনো জবাব দেয়নি। যে কারণে আগামীকাল সকাল ৯টা, ১০টা ও ১১টায় এই তিন প্রতিষ্ঠানকে বিটিআরসিতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তাই আগামীকাল সকাল ১১টার পর যদি তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পেয়ে তা বিশ্লেষণ করে এবং না পেলেও আমরা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’

বুধবার থেকে সকাল ৭টা-রাত ৮টা শিথিল থাকবে কারফিউ

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে অনুরোধ করব, সবাই যেন এই সান্ধ্য আইনটি মেনে চলেন।’ এ সময় সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আহতদের মুখে বর্বরতার কথা শুনে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় আহতদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় আহতদের মুখে বর্বরতার কথা শুনে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। 

পরিদর্শনকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শফিকুর রহমান আহতদের চিকিৎসায় নেওয়া পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন-নিটর (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে একমত ১৪ দলের নেতারা

 রাজনীতিতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। জাতীয় স্বার্থে দেশবিরোধী অপশক্তি নির্মূল করার জন্য ১৪ দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে একমত হয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

মাদুরো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

নির্বাচনে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত হলে এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট হবেন হুগো শ্যাভেজের এই উত্তরসূরি।

সোমবার বিবিসি জানিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন মাদুরো। ভেনেজুয়েলার নির্বাচন পরিচালনা সংস্থা ন্যাশনাল ইলেক্টোরাল কাউন্সিলের (সিএনই) বরাত দিয়ে এই ঘোষণা দেন তিনি। সংস্থাটির প্রধান এবং মাদুরোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অ্যালভিস আমোরোসো জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়ে গেছে। গণনা করা ভোটের মধ্যে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন মাদুরো আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট।

তবে সিএনই-এর ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দলগুলো। তারা এটিকে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ফলকে চ্যালেঞ্জ করারও ঘোষণা দিয়েছে।

বিরোধীরা বলছে, তাদের প্রার্থী অ্যাডমুন্ডো গনজালেস কম করে হলেও ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং তিনিই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ভোট ফেরত জরিপগুলোতে মাদুরোর চেয়ে অন্তত ৪০ শতাংশ ব্যবধানে গনজালেস এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বিরোধী দলগুলোর একটি জোট মাদুরোকে হারানোর জন্য গনজালেসকে প্রার্থী করেছিল। মাদুরোর দল সমাজতান্ত্রিক পিএসইউভি পার্টি গত ২৫ বছর ধরে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আছে। ২০১৩ সালে সাবেক ও পশ্চিমাবিরোধী আলোচিত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাদুরো।

গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রাজধানী কারাকাসে ভোট দেওয়ার পর মাদুরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সিএনই দ্বারা ঘোষিত ফলাফলকে তিনি সম্মান জানাবেন। তবে এই সংস্থাটিতে ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোট শুরুর আগেই স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকেই কেন্দ্রগুলোতে দলে দলে আসতে শুরু করেছিলেন ভেনেজুয়েলার মানুষেরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কারাকাসের একটি ভোটকেন্দ্রর দরজা খোলার জন্য বাইরে অপেক্ষারত ভোটারদের সারিগুলোতে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল। নির্বাচন উপলক্ষে দেশটিতে সীমিত সংখ্যক স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ছিলেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ থেকে চারজন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কার্টার সেন্টার থেকে একটি ছোট কারিগরি দল ছিল।

সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে দেশে এক দিনের শোক ঘোষণা

কোটা আন্দোলনে নিহতদের ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী একদিনের শোক পালন করবে সরকার। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মাহবুব হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আগামীকাল শোক পালনের সময় সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করবে।

বৈঠকে কোটা আন্দোলনে নিহতের ঘটনায় শোক প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এসংক্রান্ত বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবেদক উপস্থাপন করেন। এরপর শোক পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত সরকারিভাবে ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। নিহতদের মধ্যে পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।