কোটা সংস্কার আন্দোলন ভুল তথ্য, ভুল ব্যাখ্যা কাম্য নয়

ইমতিয়াজ মাহমুদ, সিনিয়র আইনজীবী

কোটা সংস্কার আন্দোলন একটা সংঘাতময় অবস্থায় পৌঁছেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে শুরুতে নমনীয়তা দেখানো সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা নমনীয়তা দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। সরকার কঠোর হয়েছে। ছাত্রলীগও মাঠে নেমেছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জুলাই অনেকে আহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হোক—এটা কারও কাম্য হতে পারে না। শান্তিকামী সব মানুষ নিশ্চয়ই আশা করে, সব পক্ষই যুক্তিসংগত আচরণ করবে। আন্দোলনকারীরা সীমা লঙ্ঘন করবে না, আবার সরকারপক্ষও দমনপীড়ন চালিয়ে নিজেদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করবে না। এর মধ্যে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক।

এবার আসা যাক দাবি প্রসঙ্গে। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল বা হ্রাসের যে দাবি করছে কিছু শিক্ষার্থী, ব্যক্তিগতভাবে আমি তার বিরোধিতা করি। কেন? সে কথাটাই বলছি।

মুক্তিযোদ্ধা এবং পোষ্য কোটায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কয়জন বিসিএস ক্যাডারে বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পেয়েছে, সে তথ্য কি কারও কাছে আছে? আমি জেনেছি, এই সংখ্যাটা অতিনগণ্য। এতই নগণ্য যে সবাইকে যোগ করলে ১ শতাংশও হবে না। মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটায় লোক পাওয়া যায় না—এ কারণে কোটা খালি থাকে; অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটার কারণে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে, সেটা সত্যি নয়। এই কোটাটা কার্যত কারও স্বার্থই বিঘ্নিত করে না। তাহলে এত ক্ষোভ কেন? ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ বলছে ‘নাতিপুতি কোটা’! এটা কি চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য বলা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মতলব আছে? যদি এমন হতো যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার কারণে শত শত চাকরি তাদের ছেলেমেয়েরা বা নাতিপুতিরা নিয়ে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতাম যে স্বার্থ রক্ষার জন্য বলছে। সেটা তো নয়।

বলা হচ্ছে, অনেক নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে। বলি, তার জন্য ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কথাটা আমরা ভুলে যাব? কিছু প্রতারক ধরনের লোক জাল-জালিয়াতি করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে চেষ্টা করে, ওদের ধরে জেলে পাঠানো দরকার, শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ওদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সম্মান শেষ হয়ে যাবে? ‘চোরের’ জন্য ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কথাটা ভুলে যাব? কিছু লোক প্রশ্নপত্র ফাঁস করে, সেই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বিসিএস পাস করে, তার জন্য বিসিএস তুলে দিতে হবে? পুলিশের কিছু লোক ঘুষ খায়, অন্যায় করে, সে জন্য পুলিশ বাহিনী তুলে দিতে হবে? আর্মির জেনারেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আর্মি তুলে দেওয়ার দাবি তুলতে হবে?

কেউ কেউ বলছে, ‘মুক্তিযোদ্ধারা কি কোটা চেয়েছিলেন?’ মুক্তিযোদ্ধারা ব্যক্তিগত সুবিধা চাইবেন কেন? ১৯৭১ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য যারা যুদ্ধে গিয়েছিল, ওরা তো রাজাকারে যোগ দিয়েছে। রাজাকাররা বেতন পেত, ভাতা পেত, লুটের মাল পেত। লোভ করেছে রাজাকাররা। বীর মুক্তিযোদ্ধারা তো জীবন দিতে গেছেন দেশের জন্য। প্রাণ দিতে গেছেন, মরতে গেছেন। জাহানার ইমামের সেই কথাটা জানেন না? তার পুত্র যখন বলছে যুদ্ধে যাবে, তিনি কী বলেছেন? জানেন সে কথা? না জানলে খুঁজে বের করুন, জেনে নিন। সে কথা বলতে আমার বুক ভেঙে যায়।

কল্পনা করুন মুক্তিযুদ্ধকালের পরিস্থিতিটা। একটা অত্যন্ত শক্তিশালী সুসজ্জিত বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। বিশাল সেই বাহিনীর ১৬ ডিসেম্বরে আমাদের হাতে বন্দীই হয়েছিল প্রায় এক লাখ। ওদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র—চীনের অস্ত্র, আমেরিকার অস্ত্র, ব্রিটিশ হাতিয়ার, দেশে তৈরি অস্ত্র। ট্যাংক, কামান, বিমান, জাহাজ—কোনো কিছুর কমতি নেই। একঝাঁক জেনারেল পরিচালনা করছে সেই আক্রমণ। একজন সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ যুবক ওর মাকে বলছে যুদ্ধে যাবে এই বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে। ওদের আপনি কী বলবেন? অ্যাঞ্জেল? পাগল? বেকুব?

আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাই ব্যক্তিগত লাভের জন্য যুদ্ধে যাননি। লোভীরা পাকিস্তানিদের পক্ষে ছিল, আর যুদ্ধে
গেছেন দেশপ্রেমিকেরা। আর দেশপ্রেম কী জিনিস? দেশপ্রেম হচ্ছে এমন একটা পরীক্ষা, যেটায় পাস মার্ক হচ্ছে ১০০-তে ১০০। ৯৯ পেলেও ফেল। এ পরীক্ষায় পাস করেছেন কেবল আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আমার সারা জীবনের আফসোস, কেন আমি আরও কয়েক বছর আগে জন্মালাম না, এই পরীক্ষাটায় অংশ নিতে পারলাম না!

এমনকি যে চোরটা জেলের তালা ভেঙে যুদ্ধে গিয়েছিল, সে-ও আমাদের যুদ্ধে না-যাওয়া সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিটির চেয়ে উত্তম। দেশপ্রেমের পরীক্ষায় সেই চোরটিও পাস করেছে, সেই পরীক্ষায় আমাদের বিপক্ষে থাকা পণ্ডিতেরাও ফেল অথবা সেই সব উচ্চশিক্ষিত মেধাবীরা, যারা একরকম নিরাপদ-নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। আমাদের সেই প্রিয়দের চেয়ে প্রিয়তম মানুষগুলোর ত্যাগের কি প্রতিদান সামান্য কয়েকটা বিসিএস চাকরি হতে পারে?

মুক্তিযোদ্ধা বা পোষ্য কোটা, আপনারা যাকে বলছেন নাতিপুতি কোটা, এটা হচ্ছে আমাদের সেই সব পাগল দিওয়ানাসর্বস্ব ত্যাগী দেশপ্রেমিকের জন্য এই জাতির অতিসামান্য একটি নৈবেদ্য মাত্র। আপনি ব্যক্তিগত স্বার্থে এর বিরোধিতা করবেন? তাও বুঝতাম যদি এই কোটায় কারও ক্ষতি হতো বা কাউকে বঞ্চিত করা হতো। সেটাও তো হচ্ছে না। পিএসসিকে জিজ্ঞাসা করেন, ওরা আপনাকে জানাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এযাবৎ কয়জনের চাকরি হয়েছে। ৩০ শতাংশ শুনতে অনেক বড় শোনায় বটে, কিন্তু কার্যত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছে অল্প কয়েকজন, অনুল্লেখযোগ্য সংখ্যা—১ শতাংশের কম।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা খালি থাকলে সেটা অন্যরাই পায়। আর যদি অন্যরা না পায় তাহলে দাবি তুলুন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্য আসনগুলোয় অন্যদের নিয়োগ দেওয়ার। মুক্তিযোদ্ধা কোটা তুলে দেওয়ার দাবি কেন? মতলবটা কী? আন্দোলনের সবার মতলব জানি না, অনেকেই হয়তো স্পষ্ট ধারণা নেই বিধায় আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। কেউ কেউ গণতন্ত্রের সংগ্রামের অংশ বিবেচনা করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনের নেতৃত্বে কিছু ক্যারেক্টারকে আমরা দেখেছি, চিনি ওদের, ওরা মুক্তিযুদ্ধের গরিমাকে ম্লান করার উদ্দেশ্যে আন্দোলনটা টেনে নিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ ‘প্রধানমন্ত্রীর ভুল কথার জবাবে-১১’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। লেখাটা শুরু করেছেন এই বলে, ‘একটু আগে কোটা আন্দোলন নিয়ে আপনার কথা শুনলাম। আপনি বললেন আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে আপনার কিছু করার নেই, অথচ আজকেই আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজনমতো নিজেরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তাহলে?’

আনু মুহাম্মদ পণ্ডিত মানুষ, অধ্যাপক ছিলেন, ভালো মানুষ, কিছু আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁকে অনেকেই পছন্দ করে, তাঁর কিছু ভক্তও আছে, যারা তাঁকে পীরের মতো মানে। এই সব কারণে তিনি এ রকম কিছু বললে সেটা চট করে ছড়িয়ে পড়ে, তিনি ভুল কথা বললে ভুলটাই সত্যি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আর সেটার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তরুণদের ওপর। সুতরাং তাঁর দায়িত্বও হচ্ছে ফেসবুকের ওই পোস্টটি সংশোধন করে ভ্রান্তিটা দূর করা।

আনু মুহাম্মদের ভুলটা কোথায় সেটাই বলছি। নির্বাহী বিভাগ কোটা সংস্কার করতে পারে। সেই ক্ষমতা অবশ্যই নির্বাহী বিভাগের। ওরা কোনো একটা খাতে কোটা কমাতে পারে, বাড়াতে পারে, নতুন কোটার খাত যোগ করতে পারে, পুরোনো কোনো কোটা বাদ দিতে পারে। ক্ষমতাটা নির্বাহী বিভাগেরই। এটাকে নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বও বলা যেতে পারে। কিন্তু আদালতে যখন কোনো একটা মোকদ্দমায় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া থাকে, তখন নির্বাহী বিভাগ আর সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।

কোটাসংক্রান্ত একটা মোকদ্দমায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ইতিমধ্যে একটা স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন। এই অবস্থায় নির্বাহী বিভাগ কোটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, সেটা হবে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করা বা আদালতের কর্তৃত্বকে হেয় করা বা আদালত অবমাননা করা। প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন, বিষয়টা এখন আদালতের হাতে, আদালতের পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওদের এখন কিছু করার নেই—এটা তিনি ঠিকই বলেছেন।

‘মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?’ প্রধানমন্ত্রীর এ কথার মধ্যেও অন্যায় কিছু নেই। আপনি এর সঙ্গে একমত না হতে পারেন, কিন্তু এই কথার ভুল ব্যাখ্যা করে কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারেন না।

বৃহস্পতিবার সারা দেশে জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

আজ বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা একযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালের কর্মসূচি সফল করুন। আমাদের অভিভাবকদের বলছি, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত-নির্বিশেষে এ দেশের আপামর জনসাধারণের।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ আদালতের রায় পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ   আদালতের রায় পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আদালতে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,  কোটা সংস্কার আন্দোলনে সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে দেওয়া সরাসরি ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালে ছাত্রসমাজের আন্দোলনে পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করে।

পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কোটা বহাল রাখার পক্ষে উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের জারি করা সরকারের পরিপত্র বাতিল করে দেন। সরকারের পক্ষ থেকে পরিপত্র বহাল রাখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয় এবং মহামান্য আদালত শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সময় আবার ছাত্ররা কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার যথেষ্ট ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে।
বরং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যখন আন্দোলনকারীরা স্মারকলিপি প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, সে ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’তিনি বলেন, ‘কিছু মহল এই আন্দোলনের সুযোগটা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত  উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এর ফলে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।

অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেল। আপনজন হারাবার বেদনা যে কত কষ্টের তা আমার থেকে আর কে বেশি জানে।’সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা মুত্যুবরণ করছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কমনা করছি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।
যেসব ঘটনা ঘটেছে তা কখনোই কাম্য ছিল না। চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রদের হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। অনেক ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তাদের ওপর লাঠিপেটা এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে, একজন মৃত্যুবরণ করেছে, অনেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঢাকা, রংপুর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবন ও ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়।’সাধারণ পথচারী, দোকানিদের আক্রমণ, এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলে বাধা প্রদান করা হয়। মেয়েদের হলে ছাত্রীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। আবাসিক হলে প্রভোস্টদের হুমকি দেওয়া হয় এবং আক্রমণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত তাদের সঙ্গে এই সব সন্ত্রাসীর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সংঘাত ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তাদের পরিবারের জন্য জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা দরকার তা আমি করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি, যারা হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এরা যে-ই হোক না কেন, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আরো ঘোষণা করছি, হত্যাকাণ্ডসহ যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সুষ্ঠু বিচারের ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেসব বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।’
কাদের উসকানিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, কারা কোন উদ্দেশ্যে দেশকে একটি অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল, তা তদন্ত করে বের করা হবে।’

আন্দোলনরত কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সন্ত্রাসীরা যেকোনো সময়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে তাদের ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি আমার আবেদন, তারা যেন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকেন। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আপিল আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।  শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করেন দিয়েছে আদালত। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এই আইন প্রক্রিয়া সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতিকারীদের সংঘাতের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য আমি সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে, তারা হতাশ হবে না।’

টঙ্গীতে বিএনপির ২৬৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-ঢাকা ফ্লাইওভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করার জন্য অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার অভিযোগে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে শনাক্ত ও ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় পাঁচটি বাঁশের লাঠি ও দুইটি ইটের টুকরা জব্দ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক ৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানায়। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৭ আসামি হলেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন স্বপন (৩৬), রাব্বি চৌধুরী (২১), আবু তাহের (২৭), মাহাবুব আলম (৩১), সোহেল (৩৬), হারুনুর রশিদ মিঠুন (২৮) ও রবি হোসেন (৩০)।

মামলায় পলাতক শনাক্তকৃত ১১ আসামি হলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু (৪২), মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সাজিদুল ইসলাম সাজু (৪০), মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান মিরন (৩২), মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুমন (৩৪) ও যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল (৩০), টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর (৪৮), টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের আহ্বায়ক আকবর হোসেন ফারুক (৩৮), টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল মন্ডল (৩৪), টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাতুল আহম্মেদ (৩৫), টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেদুয়ানোর রহমান প্রত্যয় (২৭) ও ফয়সাল আহম্মেদ (৩৬)। মামলায় ১৯ নম্বরে অজ্ঞাতনামা ২৩০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি ও ইটের টুকরা নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-ঢাকা ফ্লাইওভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার জন্য টঙ্গীর দত্তপাড়া সমাজ কল্যাণ রোডে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পাঁচটি বাঁশের লাঠি ও দুইটি ইটের টুকরাসহ তাৎক্ষনিকভাবে ৭ জনকে আটক করে।

ষড়যন্ত্রকারীদের নাম পেয়েছি, শিগগির অভিযান: ডিবিপ্রধান

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারী ওই গ্রুপের সবার নামের তালিকা পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে গুজব ছড়িয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি গ্রুপ। যারা গুজব ছড়াচ্ছে ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে, তারা অতীতেও ষড়যন্ত্র করেছে। আমরা তাদের ছাড় দেইনি। যারা রাজনীতিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য কোমলমতি ছাত্রদের ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রেলের স্লিপার তুলে ফেলছে, মেট্রোরেল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের সবার নাম পেয়েছি।তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ডিবি ও ডিএমপির একাধিক টিম অভিযান চালাবে।

ডিবিপ্রধান বলেন, কয়েকদিন ধরে সাধারণ ছাত্ররা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছিল। সাধারণ ছাত্রদের ক্লাসে যাওয়ার জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে একটি গ্রুপ বিভিন্ন জায়াগায় বসে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া শুরু করে।

এ ছাড়া গাড়িতে আগুন, রেল লাইনের স্লিপার তুলে ফেলা, মেট্রোরেল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। সবগুলো বিষয় গোয়েন্দা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।তিনি বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকে অন্যদিকে ধাবিত করার জন্য একটি গ্রুপ অর্থ, পানি, লাঠি ও অস্ত্র সরবরাহ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

মধ্যরাতে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে ডিবির অভিযান, আটক ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ। কার্যালয় থেকে ককটেল ও হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। এ সময় কার্যালয় থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের দুই নেতাসহ সাতজনকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নয়াপল্টনের কার্যালয় অভিযান চালায় ডিবি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত ১২টার কিছু পর ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে বিএনপির কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করা হয়। বাথরুমের ভেতর থেকে এক ডজনের বেশি ককটেল উদ্ধার দেখানো হয়।

বিএনপির কার্যালয় থেকে বের হয়ে হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি গ্রুপ রেললাইনের স্লিপার তুলে নিয়েছে, মেট্রোরেল বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ কেউ গাড়িতে আগুন দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ককটেল নিক্ষেপ করেছে। এগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। আমরা এরই ধারাবাহিকতায় কেউ অস্ত্র দিয়ে, কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা করছে। আমরা তাদের ছাড় দেব না। যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের সবার নাম পেয়েছি। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ডিবি প্রধান বলেন, বিএনপির অফিস থেকে ৭টা দেশি–বিদেশি অস্ত্র, এক শ বেশি ককটেল এবং ৫০০ লাঠিসোঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আটকদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে অপর পাঁচজনের নাম জানা যায়নি।

তবে আটকের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিতে নিহত-২, গুলি করা সেই চার ব্যক্তির মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে

সারা দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুরে জড়ো হন কোটা আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করে ছাত্রলীগ–যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা–কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। এ সময় দুপক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মিছিল লক্ষ্য করে চার ব্যক্তিকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এতে তিনজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩০ জন।গুলি করা সেই চার ব্যক্তির মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজন মো. ফিরোজ, তিনি মহানগর যুবলীগের নেতা। অন্যজন মো. দেলোয়ার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক। ফিরোজ রিভলবার নিয়ে এবং দেলোয়ার শটগান নিয়ে গুলি করেন। বাকি দুজনকে রিভলবার নিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে।বেশ কয়েকটি ছবির যাচাই করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুবলীগের ফিরোজ একসময় শিবিরের ক্যাডার ছিলেন। মুরাদপুরের ত্রাস ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এই যুবলীগ নেতা।

অন্যদিকে মুরাদপুরে অবস্থান নেন কোটা আন্দোলনকারীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুই নম্বর গেট থেকে একটি মিছিল যায় মুরাদপুরের দিকে। কোটা আন্দোলনকারীরা ধাওয়া দিলে পিছু হটেন তাঁরা। কিছুক্ষণ যুবলীগের একটি মিছিল থেকে গুলি করতে দেখা যায় ফিরোজকে। একপর্যায়ে গুলি থামিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি দে, গুলি দে’। কিছুক্ষণ পর একজন গুলি এনে দেন তাঁকে। গুলি ভরে আবারও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন ওই যুবক।

 পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় এই চারজনের গুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা দুজনই মারা গেছেন।

নিহত তিনজনের মধ্যে ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকার সবুর আলমের ছেলে। অপরজন ফারুক, তিনি পথচারী ছিলেন। ফারুকের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করতেন। সন্ধ্যায় মৃত ঘোষণা করা আরেকজন চট্টগ্রাম নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল আহমেদ শান্ত।

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার ও ডাকাতির মামলার আসামি এই মো. ফিরোজ। নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করে আসছেন ২০১৫ সাল থেকে। ওই বছরের ডিসেম্বরে নগরে বিলবোর্ড টাঙিয়ে আলোচনায় আসেন। ওইসময় যুবলীগের মিছিল–সমাবেশে সামনের সারিতে দেখা যেত। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

সর্বশেষ চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন যুবলীগ কর্মী মো. ফিরোজ।

পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে সন্ত্রাসীরা ১১ লাখ টাকা লুট করে। মারধর করা হয় একজন চিকিৎসককে। ডাকাতির ঘটনার পরদিন নগরের বায়েজিদ থানার কয়লাঘর এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজ ও মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফিরোজের পাঁচলাইশের আস্তানা থেকে ১২ রাউন্ড গুলিভর্তি দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন, একটি একনলা বন্দুক, একটি বন্দুকের ব্যারেল, তিনটি কার্তুজ, দুটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।

ফিরোজ ওই সময় পুলিশ হেফাজতে বলেছিলেন, ‘অস্ত্রগুলোর মালিক শিবির ক্যাডার ম্যাক্সন ও সরওয়ার। তাঁরা তাঁর কাছে এগুলো রাখতে দিয়েছিলেন।’

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সনের সঙ্গে ফিরোজ চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি নাইন এমএম পিস্তলসহ আবারও ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে মো. ফিরোজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিছিলে গুলি করার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘রিভলবার হাতে ওই ব্যক্তি আমি না।’ তবে যুবলীগের বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, রিভলবার হাতে ওই ব্যক্তি ফিরোজই।

মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম  বলেন, ‘এখন আমরা মুভমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত। ফিরোজের অস্ত্রের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বিদ্যালয় ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

 

কলম্বিয়াকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক: ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার শিরোপা দিয়েই স্মরণীয় করে রাখবেন বন্ধু দি মারিয়ার বিদায়। যেই কথা সেই কাজ। কোপার ফাইনালে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকা কলম্বিয়াকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে রেকর্ড ১৬তম শিরোপা ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা।

আজ সোমবার (১৫ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কলম্বিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারায় লিওনেল স্কালোনি শিষ্যরা। দলের হয়ে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। এটি আর্জেন্টিনার টানা তৃতীয় শিরোপা জয়। যা এক বিরল রেকর্ড বটে

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পুরো ৯০ মিনিটে গোল পায়নি আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়ার কেউই। বল দখল ও আক্রমণে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। তবে, একের পর এক সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে বাজিমাত মার্টিনেজের।

এর আগে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মন্টিয়েলের ক্রস থেকে পা ছোঁয়ালেও তা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আলভারেজ। ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় কলম্বিয়া। লুইস ডিয়াজের গড়ানো শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পরের মিনিটেই রদ্রিগেজের বাড়নো বলে করডোভা শট করলে তার বারের ঠিক পাশ দিয়ে চলে যায়। যার ফলে এবারও হতাশ হতে হয় কলম্বিয়াকে।

১৩তম মিনিটে আবারও আক্রমণে যায় কলম্বিয়া। এবার রদ্রিগেজের বাড়ানো বলে কুয়েস্টা হেড করলে তা সহজে তালুবন্দী করেন মার্টিনেজ। ৩৩তম মিনিটে দারুন এক শট করেন লারমা। তবে মার্টিনেজের হাতে লেগে বল মাঠের বাহিরে চলে যায়। বাকি সময়ে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারায় গোলশূণ্য বিরতিতে যেতে হয় দুদলকে।

এরপর ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল মেসিরা। তবে, ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়েও গোল করতে পারেননি ম্যাক অ্যালিস্টার। এর মিনিট দশেক পর আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে, এবার ডি মারিয়ার শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আলবিসেলেস্তারা।  চোট পেয়ে কেঁদে মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি। এরপর আরও বেশ কিছু আক্রমণ করলেও গোলের মুখ দেখেনি কেউ। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি কেউ। যদিও কলম্বিয়া অনেক সুযোগ পেয়েছিল। সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনাও। কিন্তু কেউই পায়নি জালের নাগাল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

ম্যাচের ৯৫ মিনিটে দারুণ একটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। এ সময় রদ্রিগো ডি পল ডি বক্সের মধ্যে নিকোলাস গঞ্জালেসকে বল বাড়িয়ে দেন। তিনি বল পেয়েই দ্রুত শট নেন। কিন্তু কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ভার্গাস দ্রুত বলের লাইনে এসে ঝাপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন বল।

১০৮তম মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়াও। তবে, লিসান্দ্রোর অসাধারন ডিফেন্ডিংয়ে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। তবে, ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আসে ১১২ তম মিনিটে। লে সেলসোর বাড়ানো বলে দারুণ ফিনিশিং করেন মার্টিনেজ। এই গোলেই শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসেন আলবিলেস্তোরা।

চীন ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ প্রদানে রাজি হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ, রেয়াতি ঋণ ও বাণিজ্যিক—এই চার ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। এই চারটি প্যাকেজের আওতায় চীন বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছে।’

’গতকাল রবিবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চীন সফরের বিষয়ে তথ্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেখ হাসিনা। পরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

চীন ও ভারত সফর নিয়ে সমালোচনাকারীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতে গেলাম দেশ বেচে এলাম, চীনে গেলাম খালি হাতে ফিরে এসেছি। তাঁরা এগুলো জেনে-বুঝে বলেন, নাকি আমাকে হেয় করতে বলেন, বুঝি না। এটা তাঁদের মানসিক অসুস্থতা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, ‘চীন সফরে ২১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সাতটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমি জানি না, এর পরও যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা জেনে-বুঝে করছেন কি না। সব সময় আমার বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা, গুজব ছড়ায়। আমি গুরুত্ব দিই না। তাঁদের বলতে দিন।’

চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসুস্থ মেয়েকে রেখে চীন সফরে গিয়েছিলাম। অফিশিয়াল কাজ ১১ তারিখেই শেষ হয়ে যায়। বিকেলে আসার কথা ছিল, সকালে চলে এসেছি। ছয় ঘণ্টায় এত বড় তোলপাড় হবে বুঝিনি। অফিশিয়াল কাজ শেষ হয়ে গেলে আগেও সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে এসেছি। সেখানে বেড়ানোর, শপিং করার নেই। তাই আগেই চলে আসি। সেটাকে রংচং মাখিয়ে কথা বলছে।’

সেখানে চীন সফর ছাড়াও দেশের চলমান নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতি, কোটাবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে কেউ বিসিএস ক্যাডার হয়েছে প্রমাণ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে, এখন নাকি ৪০০ কোটি টাকার মালিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এভাবে অভিযান করেনি। এর আগে জঙ্গিবাদমুক্ত করেছি।

কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারির বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ ও রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মামলা করল, সেই মামলায় উচ্চ আদালত যদি কোনো রায় দেন, সেখানে আমাদের তো কিছু করার নেই। আদালতে রায় হয়েছে, রায়ের বিরুদ্ধে আমার দাঁড়ানোর কোনো অধিকার নেই। সেটা তো সংবিধানও বলে না। পার্লামেন্টের কার্যপ্রণালীও বলে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো রায় না আসে, ততক্ষণ আমাদের কোনো কথা থাকে না। এটা বাস্তবতা, এই বাস্তবতা আমাদের মানতে হবে।’

ট্রাম্পের ওপরে হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরে হামলার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি একজন প্রেসিডেনশিয়াল ক্যান্ডিডেট, তাঁর ওপর এ ধরনের হামলা করা, আমরা এটার নিন্দা জানাই অবশ্যই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকা তাদের গণতন্ত্র নিয়ে অনেক গর্ববোধ করে, অথচ সেখানে দেখা যাচ্ছে—আমরা তো গুলি-বোমা খেয়ে অভ্যস্ত, অনবরত খাচ্ছি, সেখানে একজন অপনেন্টকে এভাবে গুলি করা, তাও আবার সে সাবেক প্রেসিডেন্ট, সে খুব অল্পের জন্য বেঁচে গেছে, কিন্তু তার একেবারে কানের ওপর দিয়ে চলে গেছে, যদি একটু এদিক-ওদিক হতো, সে আর বাঁচত না। এটা আমেরিকার মতো জায়গায় হয় কিভাবে? আমেরিকার মতো সভ্য দেশে, যারা গণতন্ত্রের এত বড় প্রবক্তা, সে দেশে এই ঘটনা ঘটবে কেন? সেটাও তো আমাদের এক প্রশ্ন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা সরকারকে দায়ী করেনি, আর প্রেসিডেন্ট বাইডেনও এটাকে নিন্দা করছে যে এটা গ্রহণযোগ্য না, কাজেই এই এটুক সভ্যতা তার আছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের দেশে যে দোষারূপ করার চেষ্টা, তাদের এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তবে এই ঘটনাটা সত্যি খুব দুঃখজনক। একমাত্র প্রেসিডেনশিয়াল ক্যান্ডিডেট, তাকে এভাবে হামলা করা বা ইয়ে করা, তারা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’